The Cobra King Mafia Boss- Season 4 !! Part- 11
রুহী চিৎকার দিয়ে রোয়েনের দিকে তাকায়।রোয়েন বড় বড় চোখ করে রুহীর দিকে ফিরে।রুহীর চোখ জোড়া বেঁয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।আর রুহী দেখছে রোয়েনের চোখের মাঝে তীব্র ভালোবাসা আর নিজের প্রেয়সীকে সিকিউর ফিল করানোর আকাঙ্খা।রেজোয়ান মাহবুব মেয়েকে ধরে উঠিয়ে দাঁড় করান।রুহী এবার রোয়েন থেকে চোখ সরিয়ে জালাল উদ্দীনের দিকে তাকায়।তারপর নিজেকে সামলিয়ে নেয়। রেজোয়ান মাহবুব মেয়েকে বললেন
.
.
-চল মা আমরা বাহিরে যাবো।
.
.
রুহী যেন বাবার কথা শুনতে পারছেনা।ওর মনযোগ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রোয়েনের দিকে।তারপর কম্পন ধরা কন্ঠে রুহী বলল,
.
.
– ওদের খাওয়া শেষ হলে যেতে পারবো?
.
.
রুহীর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকায় রোয়েন।মায়াবতীর কি ভয় লাগছেনা এমন নৃশংস কাহিনী দেখে?তারপর আর কিছু ভাবলো না রোয়েন।মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,
.
.
-এর শেষটা দেখে নাও।
.
.
রুহী আর কিছু বললনা বাবার হাত ছাড়িয়ে সুইমিংপুলের কাছে এসে বসে পড়ে।জালাল উদ্দীনকে কুমির গুলো খাচ্ছে ব্যাপারটা খুব আনন্দের লাগছে রুহীর।দুহাত উঠিয়ে চোখজোড়া মুছে নেয় রুহী।রোয়েন ওর পাশে এসে দাঁড়ায়।রোয়েনের ছোঁয়ায় রুহীর চোখজোড়ায় অশ্রু ভারি হয়ে যায়।গড়িয়ে পড়তে শুরু করে রুহীর গাল বেয়ে।
.
.
-কেঁদোনা!!এ দুঃসপ্ন তোমাকে আর তাড়া করবেনা।
.
.
কুমির গুলো জালাল উদ্দীনকে খেয়ে কিছুটা কাছে এলো রোয়েনের। তারপর মুখ উঠাতেই রুহী সরে যেতে নিলে রোয়েন ওর হাত ধরে থামালো।রুহী ভয় পেয়ে রোয়েনের দিকে তাকায়।রোয়েন বাঁকা হেসে রুহীর হাত টেনে কুমিরের মাথার ওপর রাখে।তারপর বলতে লাগলো,
.
.
-দেখো কতো মাসুম ওরা।কিন্তু যখন স্বীকার করে তখন হিংস্রতা জেগে উঠে ওদের মাঝে।ওরা আফ্রিকান।জানো ওদের নাম কি?
.
.
রোয়েনের কথায় ওর দিকে তাকায় রুহী।তারপর চোা্খ মুছে জিজ্ঞেস করে,
.
.
-কি?
-ডান সাইডেরটা হলো কোব্রা আর বাম সাইডটা কিং।কোব্রা ফিমেল আর ওটা মেল।
-কোব্রা তো সাপ।
-হুম।ওরা আমার সন্তান।
-হেসে দেয় রুহী।কুমিররা আপনার সন্তান?
-হুম।
-স্ট্রেন্জ!!!!
-চলো।যাওয়া যাক।
.
.
রুহীর হাত ধরে রোয়েন উঠে দাঁড়ায়।তারপর সবাইকে নিয়ে বেরিয়ে যায় ওরা।আজ ওদের গন্তব্য গুলসান লেক পার্ক।চারটা গাড়ি যাবে ওদের সাথে।আধঘন্টা দুরত্বে পার্কটি। রোয়েনের গাড়িতে আছে রেজোয়ান মাহবুব, রামীন আর রুহী।রোয়েন ড্রাইভ করছে আর পাশে রুহী বসে আছে।রোয়েন সামনের লুকিং গ্লাসটাকে রুহীর দিকে ঘুরিয়ে দিলো।ব্যাপারটা রুহী বুঝতে পারেনি।রোয়েন ড্রাইভিংয়ের ফাঁকে রুহীকে দেখতে দেখতে খেয়াল করলো রামীন দাঁত বের করে হাসছে।চোখ রাঙ্গিয়ে অন্য দিকে তাকাতে ইশারা করে রামীনকে।কারন মায়াবতীকে শুধু ও নিজেই দেখবে।রুহী আশেপাশের পরিবেশ দেখতে ব্যাস্ত।রোয়েনকে আড়চোখে একবার দেখে নেয় রুহী।কালো কোটটায় বেশ লাগছে লোকটাকে।আজ ওকে নিরাপদ অনূভব করালো লোকটা।কিন্তু সে মাফিয়া।তাকে বিশ্বাস করা যায়না।তার কাজই তো খুন করা।মন খারাপ হয়ে যায় রুহীর।আরো একবার রোয়েন কে দেখে নেয় রুহী।লোকটার জন্য কেমন মন টানে ওর।যা ওর অজান্তেই হয়ে গেছে।আধঘন্টা পরই পৌছে গেলো ওরা।সব গুলো গাড়ি পৌছানোর পরই ওরা ভিতরে ঢুকে গেলো।ভিতরে বেশ বড় জায়গা আর বেশ সুন্দর।রুহী চারপাশ দেখতে দেখতে হাঁটছে। রোয়েন রুহীকে দেখছে বারবার।মায়াবতীর চেহারা উজ্জ্বলতায় চারিদিক আলোকিত হয়ে উঠেছে।রোয়েন লুকিয়ে ফোন বের করে রুহীর বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নেয়।শামীম নিজের বৌ ও মেয়েকে নিয়ে এসেছে।তাঞ্জুম সবার জন্য খিচূড়ী করে এনেছে।ছোটখাটো পিকনিক হবে আজ।সবাই বড় একটা মাঠে বসে গেলো চাদর বিছিয়ে।রুহীর পাশে তাঞ্জুম বসেছে।তার পাশে দৃষ্টি।রুহী খেতে খেতে রোয়েনের দিকে চোখ পড়তেই দুজনের নজর একজায়গায় আটকা পড়লো।ওরা একেঅপরকে দেখছে।রুহী কোন মতে খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে লেকের পাশে এসে দাঁড়ায়।হঠাৎ পিছন থেকে মনে হলো ওর কাঁধে কারোর গরম নিশ্বাস পড়ছে।রুহীর দুহাতের ওপর আরো দুটো হাত স্লাইড করছে।রুহীর পুরো শরীর কাঁপছে।চোখ বুজে নেয় রুহী।তারপর ওকে নিয়ে এক কোনায় এসে দাঁড়ায় রোয়েন।রুহী কোন মতে চোখ খুলে রোয়েনকে দেখে লজ্জা পেয়ে যায়।রুহীর কপালে চুমু দিয়ে ওর গলায় ঠোঁট ডুবায় রোয়েন।রুহী আশেপাশে তাকাচ্ছে।রোয়েনের ভিতর কেমন যেন তুফান শুরু হয়ে গেছে।রুহীর গলা থেকে সরে এসে ওর মাথার কাছের দেয়ালে কপাল ঠেঁকায় রোয়েন।
.
.
-তোমার কাছে আসলে নিজেকে নিয়ন্ত্রনে আনতে পারিনা কেন?
.
.
রুহী মাথা একটু ঘুরিয়ে রোয়েনকে একবার দেখতে নিলে রোয়েন ওর চিবুক চেঁপে ধরে থামায়।রুহী ব্যাথা পাচ্ছে।রোয়েন মাথা সরিয়ে রুহীর কানে কামড় দিলো আলতো করে।লাফিয়ে উঠে রুহী।এবার রোয়েন সরে এলো রুহীর নাকের সাথে নিজের নাক লাগিয়ে রেখে সামনে তাকায় মায়াবতীর দিকে।রুহী নিজের ঠোঁটের ওপর রোয়েনের গরম নিশ্বাস অনূভব করতে পারছে।দুজনের নিশ্বাস একে অপরের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে।হঠাৎ ঘাড় ঘুরিয়ে নিয়ে রুহী।তারপর চোখ বুজে নিয়ে হাঁফ ছাড়ে।রোয়েন দাঁতে দাঁত চেঁপে দেয়ালে জোরে বাড়ি দেয়।রুহী দৌড়ে রেজোয়ান মাহবুবের কাছে এসে দাঁড়ায়।রোয়েন কিছুক্ষন পর হেঁটে আসে ওদের কাছে।রুহী তাকাতে পারছেনা লোকটার দিকে।সেদিন চাইনিজে ডিনার করে ঘরে ফিরে ওরা।বাড়ি এসেই রুহী রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো।
,
,
,
,
,
রোয়েন ঠিক করলো রুহীকে ফিরে পাওয়ার খুশিতে পার্টি দিবে।পরদিন সন্ধ্যায় পার্টির সময়কাল ঠিক করে রোয়েন।বিকেল পর্যন্ত কাজ করে সবাই ঘরে ফিরে যাবে।সকালে বেরিয়ে যায় রোয়েন।রুহী উঠে নাস্তা সেড়ে ঘরে বসে থাকে একাই।গল্প করার মতো কেউ নেই।দুপুর পেড়িয়ে বিকেল হতেই ঘরে ফিরে আসে রোয়েন।রুহীর রুমে এসে দুটো প্যাকেট দিয়ে বলল,
.
.
-রেডি হয়ে নাও।পার্টি আছে।
-আচ্ছা আমি রেডি হচ্ছি।মাথা নামিয়ে বলল রুহী।
.
.
রোয়েন বেরিয়ে এলো।রুমে গিয়ে রেডি হতে শুরু করে।রুহী প্যাকেট থেকে কালো একটি শাড়ী বের করলো।অফসোল্ডার ব্লাউজ আছে।রুহী শাড়ীটা পরে আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে নিজেকে।ব্লাউজটা কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে রুহীকে।আজ সেজেছে রুহী।নিজেকে পরিপূর্ন করে তুলেছে রোয়েনের রং এ।এদিকে রোয়েন কালো কমপ্লিট সুট পরে বেরিয়ে এসে দেখতে পায় রুহীকে।কতো ভাবে ঘায়েল হবে ও মায়াবতীর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে?নিজেকে আর কতো নিয়ন্ত্রন করবে ও?রুহীর কাছে এসে দাঁড়ায় রোয়েন। ওর আপাদমস্তক চোখ বুলিয়ে রুহীর কানের মুখ নেয় রোয়েন।তারপর ফিসফিসিয়ে বলল,
.
.
-লুকিং গর্জিয়াস।
.
.
রুহীর গাল দুটো লাল হয়ে গেলো।কিছুটা গরম হয়ে এসেছে।রোয়েন রুহীর হাত ধরে বেরিয়ে যায়।রোয়েনের কলোনিতে নিজের একটি কনভেনশন সেন্টার আছে এতো সব পার্টি গুলো হয়।রুহীকে সাথে করে ভিতরে ঢুকলো রোয়েন।সবাই রোয়েন আর রুহীকে স্বাগত জানাচ্ছে।সবাই নিজেদের পরিবার নিয়ে এসেছে।রুহীর হাত কোনমতেই ছাড়ছেনা রোয়েন।দৃষ্টি এসে রুহীর হাত ধরে বলছিলো,
.
.
-ফুপি মা আছে ঐখানে।
.
.
তখন রোয়েন বলল,
.
.
-পরে কথা হবে।
.
.
দৃষ্টি চলে গেলো।কিছুটা সময় কেঁটে গেলো সেখানে।রোয়েন হঠাৎ খেয়াল করলো রুহীর পেটের কিছুটা অংশ বেরিয়ে আছে।রুহীর হাত টান দিয়ে পিছনের সুইমিংপুলের দিকে নিয়ে আসে রোয়েন।বেশ সুন্দর করে সাজিয়ে সুইমিংপুলের চারপাশ।তবে এটায় কুমির নেই।সুইমিংপুলের কাছে এনে রুহীর হাত ছেড়ে দেয় রোয়েন।রুহী বুঝতে পারছেনা লোকটার এমন করার কারন কি?রোয়েন বলল,
.
.
-শাড়ীটাও ভালোমতো পরতে পারোনা?কি মেয়ে তুমি?
-ম ম মানে?
.
.
রুহীকে এবার হ্যাঁচকা টানে কাছে নিয়ে আসে রোয়েন তারপর ওর কাছে মুখ নিয়ে বলল,
.
.
-তোমার দেখার স্পর্শ অধিকার শুধু আমার।তোমার পেটটা আমাকে ঠিক থাকতে দেয় না কেন বুঝোনা?
.
.
রুহী নিচে তাকাতে নিলে ওর গাল ধরে মুখ উঁচু করে ধরে রোয়েন।তারপর বলল,
.
.
-তোমার ঘ্রান নেশার মতো লাগে জানো।কখনো এমন নেশা হয়নি আমার।
-ছ ছ ছাড়েন প্লিজ।
-শাট আপ।I Don’t like disturbance in loving you.
.
.
রোয়েনের বলা কথাটা থামিয়ে দেয় রুহীকে।রুহীর চোখজোড়ায় চুমু দিয়ে ওর গালে কপালে চুমু খেতে শুরু করে রোয়েন।রুহী চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছিলো তখন।চোখ খুলতে দেখলো রোয়েন নেশা ভরা চোখে রুহীকে দেখছে।রোয়েনের হাতটা ও রুহীর কোমড়ে শিথিল হয়ে এসেছে।রুহী সরে যেতে নিলেই রোয়েন ওর কোমড় চেঁপে ধরে রুহীর ঠোঁটজোড়ায় ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়।রুহীর চোখ বড় হয়ে যায়।রোয়েন একহাতে রুহীর কোমড় অার অপর হাতে রুহীর হাত দুটো পিছনে দিয়ে চেঁপে ধরে আছে।রোয়েনের ঠোঁটজোড়ার চলন গতি বেড়ে চলেছে।যতোটা বাড়ছে রুহী যেন সুখের চরম স্তরে পৌছে গেছে।বেশ কিছুক্ষন ধরে রুহীর ঠোঁট জোড়া শুষে নিতে থাকে রোয়েন।তারপর রুহীর ঠোঁটজোড়ায় ঠোঁট চেঁপে ধরে শব্দ করে চুমু খেয়ে সরে আসে রোয়েন।রুহী সরে আসে ছিটকে।রোয়েনের দিকে আর তাকাতে পারেনি ও।দৌড়ে বেরিয়ে যায় সেখান থেকে।পার্টিতে আর রোয়েনকে ফেস করতে পারেনি রুহী।রেজোয়ান মাহবুবের সাথে বাকিটা সময় কাঁটায় রুহী।রোয়েন দূর থেকে রুহীকে দেখতে থাকে।রুহী রোয়েনের ঘরে ফিরে আসে।তারপর সাজ তুলে শাড়ী পাল্টাতে নিলে রোয়েন রুহীর রুমের দরজা খুলে দেয়।রুহী বুক থেকে আঁচল সরাতে নিয়েই আবার কাঁধে আঁচল চেঁপে ধরে।রোয়েন রুহীর কাছে আসতে থাকে।রুহী সরতে সরতে এক পর্যায়ে খাটে বসে যায়।রোয়েন কেমন করে যেন হাঁটছে।তার চোখ জোড়া ও লাল।রুহী বুঝতে পারে ড্রিংক করে এসেছে রোয়েন।নেশায় বুদ সে।রুহীর কাছে এসে বসে রোয়েন।রুহীর গালে চুমু খেয়ে বলল,
.
.
-জানো খুব ভালোবাসি তোমাকে।তোমার থেকে দূরে থাকতে পারিনা আমি।তোমাকে কাছে পেলে কন্ট্রোল করতে পারিনা নিজেকে।জানো যখন চলে গিয়েছিলে কতোটা কষ্টে ছিলাম।পাগল পাগল লাগছিলো নিজেকে।কেন করেছিলে এমন রুহী।আমাকে ভালো লাগেনা তোমার?বুঝোনা তোমাকে চাই আমি।খুব বেশি চাই রুহী।
-আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন। গন্ধ লাগছে আমার।
-এই মেয়ে তোমার সাথে কথা বলছি আমি।আর গন্ধ নিয়ে পড়ে আছো তুমি।আমার ভালোবাসটাকে বুঝো রুহী।
-বুঝবো আমি।প্লিজ যান আপনি।
-সত্যি বুঝো তুমি?
-হুম।ভয় পেয়ে বলল রুহী।
-তাহলে বলো লিপ কিসটা কেমন লেগেছিলো?
.
.
রোয়েনের কথায় লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে রুহী।রোয়েন এখন ওর আরো কাছে এসে গেছে।রুহী রোয়েনের দিকে তাকিয়ে ওর কাঁধে হাত রাখে।রোয়েনের ঠোঁটে নেশা লাগানো হাসি।রুহীর নেশা লেগে গেছে লোকটার সংস্পর্শে।রুহী আরো একটু কাছে এগিয়ে গেলো রোয়েনের।তারপর মাথা এগিয়ে রোয়েনের ঠোঁটে চুমু খায়।রোয়েন এবার রুহীকে জাপটে ধরে চুমু খেতে থাকে।একপর্যায়ে শুয়ে পড়ে ওরা।চুমু খেতে খেতে দুজনেই ঘুমিয়ে গেলো।
চলবে