Married To The Dark King- Mafia Boss- Season 3 !! Part- 37
রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে নীল হয়ে যাওয়া কবজি ছুঁয়ে দেখলো রুহী।রোয়েন এতোটাই জোরে ধরেছিলো যে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে।নীল হয়ে যাওয়া কবজি জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো রুহী।হাতের ব্যাথাটা আজ হার মানছে হৃদয়ের রক্তক্ষরনের কাছে।কাঁদতে কাঁদতে পিছনে ফিরে রোয়েনের বাসার দরজার দিকে তাকায়।তারপর কোন কিছু না ভেবেই দৌড়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়।জোরে জোরে দরজা নক করতে থাকে রুহী।রোয়েন প্লিজ এভাবে ছেড়ে যেতে পারোনা।প্লিজ!!!!কথা শুনো, মারা যাবো আমি।তোমাকে ছাড়া কি করে থাকবো?আমি সত্যি আর জ্বালাবোনা তোমাকে মাফ করে দাও।প্লিজ দরজা খুলো!!!দরজায় যে কোব্রা খোদাই করা আছে সেখানকার ধারালো কিছুতে লেগে রুহীর হাত কেঁটে গেলো।তারপর ও রুহী রক্তাক্ত হাতে বাড়ি লাগাতে থাকলো দরজায়।কিন্তু দরজা খুলল না কঠিন হৃদয়ের রোয়েন।
শেষমেষ বেরিয়ে এলো রুহী।আঁধার রাস্তা ধরে একাকী হেঁটে যাচ্ছে রুহী।চোখ জোড়া বেয়ে অঝোর ধারায় অশ্রু গড়িয়ে যাচ্ছে। ফোন বাজছে বেশ কিছুক্ষন যাবৎ।তবু ও সেদিকে খেয়াল নেই রুহীর।
আজিজ রায়হান বাসার সবাইকে রুহীর কথা জিজ্ঞেস করতে করতে ক্লান্ত।এতো রাত হয়ে গেলো। মেয়েটা এখনো এলোনা বাসায়।বারবার রুহীর নম্বরে কল দেয়ার পর ও অপর পাশ থেকে রিসিভ হচ্ছেনা ফোন।
আজিজ রায়হানের কাছে প্রত্যেকটা মিনিট ঘন্টার মতো লাগছে।
রোয়েনের নম্বরে কল দেয়ার পর ফোন রিসিভ হলোনা।সবজায়গায় অন্ধকার দেখছেন ওনি।সাইফ রহমান বারবার সান্তনা দিচ্ছেন রুহী এইতো আসলো বলে। কিন্তু আজিজ রায়হান শান্ত হতে পারছেননা।রেহান রুহীর ফ্রেন্ডদের কল করে খবর নিচ্ছে।সবাই বলছে রুহী কারোর বাসায় যায়নি।
রায়না রহমান বললেন কে জানি কল দিলো। তারপরই বেরিয়ে গেলো রুহী।
কে কল দিয়েছিলো।আর রুহীই বা কই গেলো?ভাবতে থাকে সবাই।ঠিক সেই সময়ে কলিংবেল বেজে উঠলো।রুপন্তী দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল।আপি!!!!চিৎকার করে উঠলো রুপন্তী।সাথে সাথে সবাই দৌড়ে দরজার কাছে চলে এলো।রুহী মাথা নিচু করে আছে।ডান হাত থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।সারাশরীর কাঁপছে ওর।রুপন্তী ঝটপট উড়না দিয়ে রুহীর হাত চেঁপে ধরলো।
আজিজ রায়হান রুহীর কাছে এসে দাঁড়ালো।কই ছিলি তুই?বল কই ছিলি?চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলো আজিজ রায়হান।রুহী কিছু বলতে যাবে তখনই ওর গালে স্বজোরে চড় পড়লো।সবাই চমকে আজিজ রায়হানের দিকে চেয়ে আছে।গালে হাত দিয়ে বাবার দিকে ছল ছল চোখে চেয়ে আছে রুহী।হাত কাঁপছে আজিজ রায়হান।ব বা বাবা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল রুহী।জলদি রুমে যা।রুপন্তী ওকে রুমে নিয়ে যা।রুপন্তী বোনকে নিয়ে রুমে চলে গেলো।
রুমে এসে রুহীর হাত ব্যান্ডেজ করে দিতে লাগলো রুপন্তী।আপি কই ছিলি তুই?জানিস বাবা অনেক টেনশন করছিলো।রুহীর চোখজোড়া ছলছল করছে।আপি তোর হাত কি করে কাঁটলো?কাঁদছিস কেন তুই?রুহী আর নিজেকে সামলাতে পারলোনা।বোনকে জড়িয়ে জোরে কেঁদে দিলো।
কি দোষ ছিলো রে আমার?কেন এভাবে ছেড়ে দিলো ও?আমি তো সত্যিই ভালোবেসেছিলাম।ওকে ছাড়া কি করে থাকবো আমি?খুব বেশি ভালোবাসি ওকে আমি।
কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো রুহী।বোনের কথায় কিছুই বুঝতে পারছেনা।কান্নার কারনে কথা গুলো অস্পষ্ট বুঝতে পারছে রুপম্তী।তবে ব্যাপারটা রোয়েনকে নিয়েই ঘটেছে সেটা বুঝতে বাকি রইলো না রুপন্তীর।বোনকে কোন মতো সামলিয়ে বেরিয়ে পড়লো ও।রুপন্তী বেরিয়ে যেতেই রুহী ওয়াশরুমে ঢুকে ঝড়না ছেড়ে ভিজতে লাগলো।ফু্ঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে একসময়ে জোরে কেঁদে দিলো রুহী।
কথা হলো জিজুর সাথে?জিজ্ঞেস করে উঠলো রুপন্তী।
হুম।হলো তো।ভাইয়া ঐসব নিয়ে কিছু বলেনি।আমি যখন জিজ্ঞেস করছিলাম ধমক দিয়ে চুপ করালো।
বলছিলো যে বাবা মার খেয়াল রাখতে।আর ওনাকে মাফ করতে বলেছে।বলে উঠলো রেহান।
মাফ কেন?আর আপির কথা বলেননি?
বলে ছিলাম।ভাইয়া অনেক্ষন চুপ হয়ে বলল রুহীর খেয়াল রাখতে বলে কল কেঁটে দিলো।আবার ও বলল রেহান।
হঠাৎ কি হয়ে গেলো?এত ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং। কাল ও দুজন একসাথে ঘুরে এলো আর আজ ব্রেকআপ?
এসবের কোন মানে আছে?ঐলোক নিজেরে কি মনে করে?গোখরা সাপ?আরে কোব্রা লিডার হলে কেউ কিং কোব্রা হতে পারেনা।চিৎকার করে বলছিলো রুপন্তী।আপুর কি অবস্থা দেখতে পেলাম।বাম হাতের কবজি নীল আর ডান হাতের তালু ফেঁটে রক্ত বেরুচ্ছে।এটার কোন মানে হয়?
আপুকে কি ওনি পুতুল পেয়েছেন?খেলার সময় খেলবে আর খেলা শেষে ছুড়ে ফেলবে?কেন?কেঁদে দিয়ে বলল রুপন্তী।
রেহান এসে রুপন্তীকে জড়িয়ে ধরলো।প্লিজ কেঁদোনা।আপুকে এভাবে দেখতে পারছিনা আমি।কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো রুপন্তী।
ভাইয়ার কি হয়ে গেলো হঠাৎ? রুহীকে এতো ভালবাসে আর আজ ব্রেকআপ!!!মা বাবার খেয়াল রাখতে বলল আবার সরি ও বলল।ব্রেকআপ করেছে তারপর ও রুহীর খেয়াল রাখতে বলল।কি চলছে ভাইয়ার মনে?হি ইজ ভেরি স্মার্ট এতো সহজে কথা বের হবেনা।বাট এতোটুকু বুঝতে পারলাম ভাইয়া কোন বিপদে আছে।আর সেজন্য এসব?ভাবতে লাগলো রেহান।
মাথায় কারোর ছোঁয়া পেয়ে পাশে তাকালো রুহী।বাবা বসে আছে।ওনার চোখে পানি।গালটা তো লাল হয়ে গেলো আমার মেয়ের?সরি মা বাবা কে মাফ করে দিস।আর এমন হবেনা।কি করবো বল।ফোন ধরছিলিনা
তাই টেনশন হচ্ছিলো।ব্যাথা পেয়েছিস মা?বলে উঠলেন আজিজ রায়হান।মাথা নাড়লো রুহী।কারন হৃদয়ের রক্তক্ষরনের কষ্ট এর থেকে ও বেশি।ভাবছে রুহী।
তোর হাতে কি হয়েছে মা? ব্যান্ডেজ করা কেন?জিজ্ঞেস করে উঠলেন আজিজ রায়হান।
ও কিছুনা বাবা রিক্সায় লেগে হলো।বলে উঠলো রুহী।
শালার রিক্সাওয়ালারা কিভাবে রিক্সা চালায় বুঝিনা।তুই দেখে হাঁটতে পারলিনা মা?বলে উঠলেন আজিজ রায়হান।
জি বাবা সরি।নাক টানতে টানতে বলছিলো রুহী।
ইটস ওকে মা।কই ছিলি তুই?কাল রাতে ও পেলামনা সন্ধ্যায় ও না।বাবার কথায় রুহী জড়িয়ে ধরলো আজিজ রায়হানকে।কাঁদতে লাগলো রুহী।কিরে মা কি হলো?রুহী কোন কথা বলতে পারছেনা।শুধু কেঁদেই যাচ্ছে।
আজিজ রায়হান অনেক জিজ্ঞেস করে ও জানতে পারলেন না মেয়ের কষ্টের কারন।রুহীকে শুইয়ে দিলেন।ঘুমা মা পরে জানবো নে।বলে চলে গেলেন আজিজ রায়হান।
রুহী ফোন বের করলো।রোয়েনকে ২০০+ কল দেয়া শেষ।বিজি আসছে বারবার।ভয়েস মেইল ও পাঠালো রুহী।কোন জবাব আসেনি ওপাশ থেকে। মনে বেজে উঠলো রোয়েনের কথা গুলো”আমি এসম্পর্কে স্যাটিসফাইড না।যা চাই তা তুমি দিতে পারোনি আমাকে।ভেবেছিলাম সম্পর্কের সাথে সাথে সব ঠিক হবে।বাট আই ওয়াজ রং।তোমার মতো মেয়ে আমার জন্য না।আমি আরো ভালো কিছু ডিজার্ভ করি।তুমি চলে যাও।এরপর থেকে আর কখনো আমার সামনে আসবেনা।”
কি বলছিলো তখন? ও স্যাটিসফাইড না?আমার মতো মেয়ে ওর জন্য না?কিন্তু সেদিন যখন ও নিজের মুখে বলছিলো,,”I need you,Can i have you right now?”তখন তো রাজি ছিলাম।তাহলে কেন সেদিন বলছিলো”কি করে ভাবলে তোমার সাথে আমি সে গুলো করবো?ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো রোয়েন।
তখন তো বলছিলে বলেই মাথা নোয়ালো রুহী।
রুহী পাগল তুমি?এতো সহজে কি করে রাজি হলে?দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করলো রোয়েন।
ভালবাসি তাই।আস্তে করে বলল রুহী।
“নাহ মাথা কাজ করছেনা রুহীর।রোয়েন কি করে এমন করলো।বাট আমার বিশ্বাস ও আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু কেন এমন করছে?কোন বিপদে পড়েনি তো?উঠে বসে পড়লো রুহী।
সারারত নির্ঘুম কেঁটে গেল ওদের।মুখের সামনে থেকে ফোন সরালো রোয়েন।ফোনটা অফ করে শুয়ে পড়লো।এপাশ ওপাশ করছে তবে ঘুম নেই চোখে।উঠে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো রোয়েন।”আমি সত্যি নিজেকে চেঞ্জ করবো, বলো তুমি কি চাও?সব দিবো আমি।প্লিজ রোয়েন”রোয়েন হাতটা দিয়ে দেয়ালে বাড়ি লাগালো।লাল চোখজোড়া আরো লাল হয়ে এসেছে যেন আগুনের ফুলকি।
রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে যায়।রুহী নাস্তার টেবিলে বসে আছে।নাস্তা সামনে ওর।খাচ্ছিস না কেন?জিজ্ঞেস করে উঠলেন আনিলা বেগম।
এমনি মা।ভালো লাগছেনা।বলে উঠে রুমে এলো রুহী।হাতের ব্রেসলেটটি ঘুরিয়ে দেখছে রুহী।এইতো সেদিন নিজ হাতে পরিয়ে দিলো আর আজ এভাবে ফেলে দিলো।কিছু তো হয়েছে ওর।কিছু একটা চলছে মনে।ভাবতে পারছেনা রুহী।ঠিক তখনই রায়না রহমান রুমে ঢুকলেন নাস্তার প্লেট নিয়ে।কিরে মা খাবিনা?জিজ্ঞেস করে উঠলেন রায়না রহমান।
মামী ভালো লাগছেনা।বলল রুহী।
কি হলো তোর?রুহীর।মাথায় হাত রাখলেন রায়না।
না মামী। কিছুনা।
আচ্ছা।কালকের গল্পটা সারাদিন মাথায় ঘুরছে।ঘুমোতে পারিনি।মনে হচ্ছিলো আপন কারোর সাথে হয়েছে।বলে উঠলেন রায়না রহমান।
বাকিটা বলনা মা?বলে উঠলেন রায়না রহমান।
লোকটা তার স্ত্রীর সাথে বাজে ব্যাবহার করতো অনেক।
একসময় মেয়েটি আবার ও প্রেগন্যান্ট হয়।কিন্তু লোকটা তখন ও অত্যাচার করতো তার স্ত্রীর ওপর।দিন রাত গর্ভবতী স্ত্রীকে ধর্ষন,,,, আপু একটা লোক তোকে খুঁজছে।দরজা খুলে বলল রুপন্তী।
কে?জিজ্ঞেস করলো রুহী।
জানি আপু।বলে উঠলো রুপন্তী।
আমি আসছি।চোখ মুছে মেইন ডোরের সামনে দাঁড়ালো রুহী।সামনে রফিক দাঁড়ানো।
আপনি?রোয়েন কই?ও এসেছে?জিজ্ঞেস করতে লাগলো রুহী।না স্যার কিছু পাঠিয়েছে আপনার জন্য।বলল রফিক।আপনি ভিতরে আসুন ভাইয়া?বলে উঠলো রুহী।রফিক রুহীর রুমে এলো।রফিক হাতের রেকর্ডারটা রুহীর কাছে ধরলো শুনেন।
রুহী হাতে নিলো।