Mafia Boss- Season- 3

Married To The Dark King-  Mafia Boss- Season 3 !! Part- 38

বাবা মা মামা মামী রেহান রুপন্তী সবাই একে একে জড়ো হলো রুহীর রুমে।তোমরা এখানে কেন?জিজ্ঞেস করে উঠলো রুহী।
আমরা দেখতে চাই ওনি কি বলে।বলে উঠলেন আজিজ রায়হান।
বাবা দেখো ও সরি বলে দিবে কালকের জন্য।হয়ত কোন ঝামেলায় পড়ে এমন করেছে।বলে উঠলো রুহী।
কথা গুলো শুনে দেখ আগে।বলে উঠলেন আজিজ রায়হান।
রুহী রেকর্ডারটা অন করতেই রোয়েন বলতে লাগলো।কি মনে করেছিলা সরি বলবো?কেন? এই তো জোরে হাত ধরেছি, তুমি হাত কেঁটে ফেলেছো সেজন্য?ভুলে যাও রুহী যদি ভেবে থাকো তোমাকে সরি বলতে রেকর্ডারটা পাঠিয়েছি।তোমাকে আমার সহ্য হয়না।কেন বারবার সামনে আসো বলতো?কেন বারবার কল দিচ্ছিলে বলো?এতোটুকু আত্মসম্মানবোধ নেই তোমার?তোমার লেভেলের মেয়েরা এমনই।
শুনো আর কখনো কল দিবেনা আমাকে।ভালোবাসিনা তোমায়।কিছুক্ষনের জন্য রেকর্ডটি অফ হয়ে গেলো।রুহী থ মেরে বসে আছে।চোখজোড়া বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে।হঠাৎ আবার ও রোয়েন বলতে লাগলো আমার পথ চেয়ে বসে না থেকে তোমার লেভেলের একটা ছেলেকে বিয়ে করে নিও।It will be good for you.রেকর্ডারটা বন্ধ হয়ে গেলো।
ওনি নিজেকে কি মনে করেছে?আমার মেয়েকে ওনার থেকে ভালো ছেলের সাথে বিয়ে দিবো।দেখে নিক এ লোক।আমার মেয়েকে এভাবে বলার সাহস হলো কোথা থেকে এই লোকের?আমার রাজকুমারী আমার মেয়েরা।চিৎকার করে বলছিলেন আজিজ রায়হান।
ম্যাম স্যার এসব পাঠাবে বুঝতে পারিনি।স্যার এটা দিয়ে বলল আপনাকে পাঠাতে তাই নিয়ে এলাম।কিন্তু এখানে এসব!!!!!মন খারাপ করে বলতে থাকলো রফিক।
রেহান বলে উঠলো।আপনি চলে যান আপনার স্যারের কাছে।রুহীকে আমরা সামলাবো।রফিক উঠে রুহীকে একবার দেখে বেরিয়ে গেলো।রুপন্তীকে জড়িয়ে কাঁদছে রুহী।
ও তো আসলেই ভেবেছিলো রোয়েন সরি বলবে।কি হয়েছিলো সেটা বলবে ওকে ফিরে পেতে চাইবে।কিন্তু কি হয়ে গেলো?রোয়েন নাকি ওকে সহ্য করতে পারেনা,ভালোবাসে না।ভাবতে থাকে রুহী।
এরপর থেকে রুহী একবারেই চুপচাপ হয়ে যায়।ডিপ্রেশনে চলে গেছে ও।রুমে একা থাকে।কারোর সাথে কথা বলেনা,খেতে ও আসেনা।দরজা খুলেনা রুমের।একা একা বসে কি যেন ভাবে?মাঝে মধ্যে ওর রুম থেকে জোরে কান্নার শব্দ ভেসে আসে।গভীর রাতে রোয়েন বলে চিৎকার দিয়ে উঠে।
আজিজ রায়হান আর রেহান দৌড়ে দরজা নক করলে ও খুলতোনা রুহী।ভিতর থেকে আবেগী সুরে কান্নার শব্দে চারিদিক হাহাকার করে উঠতো।মেয়ের কান্নায় আজিজ রায়হান ভেঙ্গে পড়ছিলেন।কোন দুঃখে রুহীকে রোয়েনের সাথে থাকতে দিয়েছিলেন?মেয়েটার কষ্ট যে আর সহ্য হচ্ছেনা ওনার।
আঙ্কেল প্লিজ নিজেকে সামলান।রুহী ভালো হয়ে যাবে।(ভাইয়া কি চলছে আপনার মনে?এতদিনে আপনাকে যা দেখেছি এমন করার মানুষ আপনি না।কেন করছেন এমন?প্লিজ কাম ব্যাক)ভাবতে থাকে রেহান।
পরদিন সকাল
আজিজ রায়হান ঠিক করলেন এভাবে তো মেয়েকে বদ্ধঘরে থাকতে দিতে পারেননা।বাহিরের পরিবেশে আনতে হবে মেয়েকে।স্বাভাবিক হতে হবে।ওকে ও এগিয়ে যেতে হবে।যেমন নিজে ও এগিয়েছিলেন রুহীর মায়ের মৃত্যুর পর।ভাবতেই বুক কেঁপে উঠে আজিজ রায়হানের।পারিবারিক সম্মতিতেই বিয়ে আজিজ আর রুবীনা বেগমের।খুব ভালবাসতেন স্ত্রীকে।এককথায় প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যান আজিজ রুবীনার।এই যেদিন দেখতে গিয়েছিলেন রুবীনাকে।রানী গোলাপি শাড়ীতে মোহিত রুবীনাকে আনিলা ও তার শাশুড়ী আজিজ রায়হান আর তার বাবা মায়ের সামনে এনে বসিয়ে ছিলো।
ইস প্রথম দেখাতেই চোখ ফিরাতে পারছিলেননা পুতুলটির থেকে।আনিলা রুবীনার কানের সামনে কি জানি বলছিলো।সেকারনে রুবীনার ঠোঁটের কোনে মুগ্ধ করা হাসি ফুঁটে উঠলো।সেই হাসিতে প্রান ভরে যায় আজিজের।প্রাইভেটে ও কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলো তারা।আনিলা রুবীনা আর আজিজকে ছাদে দিয়ে চলে যায়।কালো লোহার দোলনায় আজিজকে বসতে দিলো রুবীনা।
আপনি বসবেননা?জিজ্ঞেস করলো আজিজ।
দরকার নেই।আপনি বসুন।দুরুদুরু বুকে বলল রুবীনা।আজিজ উঠে দাঁড়ালো।চলুন একটু সামনে যাই।গাছগুলি আপনি লাগিয়েছেন?সামনের গোলাপ গাছ গুলো দেখে বললপন আজিজ।
জি।মাথা নিচু করে বলল রুবীনা।
ভীষন সুন্দর আপনার মতো।বলে উঠলেন আজিজ রায়হান।লজ্জায় লাল হয়ে যায় রুবীনার গাল জোড়া।বেশিক্ষন কথা হয়ে উঠেনি সেদিন।এরপর সকলের সম্মতিতে বিয়ে হয়ে যায় ওনাদের।বিয়ের দুইবছরের মাথায় রুহীর জন্ম হয়।
দেখতে একদমই রুবীনার মতো হয়েছে রুহী।মেয়েকে নিয়ে বেশ ভালো সময় কেঁটে যায় তাদের।
একদিন আনিলা তাদের ঘরে আসে পরীক্ষার জন্য।এখানে থেকে পরীক্ষা দিবে বলে এসেছিলো।
অফিসে কল আসে রুবীনা দরজা খুলছেনা।আজিজ রায়হান ঘরে ফিরে আসে চটজলদি।ঘরে ফিরে স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ দেখে ভেঙ্গে পড়েন।পাশে ৪মাসের রুহী কাঁদছে।ছোট্ট শিশুটি ও যেন মায়ের অভাবের কষ্ট বুঝতে পারছিলো।মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নেন আজিজ রায়হান।মেয়ের জন্য ঠিক করলেন স্বাভাবিক থেকে সামনে এগিয়ে যাবেন।কথা গুলো ভেবে চোখ মুছে নেন আজিজ।রুহীর দরজার লক ভেঙ্গে সবাই দেখলো রুহী জ্ঞান হারিয়ে নিচে পড়ে আছে।ডাক্তার ডাকা হলো।
পেশেন্টের অবস্থা খারাপ।চার পাঁচ দিন পেটে কিছু পড়েনি।আর ওনি অনেক ডিপ্রেশনে চলে গেছেন।
ওনাকে স্বাভাবিক রাখতে হবে।পারলে বাহিরের পরিবেশে নেয়ার চেষ্টা করেন।আর এমন কিছু সামনে আনবেননা যা দেখলে ওনার খারাপ লাগবে।বলে উঠলেন ডাক্তার।
আচ্ছা ঠিক আছে খেয়াল রাখবো।বললেন আজিজ রায়হান।
ডাক্তার চলে গেলো।আজিজ রায়হান ভাতের প্লেট আর পানি নিয়ে মেয়ের পাশে এসে বসলো।রুহীর চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে।চোখের কোনা জ্বলজ্বল করছে।রুহী একটু খেয়ে নে মা।একলোকমা ভাত মেয়ের মুখের সামনে ধরলেন আজিজ।
বাবা আমি কি অনেক নিচু লেভেলের মেয়ে?কাঁদো কন্ঠে প্রশ্ন করলো রুহী।
না মা।একদম না।কাঁদতে কাঁদতে বললেন আজিজ।
আমি কি দেখতে খারাপ?কেঁদে দিয়ে বলল রুহী।
না মা তুই আমার পরী মেয়ে।বলে উঠলেন আজিজ রায়হান।
বাবা আমি সবাইকে বিরক্ত করি?ফুঁপাতে ফুঁপাতে বলল রুহী।
আজিজ রায়হান মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। না মা একদম না।
তাহলে ও কেন এমন করলো?(রুহী)
আজিজ রায়হান কিছু বলতে পারলেননা।
মেয়েকে খাইয়ে বেরিয়ে পড়লেন রুম থেকে।
রেহান রুপন্তী রুহীকে নিয়ে ঘুরে আসে বাহির থেকে।সমস্যা হলো কালো গাড়ি দেখলে রুহী রোয়েনের গাড়ি মনে করে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।রুপন্তী আর রেহান ওকে সামলায়।বেশ কয়েকদিন ধরে ওরা রুহীর মন ঠিক করার কাজে লেগে থাকলো। রোয়েনের কথা ওর সামনে না বললে ও রুহী ঠিকই গভীর রাতে রোয়েনকে মনে করে কাঁদতে থাকে।এভাবে বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলো।
একদিন সকালে রুহীকে কলেজে যেতে বলল আজিজ রায়হান আর মামী।কিন্তু রুহী রাজী হয়না।
দেখ মা অনেক দিন ক্লাশ করিস না।সামনে তোর এক্সাম ও আছে।যেয়ে ক্লাশ গুলো কর।ভালো লাগবে তোর।
ওকে বাবা।যাবো আমি।মন খারাপ করে বলল রুহী।
আজিজ রায়হান বেশ খুশি হলেন।রুহী চুল গুলো খোপায় জড়িয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো।
চলবে