প্রাক্তন

প্রাক্তন 2 !! Part- 09

এই যে ম্যাম?”ঠোঁটের ছোঁয়া তো পেলাম না তাই কপাল ছুঁয়ে কিছু পাপ মোচন করলাম।”
বলেই বেরিয়ে গেলো,আমি তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছি!

আচ্ছা ব্যাপার টা আসলেই কি হলো?সমুদ্র হঠাৎ আবার আগের মত বিহ্যাভ কেনো করছে?মানুষ টা কে আমি বুঝতে পারছি না কেনো? আমি নিচে তাকালাম দেখি সে নিচে গিয়ে সিগারেট এ আগুন দিলো।এইবার সিগারেটের সাথে সাথে নিজের ঠোট ও পুরাবে।সে আপন মনে সিগারেটে টান দিচ্ছে।ওর টান দেওয়ার নৈপুন্যতা দেখে মনে হচ্ছে সিগারেট টানা ও বুঝি একটা আর্ট।আমি প্রেমে পরে গেলাম আবার তবে সেটা কার উপর এটা বুঝতে পারছি না।

“হাতে জ্বলন্ত সিগারেট টার উপর না যে মানুষটার হাতে সিগারেট তার উপর?”বুঝে উঠতে আরও সময় লাগবে হয়তো।বুঝতে চেষ্টা না করে তার চলে যাওয়া দেখছি।সে আপন মনে আকাশ মানে ধোয়া উড়াচ্ছে আর সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।এক বার পিছনেও তাকালো না।তাকাবেই বা কেনো? কোনো পিছু টান তো নেই তার।এই মানুষ টা বরাবর ই মানুষকে বকা বানিয়ে মজা পায়!ওই আনন্দ টা তার চোখে ধরা পরে।সবাই ধরতে পারে কিনা জানি না।তবে আমি ধরতে পারি।সে গাড়ির কাছে চলে আমি জানি সে আর পিছনে ঘুরে তাকাবে না।আমি মুখ আকাশ পানে করে উল্টো দিকে ঘুরলাম।দেখবো আর তাকে। মায়া বাড়িয়ে কি লাভ?

ফোন টা বেজে উঠলো, নাম্বার দেখে আমার দ্বিতীয় বার মস্তিষে বারি পরলো। সমুদ্র আবার কল দিয়েছে!

হ্যালো!(আমি)
__এই তোমার রুমে পানি ছিলো না?(সমুদ্র)
কিহ? (বিস্মিত হয়ে)
__আরেহ তোমার রুমে পানি ছিলো না?
কিসের পানি?
__খাওয়ার পানি রে গাধী!(অনেক দিন পর এই ডাক টা শুনলাম তার মুখে)
হুম ছিলো তো!
__দাও নি কেনো?
আপনি তো চান নি।দিবো কি করে?
__তুরু আমার পানি তেষ্টা পেয়েছিলো। কিন্তু ভুলে গেছিলাম।তুমি কেনো দিলে না?
কিহ? আজব?
__কিচ্ছু না একটু পিছনে ঘোরো তো?

আমি পিছনে ঘুরলাম। গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।হাতের সিগারেট প্রায় শেষ এর দিকে।তাকালাম তার দিকে।সে হাসছে আমার দেখে আর ধোয়া উড়াছে। এই সময় টাতে দেখতে সুদর্শন লাগছে।যে কোনো মেয়েই দেখে চোখ একে বারে সরিয়ে দিতে পারবে না।কিন্তু আমার কাছে তাকে বিচ্ছিরী লাগছে।বলা গেলে বিচ্ছিরী রকমের সুন্দর।

নীরাহ!(প্রায় মধ্য রাতে এরকম করে ডাকলে যে কারো শিহরন সৃষ্টি হবে)
__হুম?
বেশ কিচ্ছুক্ষন চুপ থেকে,
রুমে যাও।বাইরে হাওয়া দিচ্ছে।ঠান্ডা লেগে যাবে।(সমুদ্র)
__যাবো।আপনারা আগে যান।(আমি)
চলে যাওয়া দেখবে?
__এ আর নতুন কি?
সে আবার ও চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

হুম নতুন কিছু না। তা আমার জানা।আমার চলে যাওয়া তুমি আগেও দেখেছো!কিন্তু আমার যেতে ইচ্ছে করছে না।চাঁদ এর আবছা আলো কত দিন পর তোমায় দেখছি নীরা?হিসেব হারিয়ে গেছে।আচ্ছা তুমি চোখে আর কাজল দেও না কেনো? না দিয়ে ভালোই করো।এমনি ই ওই চোখের দিকে তাকালে সরাতে সমস্যা হয়।কাজল দিতে তো ওই চোখের ডুব দিবো।সাতার ও তো জানি না।যদিও সাতার কাজে দিবে না।এই শুনো কাল একবার কাজল দিবে?দেখো কি এক অবস্থায় আছি!তোমায় চোখে কাজল দিতে বলার অধিকার টুকু ও আর নেই।তোমায় মুখ ফুটে বলার অধিকার টুকু ও নেই।

কি হলো যান?আর কাল চোখে কাজল দিবো।সব কিছু অধিকার খুজে হয় না।এইবার যান।বাবা বা অন্য কেউ দেখে ফেলবে সমস্যা হবে!!(আমি)
__আহহ নীরা তুমি আসলেই এখনো মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পাবো।
হুম যান এইবার!
__আচ্ছা। তুমি ও রুমে যাও।

সে বাতাসের গতিতে মিলিয়ে গেলো।কিন্তু আজ বেশ বোকা বনেছে।বোকা বানাতে কিন্তু আসলেই মজা লাগে!

সমুদ্র আমি তোমার মস্তিষ্ক তে প্রবেশ পথ নিজ হাতে বন্ধ করেছি ঠিকি কিন্তু মাঝে মাঝে উকি মারি আর কি!
রুমে এসে শুয়ে পরলাম।মানুষ টা কি করতে চাইছে বুঝতে পারছি না কেনো? কি চায়? হুট করে সামনে এসে যাওয়াতে কি ভুল করে এমন কিছু করে বোসলো?না ইচ্ছে করে করলো।সমুদ্র বরাবর ই ভুল কম করে।ভুল তো করতাম আমি!এর জন্য কত যে গালি খেয়েছি!

তুইএকটা আহাম্মক!(সমুদ্র)
(সমুদ্র খুব ক্ষেপে গেলে তুই করে বলা শুরু করে,)
__আজব আমি কি করলাম?
আর একটু হলে গরম কফি টা তোর হাতে পরতো)প
গগ্লপ/@!এএপমন কোন দিকে থাকে?
__আসলে বুঝতে পারি নি!(মুখ বাচ্চাদের মত করে)
মন কোথায় তোর? বাসায় রেখে আসছিস?যদি কফি টা পরতো?
__আরেহ বাবা ভুল হয়ে গেছে তো।স্যরি!
রাখ তোর স্যরি!মন কই তোর?কারো কাছে রেখে আসছিস?কি নতুন কেউ মনে ধরছে? যে তাকে নিয়েই ভাবছিস?
__সমুদ্র?(বেশ ধমক মেরে বললাম)
কি সমুদ্র?এখন ই হাত টা পুরতো!

আমি আর কিছু না বলে ওখান থেকে উঠে সোজা হাটা দিলাম।এই সামান্য একটা ভুলের জন্য কেউ এভাবে কি করে বলতে পারে।রেগে ভোঁস ভোঁস করতে করতে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

তখন ই কেউ একজান পিছন থেকে হাত টেনে বুকে টেনে নিলো।নিশ্বাস এর শব্দ শুনে বুঝলাম সমুদ্র।আমি তাকে নিজ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম।কিন্তু কোনো লাভ হলো না।
খুব শক্ত করে ধরে রেখেছেন।

স্যরি মাথা গরম থাকায় বলে ফেলেছি।(সমুদ্র)
__ছাড়ুন(আমি)
স্যরি বলছি তো!
__ছাড়ুন!
কেনো?
__অন্য কারো কাছে যাবো! যাকে নিয়ে ভাবছিলাম!যেতে হবে না মানুষ টা অপেক্ষা করছে।
নীরাহ!!(বেশ রেগে গিয়ে)
__কি নীরা? ছাড়ুন আমায় আমি যাবো!(আমি)
খুন করে ফেলবো! মনে রাখিস!(আরো শক্ত করে ধরে)

আগের কথা গুলো সে হঠাৎ করে সামনে আসায় স্মৃতি গুলোও আবার মাথায়য় আসছে।

এই গুলো ভাবতে ভাবতেই কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই।
সকালে ঘুম ভাঙল নিসান এর ডাকে!

নীরু উঠো সকাল হয়ে গেছে!(বলেই পর্দা গুলো সরিয়ে জালানা খুলে দিলো আলো চোখে পড়া তে উঠে বসলাম)

গুড মর্নিং নীরু!(নিসান)
__হুম গুড মর্নিং নিশ!
উঠ ফ্রেশ হয়ে নে।তোর জন্য বাগানে একটা সারপ্রাইজ আছে!
__তাই নাকি? কি সারপ্রাইজ?
বলে দিলে কি আর সারপ্রাইজ সারপ্রাইজ থাকে!উঠ ফ্রেশ হো।
__হুম।সুবহা কই?
বরের সাথে কথা বলে!..
__অহহ।
হুম উঠ না বাবা যা ফ্রেশ হো।আমি কফি আনি।
__আচ্ছা।

উঠে ফ্রেশ হতে গেলাম।ফ্রেশ হতে হতে কেমন জানি একটা খুব চেনা পারফিউম এর গন্ধ নাকে লেগে গেলো।আমি চট কাজ সেড়ে বের হলাম।দেখি নিসান কফি হাতে দাঁড়িয়ে কি জেনো ভাবতে।

কি রে কি ভাবিস(মুখ মুছতে মুছতে বললাম)
রুমে কি কেউ এসেছিলো?(নিসান)
__কি জানি কেনো বল তো?(হাতে কফি নিয়ে)
পারফিউম টা খুব চেনা চেনা লাগছে না?
__হুম। (কিন্তু একটা তো সমুদ্রর কাছ থেকে কাল পেয়েছিলাম। ধুরু কি যে ভাবি না।ও কেনো আসবে এখন?)
আচ্ছা বাদ দে, চল বাগানে।তোর সারপ্রাইজ তোর জন্য ওয়েট করছে!
__আচ্ছা চল।
দুজনে নিচে গেলাম বাগান এ ঢুকতেই নিসান হাত দিয়ে আমার চোখ চেপে ধরলো!

কি রে কি করছিস!
__সারপ্রাইজ!
বাবা পরে যাবো তো।
__যাবি না আমি আছি না।

একটু হাটার পর ও আমার চোখ ছেড়ে দিলো।চোখ খুলে দেখি আমি আমার লাগানো কদম গাছ টার সামনে।কদম ফুল ফুটেছে।এক দিন সমুদ্র কে বলেছিলাম কদম ফুল এনে দাও তো।ও একটা গাছ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,

“এই নাও গাছ।ফুল হলে সারা দিন ধরে বসে থেকো!”
আজ সেই গাছে ফুল ফুটেছে!

ওমা ফুল হয়েছে!(আমি)
__সারপ্রাইজ?? (নিসান)
হুম খুব।কিন্তু কদম তো বরষায় ফোটে এখন তো বসন্ত চলে।এখন কেনো ফুটলো?
__যাহ গাছ টা কে জিজ্ঞাস কর।
ধুর।আচ্ছা শুন না পেরে দেনা?
__আচ্ছা দাড়া।

নিসান ফুল পেরে দিলো।আমি ফুল নিয়ে রুমে এলাম।দেখি পারফিউম এর গন্ধ টা এখনো আছে!
ফুলদানি তে ফুল টা রেখে বিছানায় বসলাম দেখি একটা চিট সাথে একটা কাজল

(চলবে…..)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *