প্রাক্তন 2 !! Part- 10
নিসান ফুল পেরে দিলো।আমি ফুল নিয়ে রুমে এলাম।দেখি পারফিউম এর গন্ধ টা এখনো আছে!
ফুলদানি তে ফুল টা রেখে বিছানায় বসলাম দেখি একটা চিট সাথে একটা কাজল চিটের উপরে কাজল। কাজল টা হাতে নিয়ে চিট টার দিকে তাকালাম উপরে একটা ♥ দেওয়া।চিট খুলে দেখলাম তাতে লিখা,
“মন থেকে বিতাড়িত করে মস্তিষ্কে তোমার প্রবেশ যা আমার নিউরনে হয় তো বসবাস করতে সক্ষম।তাই উকি ঝুঁকি না মেরে বসবাস শুরু করো।
ইতি,
তোমার মন থেকে বিতাড়িত কেউ”
বুঝ তে আর বাকি রইলো না মানুষ টা কে।কাজল ট। নিয়ে চোখে পাতলা করে কাজল একে দিলাম।কিচ্ছুক্ষন চিট টা হাতে নিয়ে বুঝার চেষ্টা করলাম কখন কার কাজ এইটা কখন এসেছিলো সে ঘরে?
নীরাপ্পি?(সুবহা)
__হুম বল।(আমি)
নিচে চলো?
__কেনো রে?
তোমার পুরোনো ফ্রেন্ডস রা এসেছে।
__আচ্ছা যা আমি আসছি!
নিচে গিয়ে দেখি আমাদের গ্যাং এর প্রায় সবাই ই এসেছে।১/২ জন আসে নি।নিচে নামতেই চোখ গেলো শ্রীজা এর উপরে।এই মেয়ে টা বলতো সালা বিয়ে কে করতে যাবে?আমি? এই শ্রীজা? ইম্পসিবল! এখন দেখছি কপালে মোটা করে সিঁদুর আকা হাতে শাখা পলা। সনাতন ধর্মাবলী মেয়েদের মাথায় সিঁদুর টা খুব চমৎকার মানায়।যেনো কালো মেঘে একটু অংশে সূর্য এর আলো পরেছে।শ্রীজা কে চমৎকার লাগছে।কে বলবে এই মেয়েটা শাড়ি পারতো না,সংসার করতে চাইতো না! আর আজ সে সংসার করছে হালকা নীল শাড়ীতে বেশ মানিয়েছে।চোখ আমার ওর দিকেই ও কাছে এসে বললো,
কি রে নীরু কি দেখছিস?(শ্রীজা)
__তোকে!
আমাকে মানে?
__বেশ পরিণত হয়ে গেছিস? একজন পরিণত নারী সাজে তোকে খুব মানিয়েছে।এভাবে প্রথম দেখলাম তো একটু হজম করতে বেশ সময় লাগবে! তো কার কপাল পুড়লি?
কার আর পুড়াবে আমার ই পুড়লো রে!(শ্রীজার পিছন থেকে কেউ একজন জবাব টা দিলো।খুব চেনা কন্ঠ)
পিছন থেকে বেরিয়ে এলো অনির্বাণ!
মানে শ্রীজা অনির্বাণ কে বিয়ে করেছে।শুনেছিলাম অবশ্য শ্রীজার বিয়ে হয়েছে কিন্তু তা যে অনির্বাণ এর সাথে তা জানা ছিলো না।অনির কোলে একটা বাচ্চা।মেয়ে বাচ্চা মানে শ্রী আর অনির মেয়ে ও হয়েছে। আমি বাচ্চাটাকে কোলে নিলাম।
নাম কি রেখেছিস?(আমি)
__অনুশ্রী💜
বাহ সুন্দর নাম! আয় বোস!কত দিন পর দেখা তোদের সাথে!
__আমরা তো সবাই ই ছিলাম তুই ই তো হারিয়ে গেলি!
হারিয়ে আর গেলাম কোথায়? ফিরে তো আসতেই হলো!
সবাই গল্পে মজে গেলাম আবার আগের মত মজা হচ্ছে।জারিফ আর সমুদ্র ও আসলো। অলরেডি ২ কাপ কফি খাওয়া হয়েছে সবার।
আরেহ সমুদ্র ভাই যে!নীরার সাথে দেখা করতে এসেছেন?(অনি)
__না রে সে আমার সাথে না তার বাড়ীর হবু বউ এর সাথে দেখা করতে এসেছে।(আমি)
মানে?(অনি)
__জারিফ আর সুবহার বিয়ে কয়েকদিন পর।
বলিস কি?
__হুম।তো তুই কবে করবি?
বাবা মা কে তো বললাম পাত্র দেখো ঝুলে পরি কারো গলায়।
__তুই আর এরেঞ্জ ম্যারেজ?
হুম বিশ্বাস হচ্ছে না?পারলে ভালো ছেলের সন্ধান দে।
__কেনো তোর প্রতি একজন এর ক্রাশ ছিলো সে কিন্তু ফাকাই আছে।
কে বল তো?
__আরেহ ওই যে ঘাস ফুল দিয়ে যে তোকে প্রপোজ করলো আমাদের সবার সামনে!কি না ডেডিকেশন!
তাই নাকি?(বলেই সমুদ্রর দিকে তাকালাম সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে কি জানি কি তার চোখে তার পর আমি অনির দিকে তাকালাম সে হাসছে তার মানে সে সমুদ্র কে জেলাস করার জন্যই এইটা বলেছে)
আচ্ছা আরেক কাপ চা/কফি হয়ে যাক কি বলিস?(আমি)
__হুম হয়ে যাক আমি তো পাই ই নি!(জারিফ)
এই তুই না বাড়ির হবু জামাই? কিচ্ছু সরম কর(শ্রীজা)
__তুরু ওত্ত পারবো না।এই নীরা শোন না একটা চিপ্স এর প্যাক ও আনিস তো।
আচ্ছা রে খাদক আনবো!
আমি রান্নাঘরে চলে এলাম।কফি আর চা চাপিয়ে দিয়েছে।
শুনতে পেলাম সমুদ্র বলল,
সুবহা? ওয়াশরুম টা কোন দিকে?(সমুদ্র)
__ওই দিকে ভাইয়া!(সুবহা)
আমি জানি সে ওয়াশরুম এ না রান্নাঘরে আসবে।যা ভেবেছি! সে চলে এসেছে।
বাড়ির ব্লু প্রিন্ট তো আপনার আগে থেকেই জানা তো সুবহা কে জিজ্ঞাস করলেন কেনো?(তার দিকে না তাকিয়েই বললাম)
__এমনি উঠে আসলে সবাই কিছু একটা ভাবতো।(সমুদ্র)
অহহ তাও ঠিক!তো এখানে?
__কোন ছেলে ছিলো?
ছিলো কেউ একজন!(বাকা হাসি দিয়ে)
__আমি কেনো জানি না?
বলতে চেয়েছিলাম ৩ বার এর মত ব্যস্ত থাকায় আপনি আর শুনতে চান নি। আর ও আর বলার ইচ্ছে জাগে নি!
__এত টাও ব্যস্ত তো কখনো ছিলাম না।
ছিলেন। মনে করে দেখেন!অন্যদের জন্য ছিলেন না কিন্তু আমার জন্য সময় ছিলো না।এই কফির বোটল টা দেন তো?
__কোথায়?
ওইযে?৩ নম্বর থাক এ!
__নাও।আচ্ছা নাম কি ছিলো?
জানি না শোনা হয় নি।
__জানো না? না বলতে চাইছো না?
হয়তো ২ টোই।
এই নীরা হলো?(নিসান চলে এসেছে)
__হুম প্রায়।
আপনি এখানে?ওয়াশরুম তো ওই দিকে?(নিসান)
__হুম ফ্রেশ হয়ে এসেছি!ভাবলাম তাকে হেল্প করি!একা কাজ করছেন।
আমরা অতিথি দিয়ে কাজ করাই না!(নিসান)
__অতিথি কেনো? নিজের লোক ই তো হচ্ছি।
তা হোন।আচ্ছা আপনি বসুন আমরা আসছি।
__আচ্ছা।
সমুদ্র চলে গেলো.
নীরু ছেলে টাকে একটু কেমন মনে হচ্ছে না?(নিসান)
__কেমন?
কেমন জানি! তোর দিকে তাকালে কেমন জানি ফাকা চোখে তাকায়। তোর দিকে তাকালে কেমন জানি ভাবে তাকায়।হয়তো শূন্য হয়ে হয়েছে এমন কিছু।
__কি জানি।আমি লক্ষ করি নি।চল নিয়ে যাই হয়ে গেছে।
আচ্ছা চল।
বাইরে গিয়ে সবাই কে কফি দিলাম আর সাথে আড্ডা ও।দেখলাম সবার কাছে শুধু জীবন ছাড়া আর কোনো গল্প নেই।শ্রীজার বাচ্চা টা কে কোলে নিতে কেমন জানি একটা ভালো লাগা কাজ করতে লাগলো!মাসি বলতে পারছে না শুধু মা তে গিয়েই আটকে যাচ্ছে।
হঠাৎ করে সমুদ্র পিছন থেকে কানের কাছে এসে বললো আমাদের অপেক্ষাও এত বড়ই হতো তাই না?
অপেক্ষার নাম টা শুনতেই কেমন জানি সব ধমকে গেলো!
(চলবে….)