আমার ক্রাশ বর

আমার ক্রাশ বর সিজন- 2 !! Part- 52

আরিয়ান নিজের অফিসে চলে আসে ওর সাথে আয়াত আর রাজ ও আসে।
তিন ভাই এিভুজ আকৃতি হয়ে একসাথে চুপচাপ বসে আছে।
আরিয়ান নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে সামনে টেবিলের উপর খুব জোড়ে হাত দিয়ে বাড়ি দিয়ে বলে,”আজ আবির আর রিমার স্থানে আমার অার অনুর থাকার কথা ছিলো।
তোরা ভাবতে পারিস তাহলে কি হতো আমাদের দুজনের? সরি দুজনের না এই এক্সিডেন্ট হলে একসাথে চারটা জীবন শেষ হয়ে যেতো।”
রাজ বলে,”মানে কি? তুই কি বলতে চাইছিস! চারজন কিভাবে আরিয়ান? ”
আরিয়ান বলে,”আবির সেদিন আমার গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলো।ওই গাড়িটা আমার ছিলো
তা তো কেউ জানে না।”

আয়াত বলে,”মানে এইসব কি ভাবে হলো আরিয়ান?”
আরিয়ান বলে,”সেদিন তোরা সবাই গাড়ি নিয়ে যাবার সময় হঠাৎ করে আবিরের গাড়িটা নষ্ট হয়ে যায়।অনেক রাত হয়েছিল আর রিমার ভাবীর শরীর খারাপ লাগছিল তাই আমি
আমার গাড়ি নিয়ে ওদের বাড়িতে চলে যেতে বলি।আবির আমার গাড়ি নিয়ে সেদিন রাতে রওনা দেয়।আমি পরে বাড়ি থেকে ড্রাইভার কে অন্য গাড়ি নিয়ে আসতে বলি।
সেই অন্য গাড়িতে মাঝ পথে এসে শুনি ওদের এক্সিডেন্ট হয়েছে।এটা তোরা ভাবতে পারিস সেদিন ঐ এক্সিডেন্ট আমাদের হবার কথা ছিলো।
আমার জন্য আজ আবিরের জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছে।যদি আমি ওদের অনুরোধ না করতাম তাহলে আজ আমাদের কবরে থাকতে হতো।”
এমন সময় অনু কোথা থেকে এসে এইসব কথা শুনে রুমের ভেতরে এসে আরিয়ানের শার্টের কলার ধরে বলে,”তুমি যদি গাড়িটা না দিতে আমার ভাইকে তাহলে আমার বান্ধবীর মতো বোনকে আজ হারাতে হতো না।
শুধু তোমার জন্য আজ আমার ভাবী মারা গেছে।আমার ভাই হাসপাতালের বেডে মরার মতো পড়ে আছে।আর সেই বেচারা তো জানে না তার বউ আর হবু বাচ্চা টা আর বেঁচে নেই।তুমি জেনে শুনে ওদের মারার জন্য তোমার গাড়ি দিয়েছিলে তাই না?
আমার পরিবার তোমার কি ক্ষতি করেছিল বলবে প্লিজ যেই জন্য আজ ওদের এই পরিণাম হলো?”
আরিয়ান অনুকে জড়িয়ে ধরে বলে,”বিশ্বাস করো আমি কিছু জানতাম না।যদি জানতাম আমার গাড়িতে সমস্যা তাহলে কখনো তাদের আমার গাড়িটা নিয়ে যেতে বলতাম না।”
অনু বলে,”এতো কিছু আমি জানি না,
বুঝতে চাই না।শুধু এটাই জানি তোমার জন্য আমার ভাইয়ের সুখের ঘরে আগুন লেগেছে।আমি তোমাকে কোনোদিন ও মাফ করতে পারবোনা। প্লিজ আজকের পর তুমি আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবা না।
আমি তোমাকে যতোবার দেখবো ততোবার আমার এক্সিডেন্ট এর কথা মনে পরবে।
আসলে আমি যদি আগে জানতাম তোমাকে বিয়ে করলে আমার এমন একটা দিন দেখতে হবে তাহলে কোনোদিক ও তোমাকে আমার ক্রাশ বর হিসাবে গ্রহণ করতাম না।
তোমার উপর যেদিন থেকে ক্রাশ খেয়েছি সেদিন থেকে সমস্যা আমাকে তাড়া করেছে।আমি অবুঝ ছিলাম তাই জীবনের সব থেকে বড় ভুল কাজ টা করেছি ক্রাশ খেয়ে।
বলে সেখানে থেকে সোজা চলে যায়।”

আরিয়ান অনুকে থামাতে চেষ্টা করে কিন্তু অনু আরিয়ানের একটা কথাও শুনতে রাজি হয় না।
তাই আরিয়ান অনুকে বোঝানোর বৃথা চেষ্টা করা ছেড়ে দেয়।কারণ অনুর রাগ করাটা স্বাভাবিক। আপন মানুষদের এমন অবস্থা দেখে কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে না।
আরিয়ান নিজের কেবিনে এসে বসে নিজের মাথার চুল টেনে ছিঁড়তে থাকে।
এমন সময় থানা থেকে একজন ফোন দিয়ে আরিয়ানকে বলে,” যে গাড়িটার এক্সিডেন্ট হয়েছে সেই গাড়িটার ব্রেক নষ্ট ছিলো।
যার কারণে যে গাড়ি ড্রাইভ করছিল গাড়িটা তার কন্ট্রোলের বাহিরে চলে যায়।”
আরিয়ান ফোনের লাইন টা কেটে দিয়ে রাজ আয়াত কে উদ্দেশ্য করে বলে, “কেউ ইচ্ছা করে আমার গাড়ির ব্রেক নষ্ট করে দিয়েছিলো।”
রাজ বলে,”তুই কি ভাবে জানতে পারলি বলবি?”
আরিয়ান বলে,”আমি বাড়ি থেকে যাবার সময় নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে গিয়েছি। তাহলে যাবার সময় যখন সমস্যা হলো না তখন আসার সময় সেই গাড়ির ব্রেক কি ভাবে নষ্ট হয়ে গেলো?”
আয়াত বলে “তাহলে কেউ ইচ্ছা করে তোকে মারার জন্য গাড়ির ব্রেক নষ্ট করেছে।
কিন্তু কে সে? ”
রাজ বলে,”জানতে হলে সেখানে যেতে হবে যেখানে এই গাড়িটা পার্ক করা ছিলো।”
আরিয়ান বলে, “যার জন্য আমার জীবনে এমন ঝড় উঠেছে তাকে আমি একদম মাফ করবো না।আমি তাকে শেষ করে দিবো।
তার জন্য আমার পরিবারের আজ এমন অবস্থা। তার জন্য আমার সুখের দিন দুখের দিনে পরিণত হয়েছে।আমি বাবা হবো কিন্তু সেই খুশিটা সবাই কে সাথে নিয়ে সেলিব্রেট করতে পারছি না।এই দুখের কালো অন্ধকার না জানি আমার ঘরের আলোটা নিভিয়ে দেয় কখন।”
আয়াত আর রাজ আরিয়ান কে জড়িয়ে ধরে বলে,”অভিনন্দন ভাই! তুই চিন্তা করিশ না।
সব ঠিক হয়ে যাবে।”
আরিয়ান বলে,”চিন্তা করতে চাই না তবুও করতো হচ্ছে। কারণ অনু জানে না যে ও প্রেগন্যান্ট। আর এই এতো ঝামেলার মধ্যে নিজের কোনো ক্ষতি না করে বসে। ”
আয়াত বলে,”রিমি কে যে কিছু বলবো তার ও উপায় নেই।ওর যে মনের অবস্থা তাতে ও অনুর খেয়াল রাখতে পারবে না।
রাজ বলে,”আমি রিদি আর মৌ কে বলবো ওরা তো আছে অনুর সাথে ওরা খেয়াল রাখবে চিন্তা করিশ না।”
আরিয়ান বলে,”হুম ওরাই এখন শেষ ভরসা।
তাই বলে সবাই অনুষ্ঠানের স্পটে চলে যায়।
এরপর সেখানে গিয়ে ওরা সেদিনের পার্কিং এড়িয়ার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করতে।
পুরোটা চেক করার পর ওরা যা দেখে তার জন্য মোটেও ওরা তিন জনের কেউ রেডি ছিলো না।
আরিয়ান সাথে সাথে পুলিশ কে ফোন দিয়ে এখানে আসতে বলে।
পুলিশ আসার পর তারা ভিডিও ক্লিপ টা দেখে আসামি কে গ্রেফতার করতে যায়।
পুলিশ চৌধুরী বাড়িতে এসে দিশাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে লাগে তখন রিনা বেগম বলে,”আপনারা আমার মেয়েকে কেনো ধরে নিয়ে যাচ্ছেন? ”
আরিয়ান বলে,”মামী জ্বি আপনার মেয়ে আমাকে মারার জন্য আমার গাড়ির ব্রেক নষ্ট করতে অন্য একজন কে সাহায্য করে।
বুঝতে পারছেন আপনার মেয়ে কি কাজ করেছে? ”
রিনা বেগম নিজের মেয়েকে মনের সুখে কয়েকটা থাপ্পড় দিয়ে বলে,”আমি খারাপ মাইন্ডে হতে পারি তাই বলে তোকে এমন কোনো শিক্ষা দেইনি যাতে করে তুই তোর নিজের ভাই ভাবী কে মারার প্লানিং করবি।”

দিশা চিৎকার করে বলে,”আমি ছোট থেকে আরিয়ান কে ভালোবাসি আর মাঝখানে কোথা থেকে ঐ অনু এসে আরিয়ান কে আমার কাছে থেকে কেড়ে নিয়েছে তা আমি মেনে নিতে পারি নাই।নিজে যদি না পাই তাহলে তাকে অন্য কারো সাথে সুখে কি করে থাকতে দিবো বলতে পারো? তাই আরিয়ান আমার হবে না সে অনুর ও থাকবে না।কিন্তু ভুল করে আরিয়ানের স্থানে অনুর ভাই ভাবী যাবে এটা তো জানতাম না।তবে ভালো হয়েছে দেখুক ঐ মেয়ের জন্য ওর ভাইয়ের সংসার ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেছে।”
রিনা বেগম বলে,”ছিঃ এতো খারাপ কাজ করার পরেও তোর আফসোস হচ্ছে না?
তুই মানুষ না তুই জানোয়ার।
কোনো জানোয়ার আমার মেয়ে হতে পারে না।ইন্সপেক্টর সাহেব ওকে নিয়ে যান।
ওর সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। ”
পুলিশ দিশাকে নিয়ে চলে যায়।
রিনা বেগম বাড়ির সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলে,”আমি ভাবতে পারি নাই আমার মেয়ে এতোটা খারাপ কাজ করবে।
তবে করা কাজের জন্য আমি লজ্জিত আমাকে মাফ করে দিবেন সবাই।
আমার শিক্ষা তে ভুল ছিলো যার ফল আজ এটা বলে সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।”
রাজের মা বলে,”আমি ভাবতাম আমার মেয়েটা আরিয়ানের জন্য পাগলামি করে।
হয়তো কোনোদিন সে অনুর ক্ষতি করতে পারে।
কিন্তু এখন দেখছি যে মেয়ে চুপচাপ থাকতো যার কোনো কিছুতে কেয়ার ছিলো না সেই এই সব কাজ করলো ভাবা যায়? ”
আয়েশা বেগম বলে,”বুঝতে পারি নাই ঘরের মেয়ে ঘরের শত্রু হবে।তাও আমার ছেলে আর বউয়ের জানের শত্রু।”
এরপর পুলিশ নিয়ে আরিয়ানরা অনুদের বাড়িতে আসে।

অনু আরিয়ান কে কিছু বলতে যাবে তার আগে পুলিশ এসে অয়ন কে ধরে নেয়।
আরিয়ান অয়নের গালে থাপ্পড় দিয়ে বলে,”তুমি এমন প্রতিশোধ নিবে তা কোনোদিন ও আমি ভাবতে পারি নাই।তুমি দিশার সাথে হাত মিলিয়ে আমাদের মেরে ফেলতে চেয়েছিলে তা আমি ভাবতে ও পারি নাই।আসলে কি বলোতো কথায় আছে আপনের চাইতে পর ভালো কিন্তু পরের থেকে জঙ্গল ভালো।আমারদের কপাল খুব খারাপ যে আমার আপন মানুষেরা পিঠের পিছনে ছুড়ি নিয়ে আঘাত করেছে।
আরে সেদিন রাতে তো আমাদের মারার প্লানিং করেছিলে কিন্তু ভাগ্য চক্রে রিমা আর আবির সেই গাড়িতে ছিলো।”
আরিয়ান রাগে আর কিছু বলতে পারে না।
অনুর বাড়ির সবাই কে রাজ সেই ভিডিও ক্লিপ দেখায় যেখানে দিশা আর অয়ন মিলে আরিয়ানের গাড়ির সাথে কিছু করছে।
বাড়ির সবার আর বুঝতে বাকী থাকে না আসল কাহিনী কী?
রিদি বলে,”ছিঃ অয়ন ভাই আপনি এমন কাজ করতে পারলেন? আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারি নাই কোনেদিন ও আপনি এমন কিছু করবেন। আরে প্রতিশোধ নেওয়ার এতো শখ ছিলো যে মানুষ কে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতেও বিবেক এ বাধে নাই আপনার? ”
অয়ন কোনো কথা না বলে পুলিশের সাথে চলে যায়।
অনু আরিয়ানের সাথে কোনো কথা বলে না।

আরিয়ান শুধু অনুকে একটা কথা বলে,”আমি কখনো ভাবি নাই আমাদের পরিবারের কেউ এমন কাজ করবে।ভাবছিলাম রুবি আমাদের দেখে জ্বলো সে হয়তো এমন কাজ করবে কিন্তু দেখো ভাগ্যের কি খেলা।যাদের সন্দেহ তো দূরের কথা অবিশ্বাস করি না তারাই আজ বিশ্বাস ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে। যাকে অবিশ্বাস করি সেই বিশ্বাসের মান রেখেছে বলে চলে যায়।”
অনু চুপচাপ সেখানে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।
এখন সে কি করবে জানে না।
সামনে এখনো আবির ভাই আছে তাকে সবটা জানাতে হবে।সে সবটা জানার পর কেমন ভাবে সহ্য করবে তা অনুর অজানা।
অনুর এখন বর নিয়ে চিন্তা নেই ভাইকে নিয়ে চিন্তা। ক্রাশকে বর করার জন্য আজ কাছের মানুষেরা অনুর সাথে শত্রুতা প্রকাশ করেছে।এমন ক্রাশ বরতো আমি কোনোদিন ও চাইনি যার জন্য আমার আপন মানুষেরা কষ্টে থাকবে।আর তাদের কষ্ট দেখে আমি সারাজীবন কষ্ট পাবো।
(ভুল এুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই প্লিজ)



চলবে….