আমার ক্রাশ বর

আমার ক্রাশ বর সিজন- 2 !! Part- 38

অনু কমিউনিটি সেন্টারের বাহিরে বোর্ডের দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠে।
কারণ সেখানে লেখা ছিলো আজকে অনু আর আরিয়ানের শুভ বিবাহ।
অনু তাড়াতাড়ি করে আবিরের হাত ধরে বলে,”ভাইয়া এই সব কিছুর মানে কি? ”
আবির লেখাটা পড়ে বলে,”সত্যি বলছি অনু আমি এসবের কিছু জানি না।তুই দাড়া আমি বেপার টা দেখছি কি হয়েছে।”
অনু রিমার সাথে ওদের বুকিং করা হলে চলে যায়।
আবির কমিউনিটি সেন্টারের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানতে পারে যে,আরিয়ানের বিয়ের জন্য ওদের অপর পাশে বুকিং দিয়েছে।
আর দুজনের বিয়ে এক সাথে তাই নাম লিখতে উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে।
এরপর সেন্টারের মানুষের সাথে কথা বলার পরে আবির এসে এখানে অনুকে সবটা বলে।
অনু আর কিছু না বলে চুপচাপ সেখানে কাছুমাছু হয়ে বসে থাকে।
আবির নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়।
রিমা মিষ্টি কে অনুর কাছে রেখে আবিরের সাথে এমনি কথা বলতে চলে যায়।
এদিকে অয়নের বাড়ির সবাই সেখানে চলে আসে।

ওদিকে আরিয়ান আর দিশার বাড়ির সবাই তাদের বুকিং করা সেন্টারে চলে আসে।
এদিকে অয়ন আর অনুর বিয়ের কাজ শুরে হবে এমন সময় অারিয়ান অনুর বিয়ের আসরে চলে আসে।
তা দেখে আরিয়ানের মা বলে,”কি রে তুই নিজের বিয়ের আসর ছেড়ে এখানে এসে কি করছিস? ”
আরিয়ান বলে,” বিয়ে করে বউ নিতে আসছি সেই কাজ করলে তো তোমরা খুশি তাই সময় মতো হলে হলো এখন নাকে তেল দিয়ে একটু চুপ থাকো।”
রাজ বলে,”মানুষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাই।আজ প্রথম জানতে পারলাম মানুষ নাকে তেল দিয়ে চুপ থাকে।”
আয়াত বলে,”আরে তুই বুঝিস না বেচারা বিয়ের টেনশনে প্রবাদ বাক্য গুলো ভুলভাল বলছে।”
আরিয়ান বলে,”এই তোরা এখান থেকে যা তো।আমাকে আমার কাজ করতে দে।”

আয়াত আরিয়ানের গালে সবার সামনে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলে,”তোকে এতোদিন নিজের ইচ্ছা মতো কাজ করতে দিয়েছি তার জন্য আজ তুই চারটা জীবন নষ্ট করবি না কি? কে দিয়েছে তোকে সে অধিকার সবার জীবন নষ্ট করার? ”
আরিয়ান চুপচাপ থাকে একটু পর অয়নের সামনে গিয়ে বলে,”আচ্ছা ভাইয়া আপনি কি অন্যের বউকে বিয়ে করতে চান। ”
অয়ন বলে,”নাহ,আমি অন্যের বউকে কেনো বিয়ে করতে যাবো? আমি কি এতোটা খারাপ তোমার মনে হয়।আমি তো অনুকে বিয়ে করে সুখে সংসার করবো।”
আরিয়ান বলে,”আপনি সুখে সংসার করলে আমার এই জীবনে আর সংসার করা হবে না।”
অয়ন বলে,”মানে কি বলতে চাইছো? ”
অারিয়ান গিয়ে অনুর হাত ধরে উঠিয়ে এনে অয়নের সামনে দাঁড় করিয়ে বলে,”এই যে আরিয়াত খান অনু।ওরফে মিসেস আরিয়ান খান।”
অয়ন বলে,”কি সব ফালতু কথা বলছো এইসব? ”
আরিয়ান বলে,”আপনি অনুকে জিজ্ঞাস করে দেখেন আমি মিথ্যা কথা বলছি না।”
অয়ন অনুকে বলে,”আরিয়ান যা বলছে তা কি সত্যি। ”
অনু আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে,”নাহ উনি মিথ্যা বলছে।আমার ওনার সাথে বিয়ে টিয়ে কিছু হয়নি।”
অারিয়ান বলে,”অনু মিথ্যা কেনো বলছো।
প্লিজ সবার সামনে এবার তোমাকে আমি আমার বউ বলে মেনে নিচ্ছি আমাদের সম্পর্ক টা কে ঠিক করতে চাইছি। আর তুমি কিনা এই সম্পর্ক টা কে একদম অস্বীকার করছো! ”

অনু বলে,”আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে তার কোনো প্রমাণ আছে? তাহলে অযথা কেনো আমি আপনাকে আমার স্বামী ভাবতে যাবো? ”
আরিয়ান বলে,”তুমি আমার বিয়ে করা বউ এটা যদি প্রমাণ করতে পারি তাহলে কি করবে আমার সাথে সংসার?”
অনু বলে,”আপনার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে।
আমি আপনার বউ এটা যদি প্রমাণ করতে পারেন তাহলে এই বিয়ের আসরে আপনাকে বিয়ে করে আমি সংসার করতে রাজী আছি।”
আরিয়ান বলে,”তাহলে আজ তাই হবে তুমি আমার বউ আমি সে কথা আজ প্রমাণ করবো।”
আবির এসে বলে,”আজ যদি আর প্রমাণ না করতে পারো তাহলে কোনোদিন ও আমার বোনের ছায়া পর্যন্ত মাড়াবেন না মিস্টার আরিয়ান রাজ চৌধুরী।”
আরিয়ান একবুক আশা নিয়ে গেটের দিকে বার বার তাকিয়ে আছে।
এভাবে অনেক সময় চলে যায়।
কিন্তু কেউ গেটের সামনে আসে না।
আরিয়ান বারবার কাউকে কল দিচ্ছে তবে তার ফোন বারবার সুইচ ওফ বলছে।
আরিয়ান কে চিন্তিত দেখে অনু আবির কে বলে,”ভাইয়া ওনার কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
অযথা সে আমাদের অপমান করতে এসেছে এখানে।”
আবির বলে,”আরিয়ান তোমাকে অনেক সময় দেওয়া হয়েছে।কোনো কিছু প্রমাণ করতে পারো নাই।এবার এখান থেকে আসতে পারো।
অযথা আমাদের এভাবে হেনস্থা করার কোনো মানে হয় না।”
অয়ন বলে,”এই সব কি হচ্ছে আরিয়ান।
আমি তোমাকে ভালো ভাবছিলাম আর সেই তুমি কি না আমার বিয়ের দিন এসে এতো নাটক করছো?”
আয়েশা বেগম বলে,”আরিয়ান এই সব কি হচ্ছে ঐ মেয়েটা কি ভাবে তোর বউ হয়।তোদের তো বিয়ে হয়নি তাহলে অনুকে নিজের বউ বলার মানে কি?”
এমন সময় পেছন থেকে একজন বলে ওঠে, “মানে এটাই যে অনু আরিয়ান চৌধুরীর বিয়ে করা বউ।”
অনু দরজার সামনে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়।
এটা কি সত্যি না কি সে স্বপ্ন দেখছে!

এমন সময় আরিয়ান অনুর মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলে,”মিসেস আরিয়ান এটা আপনার সারপ্রাইজ। আপনার স্বামী এতো সহজে বউ হারাতে রাজি না।”
আবির বলে,”এতো নাটক না করে কি প্রমাণ করবে করো নয়তো যাও তো এখান থেকে।”
আরিয়ান বলে,”প্রমাণ তো করবোই। তারপর দেখা যাবে কি হয়।”
দরজার সামনে আরে কেউ দাঁড়িয়ে নেই সিয়াম দাঁড়িয়ে আছে সাথে করে সেই গ্রামের মোড়ল কে এনেছে। যাদের গ্রামে অনু আরিয়ানের বিয়ে হয়েছিল।
তারা সামনে এসে বিয়ের কাবিন নামা সহ কিছু ছবি দেয় সবাই কে যা তে বোঝা যাচ্ছে আরিয়ানের কথা ঠিক।
অয়ন অনুকে এসব দেখার পর বলে,”অনু তোমার থেকে এমন কিছু আশা করি নাই তারপর অনুকে অনেক কথা শুনিয়ে অয়ন তার পরিবার কে নিয়ে চলে যায়।”
আবির অনুকে বলে,”আরিয়ান তোর স্বামী সে কথা প্রমাণ করে দিয়েছে। এবার তুই দেখ তুই কি করবি।”
আরিয়ান এরপর তার পরিবার কে নিয়ে নিজের বিয়ের আসরে চলে আসে।
রিদি আরিয়ানের সাথে যাবার সময় অনুকে বলে,”এবার দেখ তোর কি দরকার ক্রাশ বর না কি সতীনের সংসার।”
ওদিকে গিয়ে আরিয়ান বিয়ের আসরে বসে পরে একটু পর দিশার বিয়ে পড়ানো শুরু হয়।
এমন সময় অনু নিজের শাড়ির কুচি ধরে এক দৌড়ে আরিয়ানের কাছে গিয়ে ওর পাঞ্জাবির কলার ধরে বিয়ের আসর থেকে নামিয়ে এনে বলে,”শয়তান পোলা আমার বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে নিজে বিয়ে করবে সে গুড়ে বালি।”

অারিয়ান তো মিটিমিটি করে হাসতে থাকে।আরিয়ানের হাসি দেখে অনু বলে,”এই শয়তান একদম হাসবে না তোমার এই হাসি দেখে আমার কলিজা পোড়ে।”
আরিয়ান অনুকে পেছনে ঘুড়িয়ে বলে,”দেখো বোকা মেয়ে এখানে কারো বিয়ে হচ্ছে না।সবটা তোমার অভিমান ভাঙ্গানোর জন্য আয়োজন করেছি আমি।”
অনু দেখে এখানে সত্যি আরিয়ানের বাড়ির মানুষ ছাড়া কেউ নেই।
এসব দেখে অনু খুব ইমোশনাল হয়ে যায়।এবং কান্না করতে করতে সে আরিয়ানের বুকের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তা দেখে আরিয়ান খুব আদরের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখে।
এদিক থেকে রাজ বলে,”তোমাদের দু জন ছাড়াও যে আমরা বাড়ির অন্য বড় সদস্য এখানে উপস্থিত আছি তা কি ভুলে গেছো? ”
আরিয়ান বলে,”ধুর শালা আমি কি রোমান্স করছি? তুই কোনোদিন বদলাবি না তাই না।সব সময় আমার পেছনে লাগতে হবে তোর তাই না।”
রাজ বলে,”তুই ছাড়া কে আছে আমার বলবি? ”
রিদি পেছন থেকে বলে “সোনা বর আমিও তোমার একমাত্র বিয়ে করা বউ আছি।”
রাজ বলে,”তুমি তো তুমি।তবে তুমি কখনো আয়াত বা আরিয়ানের স্থান নিতে পারবে না আমার হৃদয়ে তোমার স্থান তো সব সময় হৃদয়ের মাঝে।”
আয়াত বলে,”থাক অনেক হলো হৃদয়ের কথা আর না কথা বলি।এখন ওদের কি করবো তার ব্যবস্থা করো।মা বাবা ফুপি সবাই বাড়িতে গেছে না জানি তাদের রিয়াকশন কি হবে।”

আরিয়ান বলে,”তাদের রিয়াকশন না হয় বাড়ি গিয়ে দেখবো।এখন আর তাদের নিয়ে চিন্তা করতে পারছি না।”
এমন সময় আবির পেছন থেকে এসে বলে,”কাজী সাহেব সব তো রেডি করা আছে প্লিজ তাড়াতাড়ি এদের বিয়ের কাজটা কমপ্লিট করে দেন তো।
বলা যায় না আবার কোন ঝড় এসে এদের আলাদা করে দেয়।তাই আর কোনো ঝড় আসার আগে চার হাত এক করে দেই ওদের।”
অনু তো একদম অবাক।বলে,”ভাইয়া তুমিও এদের সাথে মিলেমিশে আছো? তুমিও সবটা মেনে নিয়েছো? ”
আবির বলে,”অবাক না হয় পরে হবি এখন তো শুভ কাজটা হয়ে যাক।বাকি কাহিনী পরে বলবো অনু মনু।”
এরপর রাজ বলে,” কাজি সাহেব দেড়ি করলে লেট হয়ে যাবে।তাই প্লিজ তাড়াতাড়ি করেন।নয়তো ট্রেন মিস যেতে পারে।”
আরিয়ান বলে “রাজ তুই কখন যে কি বলিস তা আমি বুঝতে পারি না।”
রাজ বলে,”তোর না বুঝলেও চলবে অন্যরা বুঝলে হবে।”
কাজি সাহেব আবার অনু আর আরিয়ানকে মৌখিক ভাবে কবুল বলিয়ে বিয়ে পড়িয়ে দেয়।
উফ রিদি আর রিমি যে আজ কতো খুশি তা বলে শেষ করা যাবে না।তিন বোন একসাথে থাকবে।
সে কথা ভাবতেই ওদের চোখে খুশির অশ্রু চলে আসছিল।
আয়াত বলে, “বিয়ে অনুর হলো কান্না তোমরা দু জন করছো কেনো? ”
রিমি বলে,”সে কথা বোঝার মতো বুদ্ধি তোমার নেই।”
আয়াত বলে, “সে কথা বোঝার বুদ্ধি না থাকলে এমনি এমনি ডাক্তার হয়ে গেলাম আমি? ”
রিমি বলে,”উফ আয়াত তুমিও না।”

এরপর অনু সবার থেকে বিদায় নিতে শুরু করে বিদায় বেলা।আবির কে জড়িয়ে ধরে অনু খুব কান্নাকাটি করতে থাকে।আবির ও অনুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়।সে তার অনু মনুকে আজ তার মনের মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে এটা ভাবতে যতোটা খুশি লাগে ততোটা কষ্ট লাগে কলিজার টুকরো বোন কে বিদায় দেওয়ার।
অনু যাবার সময় রিমা কে বলে,”ভাবী তুমি আমার বাবা, মা,ভাই,মিষ্টি আর নিজের খেয়াল রাখবা প্লিজ। ”
অনুর মুখে এমন কথা শুনো সবাই ইমোশনাল হয়ে যায়।
তারপর আরিয়ান সবাই কে সামলে নিয়ে অনুকে নিয়ে সবার কাছে থেকে বিদায় নেয়।
বিদায়ের পর অনু আরিয়ানের বাড়ির দিকে রওনা দেয়।
এরপর অনুকে নিয়ে আরিয়ান চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছে যায়।
(সবার কাছে থেকে গগঠনমূলক মন্তব্য আশা করছি)



চলবে……