বধুবরন-সিজন-2 ! Part- 02
শুভার জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে একটি ঘরের বিছানায় খুঁজে পেল।আগের বিছানা নয় এটা অন্য ঘর অন্য বিছানা। শুভা হাতে ভর দিয়ে কষ্ট শিষ্টে বিছানায় উঠে বসতেই সামনে বুয়া মহিলাটাকে দেখলো।মহিলা শুভাকে উঠে বসতে দেখে দৌড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।শুভা নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়টাকে বার বার না চাইতেও মনে করছে আর কাঁদছে। তবে এটা এখন আর চোখের কান্না নয়।মনের কান্না।চোখ যে ভার হয়ে আছে ব্যথায়।জল কিছুতেই বের হচ্ছে না।হঠাৎ করে দরজাটা খুলে গেল।শুভা নড়েচড়ে বসে সামনে তাকাতেই লজ্জায়, ভয়ে মাথা নিচু করে জড়োসড়ো হয়ে বসলো।নীল ধীর পায়ে শান্ত ভঙ্গিতে শুভার সামনে এসে দাঁড়ালো। মেয়েটার ব্যাপারে যা ভেবেছিল তা নয়।মেয়েটা সহজ সরল গোছের তা নীল বুঝে গেছে এতোক্ষনে।
“- বাসা কোথায়?
“- খিলক্ষেত!খুব আস্তে করেই বললো দূর্বল স্বরে।
“-ড্রাইভার কে বলছি তোমাকে দিয়ে আসবে বাসায়।
“- না! না! আমি একা যেতে পারবো।আমাকে যেতে দিন দয়া করে।
“- দয়া আমি করি না।যা বলেছি তাই হবে।ওকে! বুয়া কিছু খেতে দাও খেয়ে চলে যাক।আর শোনো! যা হয়েছে ভুলে যাও।আজকের পর থেকে না আমি তোমাকে চিনি না তুমি আমাকে চেনো।বুয়া! ঠিকঠাক মতো পাঠিয়ে দিও।
“- জ্বী ভাইজান! নীল বুয়ার জবাব পাওয়ার আগেই শুভার দিকে অনিচ্ছা স্বত্বেও একবার তাকিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল।শুভা খাবে না ভেবেও বুয়ার জোড়াজুড়িতে অল্প করে ভাত আর দুধ খেয়ে নিল।নীলের কথায় ড্রাইভার শুভাকে নিয়ে খিলক্ষেত ওভার ব্রিজের নিচে আসতেই শুভা ড্রাইভার কে থামিয়ে দিল।জোর করে নেমে গেল।এখান থেকে আধঘণ্টা লাগবে বাসায় পৌঁছাতে। শুভা চাই না এই কলঙ্কের ছায়া ঐ বাড়ির লোকের সামনে পড়ুক।বড় মা শুনলে অনেক কষ্ট পাবে।বড় মার ঢাল হয়ে বাঁচতে চাই শুভা বোঝা বা কপালের কালি হয়ে না।
শুভাকে ৭দিন বয়সে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে নিজের ঘরে নিয়ে আসে মনিরা সুলতানা। সন্তান স্নেহে একটু একটু করে বড় করে তোলে।অভাবের কারনে শুভাকে পর্যাপ্ত সুখ না দিতে পারলেও ভালোবাসার কমতি রাখেন এই নিঃসন্তান জননী।শুভা রাত ১০ টাই বাড়ি ফিরলো।টিনের ছাউনি দেওয়া ওয়াল করা ছাপড়া ঘরে থাকে শুভারা।দুটো রুম একটাতে বড় মা আর শুভা সহ রাবু সামি,রাতুল। অন্যটাই শুভার বড়মার দূরসম্পর্কের ব্যাচেলর ভাতিজা ভাড়া থাকে।শুভাদের খরচের কিছু অংশ এই রুম ভাড়া থেকেই আসে।৫ মুখের পুরো মাস ২ হাজার টাকা আর বড় মায়ের সামান্য জমানোর টাকায় কোনোমতে চলে যায়।শুভাকে দেরিতে ফিরতে দেখে মনিরা ভাতিজা আশিককে খুঁজতে পাঠিয়েছিল।শুভাকে না পেয়ে আশিকের মনের মধ্যে ঝড় উঠতে শুরু করেছে।ভালোবাসার মানুষের নিখোঁজ হবার আশংকা আশিককে পাগল করে তুলেছিল।হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরছে অফিস থেকে এসেই।শুভা দরজায় টোকা দিতেই সামি খুলে দিয়ে চিৎকার করতে করতে আপুকে জড়িয়ে ধরে।
“- বড় মা! আপু আসছে।
মনিরা হন্তদন্ত হয়ে উঠে আসে।মাথায় তেলপানি দেওয়া।শুভাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে।
“- কই গেছিলিরে মা! তোকে ছাড়া আমি যে কিছুই ভাবতে পারি না।
“-বড় মা! কেদো না।একটা টিউশনি কথা বলতে গিয়েছিলাম। তারা খুব ভালো।না খাইয়ে আসতেই দিল না।বাচ্চাটা এতো দুষ্টু খাওয়ার সময় আমার কাপড়ে ভাত তরকারি ফেলে দিল।তাই ওর মা এই শাড়িটা দিয়েছে পড়তে।শুভা নিজেকে শক্ত রেখে পূর্বে ভেবে রাখা মিথ্যা কথাটা বড় মাকে বললো।মনিরা মেয়েকে না পেয়ে এতোটাই ভেঙে পড়েছিল যে শুভা যা বলেছে তাই বিশ্বাস করে। রাতে আশিককেও কোনোমতো বুঝিয়ে কাপড় পাল্টে বিছানায় শুয়ে পরে।শরীরটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না।বড় মা অনেক বলে কয়ে দুনলা ভাত শুভার মুখে দেয়।সেটাও শুভা বদহজম করে ফেলে দেয়।প্রচন্ড পেট খারাপ হচ্ছে। ভয়ে জ্বর পেট খারাপ সব একইসাথে শুরু হয়েছে শুভার।মনিরা শিওরে বসে মাথা ধুয়ে দিয়েছে।অনেক চেষ্টা করেও শুভার গা হাত পা মুছতে পারে নি।শুভা কম্বল থেকে বের ই হলো না।সামি,রাতুল বোনের পাশে বসে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে নানা মজার গল্প করেছে।শুভার মাথা ব্যথা করা স্বত্বেও ওদের গল্প বন্ধ করতো বলে নি।এই বাচ্চা তিনটাকে নিজের আপন বলেই স্নেহের কমতি করে না শুভা্
আজ রাতে নীল কিছুতেই ঘুমাতে পারছে।শুধু এপাশ ওপাশ করছে।মধ্য রাতে বিছানা ছেড়ে উঠে ছাঁদে পায়চারি করেছে পুরো দু প্যাকেট সিগারেট আর ব্যান্ডের মদ খেয়ে।কোনোভাবেই সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ঘটনা ভুলতে পারছে না।মিরার উপর রাগ করে গত কয়েকমাস ধরে নীল নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েদের ঘরে আনছে।কিন্তু আজ পর্যন্ত এদের হাতটাও ছুঁয়ে দেখেনি।কেন যেন গা ঘিনঘিন করেছে মেয়েগুলোর চড়া মেকাপ,লিপিস্টিক অসহ্য লাগতো। যেটাতে সবচেয়ে বেশি রাগ লাগতো তা হলো নীলকে ভয় পেত তো নাই ই উল্টো নীলের উপর প্রভাব খাটাতে চাইতো।নীল অতি চঞ্চল,গায়ে পড়া,পুরুষের উপর ঠাসঠাস কথা বলা মেয়ে মোটেও সহ্য করতে পারে না।মেয়ে জাত মাথা নিচু করে চলবে।লজ্জা তাদের সমস্ত অঙ্গে অঙ্গে ভাসবে। তবেই নারী নারী ভাব লাগবে।আধাঘন্টার বেশি মেয়েগুলোকে সহ্যই করতে পারেনি নীল।গায়ে পড়ে এখানে ওখানে স্পর্শ করার স্বভাবে রেগে প্রত্যেকটাকে ঠাটিয়ে চড় দিয়ে বের করে দিয়েছে। তবে আজ কেন এমন করলো? এই মেয়েটা ওদের মতোন না বলে?
“- উফ! আর পারছি না।এই মেয়ে আমার মস্তিষ্ক কামড়ে ধরেছে।নীল আরও এক গ্লাস গলায় ঢালে।মাথাটা দুহাত দিয়ে ঝাকিয়ে সিড়ি বেঁয়ে নিচে রুমে এসে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে।চোখ বন্ধ করতেই কানে এসে লাগে ঐ মেয়েটার আত্মচিৎকার।নীল টান হয়ে বসে পড়ে।কিছু তো করতেই হবে।নয়তো ঐ মেয়ের কারনে পাগল হয়ে যাওয়া লাগবে।পাপবোধে কুড়ে কুড়ে খাবে।ডু সামথিং নীল!
অনেক চেষ্টা করে ভোরের দিকে নীল হালকা ঘুমিয়েছিল।৭ টার দিকে উঠে জিম করার জন্য লেগে পড়ে।জিম শেষে জুস খেতে খেতে ঘর্মাক্ত শরীর মুছছিল তখনই মোবাইল রিং হয়। ডায়াল নাম্বার না দেখে কল রিসিভ করতেই ওপাশের মেয়েলি গলা শুনে রাগে কপালের রগ ফুলে ওঠে।
“- বেবি! মোবাইল ধরো না কেন? কাল রাত থেকে কল করছি।
“- তোর বাপের কিনে দেওয়া মোবাইল যে তোর ইচ্ছায় মোবাইল ধরতে হবে।কল করেছিস কেন? আর কি চাই তোর?
“- তোমাকে চাই বেবি! আমার নীল বেবি কে চাই!
“- ডং করিস? তোর ডং দেখার সময় নাই আমার।কল কাট!
“- প্লিজ নীল! এমন কেন করছ? আজ ৬ মাস তোমাকে ছাড়া আমি কেমন আছি ভাবতে পারো?
“- ওতো আজাইরা ভাবার সময় নাই আমার।কল কাট তুই।এতো নির্লজ্জ কেন তুই।তোকে যে ছবি দিয়েছি দেখিস নি।তোকে ছাড়া অনেক ভালো আছি। অনেক।ভালোই হয়েছে তুই আমাকে ছেড়ে চলে গেছিস।এখন আমার স্বাধীন লাইফ।প্রতিদিন একটা করে মেয়ে। ব্যস আর কি চাই?
“- তুমি একশ মেয়ের সাথে থাকলেও আমি তোমাকেই চাই।আর আমি জানি আমার নীল আমাকে ছাড়া অন্য কাওকে স্পর্শ করতে পারে না।কোনোদিন না।
“- তোর এই কথাতেই আমার জীবন নষ্ট করে হয়ে গেল।পাপের সাগরে নামিয়ে দিল।মোহিত ঠিকই বলেছে তুই আসলেই দুমুখো সাপ।তা না হলে আমার দুঃসময়ে ওভাবে কানাডা চলে যেতে পারতি না।যাওয়ার আগে কি যেন বলেছিলি? তোর সাথে আমার আসলে যায় না।তুই আরও ভালো কিছু ডিজার্ভ করিস।তো ভালো।তাহলে নির্লজ্জের মতো কল কেন করিস?
“- বেবি! তুমি তো ৯ বছর ধরে চেনো আমাকে তাই না।আমি রেগে গেলে কতো কি বলি। সরি! বলছি তো সোনা।আমার এই স্কলারশিপটা খুব জরুরি ছিল বোঝো না কেন তুমি?
“- বলছি না তোকে বা তোর বিষয়ের কিছু বোঝার সময় আমার নাই।তোর সকল প্রয়োজনে আমি ছিলাম।কিন্তু আমার প্রয়োজনের সময় তুই পিঠ দেখিয়ে চলে গেলি।তোকে আমার তখন খুব প্রয়োজন ছিল রে মিরা।নীলের রাগী স্বর মুহুর্তে নরম হয়ে যায়।
“- বেবি সরি বলছি তো! মাফ করে দাও না গো।তুমি বললে আমি সব ক্যানসেল করে চলে আসবো।জাস্ট একবার বলে দেখো।
“- মিরা কল কাট!
“- নীল প্লিজ!আমার বাবুটা সোনাটা!কলিজাটা মিরার কথা শেষ না হতেই নীল কল কেটে দেয়।মিরা এসবের সাথে অভ্যস্ত।মনে মনে হাসি দিয়ে বলে”- বেবি তুমি যতোই নাটক করো বিয়ে তো এই মিরাকেই করতে হবে।নীল নামক বদরাগীকে জন্মের পর থেকেই চেনে মিরা।সম্পর্কে আপন মামাতো ভাই।কাজিনদের মধ্যে সবচেয়ে ড্যাসিং, মুডি,আর এটিটিউডে ভরা।নাকের ডগায় রাগটা যেন জন্মগত।অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে নীলকে বয়ফ্রেন্ড বানায় মিরা।মিরার চোখে নীল বরাবরই পানসে ক্যাটাগরির।মিরা ৯ বছর নীলের সাথে রিলেশনে থাকলেও দুএকবার হালকা পাতলা লিপ কিস ছাড়া আর কিছুই দেয় নি মিরাকে।যে দুএকবার দিয়েছিল সেটাও মিরার মন রাখার জন্য। এমন রোবটের সাথে কেউ রিলেশন করতে চাই? মিরা বাধ্য হয়ে করেছিল।যদিও ক্রমেই নীলের প্রতি দূর্বল হয়ে যায়।কাজিনদের সামনে যখন নীলের হাত ধরে মাখামাখি হয়ে ঘুরে প্রত্যেকটা হিংসে জ্বলে পুড়ে মরে।যা দেখে মিরার নীলকে আরও ভালোবাসতে ইচ্ছা হয়।সম্পর্কের বছর চারেক বাদেই নীল মিরার এনগেজমেন্টটা হয়ে গিয়েছি পারিবারিক ভাবেই।মিরা হট বোল্ড কোনো ড্রেসেই নীলকে ভোলাতে পারে না।মাথা পুরোপুরি বিজনেসে ঢুকিয়ে বসে থাকতো।অন্য সবকিছু ভুলে।একটাই ধ্যান নাকি ছিল সফল বিজনেসম্যান হবার।পিতার সমকক্ষ বিজনেসম্যান।হয়েছেও তাও মাত্র ১০ বছরের মাথায়।এ কারনে মিরা কেন অন্য কোনোদিক নীলের মন ছিল না।প্রচন্ড জেদি আর বদরাগী নীল।পিতার সাথে তুচ্ছ কথার জের ধরে আজ ১১ বছর নিজ বাড়ি থেকে দূরে থাকে।বাবা ছাড়া সবার সাথেই সম্পর্ক ভালো।নীলের এমন রাগী স্বভাব দেখে নীলের দাদিজান মেহেরুন খাতুন মিরার সাথে নীলের এনগেজমেন্ট করে রাখে।তার ভয় পিতার উপর জেদ করে কোনদিন কাইল্লা কুইল্লা ছেরি বিয়ে করে নিয়ে না আসে?মেহেরুন সব সহ্য করতে পারে কালো মানুষ দুচোখে মোটেও সহ্য করতে পারেন না।তার ছেলেগুলোও মায়ের মতোন।বাড়ির চাকর বাকর থেকে শুরু করে বাড়ির নাতি পুতিও তাদের ফর্সা চাই।সে মতেই খুজে খুজে সাদা চামড়ার লোকের সাথেই বৈবাহিক সম্পর্ক করেছে।এর অন্যথা খান বাড়িতে কোনকালেই হয় নি হবেও না অন্তত মেহেরুন বেঁচে থাকতে।মেহেরুনের এই এক কথা!
মিরার সাথে কথা বলার পর নীলের রাগটা আরও বেড়ে গেল।নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো এমন ছ্যাঁচড়া, স্বার্থ বাদী মেয়েকে সে কি করে ভালোবাসতে পারে?
আজ তিনদিন পর জ্বরটা একটু কমেছে শুভার।শরীর আগের থেকেও ভেঙে গেছে চিন্তায় চিন্তায়।বিকালে ওড়নাটা চাদরের মতো জড়িয়ে বাসার সামনে বসে সামি আর রাতুলের কাচের বল খেলা দেখছিল।এমন সময় একটা ধূসর রঙের কার এসে থামলো।সামি রাতুল গাড়ির হর্ন পেয়ে দৌড়ে গাড়ির কাছে গেল।ছোটদের জন্য এ এক মজার বিষয়।শুভা ওদের ডাকতে ডাকতে হঠাৎ থেমে যায়। গাড়ির দরজা খুলে সুট বুট পরে চুলটা ব্যাক ব্রাশ করতে করতে ওর দিকেই এগিয়ে আসছে সেই মানুষটা।শুভার ইচ্ছা করছে দৌড়ে পালাতে।কিন্তু পারলো না।তার আগেই লোকটা মুখোমুখি হয়ে এসে দাড়িয়েছে। সেদিনের চেয়ে আজকে আরও বেশি সুন্দর লাগছে লোকটাকে যেন অচিনপুরের রাজপুত্র। পরক্ষনেই শুভা মনে মনে খেঁকিয়ে উঠলো। “- রাজপুত্র না ছাই! আস্ত একটা অসুর।শিং ওয়ালা অসুর।শুভার চোখে চোখ পড়তেই নীল মুচকি হাসি দিল।শুভা তা দেখে মুখ কালো করো মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল।আশ্চর্য শুভা দেখলো লোকটা ওর পাশে কেটে ঘরের দিকে চলে যাচ্ছে।কিন্তু কোথায় যাচ্ছে? মাকে বলে দিতে? শুভা দ্রুত পায়ে ভয়ার্ত স্বরে নীলকে পিছু ডাকে।
“- শুনুন! নীল শুভার শান্ত গলার অল্প আওয়াজেই থেমে দাড়িয়ে পড়ে পকেটে হাত রেখে।
শুভা পেছনে দাড়িয়েই বলে,
“- আপনি! কাওকে কিছু বলবেন না প্লিজ! শুভা এবার সত্যি সত্যি ভয়ে কেঁদেই ফেলে। নীল পেছনে ঘুরতেই শুভা হাত মুঠ করে মাথা নিচু করে ফেলে।নীল এক পা দু পা করে একদম শুভার কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়। লম্বা মানুষ সামনে দাড়িয়ে থাকলে মনে হয় বট গাছের নিচে দাড়িয়ে আছি।শুভারও তাই মনে হলো।নীলের কাছাকাছি থাকায় বুকটা ধুরুধুরু করছে।নীল কিছুটা ঝুঁকে বললো,
“- তুমি চাও ওসব আমি কাওকে না বলি?
শুভা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে।
“- তাহলে আমি যা বলবো তাই করতে হবে। রাজি!
শুভা! পড়েছে মহা ঝামেলায়। এই লোক মোটেও ভালো না।হয়তো একটু ভালো। তাইতো ঐ রাতে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু শুভার সাথে যা করেছে তাতে শুভা এই লোককে মোটেও পছন্দ করে না।শুভাকে চুপ থাকতে দেখে নীল দাঁত কিড়মিড় করে বললো,
“-আমি একবার ফের দুবার কিছু বলি না।জবাব দাও মেয়ে।না হলে এখনি সব বললাম কিন্তু।
“- না! না! আপনি যা বলবেন তাই হবে শুধু! শুভা নীলের ধমকে নড়ে উঠে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে।
“- শুধু কি!
“- ঐদিনের মতো করবেন না আমার সাথে।আর যা বলবেন সব করতেই রাজি আমি।
“- সেটা সময় হলেই বুঝবো।এখন যাও তোমার গার্ডিয়ানকে ডেকে নিয়ে আসো।
শুভা চোখ মুছতে মুছতে দৌড়ে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে।নীল এই মেয়েকে যতো দেখে ততই বিস্মিত হয়।এতো বোকা সোকা আর ছিচকাদুনে মেয়ে ইট পাথরের সমাজেও আছে নাকি? নীলের যেমন মেয়ে পছন্দ এ মেয়ে ঠিক তেমন।শুধু গায়ের রঙ টা কালো।এটাই বড় সমস্যা।হোক কালো! তাতে কি আসে যাই।নীল তো আর একে ঘরের বউ বানাবে না।
চলবে,,,