The Cobra King Mafia Boss- Season 4 !! Part- 26
রুহী মলিন মুখে খাবারটা খেয়ে নেয় রোয়েনের হাতে।রোয়েন এবার রেগে বলল,
.
.
-এভাবে কথা শুনলেই আর বকা শুনোনা।
.
.
রুহী মাথা নিচু করে।রোয়েন রুহীর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে বাঁকা হেসে রুহীর চিবুকে হাত রেখে ওর মুখ তুলে ধরে।রুহী মলিন মুখে ওকে দেখছে।রুহীর ঠোঁটজোড়া অস্বাভাবিক লাল হয়ে আছে।রোয়েন নিজেকে সামলাতে পারেনা।ওর দিকে এগিয়ে যায়।এদিকে রেজোয়ান মাহবুব জানতে পারেন রশিদ মির্জা রুহীর থেকে ২০ বছরের বড়।প্রচন্ড অবাক হন।ওনারা কি করে এমন বয়স্ক লোকের কাছে রুহীর বিয়ে দিতে চান?মাথা কাজ করেনা ওনার।ঠিক শুনলো তো ওনি।নাকি ভুল!!!ওনি আর নিজের ক্রোধ কে সামাল দিতে পারেননা।দৌড়ে নিচে এসে চিৎকার করে ডাকতে থাকেন।
.
.
-বাবা মা নিচে আসেন।
.
.
রেজোয়ান মাহবুবের চিৎকারে কিছুটা বিরক্ত হয়ে নিচে নামেন সেলিনা হামিদ আর হাসান হামিদ।
.
.
-কি হলো রেজোয়ান এভাবে চিৎকার করছো কেন?রেগে যান হাসান হামিদ।
.
.
এদিকে রুহীর অনেক কাছে চলে এসেছিলো রোয়েন।ঠোঁটজোড়ার মাঝে এক ইঞ্চি ফাঁকা ও নেই ঠিক তখনই রেজোয়ান মাহবুবের চিৎকারে ওদের ঘোর ভাঙ্গে।রোয়েনের গরম নিশ্বাসের মাঝে রুহীর টকটকে লাল ঠোঁটজোড়া বলল,
.
.
-বাবা এমন করছে কেন?
.
.
সরে আসে রোয়েন।তারপর উঠে যেতে নিলে রুহী ওর হাত টেনে ধরে,
.
.
-প্লিজ রাগারাগী করবেননা।
.
.
রুহীর দিকে রক্তচক্ষু দিয়ে তাকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় রোয়েন।এদিকে রেজোয়ান মাহবুব চিৎকার করে বলছেন,
.
.
-আপনারা রুহীর সাথে এমন একজনের বিয়ে ঠিক করেছেন যে কিনা ওর থেকে বিশ বছরের বড়।
.
.
কথাটা রোয়েনের কানে লাগে।ও দ্রুতপদে নেমে আসে।সেখানে রুহীর মামা মামী নানা নানু আর রেজোয়ান মাহবুব দাঁড়ানো।
.
.
-সো হোয়াট রেজোয়ান হি ইজ রিচ।রুহী সুখি হবে।বলেন সেলিনা হামিদ।
-আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা আপনারা ওর গ্রান্ডপ্যারেন্টস।টাকার জন্য ওকে বয়স্ক লোকের কাছে বিয়ে দিবেন।
-দেখো এই দুনিয়ায় টাকাই সব।রুহীকে সব সুখ দিবে সে।বিলিভ করো রেজোয়ান।
-ইম্পসিবল। এটা হতে পারেনা।
-তাহলে কি রশিদের কাছে বিয়ে দিবেনা?জিজ্ঞেস করে হাসান হামিদ?
-না।
-সারাজীবন কি ওকে বসিয়ে রাখবে?সেলিনা হামিদ রেগে বললেন।
-আমি রোয়েন স্যারের সাথে রুহীর বিয়ে দিবো।
.
.
এ কথায় মামী মামা বেশ খুশি হন।কিন্তু নানা বললেন,
.
.
-রোয়েন কেন রশিদ রুহীকে সুখী রাখবে।আর দেখোনা রুহীর সাথে তোমার বস কেমন করে?
-বাবা আপনি আজ দেখছেন।কিন্তু বিগত কয়েক মাস যাবৎ দেখছি ওনি রুহীর সাথে কেমন করে।রুহীর জন্য কি কি করতে পারে সে সম্পর্কে আমাদের কারোর আইডিয়া নেই।আমি চোখ বন্ধ করে বলতে পারি রুহী আমার সাথে অতোটা সেফ না যতোটা না স্যারের সাথে।বাবা কথা যখন উঠে গেছে তাহলে আজ আমি একটা এ্যানাউন্সমেন্ট করতে চাই আমার একমাত্র রুহীর বিয়ে স্যারের সাথে ফাইনাল করলাম।
.
.
রোয়েন মনে মনে বেশ খুশি তবে চেহারায় রাগী ভাবটা এনে রাখলো।রেজোয়ান মাহবুব সিড়ির কাছে এসে দেখেন রোয়েন দাঁড়িয়ে আছে।
.
.
-স্যার আপনি রুমে যান রুহীর কাছে।ওকে আপনার দরকার।
-জি।
.
.
রোয়েন রুমে এসে দেখে রুহী সোফায় বসে আছে চুপচাপ।রোয়েন এগিয়ে এসে ওকে কোলে তুলে নিয়ে।খাটে শুইয়ে দেয়।রুহী রোয়েনের গলা জড়িয়ে ধরে ছিলো এখনো ছাড়েনি।লোকটার মুখে রাগ নেই তবে মনে।হচ্ছে বেশ খুশি।রোয়েন রুহীর ওপর উঁবু হয় গলা জড়িয়ে রাখা অবস্থায়।তারপর রুহীর চোখজোড়ায় চুমু খেয়ে ঠোঁটজোড়া শুষে নিতে থাকে।রুহী রোয়েনের গেঞ্জী খাঁমচে ধরেছে।কিছুক্ষন পর রোয়েন নেমে আসে ওর গলায়।ঘনঘন চুমোতে ভরিয়ে দিতে শুরু করে।রুহীর শাড়ীর আঁচল ভেদ করে ওর পেটে হাত রাখে রোয়েন।কিছুসময় পর রোয়েন মাথা উঠায়।রুহীর চোখজোড়া অর্ধনিমীলিত। রোয়েন রুহীর খালি পেটের ওপর হাত রেখে হালকা চিমটি কাঁটে।রুহী কেঁপে উঠে চোখবুজে নেয়।রোয়েন রুহীর অনেকটা কাছে এসে বলল,
.
.
-রুহী তোমাকে এখন লাগবে আমার।
-জি???অাতংকিত গলায় বলল রুহী।
-তোমাকে আমি চাই এ মুহূর্তে। তোমাকে পেতে অনেক ইচ্ছে করছে।আমার হয়ে যাও প্লিজ।কেউ জানবেনা।রুহীর গলায় মুখ ডুবাতে নেয় রোয়েন।
.
.
রোয়েনের কথায় রুহী ভয় পেয়ে যায়।সরে আসতে চায়।কিন্তু রোয়েন বার বার টেনে ওকে চুমু খাচ্ছে।এমনকি ওর পেটের ওপর থেকে কাপড় হালকা সরিয়ে দিয়েছে রুহী এবার ভয়ে কেঁদে দিতেই রোয়েন চোখ রাঙ্গিয়ে বলল,
.
.
-I don’t like disturbence in loving you. তোমাকে চাই মানে চাই এক্ষুনি লাগবে।
.
.
রুহী চুপ হয়ে যায় কিন্তু চোখ খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে।রোয়েন রুহীর দিকে তাকিয়ে আছে।মেয়েটা এতোটা সরল।রোয়েন রুহীর গাল থেকে গলা পর্যন্ত আঙ্গুল দিয়ে হালকা করে পরশ বুলিয়ে দেয়।তারপর ওর কপালে চুমু খেয়ে বুকে টেনে নেয়।রুহী চোখ খুলে আশেপাশে তাকিয়ে পিছনে ফিরে।রোয়েন বলল,
.
.
-তুমি এমনিতেই হয়ে গেছো আমার মন থেকে।এভাবেই চাই সারাজীবন।
.
.
রুহীর চোখ ভরে আসে।কিছুসময় আগে লোকটার ওপর বিশ্বাস মুহূর্তের জন্য হারিয়ে ফেলেছিলো।ভুলে গেছিলো সে অমন নয়।তাহলে রুহী কি করে ভাবতে পারলো।ছি!!!!রুহী কিছু না বলে ওভাবেই শুয়ে রইলো।রোয়েন রুহীকে নিয়ে ওভাবে শুয়ে থাকে।রোয়েন এবার মুখ খুলে,
.
.
-রুহী!!!
-জি!!!
-এখন কিছু কথা তোমাকে বলবো।সেটা মানতে হবে।নাহলে তো বুঝোই।
– জ জজি বলুন।
-এখন থেকে নানা নানুর সাথে কথা বলবেনা।ওনারা ডাকলে ও শুনবেনা।আমার সাথে থাকবে যেখানে থাকো।
-ক ক কিন্তু!!!
-শাট আপ।যা বলছি ওটা করো।
-জি।
.
.
ওরা ঘুমিয়ে যায়।এদিকে সকালে রুহী নানা নানুর সাথো কোন প্রকার কথা বলেনি।এমনকি ওনাদের কাছে যায়নি।কোন কথা শুনেনি।নানু ও কোন কাজ করাতে পারছেনা।নীরা হামিদ আর তার স্বামী বেশ খুশি রোয়েন রুহীর বিয়ে ঠিক হওয়াতে।সকাল থেকে নীরা আরমান কে বলছেন রোয়েন রুহীর জন্য কিছু করবে কিন্তু কি করবে?
আরমান হামিদ আর নীরা রুহীকে নিয়ে বেরিয়ে যায় সন্ধ্যায় কিছু শপিং এর কথা বলে।রোয়েন না করেনা।রাতে রোয়েনের নম্বরে মেসেজ আসে।সেখানে একটয় এ্যাড্রেস দেয়া আছে।মামার ফোন থেকে মেসেজ এসেছে।সেখানে ওকে যেতে বলা হয়েছে।আরো লেখা ছিলো আলমারিতে কালো শপিং ব্যাগে যা আছে সেটা পরে যেতে হবে।
রোয়েন ফোন রেখে আলমারি খুলে।সেখানে কালো ব্যাগ রাখা সামনেই।ব্যাগটা হাতে নিয়ে দেখলো সেখানে গ্রে ব্লেজার ব্লাক শার্ট আর সাথে গ্রে ওয়েস্ট কোট আর গ্রে টাই।রোয়েন ফ্রেশ হয়ে সেগুলো পরে বেরিয়ে আসে।সেই ঠিকানায় রওনা হয়।
আধঘন্টার মাঝে সেখানে পৌছে যায় রোয়েন।তবে খালি জায়গা।সামনে লাইট জ্বলছে।এমনিতেই নীরব চারিপাশ।কাউকে দেখা যাচ্ছেনা।রোয়েন এবার সামনে হেঁটে যায় আলোর দিকে।সেখানে গিয়ে ওর চোখ কপালে।সারা জায়গা মোম দিয়ে সাজানো।ওপরে কিছু জরি ওয়ালা তারা আর লাভ শেইপড রেড বেলুন ঝুলছে।মাঝে একটা বোর্ডে লেখা
For dear Royen&Ruhi
রোয়েন মুচকি হেসে সামনে পা বাড়ায়।এবার আর যেতে পারেনা।পা থমকে গেছে।এ কাকে দেখছে ও?ওর মায়াবতী নাকি কোন লাল পরী!!!!!রোয়েন প্রেমময় দৃষ্টি দিয়ে মায়াবতীকে দেখছে।মেয়েটার গায়ে লম্বা গাউন।নেটের লম্বা হাতা।গাউন টা ফ্লোর টাচড।চুল গুলো একটু ফুলিয়ে নিচে কার্ল করা।তবে মুখে খুব হালকা সাজ।লিপস্টিক পরেনি।কারন ঠোঁটজোড়া এমনিতেই লাল।রোয়েন এবার এগিয়ে আসে মায়াবতীর দিকে।রুহী রোয়েনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।সেই হাসি ভালোবাসায় পরিপূর্ন।
চলবে