Married To The Dark King- Mafia Boss- Season 3 !! Part- 90
রুহী কে শুইয়ে দিয়ে ওর কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় রোয়েন।তারপর রুহীর গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেয়।
কারন এসি চলছে।আর এসময়ে ঠান্ডা বেঁধে যাওয়া মানে মা বাবু সবার সমস্যা হবে।
রুহীর পাশে শুয়ে ওকে বুকে জড়িয়ে নেয় রোয়েন।
রোয়েন রুহীর হাত নিজের হাতের সাথে বেঁধে দিলো যেন রুহী কোথাও যেতে চাইলে ও বুঝতে পারে।
এভাবে বাকি রাতটা কেঁটে গেলো।
প্রনয় খান আনিলা বেগমের কাছ থেকে আজিজ রায়হানের জবের খুঁটিনাটি বিষয় গুলো জেনে নেয়।
এর মাঝে সে অনেকবারই রুপন্তীকে কাছে আনতে চেয়েছিলো কিন্তু পারেনি।
মেয়েটা কোন ভাবেই প্রনয়কে বাবা মানতে রাজি না।
প্রনয় খান জানে আজিজ রায়হান অনেক বড় একজন রিপোর্টার।
তার নামে যদি কোন খারাপ নিউজ ছাড়া যায় তাহলে তার অবস্থায় কোথায় যাবে সেটা ভাবতেই ভীষন ভালো লাগছে প্রনয় খানের।
আজিজ রায়হানের নামে খারাপ সংবাদ ছড়াতে হলে ওনার খুব কাছের একজন যে কিনা সবসময় ওনার সাথে থাকে তার সাহায্য লাগবে।
আর সেটা একমাত্র পি এস অর্থ্যাৎ পারসোনাল সেক্রেটারি কে লাগবে।
রুহীর ঘুম ভাঙ্গতেই পাশে তাকায়।রোয়েনের সাইডটা খালি।
ঠোঁটের কোনে স্নিগ্ধ হাসি ফুঁটে উঠে রুহীর।কাল অনেকদিন পর স্বামীর ভালবাসায় মাখামাখি ছোঁয়া পেয়েছে রুহী।
রোয়েন যথেষ্ট কেয়ার ফুল ছিলো পুরোটা সময়ে।
কারোর নজর না লাগে রোয়েনের ওপর ভেবে হাত দুটো সামনে এনে কম্বল সরাতে যাবে তখনই রুহী খেয়াল করে ওর হাতে লম্বা লাল মোটা দাগ হয়ে আছে।
যেন হাত টা অনেক সময় পর্যন্ত বাঁধা ছিলো।
চিন্তায় পড়ে যায় রুহী।কাল তেমন কিছু পরেনি হাতে যে এমন লাল হবে।আর রোয়েন ও এতো জোরে হাত ধরেনি।তাহলে?
ভাবতে থাকে রুহী।ফ্রেশ হতে চলে যায় রুহী।
ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসতেই টেবিলে বসে থাকা রেহান আর রোয়েনের দিকে চোখ পড়ে রুহীর।
-গুড মর্নিং ভাবি।বলে উঠে রেহান।
-গুড মর্নিং।বলে রোয়েনের দিকে তাকায় রুহী।
-রোয়েন দুষ্টু হেসে রেহানের সাথে কথা বলতে শুরু করে।
রুহী ভ্রু কুঁচকে খেতে শুরু করে।
খাওয়া শেষে রুহীকে কোলে তুলে রুমে চলে আসে রোয়েন।
রুহী আয়নার সামনে এসে সাইড হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।পেটে হাত রেখে বলল,
-দেখো বড় হয়েছে না?
রোয়েন হাসছে,কিন্তু কিছু বলছেনা
-কি হলো এমন করছো কেন?শুধু হাসছো কেন?জিজ্ঞেস করে উঠে রুহী
-রোয়েন রুহীর পিছে এসে দাঁড়িয়ে ওর হাত উঠিয়ে বলে,
-এই দাগ টা কিসের জানো?
-আরে সকাল থেকে এ দাগটাই দেখছি।কেমন করে হলো বুঝতে পারছিনা।বলে উঠে রুহী।
-কাল রাতে হল রুমে গিয়ে নাচছিলে।ভাবছিলাম অতি আদরে পাগল হয়ে গেছো।
-পরে দেখলাম ঘুমের ঘোরে করছো।বলে উঠে রোয়েন।
-এই না আমি কেন এমন করবো।এমন করতেই পারিনা।আগের থেকে এসব সমস্যা ছিলো না আমার।মজা করছো তুমি।রোয়েনের দিকে ফিরে অভিমানী গলায় বলে উঠে রুহী।
-এসময়ে অনেক কিছুই হয়।টেনশন করো না।সব ঠিক হয়ে যাবে বলে রুহীর ঠোঁটে আলতো চুমু খায় রোয়েন।
তারপর রুহীকে আয়নার সামনে ঘুরিয়ে দেয় রোয়েন।
রুহীর হাত জোড়া পেটের দুপাশে রেখে রুহীর হাতের ওপর দুহাত রাখে রোয়েন।
-বাবা মা দুজনের ভালোবাসা পাচ্ছে আমাদের সোনা বাচ্চা।আদরীয় কন্ঠে বলে রোয়েন।
রুহী ছলছল চোখে মাথা নাড়ে।
রোয়েন রুহীর কাঁধের চুল সরিয়ে সেখানে চুমু দিয়ে কাঁধের কাপড় সরাতে যাবে তখনই রুমের দরজায় নক পড়ে।
রোয়েন সরে আসে।তারপর গিয়ে দরজা খুলে দেয়।রেহান রুমে ঢুকে যায়।
-ভাইয়া আমাকে অস্ট্রিয়া যেতে হবে।একটু বিজনেসের কাজে যাবো।
-হুম।কবে যাচ্ছিস?গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করে রোয়েন।
-কাল সকালের টিকিট করিয়েছি।পাঁচদিন থাকবো।বলে উঠে রেহান।
-ওকে।বলে উঠে রোয়েন।
রেহান বেরিয়ে গেলো।রোয়েন বারান্দায় এসে টুলের ওপর বসে পড়লো।
রুহী রোয়েনের পাশে এসে দাঁড়ায়।
-হঠাৎ এখানে চলে এলে যে?(রুহী)
-এমনি।রুহীর হাত টেনে কোলে বসায় রোয়েন।
রুহীর কাঁধে মাথা রেখে চোখ বুজে নেয়।
-শুনলাম আগের মাসে তোমার বাবা গত হয়েছেন।খুবই খারাপ লাগলো শুনে।বলে উঠেন প্রনয় খান।
-জি।কিন্তু আপনি কি করে জানেন?ভ্রু কুঁচকায় রাসেল।
-রাসেল তুমি আমাকে হালকা ভাবে নিওনা বাবা।আমি সব জানি।তোমার সব খবর জানা আছে আমার।
বলে উঠেন প্রনয় খান।
-কেমন করে?ভ্রু কুঁচকায় রাসলে।
-সেটা নাহলে বাবা আরেকদিন জানলে।তা কি খাবে গরম নাকি ঠান্ডা?(প্রনয় খান)
-ঠান্ডা খাবো।বলে উঠে রাসেল।কেমন জানি গলা শুকিয়ে আসছে ওর।
-ওকে।বলে কাউকে কল দিয়ে আইসটি আর এক মগ এক্সপ্রেসো পাঠাতে বললেন প্রনয় খান।
-তোমার বাবা তো নিজের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে যেতে পারেননি শুনলাম।তোমার ছোট বোনের তো বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনলাম।বলে উঠেন প্রনয় খান।
-জি। মাথা ঝাঁকায় রাসেল।
-একটা বিয়ে মানে বুঝো অনেক খরচ।তোমার এখন প্রচুর টাকা দরকার,,,,,,, প্রনয় খানকে থামায় রাসেল।
-দেখুন আমার যা আছে সেটা দিয়ে আরামসে আমার বোনের বিয়ে দেয়া যাবে।টাকা নিয়ে আমার চিন্তা নেই।বলে উঠে রাসেল।
-দেখো রাসেল তুমি একজন পারসোনাল সেক্রেটারি যে কিনা সবসময় বসের আই মিন আজিজ রায়হানের আগে পিছে ঘুরতে থাকো।
তোমার যদি প্রমোশন অর তোমার বসের জায়গায় চলে যাও তাহলে তো আর কোন প্রবলেম থাকারই কথানা।তোমার বেতন বাড়বে।অনেক টাকার মালিক হবে তুমি।
-স্যারের জায়গায় কখনো নিজেকে ভাবিনি।তবে প্রমোশল হলে ভালোই হয়।কিন্তু এটা কি করে সম্ভব।
-আরে বাবা সবই সম্ভব।যখন এ প্রনয় খুশি সে বাকি দের খুশি রাখে বুঝলে।তোমার প্রমোশন নিশ্চিত।
-আপনি কি চান এর পরিবর্তে?জিজ্ঞেস করে উঠে রাসেল।
-গুড কোয়েশ্চেন।বলে উঠেন প্রনয় খান।
-কাল সকালে আজিজের অতীতে যা করেছে স্করপিয়নদের সাথে মিলে সেটা independence চ্যানেলে বলো।বলে উঠেন প্রনয় খান।
-নাহ।এটা পারবোনা আমি।স্যারের সাথে এতো বড় ধোঁকা করবোনা আমি।বলে উঠে রাসেল।
-তাহলে প্রমোশন ভুলে যাও,লাক্সারিয়াস লাইফ ভুলে যাও,মুমূর্ষু মায়ের চিকিৎসা ভুলে যাও,আর বেনারসীতে বোনের লাশ দেখার অপেক্ষা করো মিঃ রাসেল মির্জা।বলে উঠেন প্রনয় খান।
রাসেল কিছু বলতে পারেনা আর।চোখের সামনে মায়ের চেহারা ভেসে উঠে,ছোট বোনটার চেহারা মনে পড়ে।একঘন্টা যাবৎ প্রনয় খানের সামনে বসে থাকে রাসেল।কি করবে ও?
মায়ের চিকিৎসা বন্ধ হলে মা বাঁচবেনা,ছোট বোনটা তো ওর চোখের মনি।রাসেল মাথা তুলে তাকায় প্রনয় খানের দিকে।
-আমি করবো।কাল সকালেই বলবো।
চলবে