Married To The Dark King- Mafia Boss- Season 3 !! Part- 39
কলেজে পৌছুতেই বান্ধুবীরা এসে জড়িয়ে ধরে রুহীকে।কান্না চলে আসে রুহীর কিন্তু নিজেকে সামলিয়ে নিলো।কেমন আছিস তোরা?জিজ্ঞেস করে উঠলো রুহী।ভালো।তোর চেহারার এই হাল করেছিস কেন?রোয়েন ভাই বুঝি বেশি ব্যাস্ত থাকে?জিজ্ঞেস করে উঠলো রাদিয়া।
হুম দেখিস না?এটা তো ওর চেহারায় ফুঁটে উঠেছে।রোয়েন ভাই এতো বড় মাফিয়া লিডার। ওকে কি সসবসময় টাইম দিতে পারে নাকি?বেচারী কাঁদতে কাঁদতে নিজের এমন হাল করে রেখেছে।বলে হেসে দিলো রিধিমা।কিরে ভাইয়া কি আর ভালোবাসে না আগের মতো?নাকি অন্য কোন কাহিনী?হাসতে হাসতে বলছিলো নাহিদা।
রুহীর ভীষন খারাপ লাগছে ওদের কথায়।যাকে নিয়ে কথা বলছে ওরা।সে তো ওকে আর সহ্য করতে পারেনা।বিশটা দিন তাকে ছাড়া কিভাবে কাঁটিয়েছে সেটা ভালো করে জানে রুহী।
রাদিয়া সবাই কে থামালো।রুহী সব ঠিক আছে তো?মন খারাপ করছিস কেন?আমরা তো ফান করছিলাম।
না তেমন কিছুনা।বাট তোর এসব কথা গুলো বাদ দে প্লিজ। ভালো লাগছেনা আমার।কাঁদো কাঁদো কন্ঠে কথা গুলো বলে ক্লাশে ঢুকে বসলো রুহী।
কি হলো ওর?হঠাৎ কান্না চলে এলো কেন?কিছু হয়নি তো রোয়েন ভাইয়ের সাথে?বান্ধুবীরা ফিসফিস করছিলো।আরে না রোয়েন ভাইতো ভীষন ভালোবাসে।ওনার সাথে কি হবে?বলে উঠলো রাদিয়া।শোন রাদিয়া ছেলেরা যতো ভালোবাসুক না কেন?নুন থেকে চুন খসলে ওরা আর দেখতে পারবেনা তোকে।ফিসফিসিয়ে বলল নাহিদা।
মেয়েটাকে কলেজে পাঠিয়ে শান্তি পাচ্ছেননা আজিজ রায়হান।নিজেই দিয়ে আসতে পারতেন রুহীকে।সারাদিন এঘর ওঘর করে সময় কাঁটলো ওনার।দুপুর গড়াতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে লাগলো সবার মাঝে।রুহীর ছুটি দেড়টায়।এখন বাজে আড়াইটা।কিন্তু মেয়ে বাসায় আসেনি এখনো।রুহীর নম্বরে কল করতে লাগলেন আজিজ রায়হান।নম্বরতো বন্ধ।কি হলো মেয়েটার?নম্বর বন্ধ কেন?রেহান রুহীর বান্ধবীদের কল করতে লাগলো।সবাই একই কথাই বলছে।রুহী বেরিয়ে গিয়েছে অনেক আগে।
আজিজ রায়হান আর কিছু ভাবতে পারছেননা।বেরিয়ে পড়লেন রহহীর খোঁজে।সাইফ রহমান ও বেরিয়ে পড়লো আজিজ রায়হানের সাথে।আশেপাশে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো তারা রুহীকে যেতে দেখেছে আসতে দেখেনি।তারমানে কলেজের সামনেই কিছু হয়েছে।
ভাই আমি কি করবো?মেয়ে কই আমার?কেঁদে উঠলেন আজিজ রায়হান।চিন্তা করোনা আজিজ।মেয়েকে পাওয়া যাবে।চলো খুঁজি।বলে উঠলেন সাইফ রহমান।আজিজ রায়হান সাইফ রহমানের সাথে বেরিয়ে পড়লো রুহীর খোঁজে।কলেজের সামনে পর্যন্ত গেলো।কলেজের সামনের ফুচকাওয়ালা মামা বসে আছে।রুহী প্টায় এখান থেকে ফুচকা খেতো।আজিজ রায়হান তার কাছে এগিয়ে এলো।ফোনে রুহীর ছবি দেখিয়ে বলল ওকে আজ দেখেছেন?জিজ্ঞেস করলেন আজিজ রায়হান।
আরে এতো রুহী মামনি।কলেজে যাওয়ার সময় দেখছিলাম।কিন্তু বাহির হওয়ার সময় দেখিনাই।আসলে একটু সিগারেট টানতে গেছিলাম তখন।বলে উঠলেন ফুচকাওয়ালা।আশেপাশে আরো খবর নিয়ে জানতে পারলো রুহী বের হয়ে সামনে চলে যায়।এরপর আর জানেনা তারা।
আজিজ চলো থানায় যাই।বলে উঠলেন সাইফ রহমান।
হুম চলেন।বলে উঠলেন আজিজ রায়হান।
দুজনে মিলে থানায় এসে উপস্থিত হলো।ওসি সাহেবের সামনে দুজন বসে আছেন।আরো একজন মোটা পুলিশ অফসার বসে ছিলেন।জানতে পারলেন ওনি ডিআইজি।
প্রবলেম কি?জিজ্ঞেস করলেন ওসি সাহেব।
আজিজ রুহীর ছবি দেখালেন ওসি সাহেবকে।আমার মেয়ে রুহী কলেজ থেকে এখনো ফেরেনি।কলেজ থেকে ফেরেনি আমার মেয়ে।বলে উঠলেন আজিজ রায়হান।বান্ধুবীদের কল করেছেন?জিজ্ঞেস করলেন ডিআইজি।
জি ওরা বলল রুহী বের হয়েছে।কিন্তু আমার মেয়ে এখনো ঘরে যায়নি।
কারোর উপর সন্দেহ আছে?দেখুন আমাদের মনে হচ্ছে বিষয় টা কিডন্যাপ হতে পারে।বলে উঠলেন ওসি।
আজিজ মাথা নাড়লেন,সন্দেহ আছে।
কার ওপর?ভ্রু কুঁচকালেন ডিআইজি আর ওসি সাহেব।
স্করপিয়নদের ওপর।ওরা আমার মেয়েকে আরো একবার কিডন্যাপড করেছিলো সেল করার জন্য।রোয়েন সাহেব বাঁচিয়ে নিয়ে আসে আমার মেয়েকে।মন খারাপ করে বললেন আজিজ রায়হান।ওহ আচ্ছা আপনি যান।কোন খবর পেলে জানাবো।ডিআইজি বলে উঠলেন।থ্যাংকস, আস্তে করে বলে বেরিয়ে লেন আজিজ রায়হান আর সাইফ রহমান।
সাইফ রহমান আজিজ রায়হানের দিকে চেয়ে ভাবছেন।রুহী আরো একবার কিডন্যাপ হয়েছিলো।কিন্তু আমার থেকে লুকালো ওরা।কারনটা বুঝতে পারছিনা।অবশ্য এখন জিজ্ঞেস করার জন্য উপযুক্ত সময় না।পরে জানা যাবে।ভাবতে লাগলো সাইফ রহমান।
খাটের পাশের কালো ফোনটা একনাগাড়ে বেজেই চলছে।একজন কালো কোট ওয়ালা লোক ফোনটা তুলে রোয়েনের হাতে দিলো।
হ্যালো বলে উঠলো রোয়েন।
স্যার আমি ডিআইজি।
ওহ।বলুন।বলে উঠলো রোয়েন।
স্যার রিপোর্টার আজিজ রায়হানের মেয়ে রুহী,,,(নামটা শুনেই রোয়েনের বুকের একপাশ যেন খালি হয়ে গেলো)কিডন্যাপ হয়েছে।আমি তো ওকে আপনার সাথে বেশ কয়েকবার দেখেছি বিভিন্ন পার্টিতে এটেন্ড করতে তাই আপনাকে আগে বললাম।বলে উঠলেন ডিআইজি।
আমি দেখছি।বলে ফোন কেঁটে দিলো রোয়েন।গাড়ি ঠিক করো ফাহিম।দাঁতে দাঁত চেপে বলল রোয়েন।
স্যার আপনি পারবেন যেতে?শুনলাম রুহী ম্যাম স্করপিয়নদের কাছে।বলে উঠলো ফাহিম।
ছোট খাটো ঘা কিছু করতে পারেনা রোয়েনকে।আর এটাতো জাস্ট,,,কাঁধের ব্যান্ডেজ টেনে খুলে ফেললো রোয়েন।রুহী যখন বিপদে রোয়েন কি করে হাত পা গুঁটিয়ে বসে থাকতে পারে?শক্ত মুখে কথা গুলি বলে বেরিয়ে গেলো রোয়েন।
গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লো স্করপিয়নদের আস্তানায়।সেখানে নিজের লোকদের আসতে বলল।
আস্তানায় পৌছানো মাত্রই রোয়েনের লোকেরা ওর আশে পাশে ছড়িয়ে গেলো।কালো কোটটাকে ছড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছে রোয়েন।আজ কাঁধের ছুড়িকাঘাতের ব্যাথাটাকে ও কিছু মনে হচ্ছেনা।রুহীকে বাঁচানোই আজ যেন ওর একমাত্র লক্ষ্য।আস্তানার ভিতরে ঢুকতেই রায়ানের লোকেরা তেড়ে এলো ওদের দিকে।রোয়েনের লোকেরা একে একে ওদের মারতে লাগলো।রোয়েন সকল রুম খুঁজতে লাগলো।রায়ানকে পাওয়া যায়নি।শেষ রুমটার সামনে আসতেই বুকের একপাশ কেমন যেন করে উঠলো।পা দিয়ে লাথি মেরে দরজাটা ভেঙ্গে দিলো রোয়েন।হাত পা বাঁধা অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে রুহী।রোয়েন এগিয়ে এসে রুহীর সামনে বসলো।মেয়েটা এ কয়দিনে নিজের চেহারার একি হাল করলো?চোখ ভরে আসতে নেয় রোয়েনের।আজকের পর থেকে আর কোন দিন কষ্ট পেতে দেবোনা রুহী।ভাবতে ভাবতে রুহীকে পাঁজাকোলা করে নিলো রোয়েন।বেরিয়ে আসলো স্করপিয়নদের আস্তানা থেকে।
রুহীকে গাড়িতে বসিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো রোয়েন।পাশে তাকিয়ে রুহীর গালে হাত ছুঁইয়ে দিয়ে ওর কপালে ঠোঁট ছুঁয়ালো রোয়েন।চোখজোড়া বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো রোয়েনের।রুহীকে বাসায় এনে খাটে শুইয়ে ওর আঘাতের চিহ্ন গুলোয় ঔষধ লাগিয়ে দিলো।
চলবে