রাগী বস

রাগী বস – পর্ব- ০৬

সিফাত:খুব দ্রুত সিনহার মা কে হসপিটালে নিয়ে এসে ট্রিটমেন্ট শুরু করে দেয়া হলো ডক্টর বলেছে অপারেশন করতে হবে।আমি সব ব্যবস্থা করতে বলছি।সিনহা বাহিরে বসে বসে কাঁদছে।আমি কেবিনের ভিতর ছিলাম ওর মায়ের কাছে,বাহিরে সিনহার কাছে আসতে লাগলাম তখনি হাতে টান অনুভব করলাম।পিছন ফিরে দেখি সিনহার মা,হাত ধরে আছে আমার।আমি ওনার কাছে গিয়ে বসলাম,হাত টা শক্ত করে ধরে বললাম কিছু বলবেন?
.
সিনহার মা:মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সুচক জবাব দিলাম।
.
সিফাত:এখন তো আপনি অসুস্থ পরে বলেন,সুস্থ হওয়ার পর।
.
সিনহার মা:না পরে বলতে পারবো না হয়তো আর,আমার সময় শেষ হয়তো,আল্লাহ জানে হয়তো আজ আমার শেষ রাত হতে পারে।
.
সিফাত:কি বলছেন এগুলো,চুপ করুন আপনার কিচ্ছু হবে না।আজ অপারেশন হয়ে গেলে আপনি ঠিক হয়ে যাবেন।
.
সিনহা মা:আল্লাহ জানে সব,তুমি কে বাবা?
.
সিফাত:আমি সিনহার বস।সে আমার অফিসে জব করে। আজ মিটিংয়ে দেরী হয়েছিল সেজন্য আমি ওকে ছাড়তে এসেছিলাম,তারপর আপনার এই অবস্থা দেখে আপনার সাথে আসলাম।
.
সিনহার মা:পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছে যারা আজো মানুষের বিপদে পাশে দাড়ায়,তার মধ্যে তুমি একজন।
.
সিফাত:এভাবে কেন বলছেন,মানুষ মানুষের জন্য, আমরা একে অপরের পাশে এসে দাড়াবো এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
.
সিনহা:মায়ের কাছে যেতেই দেখলাম মা আর স্যার কথা বলছে।মা এতো কথা বলছে কেন এতো অসুস্থ শরীর নিয়ে।
.
সিনহার মা:আমার তো সময় প্রায় শেষের দিকে,বাঁচবো আর কদিন,আল্লাহ চাইলে এই মুহুর্তে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে।
.
সিনহা:মা তুমি কি বলছো এগুলো কিছু হবে না তোমার দেখো আজ অপারেশন করলে সব ঠিক হয়ে যাবে।আর এই শরীর নিয়ে তুমি এতো কথা বলো না মা।কান্না পাচ্ছে খুব,মায়ের বলা কথাগুলো আমি সহ্য করতে পারছি না।
.
সিনহার মা:তুই চুপ কর তো সিনহা,আমায় কিছু কথা বলতে দে নইলে বড্ড দেরী হয়ে যাবে।সিফাত কে আমি কিছু বলতে চাই।
.
সিনহা:স্যার কে কি বলতে চায় মা,অবাক লাগছে আমার।এমন কি কথা না স্যার কে বলতে চায় না বললে বড্ড দেরী হয়ে যাবে মনে মনে ভাবতে লাগলাম।
.
সিফাত:জ্বী বলুন কি বলবেন?
.
সিনহার মা:সিনহার হাত টা ধরলাম,আর সিফাতের হাত টাও ধরলাম,দুজনের হাত একজায়গায় করলাম আমার হাতের ওপর।
.
সিনহা:মায়ের এমনটা দেখে আমি অবাক হয়ে আমি হাতের দিকে একবার তাকাচ্ছি স্যারের দিকে একবার তাকাচ্ছি।স্যারও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।দুজনেই অবাক হয়ে গেছি।
.
সিনহার মা:সিফাত বাবা এতোদিনে আমি একটা ভরসার হাত পেয়েছি।আমার মনে হয় তুমি খারাপ না।আমার অনুপস্থিতে তুমি আমার মেয়ের পাশে থাকবে।তাই আজ থেকে আমার মেয়ের দায়িত্ব তোমায় দিলাম আমি।ওকে দেখে রেখো বাবা।আমার অনুপুস্থিতে আজ থেকে তুমি ওর আপনার।ওর তো আমি ছাড়া নিজের কেউ নেই।আজ থেকে একজন হলো সে হলো তুমি।আমি জানি তুমি পারবে ওকে সবসময় রক্ষা করতে।ওকে তুমি সামলে রেখো বাবা,কি পারবে তো বাবা ওর দায়িত্ব নিতে আমার পরিবর্তে?
.
সিনহা:মা কি বলছে এগুলো উনাকে,আর কেনো বলছে ধুরর মা যে কি করে না, আমরা তো উনার আপন কেউ না তাহলে উনি কেন দায়িত্ব নিবে,মা কেন বোঝে না।
.
সিফাত:হুম পারবো,,।
.
সিনহা:এটা কি শুনলাম আমি,স্যার বললো কথাটা।নাকি আমি ভুল শুনলাম,অশ্রুসজল চোখে স্যারের দিকে তাকিয়ে আছি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে।স্যার আমার দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বললো,,
.
সিফাত:হুম পারবো আমি সিনহার দায়িত্ব নিতে,আজ থেকে সিনহার সব দায়িত্ব আমার।ওকে সবদিক থেকে আমি রক্ষা করবো আপনার অনুপুস্থিতিতে ওর আপনজন আমি,সিনহার চোখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বললাম।ওর হাত এখনো আমার হাতের মধ্যেই আছে।
.
সিনহার মা:আলহামদুলিল্লাহ,, আমার আর কোনো পিছুটান রইলো না,আমি এখন শান্তিমতো মরতে পারবো আর মনে করতে হবে না আমি ছাড়া আমার মেয়ের কেউ নেই,এখন থেকে আমি ছাড়াও আমার মেয়ের আরেকজন রইলো পৃথিবীতে,সিফাত বাবা আমার কিছু হলে সিনহা কে কখনো ঐ বাড়িতে একা রেখো না।ওরা ওকে ভালো থাকতে দেবে না।একলা এক বাড়িতে একটা যুবতী মেয়ে থাকা ঠিক না যখন তখন বিপদ হতে পারে।
.
সিনহা:মা তখন থেকে কি সব বলে যাচ্ছো একটু চুপ করো না,কাল সকালে তোমার অপারেশন করবে এখন একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো।
.
সিনহার মা :ঘুম যে আসে না রে মা?
.
সিফাত:আপনি চোখ বন্ধ করুন দেখবেন ঘুম ঠিকই আসবে,এতো কথা বলবেন না এখন এতে মাথায় প্রেসার পড়বে।
.
সিনহার মা:হুম বাবা বলে চোখ বন্ধ করলাম।
.
সিনহা:আমি আর স্যার কেবিন থেকে বাহিরে গিয়ে বসে থাকলাম।দুজনে পাশাপাশি বসে আছি কিন্তু কেউ কারো সাথে কথা বলছি না।আমার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরেই যাচ্ছে।
.
বিঃ দ্রঃ নিচে Next >> ক্লিক করলে পরবর্তী পর্ব পাবেন..!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *