সে কি জানে

সে কি জানে Season 2 ! Part- 42

৫৯.
রাতে শুরু হয়েছিল ঝড়ো বৃষ্টি। ফলে সবার মধ্যে ঘুমের আমেজ লেগে আছে এখনও। আমার ঘুম ভাঙ্গতেই প্রথমে যাকে দেখলাম সে মানুষটা হলেন রেয়ান। আষ্ঠেপৃষ্ঠে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছেন উনি। তার ঘনঘন নিশ্বাস আঁচড়ে পড়ছে আমার গলায়। লম্বা একটা শ্বাস ফেললাম আমি। হাত মুঠ করে কিছুক্ষন “থম” মেরে শুয়ে রইলাম। পরক্ষনেই রেয়ানকে আলতো হাতে ছাড়িয়ে নিতে চাইলাম। তবে না! বান্দা ঘুমের ঘোড়েও শক্ত করে জড়িয়ে আছে আমাকে। হাল ছেড়ে কিছুক্ষন রেয়ানের মুখে চেয়ে রইলাম। লম্বা লম্বা সিল্কি চুলগুলো কপাল ঢাকার পাশাপাশি চোখগুলোও ঢেকে রেখেছে। রাতে শীত পড়ায় ঠোঁট গুলো হালকা ফেকাসে হয়ে আছে। সাথে ক্ষাণিকটা উঁচু হয়ে আছে। একদম বাচ্চা বাচ্চা লাগছে তাকে। হাসলাম আমি! চোখ বন্ধ করে আবার খুললাম। জোড় খাটিয়ে উঠে বসলাম তড়িৎ গতিতে। ঘাড় কাত করে রেয়ানের দিকে তাকালাম আবার। জেগে গেল কিনা? তবে না! ঘুমের রেশ কাটেনি তার। ঘুমের দেশে প্রবলভাবে মক্ত সে! তার কপালে আলতো উষ্ণ ছোঁয়া দিয়ে এগিয়ে গেলাম নীলা রাহমানের কাছে। ছাদের দরজার কাছে আসতেই রেয়ানের ঘুমু ঘুমু কণ্ঠ ভেসে উঠল কানে,
— “এভাবে আমাকে ছেড়ে যেয় না মরুভূমি। ভয় পাই তো! জানো না ছাদে ‘গাগা’ থাকে। ঘুমাতে দিবে না তো আমাকে। ভয় দেখাবে!”

_________________
পড়ার টেবিলে বসে আছে দীঘি। আবদ্ধের কড়া নির্দেশে তাকে এই সাত-সকালে পড়তে বসতে হয়েছে। যা মোটেও পছন্দ নয় দীঘির। এদিকে আবদ্ধ মজায় মজায় ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। যদিও সে কাজই করছে। তবুও দীঘির পছন্দ নয়। একদমই নয়! ভাবতে ভাবতেই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায় দীঘি। দ্রুত এগিয়ে যায় আবদ্ধের দিকে। আবদ্ধের কাজের মাঝখানেই কোলে বসে পরে তার। আবদ্ধ চমকায়! পরক্ষনেই একরাশ বিরক্তি ছেঁয়ে যায় তার মধ্যে। ধমক দিয়ে আবদ্ধ বলে উঠে,
— “ফাকিবাঁজ মেয়ে। এখানে কি তোর? যা টেবিলে পড়তে বয়। যা!”
দীঘি মুখ ভেঙ্গচায়। আবদ্ধের গলা জড়িয়ে করুন কণ্ঠে বলে উঠে,
— “আজকের দিনটা না পড়ি প্লিজ।”
— “একদম না। যা টেবিলে!”
— “প্লিজ! আমার বর না অনেক ভালো। প্লিজ জান। আজকের দিনই তো। কালকে থেকে পড়বো। প্রমিস!”
আবদ্ধ ভ্রুঁ কুঁচকিয়ে বলে,
— “এসব বলে ব্লেকমেল করছিস!”
দীঘি তাড়াতাড়ি ডানে-বামে মাথা নাড়ায়। আবদ্ধের বুকে মাথা রেখে বলে উঠে,
— “আমি আপনার কোলে এভাবে বসে থাকবো আপনি কাজ করুন।”
আবদ্ধ আলতো করে এক হাত দিয়ে দীঘিকে জড়িয়ে নিলো। মাথায় চুলের ওপর চুমু খেয়ে অন্য হাত দিয়ে ল্যাপটপে কাজ করতে করতে বলে উঠল,
— “আগে তো জোড় করেও তোকে কাছে পাওয়া যেত না। আজকে নিজেই সেদে সেদে আসছিস যে! কি ব্যাপার?”
দীঘি কিছুক্ষন চুপটি মেরে বলে উঠে,
— “আমাদের বেবি কখন আসবে আবদ্ধ?”

এহেন কথায় আবদ্ধ ‘খু,খু’ করে কেশে ওঠে। সে ভেবে পায় না। এ মেয়েটা কি তাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার ধান্দায় থাকে নাকি? দীঘির দিকে তাকায় সে। কাশি যেন থামছেই না। দীঘি এবার বিচলিত হয়। পাশে থাকা টেবিল থেকে পানিতে ভরা গ্লাস নিয়ে এগিয়ে দেয় আবদ্ধের দিকে। সাথে সাথে আবদ্ধ খেয়ে নেয় পানিটুকু। এবার সে অনেকটাই স্বাভাবিক। পানির গ্লাস দীঘির হাতে ধরিয়ে গন্ঠে কাঠিন্য নিয়ে বলে উঠে,
— “এসব আজেবাজে কথা কার থেকে শুনে বলছিস আমাকে?”
— “কারো থেকে না। আর আজেবাজে বলছেন কেন? সবারই তো বিয়ের পর বেবি হয়। তাহলে আমাদের কেন হচ্ছে না? আপনি কেন আমাকে বেশি বেশি আদর করেন না।”

গাল ফুলিয়ে ফেলে দীঘি। আবদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠে,
— “কে বলেছে তোকে বেবির জন্য বেশি বেশি আদর করতে হয়?”
— “কেন? বইয়ে পড়েন নি? তাছাড়া টিভিতেও তো দেখায়।”
আবদ্ধ ক্ষাণিকক্ষন চুপ থেকে বলল,
— “আজ থেকে তোর টিভি দেখা বন্ধ।”
দীঘি যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। কেন রে! টিভি দেখা বন্ধ করতে পারিস! পড়ালেখা বন্ধ করতে পারিস না? বিরক্তির ছাপ মুখে এটে নিলো দীঘি। আবদ্ধের কাছ থেকে সরে চলে গেল নিচে রান্নাঘরের দিকে।
.
.
চলবে…