পরিণয়ে পরিণতি !! Part- 10
অবন্তিকার ওর বাবার দিকে একবার করুন দৃষ্টিতে তাকালো,,
রেজাউল করিম তাড়া দেখিয়ে,,
— অনেক দেরি হই যাচ্ছে, তাড়াতাড়ি কবুল বলে দে মা। সবাই অপেক্ষা করছে।
আমি জানি বাবা তোমার খুব তাড়া। ভেবো না আজ আমি পালিয়ে যাব না। যদি পালানোর হতো হাজার পাহারা দিলে আমাকে আটকাতে পারতে না। এটাও জানি এবার পালিয়ে গেলে তুমি আহানাফ কে মেরে ফেলবে। জেনেশুনে আমি সেটা করতে পারিনা।
আমি এমন ব্যবস্থা করব মেয়ে বিয়ে দেয়ার স্বাধ মিটে যাবে। তুমি নিজ থেকে আবার আমার ডিভোর্স করাবে। এটা আমার কাছে আমার ওয়াদা।
অবন্তিকা আহানাফের একরাশ স্মৃতি রিক্ত ভরা বুক নিয়ে কবুল বলে সামিহা কে জড়িয়ে ধরে ভীষণ কান্না করছে। কেউ কি বুঝবে এ কান্না বিদায়ের কান্না না! এ কান্না নিজের ভালোবাসা কে চিরদিনের মত গলা টিপে হত্যা করার কান্না।
শেষ পর্যন্ত অবন্তিকা সাইমুনের বিয়ে হয়ে গেলো। সাইমুনের মা খুশিতে কান্না করে দিয়েছে। আজ বুক টা অনেক হালকা লাগছে। এ দিন টার জন্য কত দিন অপেক্ষা করেছে।
অবন্তিকার বাবার হাত ধরে বলছে,,
— বেয়াই আপনি চিন্তা করবেন না আপনার মেয়ে আজ থেকে আমার আরেক মেয়ে। আমি ওকে সাধ্যমতো সুখে রাখবো। কোন দিন চোখে পানি আসতে দিব না
— আমার মা মরা মেয়েটা। আপনার ভরসায় ওকে তুলে দিলাম।।
….
মুনতাহা গোসল করে আলমারির থেকে বিয়ের শাড়ী টা বের করে পরে নিলো। কান্না করতে করতে চোখে ফুলে গেছে। তাই যতটা পেরেছে মেক আপ করেছে।
যাতে কেউ বুঝতে না পারে ওর ভিতরের আকাশ টা কালো মেঘে ঢাকে গেছে।
কষ্টের কথা তাদের বলে শান্তি পাওয়া যারা কষ্ট টা অনুভব করতে পারে। এদের সামনে কান্না করা মানে নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করা। অসহায়ত্ব মানুষকে দিন দিন অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। এ পৃথিবীতে কেউ কারো কষ্ট বুঝেনা যতক্ষণ না নিজেকে সে জায়গায় বসাতে পারে।
বাহির থেকে ফুল এনে নিজের হাতে পুরো ঘর ফুলের বাগান করে দিয়েছে। মনের মাধুরি মিশিয়ে বাসর ঘর সাজিয়েছে স্বামীর নতুন বউয়ের জন্য ।। বার বার আল্লাহ কে বলছে,,
কোন মেয়ের ভাগ্যে যেন এমন দিন না আসে।
মুনতাহা এখন বুঝতে পারছে আত্মহত্যা মানুষ এমনি এমনি করে না কতটা আঘাত পেলে এ দুনিয়াতে বেঁচে থাকার মায়া হারিয়ে ফেলে। আত্মহত্যা যদি মহাপাপ না হতো প্রতিদিন কতই না মানুষ নির্দ্বিধায় এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেত। তবে রাতের আঁধারে কত শত মন আত্মহত্যা করে সে খবর কি কেউ রাখে!!
.
.
তুমি বুঝবে সাইমুন আমি কি ছিলাম তোমার জীবনে কিন্তু সেদিন খুব দেরি হয়ে যাবে।। সেদিন চাইলেও আমায় ছুঁতে পারবে না।
আজ নাহয় সুখ গুলো তোমার হোক কষ্ট গুলো আমার থাক। সুখ ছেড়ে গেলেও কষ্ট কখনো ছেড়ে যায় না কষ্ট কেবল একান্ত নিজের হয়।
বাহিরে গাড়ির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে মনে হয় সাইমুন নতুন বউ নিয়ে চলে এসেছে। চোখ মুছে দীর্ঘ নিশ্বাস নিলো নিজকে হালকা করে দরজা খুলতে গেলো।
সাইমুনের নতুন বউ নিয়ে হাজির। আসেপাশে সাইমুন কে দেখা যাচ্ছে না। মুনতাহার শাশুড়ী ব্যাস্ততা দেখিয়ে রাহি কে ডেকে বলছে,,
কিরে নতুন বউ মা কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে। তাড়াতাড়ি ওর বসার ব্যাবস্থা কর। আত্মীয় স্বজন সবাই নতুন বউ কে মিষ্টি খাওয়াবে।
— হ্যাঁ তুমি এত ব্যাস্ত হইও না আমরা করছি।
মুনতাহার চোখে চোখ রেখে মুনতাহার শাশুড়ী কথা বলছে না। হঠাৎ করে মুনতাহার দিকে তাকাতে চোখ আটকে গেলো। মুনতাহা বিয়ের শাড়ী পরেছে কেন?? ওর কি চায়!!
এখন এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই। যা হবার তা তো হয়ে গেছে। বিয়ে হয়ে গেছে তাতে শান্তি।
মুনতাহা অবন্তিকাকে দেখছে। মেয়েটা ভারি সুন্দর । চেহেরায় একটা নিস্পাপ ভাব আছে। মুনতাহা সবার আড়ালে চোখের জল পড়ার আগে মুছে নিলো।
তার কষ্টের সময় শেষ। এখন শুধু দেখবে সাইমুন কি করে..
অবন্তিকা কে খাটের উপর বসিয়ে এক এক করে আত্মীয় স্বজন মিষ্টি খাইয়ে নতুন বউকে গিফট দিচ্ছে।
মুনতাহার শাশুড়ী মা নিজের হাতের স্বর্ণের বালা ২ টা অবন্তিকা কে পরিয়ে দিলো।
মুনতাহার বিয়ের পর ওর শাশুড়ী প্রায় সময় বলত তুমি যেদিন আমাকে সুখবর দিবে, আমার ঘর আলোয় আলোয় ভরিয়ে দিবে সেদিন এ বালা দুটো আমি নিজ হাতে পরিয়ে দিব।
মুনতাহার কষ্ট লাগছে না কি হবে কষ্ট পেয়ে। যেখানে এত ভালোবাসা দিয়ে মনে জায়গা করতে পারেনি সেখানে বালা দুটো মূল্যহীন। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হল মানুষের মনের সত্যিকারের ভালবাসা অর্জন করা”
অবন্তিকার ভীষণ বিরক্ত লাগছে। একজনের পর একজন মিষ্টি খাওয়াচ্ছে।
বাহ!! এরা তো দেখি ভালোই আদিক্ষেতা দেখাচ্ছে। অবশ্য নতুন বউদের প্রতি সব শাশুড়ী প্রথমে আলগা পিরিত দেখায়। কয়েকদিন পরে ভালোবাসা দৌড়ে পালাবে।
অবন্তিকার শরীর টা বড্ড ক্লান্ত। সবার সামনে বলে দিলো,,
আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। আপনাদের কাজ শেষ হলে আমি একটু ঘুমাবো।
সাইমুনের মা সবাই কে বলছে,,
— এ তোরা সবাই যে যার ঘরে যাতো। দেখছিস না সারাদিন কত ধকল গেছে মেয়েটার উপর। ওকে একটু একা থাকতে দে।
সাইমুন কে বার বার কল দিচ্ছে সাইমুন ধরছে না। অনেক রাত হয়ে গেলো ছেলেটা কোথায় যে গেলো। নতুন বউ যে কি ভাববে।
কিছুক্ষণ পরে দরজায় কলিং বেল বাজছে। মুনতাহা ইচ্ছে করে দরজা খুলতে গেলো। সাইমুন কে দেখাতে চায় বিয়ে নিয়ে ওর কোন মাথা ব্যাথা নেই।
কে বলবে আজ সাইমুন বিয়ে করেছে। পাঞ্জাবির বুতাম খোলা, সারা শরীর ঘেমে একাকার।
মুনতাহাকে দেখে মাথায় রক্ত উঠে গেলো সাইমুনের। কোন খুশিতে মুনিতাহা লাল বেনারসি পরে এত সেজেগুজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
— তোমার জন্য বাসার সবাই অস্থির। ফ্রেশ হয়ে রুমে যাও অবন্তিকা অপেক্ষা করছে।
— তোমাকে বলতে হবে না। আমার বউয়ের কাছে সময় হলে আমি ঠিক যাবো।
— হুম দুজন ভালোবাসায় হারিয়ে যেও।
মুনতাহা আর কথা বাড়ালো না।
সাইমুন রুমে গিয়ে দেখে অবন্তিকা ঘুমিয়ে আছে। অবন্তিকা কে ঘুমন্ত দেখে কেন জানি মন টা শান্ত হলো। এমন পরিস্থিতি না পারছে বলতে না পারছে সইতে।
অবন্তিকা ঘুমের ভান ধরে শুয়ে আছে। এসব বাসর রাতের জন্য সে কোনভাবে প্রস্তুত না। বাসর রাত জীবনে একবার হয় সেটা আহানাফের সাথে হয়ে গেছে। আহানাফের জায়গা আর কাউকে দিতে পারবে না।
অবন্তিকা একটু পর পর চোখ খুলে দেখছে সাইমুন কি করছে। না জানি তার পাশে শুয়ে পড়ে। পুরুষ মানুষের বিশ্বাস নেই। বলা যায় না মাঝরাতে স্বামীত্ব খাটাতে পারে।
সাইমুন রুমে এসে সোফায় শুয়ে গেলো।
অবন্তিকা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলো। মনে হচ্ছিলো দম আটকে যাচ্ছে। মোবাইলে দিকে তাকাতে দেখছে আহানাফ বার বার কল দিচ্ছে। ভাগ্য ভালো মনে করে মোবাইল সাইলেন্ট রেখেছে নাহয় কি যে হতো। অবন্তিকা জানে আহানাফের মনে এই মুহুর্তে কি চলছে।
আনমনে বলে উঠলো,,
তুমি ভেব না আহানাফ তোমার জায়গা কেউ পাবে না। যত দূরে থাকো না তুমি সারাজীবন আমার মনে একাই রাজত্ব করবে। কিছু সম্পর্ক দূর থেকে ভালো তাতে ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়।
মুনতাহার চোখে ঘুম নেই। না চাইতেও বার বার ভাবছে রুমের ভিতর কি হচ্ছে….
….চলবে…..