ঝরা ফুলের বাসর !! Part- 16
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতেই হৃদের ফোন কল।আমি ঘুমে টলোমলো চোখে রিসিভ করতেই হৃদ বলে উঠলো নিচে দাড়িয়ে আছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে যেভাবেই পারি রেডি হয়ে যেন নিচে নামি।যদিও আমি দশ মিনিট লাগিয়েছি।নিচে নেমে দেখি গাড়ির সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাড়িয়ে আছে হৃদ।হাতে ঘড়ি দেখছে আর বিরবির করছে।আমি ওর সামনে এসে দাড়াতেই এক টানে আমাকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল।আমি হেসে উঠে বললাম কি হয়েছে হৃদ? হৃদ আমায় টেনে মুখের সামনে মুখটা আনলো।গালে হাত রেখে সারা মুখে ভালোবাসার পরস ছুঁইয়ে দিয়ে মুখটা মলিন করে বলল বড্ড মিস করেছি তোকে।কাল রাতে তো আমার ঘুমই হয় নি।আর এখন কটা বাজে দেখেছিস? পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসতে বলেছিলাম তোকে আমি।তুই দশ মিনিট লাগিয়েছিস।আমার মনের মধ্যে কি অবস্থা হচ্ছিলো জানিস? আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটু উঁচু হয়ে হৃদের গালে গাল ছুঁইয়ে ওকে ছেড়ে উল্টো ঘুরে দাড়ালাম।ওর হাতটা নিয়ে আমার পেটে চেপে ধরে মাথাটা ওর বুকের সাথে মিশিয়ে দিয়ে বললাম আমিও মিস করেছি।ফ্রেশ হয়ে আসতে একটু টাইম তো লাগবে তাই না? হৃদ বলল আমার আমার খুব ভয় হয় তোকে নিয়ে ফুল।আমি সব ছেড়ে থাকতে পারবো কিন্তু তুই যদি অন্য কারও হয়ে যাস তাহলে পাগল হয়ে যাবো।তখন আমি কি করবো নিজেও জানি না।আমি ঘুরে হৃদের চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম তুমি আসলেই একটা মেন্টাল।তোমার চিকিৎসা করা লাগবে।আমার ভালোবাসা দিয়ে।আচ্ছা হৃদ এইভাবে কেন ভালোবাসো আমাকে? সেদিন যদি ওই পেশেন্টার কিছু হয়ে যেতো? তুমি কি বোঝো না একজন ডাক্তার পেশেন্টের জীবন বাঁচায়।
হৃদ আমাকে ছেড়ে দিয়ে মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে বলল আমি কিছুই করিনি।সব নূরের প্ল্যান ছিলো।ও ইচ্ছা করেই অপারেশন না করে নার্সকে টাকার লোভ দেখিয়ে এসেছিলো।আমি তো সকালে জানতে পেরেছি যখন আমাকে ও ফোন করে পুরো প্ল্যানটা জানিয়ে হসপিটালে আসতে বলে।আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম।কিন্তু যখন হসপিটালে এসে তোর চোখে মুখে মেঘের জন্য কস্ট দেখতে পেলাম তখন আমি আর নূরকে কিছু বললাম না।এমনকি নার্সের সাথে ইচ্ছা করেই তোর সামনে কথা বললাম। আর নার্সকে টাকাও তোকে দেখিয়ে দিলাম।যেন তুই আরও কস্ট পাস মেঘ নির্দোষ এটা জেনে।
আমি হৃদকে টেনে ধরে বললাম তাহলে আপু এতোটা নিচে নেমে গিয়েছে।হৃদ আমি জানতাম না কিছু।ভুল বুঝে অনেক কিছু বলেছি তোমাকে প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও।হৃদ আমায় জড়িয়ে ধরে বলল হয়েছে আর ক্ষমা চাইতে হবে না।আমাকে ভালোবাসলেই হবে।আমি চোখটা বন্ধ করে হৃদকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছি।দূর থেকে গাড়ির হর্ণের শব্দ পেয়ে চোখ খুলে দেখি আবির চৌধুরীর গাড়ি।হোস্টেলের দিকেই আসছে গাড়িটা।আমি হৃদকে ছাড়ানোর চেস্টা করছি হৃদ ছাড়ছে না। বলছে আরও কিছুক্ষণ ওর বুকে থাকতে।আমি না পেরে বললাম ছাড়ও আমায় আবির চৌধুরী আসছে।সঙ্গে সঙ্গে হৃদ আমায় ছেড়ে দিলো।আমি ওর ঠোঁট একটা ছোট করে চুমু এঁকে দিয়ে সরে
যেতে লাগলাম ওর গলার লকেটটার সাথে আমার গলার চেনটা আটকে গেলো।দুজনে ছাড়ানোর চেস্টা করছি কিন্তু হচ্ছে না।আমি না পেরে চেনটা খুলে হৃদের শার্টের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বললাম পরে ছাড়িও।পাশ ফিরে দেখলাম আবির চৌধুরীর গাড়িটা এসে থেমেছে।গাড়ির দরজা খুলার শব্দ পেলে দুজন দুজনের থেকে দূরে সরে আসলাম আমরা।ঠিক তখনই ডা.মেঘ স্যারের কন্ঠ শুনতে পেলাম। স্যার এগিয়ে এসে বলল ওহহ হৃদ এসেছে তোমাকে নিতে? আমি চোখ তুলে তাকিয়ে উনাকে দেখে বললাম স্যার আপনি এখানে? স্যার বলল বাবা পাঠিয়েছে।তবে ভালোই হয়েছে হৃদ এসেছে যখন ওর সাথেই চলে যেও।এমন সময় মিনি, নিশি আর প্রিয়া নিচে নামলো।প্রিয়া বলল ডা.মেঘ স্যার এসেছেন যখন আমরা তিনজন স্যারের গাড়ীতে উঠে পরি।গাড়িটা তো খালিই যাবে হসপিটালে।মিনি, নিশি প্রিয়ার হাতটা চেপে ধরল।প্রিয়াকে বলল কি বলছিস তুই? স্যারকে উদ্দেশ্য করে বলল আমরা ইজিবাইকে যাবো স্যার আপনি প্রিয়ার কথায় কিছু মনে করবেন না।কথাটা বলে
মিনি আর নিশি সামনে আগালেও প্রিয়া সেখানেই দাড়িয়ে আছে। পায়ে হাত রেখে বসে পরে বলতে শুরু করেছে হঠাৎ মোচড় লেগে পায়ে ব্যাথা করছে খুব।বড় রাস্তা পর্যন্ত হেটে যেতে পারবো না আমি।আবার ইলেকশন আজ। আজ যদি ইলেকশন না হতো আমি যেতামই না।স্যারকে বলল প্লিজ স্যার আপনার গাড়িতে একটু জায়গা দিন।মিনি, নিশি আর আমি হা হয়ে তাকিয়ে আছি প্রিয়ার দিকে।হৃদ আগাতে লাগলে আমি ওকে ধরে বসলাম।চোখের ইশারায় বোঝালাম ও নাটক করছে।হৃদ মুচকি হাসলো।স্যার কিছুই বুঝতে পেলো না।ভাবলো সত্যি প্রিয়ার পায়ে ব্যাথা করছে।এগিয়ে এসে প্রিয়ার পা দেখতে লাগলো আর বলল কিছুই তো বুঝতে পারছি না।আগে হসপিটালে চলো।প্রিয়া দুহাত স্যারের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল হাঁটতে পারবো না।নিশি আর মিনি গিয়ে প্রিয়াকে উঠানোর চেস্টা করল প্রিয়া না উঠে ভাব দেখাচ্ছে যেন উঠার চেষ্টা করছে।মিনি আর নিশি কিছুক্ষণ টানাটানি করে বিরক্ত হয়ে বলল উঠছিস না কেন? প্রিয়া বলল উঠতে না পারলে উঠবো কি করো।স্যারকে বলল স্যার ফুলকে সেদিন মাঝ রাতে যেভাবে কোলে তুলে হোস্টেলে এনেছিলেন ওভাবে একটু গাড়িতে নিয়ে যাবেন? স্যার আর কোনো উপায় না পেয়ে প্রিয়াকে নিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসালো।নিশি, মিনি গাড়িতে উঠতে গেলো প্রিয়া পা মেলিয়ে দিয়ে বলল পা টানটান করে বসতে হবে।না হলে ব্যাথা করবে।তোরা বরং ইজিবাইকে চলে যা।ওদের বসতেই দিলো না প্রিয়া।স্যার সামনের সিটে গিয়ে বসলে প্রিয়া ড্রাইভারকে বলল গাড়িটা স্ট্রার্ট করতে।গাড়িটা চলে গেলে মিনি আর নিশিও চলে গেলো।হৃদের দিকে তাকালে হৃদ আমার কাঁধে হাত রেখে শক্ত করে চেপে ধরে বলল তখন প্রিয়া কি বলল? মাঝ রাতে তুমি মেঘের সাথে হোস্টেলে ফিরেছিলে?
চলবে,,,