জুনিয়র বর—— পর্ব -০৩
আমরা নিজেদের রুমে আসলাম। এসেই
অভি চুপচাপ সোফায় শুয়ে পরল।
আমি ও অভিমান করে কিছু না বলে শুয়ে
পরলাম।
মশার কামড়ে অভি ঘুমোতে পারছেনা।
ছটফট করছে।
আমি ওকে বললাম বিছানায় এসে শুয়ে
পরো।
ও বললো না আমি এখানেই ঠিক আছি। ওর
এমন ছেলেমানুষি দেখে রাগের মধ্যে
হাসি পাচ্ছিলো। মশার কামরে ঘুমোতে
পারছেনা আর বলে কিনা ঠিক আছি।
আমি ওর পাশে গিয়ে বললাম একটু সোফা
থেকে নিচে নামো
— অভি বললো কেনো
— যেটা বললাম সেটা করো।
— ও চুপচাপ নেমে গেলো। এবার ওকে
বললাম যাও, তুমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে
পরো। আমি এখানে ঘুমোবো। এই বলে
সোফায় শুয়ে পরলাম।
আমার এভাবে এখানে শোয়াটা অভির
বুঝি পছন্দ হলোনা। তাই ও বললো তুমি
ওখানে ঘুমোতে পারবেনা। এখানে মশার
উৎপাত বেশি। এর চেয়ে তুমি বিছানায়
যাও আমি এখানেই ঠিক আছি।
—আমি তো কম না। ওকে বললাম না
যাবোনা, এখানেই ঠিক আছি আমি।
অভি বললোবেশি বুঝো কেনো,?
আমি বললাম বেশি না অল্পই বুঝি।
অভি আমাকে অবাক করে দিয়ে
পাঁজাকোলা করে উঠিয়ে বিছানায়
নিয়ে এলো।
এরপর লম্বা একটা কোলবালিশ মাঝখানে
রেখে বললো ভুলেও এই সিমানা অতিক্রম
করবেনা।
আর শোনো, আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড
নেই।
এবার অভির কথায় হাসি পেলো। যখন
শুনতে চেয়েছি তখন বললোনা এখন বলছে।
আমি ওকে বললাম এই কোলবালিশ কার
— অভি বললো কার আবার আমার
— তুমি কোলবালিশে কি করো।
— শুন্যতায় পুর্ণতা খুঁজি
— আজ পুর্ণতা খুঁজবে না?
— তার দরকার নেই
—তুমি কি আমাকে মেনে নিতে
পারছোনা,,?
— বারবার কেনো এ কথা বলছো
— যানো আজ অনিক সারাদিন অর বউ এর
পিছুপিছু ছিলো
— হুম, তুমি কি চাও আমি সারাদিন কাজ
ফেলে তোমার আচলতলায় বসে থাকি? এ
আশা ভুলেও করোনা, কারণ আমি অনিকের
মতো না। বউ আমার পকেটে থাকবে আমি
বউ এর আচলপুরে না বুঝলে। এবার লক্ষি
মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ো এবং আমাকেও
ঘুমোতে দাও।
— তা না হয় দিলাম। কিন্তু এখনো আমার
প্রশ্ন তাই উত্তর পেলোনা।
— তোমাকে অপছন্দ করার কোনো কারণ
নেই। আমার কাছে মনে হয়, তুমি দেখতে
অনেক সুন্দর। শিক্ষিত এবং অনেক ভদ্র
সুশীল মেয়ে। তোমাকে অপছন্দ করবো
কেনো। কিন্তু হ্যাঁ এভাবে এতোসব হয়ে
যাবে এটা কখনো ভাবিনি।
এর জন্য আমাকে কিছু সময় দিতে হবে।
তবে তুমি চাইলে এখন থেকে আমরা
ভালো বন্ধু হতে পাড়ি। তবে শর্ত আছে
একটা।
— উমমমমম, ঠিক আছে। কি শর্ত বলো
— তুমি কি ভাইয়াকে পছন্দ করতে,,? সত্যি
কথা বলবে। আমার মন রক্ষার্থে কিছু
বলোনা।
— পছন্দ করতাম না বললে ভুল হবে।
বিশ্বাস করো বিয়ে ঠিক হবার আগে এসব
নিয়ে কখোনই ভাবিনি।এমন চোখে
কখনো তাকাই নি।
তবে বিয়ে হবে শুনে ভালোলাগা কিছুটা
মনে জন্ম নিয়েছিলো। তবে ওর এমন
ব্যবহারে সেটা মরে গেছে।
— থাক আর বলতে হবেনা।বুঝতে
পেরেছি।
অভি পানি খাওয়ার কথা বলে কিচেনে
গেলো।
একটু পর অভি বলছে, সোনাবৌ কই তুমি,
একটু দাড়াও আমি পানি আনছি।
অভির মুখে এমন কথা শুনে খুবই অবাক
হলাম। ও পাগল হলোনা তো,,?
কিছুক্ষণ আগে বললো এসব মেনে নিতে
কিছু সময় লাগবে। এখন আবার এসব বলছে,,,,
ধুর মাথায় খেলছেনা।
,
চলবে,,,