তুই যে শুধুই আমার

তুই যে শুধুই আমার ! সিজন- ২ !! Part- 10


🍂এইদিকে🍂
আসিফ সায়রাকে হসপিটালে এডমিট করে,, আসিফ সায়রার বাবা মাকে কল করে সায়রার কথা জানায় আর হসপিটালে আসতে বলে,, একটু পর তারা এসেও পড়ে,,, জান্নাতও ইতি মধ্যে চলে এসেছে,,
ডাক্তার সায়রাকে চেক করছে,, একটু পর ডাক্তার বেড়িয়ে আসলে সবাই তাকে ঘিরে দাড়ায়,, সায়রার বাবা আমিনুল সাহেব এক অস্থিরতা ভাব নিয়ে জিজ্ঞেস করেন।।

আমিনুল সাহেবঃ আমার মেয়ে,, আমার মেয়ে কেমন আছে ডাক্তার?? ঠিক আছে তহ??

ডাক্তারঃ দেখুন শান্ত হোন হাইপার হবেন না। নিজেকে একটু শান্ত করুন। পেশেন্টের অবস্থা খুব একটা ভালো তা না। হাত ও পা অনেক বাজে ভাবে ছিলে গিয়েছে আর ব্লিডিং ও অনেক বেশি হয়েছে। ক্ষত স্থানটি ভালো মত পরিষ্কারও করা হয় নি যার ফলে ক্ষত স্থানটির চারপাশে খানিকটা ইনফেকশন হয়ে গিয়েছে যার ফলে ক্ষতটি আরও গভীর হয়ে গিয়েছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে ইনফেকশনটি বেশি ছড়াতে পারে নি কিন্তু…

আমিনুল সাহেবঃ কিন্তু কি ডাক্তার?? উত্তেজিত হয়ে

ডাক্তারঃ তার ব্রেইনের কিছু একটা প্রবলেম দেখা দিচ্ছে। কয়েকটা নার্ভ একদম কাজ করছে না। এক জায়গায় ব্লোকেজ ও হয়ে গিয়েছে।
তিনি মাথার ডান পাশে ঘুরতোর ভাবে আঘাত পেয়েছেন যার ফলে মাথার ডান পাশে কিছু একটা প্রবলেম দেখা দিচ্ছে। তার উপর তিনি জ্ঞান হারাবার আগে মেবি একটু স্ট্রেস আউট ছিলেন। মেন্টালি প্রেশারাইসড ছিলেন যার ফলে তার ব্রেইনে ইফেক্ট করেছে। একে তহ এই আঘাত তার উপর মেন্টালি প্রেশার, তার ব্রেইন একসাথে এত চাপ নিতে পারে নি যার ফলে তিনি সেন্সলেস হয়ে যায়।

আসিফঃ তহ এখন এর উপায় কি ডাক্তার??

ডাক্তারঃ অপারেশন।।

আমিনুল সাহেবঃ না কিছুতেই না। আমার মেয়ের কোন অপারেশন হবে না। আমি দিব না হতে।

ডাক্তারঃ দেখুন বুঝার চেষ্টা করুন যেহেতু তার মাথায় এক জায়গা ব্লোক হয়ে গিয়েছে সেহেতু এখন অপারেশন ছাড়া আর কোন উপায় নেই। চিন্তার কোন বিষয় নেই এইটা কোন মেজোর টাইপ অপারেশন না নরমাল একটা অপারেশন। আমরা জাস্ট সেই ব্লোকেজটা রিমুভ করবো। এতে তার কোন ক্ষতি হবে না বাট যদি ব্লোকেকটা রিমুভ না করা হয় তাহলে হয়তো বা তার ব্রেইন কাজ করা অফ করে দিতে পারে এন্ড তিনি ব্রেইন স্টোক ও করতে পারে।।

আমিনুল সাহেবঃ না এমন হতে পারে না। কিছুতেই না। আমার মেয়ের কিছু হতে পারে না। অশ্রু ভেজা কন্ঠে।

জান্নাতঃ আঙ্কেল নিজেকে সামলান। সায়রার কিছু হবে না। অপারেশনের জন্য রাজি হয়ে যান। এইটা ইম্পর্ট্যান্ট। আমি আপনার ভয় বুঝি কিন্তু সায়রার কথা একবার ভাবুন প্লিজ। সি নিডস দি অপারেশন।

আমিনুল সাহেবঃ তাহলে আপনি অপারেশনের ব্যবস্থা করুন ডাক্তার। আমি আমার মেয়েকে কোন মতেই সুস্থ দেখতে চাই। যে কোন মূল্যে। ওই আমার শেষ সম্বল। একজন তহ চলেই গিয়েছে ছেড়ে এখন ওর ও যদি কিছু হয় আমি মরে যাব ডাক্তার মরে যাব।। এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
ইমা বেগম ( সায়রার মা) এসে আমিনুল সাহেবকে ধরেন আর তাকে সামলাতে থাকে,,

আসিফঃ ডাক্তার আপনি যথা জলদি অপারেশনের ব্যবস্থা করুন। প্লিজ।।

ডাক্তারঃ ইয়াহ সিউর,, কিন্তু তার আগে প্লিজ আপনারা দয়া করে হসপিটালের সকল ফরমালিটিস পূরণ করে দিন।। তা না হলে আমরা কিছুই করতে পারছি না।।

তখন পিছন থেকে আরুশ বলে উঠে।।

আরুশঃ আপনি ফরমালিটিসের চিন্তা করবেন না।। সে সব আমি দেখে নিব।। আপনি শুধু অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হন।।

ডাক্তারঃ আরেহ মি. আরুশ খান আপনি!! আপনি এইখানে কি করছেন??

আরুশঃ That’s none of your business. Please go and check the patient. I just want her back at any cost. You got it.

ডাক্তারঃ ইয়াহ সিউর।

এই বলে ডাক্তার চলে যায় আর জান্নাত তেড়ে এসে চেঁচিয়ে বলে।

জান্নাতঃ আপনি এইখানে কেন এসেছেন তামাশা দেখতে নাকি দেখতে যে সায়রা বেঁচে আছে না মরে গেছে!!

তখন পাশ দিয়ে যাওয়া একজন নার্স বলে উঠে।

নার্সঃ This is hospital mam please don’t shout.

জান্নাতঃ Sorry and hey you mr. Khan please come outside with me.

আরুশঃ You go first. I am just coming in a few minute.

এই বলে আরুশ কোথায় জানি চলে গেল তখন আমিনুল সাহেব বলে উঠেন।

আমিনুল সাহেবঃ জান্নাত মা এনি কে??

জান্নাতঃ এনি সেই ব্যক্তি যার জন্য সায়রার মাথায় এত প্রেশার ক্রিয়েট। এনি এই সায়রার অফিসের বস মি. আরুশ খান

আমিনুল সাহেবঃ কি বলছো এইসব। অবাক হয়ে

জান্নাতঃ আঙ্কেল আমি এইসব নিয়ে পড়ে কথা বলছি। আগে তার সাথে আমার বোঝা পড়া বাকি আছে। আসিফ তুই এই দিক সামলিয়ে নিস। তোকে এখন আঙ্কেলের বড্ড প্রয়োজন।

আসিফঃ ডোন্ট ওয়ারি ইয়ার। আ’ম হিয়ার, ইউ জাস্ট গো নাও।

জান্নাত আর কথা না বাড়িয়ে হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে যেতে নেয় তখন দেখে ক্যাশ কাউন্টারের কাছে আসতেই দেখে আরুশ সকল ফরমালিটিস পূরণ করছে এবং টাকা জমা দিচ্ছে আর বলছে।

আরুশঃ টাকা গুলো নিয়ে যথা দ্রুত সম্ভব অপারেশনটা স্ট্রাট করুন। হারি আপ।

তা দেখে জান্নাত এসে আরুশের হাত ধরে আর বলে।

জান্নাতঃ কোন সাহসে আপনি এই টাকা গুলো জমা দিচ্ছেন? কি হন আপনি সায়রার যে আপনি এর জন্য টাকা দিচ্ছেন? সায়রার বাবা মার বুঝি টাকা নেই যে আপনি টাকা দিচ্ছেন?

আরুশঃ আমি কি তা বলেছি।। দেখো তাদের
এখন এমন মনমানসিকতা নেই যে তারা এইসবের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে। তাদের মনের অবস্থা এখন একদমই ভালো না আর না এখন তাদের ভালো মন্দ বুঝার জ্ঞান বোধ আছে।। আর আমার জানার মতে তাদের তেমন কোন নেই এইসব দিকটা ভালো মত দেখবে। তুমি আর ওই ছেলেটাও এখনো ছোট এইসব ফরমালেটিস তোমরা সামলাতে পারবে না। এতে সায়রার অপারেশনেই দেরি হবে আর ওরই ক্ষতি হবে তাই আমি যা করছি তা আমায় করতে দাও।

জান্নাত এইবার আরুশের হাতটা ছেড়ে দেয় কেন না আরুশের কথা একদিক দিয়েই ঠিক এই। এখন আপাতত সায়রার অপারেশনটা খুব বেশি দরকার আর আঙ্কেল আন্টি এখন এইসব কিছু ঠিক মত করতেও পারবে না। কেন না তারা এখন একদম ভেঙে পড়েছে। তারা এখন নিজের মধ্যে নেই। তাদের মনে এখন যে ভয় কাজ করছে তা জান্নাতের অজানা নয়।


হসপিটালের সামনে একটি পার্কে বসে আছে আরুশ আর জান্নাত। জান্নাত নিজের রাগ ধরে রাখতে পারছে না।। মনটা চাচ্ছে এই আরুশ না পারুশ খানকে কাঁচা চিবিয়ে ফেলতে। কিন্তু তাও নিজেকে সংযত রেখে দাঁতে দাঁত চেপে বলে।

জান্নাতঃ কেন এসেছেন এইখানে? তখন অপমান করে কি মন ভরে নি যে এখন আবার চলে এসেছেন? আজ আপনার জন্য সায়রার এই অবস্থা। সায়রার যদি কিছু হয় না তাহলে আমি আপনাকে ছাড়বো না আই সোয়ের।

আরুশঃ দেখ তুমি আমায় ভুল বুঝছো। তখন রাগের মাথায় কি থেকে কি বলে ফেলেছি নিজেরও খেয়াল নেই। কিন্তু যাই বলেছি মন থেকে নয়। এইটা আমি জানি সায়রা যতই দুষ্টু হোক আর যতই বাচ্চামো করুক ও কাজের প্রতি অনেক বেশি এক্টিভ। কাজের প্রতি ও কখনো এতটা অবহেলা করে না কিন্তু আজ যখন এই ক্লাইন্টসরা আমায় এত কথা শুনালো তখন মাথা ঠিক ছিল না। মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছি তাই যত রাগ ছিল সব সায়রার উপর গিয়ে পড়ে।

জান্নাতঃ বাহ বললেই হলো। না জেনে শুনে এত কিছু বলে ফেললেন একবার ওর কথাটুকু শুনতে চাইলেন না। আরেহ যেখানে আমরা ওর সাথে উঁচু গলায় কথা বলতে ভয় পাই সেখানে আপনি ওকে থাপ্পড় মেরেছেন,ধমকিয়েছেন আরও কত কি না বলেছেন। ও কতটা সেন্সিটিভ তা আপনার ধারণার ও বাইরে।। ও যতটাই নিজেকে হাসি খুশি দেখাক না কেন ভিতর ও যে কষ্টটা দাফন করে রেখেছে তা আপনাদের ধারণার ও বাইরে। যে মেয়েকে আমি এই দুইবছরে একবারও কাদতে দেখি নি আজ আপনার জন্য আমি ওর চোখে পানি দেখেছি।

আরুশঃ আ’ম সরি। নিজের অজান্তেই অনেক বেশি বলে ফেলেছি আমি। আমার এমন করাটা ঠিক হয় নি। কিন্তু আমার তোমার থেকে কিছু জানার আছে।

জান্নাতঃ কি??

আরুশঃ কি সেই কষ্ট? আই ওয়ান্ট টু নো। এমন কি হয়েছিল যে ও এমন হলো।

জান্নাতঃ আপনি কোন অধিকার নিয়ে এইসব জানতে চাচ্ছেন? সায়রার জীবন নিয়ে আপনার জানার কোন অধিকার নেই। ইউ হ্যাভ নো রাইটস ওন হার।

আরুশঃ যদি বলি আছে। যদি সায়রার সম্পর্কে প্রত্যেকটা কথা জানার আমার পূর্ণ অধিকার আছে তাহলে।

জান্নাতঃ মানে। কিসের অধিকারের কথা বলছেন আপনি। অবাক হয়ে।

আরুশঃ দ্যান লিসেন!!

আরুশঃ এখন তহ বুঝেছো কিসের অধিকার। এখন তহ কোন অবজেকশন নেই তাই না।

জান্নাতঃ হাহ, এক বড় নিশ্বাস নিয়ে। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না বাট করতে বাধ্য হচ্ছি। আপনি যে একটা ঠকবাজ তা জানেন!! আপনার নামে ঠকবাজির মামলা করা উচিৎ।। এখন যদি এই জিনিসটা না থাকতো খুন করতাম আপনাকে আমি। ইউ চিটার। 😤😤

আরুশঃ দেখ যা করেছি তা সায়রা আর আমার ভালোর জন্যই করেছি। তুমি ওর বেস্ট ফ্রেন্ড আর ওর পাস্ট সম্পর্কে সব জানো বলে এইসব বললাম আদার ওয়াইস এইসব আমি কাউকেই বলতাম না। এখন প্লিজ সেই অজানা সত্যিটা আমায় বলো।

জান্নাত এক দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলা স্টার্ট করে।



#চলবে