আড়ালে ভালোবাসার সংসার

আড়ালে ভালোবাসার সংসার !! Part- 23

বিধানকে রেখে বিথী দিপ্তের ঘরে যেতে নিলে বিধান এক হেচকা টান দেয়। বিথী অবাক হয়ে যায় আর বিধানের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।
বিথীঃ কি হলো! ( অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে )
বিধানঃ কি করছি দেখছো না! (বাকা হেসে)
বিথীঃ ম-মা-মানে!
বিধানঃ মানে কিছুনা গাধী!
বিধান বাকা হেসে বিথীকে ছেড়ে দিলো। আর এমন ভাবভঙ্গি করলো যেনো সে কিছুই করেনি। বিথী তো অবাক নয়নে কনফিউজড হয়ে তাকিয়ে আছে কারণ কি হলো ও বুঝতেই পারছে না। আর বিধান মনে মনে হাসছে।
বিথীঃ আপনি….
বিধানঃ আমি?
বিথীঃ আপনি যাচ্ছে তাই!
বিধানঃ তাই না কি? ( বিথীর দিকে এগিয়এ আসতে দিল )
বিথীঃ নাহহহহ! ( দিলো এক চিৎকার)
বিধানঃ স্টপ! (কানে হাত দিয়ে ঝাড়ি দিয়ে বলল)
বিথী বিধানের ধমক খেয়ে শান্ত বাচ্চার মতো চুপ হয়ে গেলো কিন্তু বিধান চোখ রাঙানো দেখে আমতা আমতা করে কথা বলতে লাগলো।
বিথীঃ আ-আমি য-যাই আপ-আপনার জন্য ক__কাপড় ন_নিয়ে আ-সি। ( আমতা আমতা করে তুতলিয়ে বলে ঘর থেকে বের হতে নিলো )
বিধানঃ স্টপ!
বিথী বিধানের কথায় দাঁড়িয়ে গেলো।
বিথীঃ জী?
বিধানঃ আমার কাপড় কারে আছে সো আমি নিয়ে আসছি। আর হ্যাঁ ঘরে যাতে কোনো নীল ঢিল না আসে! মনে থাকে যাতে!
অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বিধান কথাটা বললো যা দেখে বিথী ভয়ে কাপাকাপি শুরু করে দিয়েছে।
বিথীঃ আ-আচ্ছা।
বিধান চলে গেলো কাপড় আনতে আর বিথী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। তবে তা কিছুক্ষণের জন্যই কারণ বিধান পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘরে এসে পড়লো। আর এমন ভাবে ঢুকলো যেনো তার কোন সাত রাজার ধন ঘরে রেখে গিয়েছে যা কেউ চুরি করে নিতে পারে।
ধরামমম!
বিথী দেখলো বিধান দরজা লাগিয়ে দিয়েছে।
বিথীঃ দরজা বন্ধ করলেন কেন? খোলাই থাকতো কেউ দেখলে কি ভাববে?
বলে বিধানের দিকে তাকাতেই কলিজা পুনরায় মরুভূমি হয়ে গেলো কারণ বিধান আবার লাল চোখ করে তাকিয়ে আছে।
বিধানঃ কি বললে?
বিথীঃ কিছু বলিনি তো। বললাম যান গোসল করে আসেন। ( জোরপূর্বক হেসে)
বিধানঃ হুমমমম। আর হ্যাঁ কোনো ঢিল যাতে ঘরে না ঢুকে আর আপনিও মহারাণী ভিক্টোরিয়ার মতো ড্যাং ড্যাং করে বের হয়ে যাবেন না। নাহলে এবার বিছানায় নয় ফ্লোরেই আছাড় দিবো।
,
,
,
বিথীঃ রাক্ষস একটা! ( ভেঙচি কেটে )
বিধানঃ বিথী সোনা কিছু বললে আমায়? ( বাথরুম থেকে বলল)
বিথীঃ হ্যাঁ বলেছি, বেশ করেছি আরো বলবো! কি করবি? ( মনে মনে )
বিধানঃ কি হলো?
বিথীঃ নাহ কিছু বলিনি তো।
ঠিক তখনই দরজায় নক হলো।
ঠক! ঠক!
বিথী দরজা খুলতে যেতেই বিধানের কথা শুনে থেমে গেলো।
বিধানঃ এই মেয়ে দরজা খুলবা না। আগে জিগ্যেস করো কে!
বিথীঃ উফফফ! কে নক করছে?
দিপ্তঃ আমি! তাড়াতাড়ি নিচে আয়! আম্মু লাঞ্চের জন্য ডাকছে।
বিথীঃ তুই যা আমরা কিছুসময়ের মধ্যেই নামছি।
দিপ্তঃ আচ্ছা। ( বলে দিপ্ত নিচে চলে গেলো )
বিথীঃ শুনেন তাড়াতাড়ি করেন! আম্মি ডাকছে খাওয়ার জন্য।
বিধানঃ ওকেহ।
বিথী বিধানের জন্য সোফায় বসে অপেক্ষা করতে লাগলো টিভিতে বিগ বস দেখতে দেখতে। বেশ মনযোগ সহকার দেখছিলো কিন্তু বিধানের দ্বারা সেই ধ্যান ভাঙলো। কিছুক্ষণ পর বিথী নিজের মুখে পানির ছিটে অনুভব করলো। তাই সেই পানির উৎস খুঁজতে পাশে তাকাতেই মুগ্ধ হয়ে গেলো। বিধান দাঁড়িয়ে আছে চোখের সামনে। ভিজে চুলগুলো হাত দিয়ে ঝাড়ছে এবং সেই চুলের পানির ছিটেফোঁটাই বিথীর মুখে পড়ছে। বিথী আজ বিধান পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুটে খুটে দেখছে। বিধানের উজ্জ্বল শ্যামা গায়ের রঙ যাকে ফর্সা বললেও খারাপ হয় না, উচ্চতা ছয় ফুট হবে, ফিটনেস তো চোখ ধাঁধানো হবেই না কেন রোজ জিম করে, সিল্কি চুল, চোখ জোড়া ছোট ছোট তবে মায়াবি, ঠোঁট জোড়া গাঢ় বেগুনী যাকে বলে কালচে বেগুনি, মুখে দাঁড়ি আছে তবে বেশি বড় না এবং হালকা মুছও আছে। সবমিলিয়ে কোনো রাজপুত্র বা নায়কের চেয়ে কম নয়। আজ বিথীর মনে হচ্ছে ওর স্বামীটা আসোলেই লাখে একটা।
অন্যদিকে বিধান চুল হাত দিয়ে ঝাড়তে ঝাড়তে দেখে বিথী তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। তাই প্রথমে বিধান আয়নায় তাকিয়ে দেখে কোনো ভুল করেছে কিনা কিন্তু সব ঠিক আছে দেখে কিছুটা অবাক হয়। পরক্ষণেই কিছু একটা ভেবে মুচকি হাসে।
বিধানঃ শেষ পর্যন্ত তোর বউয়ের নজর তোর উপর পড়লো! ( বিড়বিড় করে )
বিথী তখনও বিধানের দিকে একই ভাবে অর্থাৎ হা করে তাকিয়ে আছে যা দেখে বিধান মনে মনে কিছু একটা ভেবে দুষ্টুমির হাসি ঝুলালো মুখে। বিধান ধিরে ধিরে বিথীর দিকে এগুলো। একদম বিথীর মুখের সামনে যেয়ে দাঁড়ালো তারপর বিথীর মুখে একট ফুঁ দিলো যাতে তার বিধানকে দেখার সাধনা ভঙ্গ হয় এবং হলোও তাই।
,
,
,
বিথীর আচমকা ঘোর ভাঙতেই বিধানকে সামনে দেখে আশ্চর্য হয়ে চিৎকার দেয় কিন্তু এবার আর বিধান নিজের কানে হাত দেয়নি বরং বিথীর মুখে হাত দেয়। যাতে চিৎকার না করতে পারে।
বিধানঃ থাক জানপাখি তোমার কষ্ট করে চিৎকার দিতে হবে না। আমি তো তোমার স্বামীই, তাই না? ভয় পাওয়ার কি আছে বলো?
বিথীঃ উমমম!
বিধানঃ ওহ সরি! ( মুখ থেকে হাত সরিয়ে )
বিথীঃ উফফফ! আপনি না………
বিধানঃ আমি জানি আমি ড্যাম হ্যান্ডসাম। এই জন্যই তো তুমি হাঁ করে দেখছিলে! ( চোখ টিপ দিয়ে)
বিথীঃ কো__থায়?
বিধানঃ দেখছিলেই তো তাও এমনভাবে মনে হচ্ছিলো আমি মানুষ না চকোলেট! ( ঠোঁট কামড়ে )
বিথীঃ ক-কি বাজে বকছেন? চ-চলেন নিচে আম্মি ডাকছে! ( আমতা আমতা করে )
বিধানঃ আচ্ছা চলো।
বিধান বিথীর হাত শক্ত করে ধরে নিচে নামলো।
বিথীঃ উফফফ ছাড়েন তো!
বিধানঃ যেভাবে আছো সেভাবে থাকে! ( রাগী গলায়।)
বিথী আর কিছু বলল না। বিধান ও বিথী ডাইনিং রুমে এসে দেখলো শুধুমাত্র নীলাভ্র এর পাশের দুটো চেয়ার খালি। নীলাভ্র বিথীকে আসতে দেখেই মুচকি হাসি দিলো।
নীলাভ্রঃ বিথী আসো এখানে বসো! ( নীলাভ্রের পাশের চেয়ার খুলে দিয়ে)
বিধান তো নীলাভ্রের কাজে বেজায় রেগে গেলো কিন্তু শ্বশুরবাড়ি বলে কথা তাই রাগ কন্ট্রোল করলো। অন্যদিকে বিথী টেবিলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগেই বিধান ঠুসঠাস করে নীলাভ্রের পাশের চেয়ারে বসে পড়লো যা দেখে সবাই মুখ চেপে হেসে দিলো। আর বিথী তো বুঝলোই না হলোটা কি!
বিথীঃ এতক্ষণ তো হাতও ছাড় ছিলো না এখন একাই বসে পড়লো! তার ছিড়া লোক একটা আমার কপালে জুটছে! ( মনে মনে)

চলবে,,,,,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *