আড়ালে ভালোবাসার সংসার !! Part- 24
বিথী এসবই ভাবছিলো ঠিক তখনই বিধান দিলো জোরেশোরে এক ধমক।
বিধানঃ কি হলো এসে বসছো না কেনো? (ঝাড়ি দিয়ে)
বিথীঃ হ-হ্যা! আ__সছি তো! ( কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে)
বিথী এসে বিধানের পাশে বসে। বিথী বসতেই বিধান সামনে আশেপাশে তাকিয়ে দেখে সবাই তার দিকে অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে। আসলে হঠাৎ বিধানের এমন ঝাড়ি দেয়াতে সবাই অবাক। বিধান কিছুক্ষণ ভেবে বুঝতে পারলো সবার এমন করার কারণ। আর বিথী তো টেবিলে নিজের পছন্দের কালা ভুনা দেখে গপাগপ খাচ্ছে। আশেপাশে যে এতো কাহিনী ঘটছে তা তার দেখার সময় নেই। বলতে গেলে এমন একটা ভাব এখনই না খেলে খাবারটা কেউ নিয়ে যাবে।
বিধানঃ আসলে বিথী তো খাবার নিয়ে অনেক ঝামেলা করে তাই এমন ছোটো খাটো ঝাড়ি প্রতি বেলায়ই খায়। ( আমতা আমতা করে )
বিথী বিধানের কথা শুনে মাথা উঠিয়ে বিধানকে এক ঝলক দেখে আবার প্লেটের দিকে তাকিয়ে খেতে থাকে।
বিথীঃ এতো অবাক হওয়ার কিছু নেই আমার ইন্দুরের এমন দুয়েকটা ঝাড়ি হজম করার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। ( খেতে খেতে)
বিথীর কথা শুনে সবাই বিথীর দিকে এমনভাবে তাকায় যেনো বিথী মঙ্গল গ্রহ থেকে আসা কোনো এলিয়েন কিন্তু বিথীর সেদিকে কোনো ধ্যান নাই সে খেতে ব্যস্ত। বিথীর পাশেই বসাছিল দিপ্ত। দিপ্ত বিথীর হাতে হালকা একটা বারি দেয়।
দিপ্তঃ তুই কি বলছিস তুই কি জানিস! ( ফিসফিস করে )
বিথীঃ কেনো কি বললাম? ( খেতে খেতে )
দিপ্তঃ ভেবে দেখ!
বিথীঃ আমি তো……. হায় আল্লাহ কি বলে ফেলছি! ( বিড়বিড় করে)
বিথী ভয় ভয় মুখ নিয়ে নিজের আরেক পাশে তাকাতেই বিধানের লাল মুখ চোখে পড়লো।
বিথীঃ আল্লাহ এই রাক্ষস তো গরুর মতো চোখ করে ষাঁড়ের মতো মুখ করে তাকিয়ে আছে! (মনে মনে)
বিধানঃ তোমার কি কমন সেন্স নাই কোথায় কি বলতে হয়! ( দাঁতে দাঁত চেপে)
বিথীঃ স___রি! স্লিপ অফ টাং। ( কানে ধরে বলল।)
বিথীর আম্মি ব্যপারটা বুঝতে পারলেন। তাই তিনি মৃদু হেসে উঠলেন।
আম্মিঃ আরে রাখো বাবা আমার মেয়ের মাথায় যে একটু গণ্ডগোল আছে তা আমরা জানি।
আম্মির কথায় সবাই হেসে উঠলো শুধুমাত্র বিথী ছাড়া।
বিথীঃ আম্মি তুমিও…….
দিপ্তঃ কি তুমিও। তোর ঘটনাগুলো জিজুরে বলবো?
বিধানঃ হ্যাঁ! বলো! বলো!
বিথীঃ মুখ খুললে তোর কোন জায়গায় প্যাচ লাগাবো তা তুই খুব ভালো করে জানিস। ( চোখ রাঙিয়ে )
দিপ্তঃ আমি কি কিছু বলেছি বোন বল?
আব্বিঃ খাওয়ার টেবিলে এতো কথা নয়! ( মুখ টিপে হেসে )
বিধানঃ এখন না জানতে দিলে তো কি হয়েছে? আমিও বিধান চৌধুরী জেনেই ছাড়বো!
সকলের চোখের আড়ালে বিথীর কানে ফিসফিস করে বলে কানে আলতো চুমু দিলো। ফলে বিথী হৃদপিণ্ড জোরে জোরে পাম্প করতে লাগলো।
বিথীঃ শুধু উনি কাছে আসলেই এমন লাগে কেনো! উনার স্পর্শকে কেনো হাজার বছরের চেনা মনে হয়! উনার শরীরের গন্ধটা কেন এতো ভালো লাগে! কেনো উনাকে কোনো কিছুতেই না করতে পারিনা! (মনে মনে)
আব্বিঃ কিরে বিথী মা খাচ্ছিস না কেনো?
বিথীঃ হু__ম! খাচ্ছি তো আব্বি।
আম্মিঃ বিধান বাবা তুমি কিন্তু রাগ করে না। আসলে আজ রাঁধুনিটাও আসেনি আবার বিথী আগে বলেও নাই যে তুমি আসবে…….তাই আর কি একটু দেড়ি হয়ে গেলো খাবার দিতে।
বিথীঃ উনি কোথাকার প্রেসিডেন্ট যে রাজভোগ করতে হবে! (ভেঙচি কেটে)
আম্মিঃ বিথী! ( ধমক দিয়ে )
বিথীঃ আমি তো….
বিধানঃ আম্মু ও তো ঠিকই বলেছে আমি তো আপনাদের পরিবারেরই একজন। আপনজন। তাই এতো কিছু করার দরকার ছিলো না আর রাগ করা তো দূরের কথা।
আম্মিঃ লাখে একটা জামাই আমার!
,
,
,
তারপর কেউ আর কোনো কথা না বলে খাবার শেষ করে সবাই সোফায় বসলো কারণ আম্মি ডেজার্ট রান্না করেছে তাও বিথীর পছন্দের বাদামের বরফি এবং চকোলেট আইসক্রিম। বিথীও কিচেনে গিয়েছে আম্মিকে সাহায্য করতে।
বিধানঃ দিপ্ত চলো তোমাদের গার্ডেন থেকে হেঁটে আসি। একচুয়ালি আই নিড সাম ফ্রেশ এয়ার।
দিপ্তঃ এজ ইউ উইশ জিজু।
দিপ্ত আর বিধান বাগানে হাটতে হাটতে গল্প করছিলো ঠিক তখনই নীলাভ্র বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।
দিপ্ত নীলাভ্রকে দেখে শয়তানি হাসি দিলো।
দিপ্তঃ জিজু তোমার সতিন বাইরে যাচ্ছে।
বিধানঃ হোয়াট!
বলে দিপ্তের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকাতেই নীলাভ্রকে দেখতে পেলো। বিধান দিপ্তের কথা শুনে ও সামনে নীলাভ্রকে দেখে সাতশ সত্তর ভোল্টের শক খেলো। পরক্ষণেই রেগে গেলো।
বিধানঃ হোয়াট আর ইউ সেয়িং! ডু ইউ এভেন নো ইউর ওয়ার্ডস! (রেগে বলল)
দিপ্তঃ আরে জিজু কুল! তোমার কাইন্ড অফ সতিনই কারণ বিথীর সাথে বিয়ে বিয়ে হতে হতে হয়নি বেচারা নীল ভাইয়ার।
বিধানঃ মানে? ( ভ্রু কুচকে )
দিপ্তঃ তোমার আগে নীল ভাইয়ার সাথেই বিথীর বিয়ে ঠিক হয়েছিলো কারণ নীল ভাই বিথীকে অনেক পছন্দ করতো একপ্রকার ভালোই বাসতো বলা যায়। যখনই জানতো বিথী এ বাড়ি তখনই চলে আসতো কিন্তু বিথীর জন্য সব ভেস্তে গেলো।
বিধানঃ বিথী কি করেছিলো?
দিপ্তঃ যা তোমার সাথে বিয়ে হওয়ার সময় করেছিলো। বিথী বিয়েটা এতো তাড়াতাড়ি করতে চাইতো ও নাকি বিয়ের জন্য মেন্টাল্লি প্রিপেয়ার্ড না তাই সব ঠিক থাকলেও বিয়েটা আটকে গিয়েছিলো। যদিও সবাই অনেক চেষ্টা করেছিলো বিথীর মত পাল্টানোর কিন্তু বিথী তো বিথীই।
বিধানঃ তার মানে আমি বিথীকে ভুল করেছি। বিথী ইচ্ছে করে বা অহংকার করে আমাকে রিজেক্ট করেনি শি ওয়াজ নট রেডি ফর দিস! শিট না জেনেই আমার মায়াবীনিকে কতো কষ্ট দিলাম! ( মনে মনে)
দিপ্তঃ জিজু তুমি কি ভাবছো? জানো আমি একটা কথা ভাবছি।
বিধানঃ কিহ?
দিপ্তঃ ভাবছি বিথী যদি তখন বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যেতো তাহলে আজকে তোমার জায়গায় নীল ভাই আমার জিজু…….
বিধানঃ হয়নি তো হবেও না। বিথী শুধু বিধানেরই থাকবে। ( চোয়াল শক্ত করে)
দিপ্তঃ হুম। চলো ঘরে যাই অনেক্ষণ তো হলো।
বিধানঃ হুম।
বিধান ও দিপ্ত ভিতরে ঢুকে সোফায় বসেছে ঠিক তখনই আম্মি ও বিথী এসে পড়লো ডেজার্ট হাতে করে কিচেন থেকে আসে। বিথী বিধানকে আইসক্রিম দিয়ে যেই না চলে যাবে আম্মির সাথে বসতে বিধান বিথীকে হেচকা টান দিয়ে পাশে বসায় দেয়।
,
,
,
বিধানঃ ধীরে বিথী আমার পাশে তুমিই বসবে! এতো তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই!
দিপ্তঃ হ্যাঁ বোন তোর স্বামীরে কেউ নিয়ে যাবে না আস্তে। সোফা তো ভেঙ্গে যাবো!
বিথী এসব শুনে বিধানের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই বিধান একটা চোখ টিপ দেয় এবং সকলের আড়ালে ঠোঁটে কিস করার মতো করে দেখায়।
বিথীঃ শালা তো দেখি শুধু রাক্ষস না লুচুও।
বিধানঃ হ্যাঁ শুধু তোমার জন্য! ( ঠোঁট কামড়ে )
বিথীঃ উফফফ!
বিধানঃ আচ্ছা জীবনে তো কম সুন্দরিদের প্রপোজাল পাইনি। তারপরও এই সাদামাটা সাধারণ মেয়েকে দেখে এতো জোরে হার্ট বিট দেয় কেন! কেনো সারাদিনের ক্লান্তি এই চেহারাটা দেখলে কেটে যায়। সবসময় কেন এই সাধারণ মেয়েটার হারিয়ে যাওয়ার ভয় পাই! কেন মন চায় তআকে বুকের ভিতরে লুকিয়ে রাখতে যাতে কেউ না দেখতে পারে! কেন এমন হয় বলতে পারবে বিথী? তোমারও কি এমন হয়! তুমিও কি ভালোবাসো? জানি না জানতে চাইও না। আমি তোমাকে ভালোবাসি এটুক জানাই আমার জন্য যথেষ্ট।
মনে মনে এসব ভেবে বিথীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। ঠিক তখনই সদর দরজা দিয়ে নীলাভ্র ঢুকে।
আব্বিঃ কিরে নীল কোথায় গিয়েছিলি?
নীলাভ্রঃ ওই একটা পার্সেল ছিলো।
আব্বিঃ ওহ! এখন বস! খেয়ে নে।
নীলাভ্র বিথীর দিকে কিছুসময় তাকিয়ে দিপ্তের পাশে যেয়ে বসলো। বিধান যেনো দিপ্তের তাকানোতে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। বিথীর দিকে তাকিয়ে দেখলো বিথীর সেদিকে কোনো ধ্যান নেই। সে মাথা নিচু করে আইসক্রিম খাচ্ছে ডার্ক চকোলেট দিয়ে। বিধান মনে মনে হাসলো এটা দেখে বিথীর মাথায় ওড়না দিয়ে ঘোমটা দেয়া থাকায় ও বিথী মাথা নিচু করায় বিথীর মুখ পুরো ওড়নার আড়ালে। তাই বিধান বিথীর ওড়নাটা খুব যত্ন করে ঠিক করে দিলো যা দেখে সবাই মুচকি হাসছে।
বিধানঃ আস্তে আস্তে খাও তো পাখিটা কেউ নিয়ে যাবে না! ( মিষ্টি হেসে)
বিথিঃ হুমম! ( লজ্জায় মাথা নুয়ে)
বিধানঃ কি ব্যাপার বউটা লজ্জা পাচ্ছে কেনো? আল্লাহ আমি সবার সামনে ওকে সোনা বললাম! বললে বলছি আমারই তো বউ! (মনে মনে)
আব্বিঃ বিধান বাবা খাও গলে যাচ্ছে তো!
বিধানঃ হুম! ( বলে খেতে লাগলো)
চলবে,,,,,