আড়ালে ভালোবাসার সংসার

আড়ালে ভালোবাসার সংসার !! Part- 06

বিথীকে মিসেস চৌধুরী আরো দুটো খানদানি হার ও বাহুতে বাহুর ব্রেসলেট পড়িয়ে দিলো। দুই লহরের হার ও পেন্ডেন্টে বিথীকে দেখতে কোনো রাজ্যের রাজকন্যা লাগছিল, যার দেহভর্তী গহনে আর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যে সবাই মোহিত হয়।
মিসেস চৌধুরীঃ মাশাল্লাহ্! আমার মেয়েটাকে একদম পরী লাগছে! (কপালে চুম্বন করে)
বিথীঃ মামনি তুমি না বেশি বেশি বল! ( লজ্জা পেয়ে )
মিসেস চৌধুরীঃ নাহরে তোকে অনেক সুন্দর লাগছে। দাঁড়া কাজল লাগিয়েনি নাহলে নজর লেগে যাবে আমার মেয়েটার। ( বলে কানের নিচে নিজের চোখ থেকে কাজল নিয়ে লাগিয়ে নিল )
বিথীঃ ও এম জি! দ্য বিজনেস ওমেন বিন্তি চৌধুরী এসব কুসংস্কার বিশ্বাস করে! ( বলেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো )
মিসেস চৌধুরীঃ ফাজিল মেয়ে! মায়ের সাথে দুষ্টুমি!
,
,
শ্বাশুরি ও বউয়ের এই খুঁনশুটি বিধান মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছিলো। বিধান রেডি হয়ে ওয়াসরুম থেকে বের হতেই এই দৃশ্য চোখ পড়ছিল।
বিধানঃ আজ মেয়েটার অন্য রূপটাও দেখলাম। দেখতে যেমন মায়াবী ও দুষ্টু তেমনই মমতাময়ী ও দুষ্টু। ( মনে মনে )
বিধানের ধ্যান ভঙ্গ হলো মিসেস চৌধুরীর ঢুকে। বিধান আজ ডার্ক পার্পেল কালার ব্লেজার উইথ হোয়াইট শার্ট এন্ড প্যান্ড পড়েছে। আর সাথে ব্লাক শু। দেখতে পুরাই ক্রাস বয় লাগছে। চুলগুলোতে আজ একটু ডিফারেন্ট স্টাইল করেছে যার কারণে কিছু চুল সামনে এসে পড়ায় আরও কিউট লাগছে।
মিসেস চৌধুরীঃ মাশাল্লাহ্ বিধান! তোকেও অনেক সুন্দর লাগছে তবে বিথীর থেকে বেশি না।
বিধানঃ হুহ! তোমার এই মেলোড্রামা বন্ধ করো তো আম্মু! তোমার ন লেট হচ্ছিলো তো চলো এখন।(বিরক্তি নিয়ে )
মিসেস চৌধুরীঃ আচ্ছা চল! চল তাহলে!
,
,
তারপর দুজন সিড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় সব লাইট বন্ধ করে শুধু স্পট লাইট ফেলা হয় বিথী ও বিধানের উপর। সবাই বলাবলি করছে বিথী ও বিধানকে অনেক সুন্দর লাগছে। যা শুনে ইফতিকা রাগে ফেটে পড়ছে কারণ সে বিধানকে ছোট বেলা থেকে পছন্দ করে কিন্তু কখনো পাত্তা পায়নি। তাই অন্য কেউকে বিধানের জীবনে দেখে তার সহ্য হচ্ছে না।
বিধান ও বিথীর পাশে এসে মিসেস চৌধুরী দুজনকে আলতো করে হাগ করে মাইক হাতে নেয়।
মিসেস চৌধুরীঃ লেডিস এন্ড জেন্টালম্যান আই হোপ হোয়াই ইউ আর হেয়ার টুডে। টুডে ইজ এ ভেরি ইমপরটেন্ট ডে অফ মাই সন’স লাইফ। মাই লাইফ অলসো। ডু ইউ গাইস ওয়ান্ট টু নো হাউ?
মেহমানঃ ইয়েস!
মিসেস চৌধুরীঃ বিকজ মাই সন ইজ স্পেশাল টু মি দ্যাটস হোয়াই এভ্রি স্পেশাল মুমেন্ট অফ হিস লাইফ ইজ স্পেশাল। আই হোপ ইউ অল উইল ব্লেস বোথ অফ দ্যাম ফর দেয়ার নিউ ফিউচার। সো এভ্রিবডি ইঞ্জয় দ্যা পার্টি প্লিজ।
তারপর বিথী ও বিধান কে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের বসার জায়গায়। বিথী ক্ষণিকের জন্য বসতে পারলেও আর পারেনি কারণ একজনের পর একজন মেহমান আসছেই দেখা করতে। আর নতুন বউ বসে বসে তো কথা বলতে পারবা আর বারবার বসা ও দাঁড়ানোর থেকে একবারে দাঁড়িয়ে থাকাটাই শ্রেয় মনে করেছে। আজ বিথী ও বিধানকে এতোই সুন্দর লাগছে যে পার্টি থাকা সব ছেলেদের নজর বিথীর দিকে আর মেয়েদের নজর বিধানের দিকে।
,
,
তবে এদিকে বিথীর কোনো ধ্যান নেই সে তো সবার সাথে পরিচয় হওয়া নিয়ে ব্যাস্ত। তবে বিধানের খুব রাগ লাগছে সব ছেলেদের বিথীর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। অতিরিক্ত রেগে যায় তখন যখন বিধানের মেয়েবাজ কাজিন রুহান বিথীর সাথে ছবি তোলার বাহানায় ছবি তুলতে যায়।
রুহানঃ ভাবি আমি আপনার দেবর। বিধানের মামার ছেলে। ক্যান আই টেক আ পিকচার উইথ ইউ?
বিথীঃ ইয়াহ হোয়াই নট! ( মুচকি হেসে )
রুহানঃ থ্যাংকস।
তারপর রুহান ছবি তোলার বাহানায় বিথীর অতিরিক্ত কাছে যাওয়া চেষ্টা করে। বিথী এতে বিরক্ত হলেও কিছু বলতে পারছে না কারণ আমাদের সমাজে মেয়েদের মনে ছোট থেকেই ঢুকানো শ্বশুরবাড়ির প্রতি ভয়।
বিথীঃ উফ শালা উগান্ডার জলহস্তি কি ডলাডলি লাগায় দিসে! মন তো চাচ্ছে মাথা ফাটিয়ে দেই! নাহ বিথী ইউ হ্যাভ টু কন্ট্রোল! এটা তোর শ্বশুরবাড়ি! ( মনে মনে )
এদিকে এসব দেখে বিধান আর সামলাতে পারে না। বিথীর কাছে যেয়ে এক ঝটকায় তাকে নিজের বুকে নিয়ে আসে এদিকে এই ছবিটি ক্যমেরাবন্দী করে ফেলে ক্যামেরাম্যান। বিথী তো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনায় থ হয়ে যায়।
রুহানঃ কি হলো ভাই এমন করছো কেন? আমি তো জাস্ট ভাবির সাথে একটা সেলফি তুলছিলাম!
বিধানঃ অনেক হয়েছে সেলফি তোলা এখন এখান থেকে যা!
,
,
ক্যামেরামেনঃ ভাই সবাই তো ছবি তুলল শুধু আপনাদের ফটোসেশন বাকি তাহলে সেটা শেষ করি।
বিধানঃ কিন্তু…….
মিসেস চৌধুরীঃ কোনো কিন্তু না রাতের সাড়ে দশটা বাজে তোরা কখন ফটোসেশন করবি?
রূপঃ হ্যাঁ কোনো কিন্তু না তুলো!
বিধানঃ আচ্ছা পাকা বুড়ি! ( হেসে দিয়ে )
তারপর বিথী ও বিধান ক্যামেরামেনের কথা মতো অনেক স্টাইলে ছবি তুলল যদিও বিথীর অনেক লজ্জা লাগছিল কিছু পোজ নেয়ার সময়। কিন্তু ও একটু থামতেই বিধানের চাপা রাগী স্বর ভেসে আসায় খুব তাড়াতাড়িই ফটোসেশনের সমাপ্তি ঘটে।
,
,
তারপর বিধান ও বিথী ক্লান্ত হয়ে নিজেদের আসনে বসে কতক্ষণ রেস্ট নিতেই কানে ভেসে আসে একজন মেয়ে কণ্ঠ।
মেয়েটিঃ লেডিস এন্ড জেন্টালম্যান শহরের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচলারের বিয়ে বলে কথা! সো বর কনের একটা কাপেল ডান্স হলে জমবে বলেন!
সবাইঃ নাহ!
মেয়েটিঃ মিস্টার এন্ড মিসেস চৌধুরী প্লিজ টেক দ্য স্টেজ প্লিজ!
সবাইঃ ( বিথী ও বিধানকে চেয়ার আপ করতে লাগলো )
বাধ্য হয়ে বিধান বিথীকে নিয়ে ডান্স ফ্লোরে গেলো আর ডিজে কে তার বলা গানটি ছাড়তে বলল।
,
,
তেরা ইশক বাডা তিখা ( বিধান বিথীকে হেচকা টানে কাছে নিয়ে )
মুঝে তিখা আচ্ছা লাগে। ( বিথীর পিছনে ঘুরিয়ে জড়িয়ে ধরে নাচিয়ে )
তেরে ইশক মে দারদ বাডা ( বিথী বিধানকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে )
মুঝে দারদ আচ্ছা লাগে। ( বিধানের কলার ধরে নিজের কাছে এনে বুকে নাক ঘসে )
তেরা ইশক বাডা ঝুটা (বিধান বিথীকে নিয়ে বল ডান্স করতে)
মুঝে ঝুটা আচ্ছা লাগে।
…………………………………….. (গানটা স্কিপ করবেন না ইমাজিন করুন বিথী ও বিধানকে)

পুরোটা গানে দুজন এমন ভাবে লিপসিং করছিল ও এক্সপ্রেশন দিচ্ছিলো মনে হচ্ছি তাদের গানের প্রতিটি লিরিকস সত্যি সত্যিই একে অপরের জন্য বলা। বিধান এতোটাই বিভর হয়ে গিয়েছিল নাচে যে নাচের মাঝখানে মাঝখানে বারবার বিথীর গলায়, কপালে ও পিঠে চুমু দিচ্ছিলো। বিথীও ঘোরে চলে গিয়েছিল। সবার করতালির আওয়াজে ওদের হুশ আসে।

চলবে,,,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *