আমার ক্রাশ বর সিজন- 2 !! Part- 54
পরিস্থিতি যতোই বিপরীত দিকে চলতে থাকুক না কেনো! আরিয়ান সব পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে অানতে জানে।
আরিয়ান পরেরদিন সকালে নিজের ব্যাগ বস্তা নিয়ে সোজা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়।
অনুর বাবা মা তাদের জামাই কে এমন অবস্থায় দেখে একদম অবাক হয়ে যায়।
আরিয়ান তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে শ্বশুর আব্বা কে বলে,”আব্বা জান আপনি ভালো আছেন তো।জানি এমন পরিস্থিতি তে ভালো থাকা যায় না।তার পর ও ভাগ্যের উপর তো কারো হাত নেই একমাত্র আল্লাহ জানে কার ভাগ্যে কি লেখা আছে।”
অনুর মা বলে,”জ্বি বাবাজি তুমি ঠিক কথা বলেছো।সব কিছু আল্লাহ ভরসা।”
আরিয়ান আবারো বলে,”দেখেন জানি এটা খুব খারাপ সময় যাচ্ছে সবার জন্য।
রিমা ভাবী আমাদের সবাই কে ছেড়ে চলে গেছে।তার জন্য এখন দোয়া-দান এগুলো করতে হবে।মন খারাপ তো হবে যখনি তার কথা মনে পড়বে।তার জন্য তো আর সবার জীবন থেমে থাকবে না।আমাদের সবাই কে সময়ের সাথে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।এখন অনু প্রেগন্যান্ট এই অবস্থায় যদি বাড়ির পরিবেশ এমন খারাপ থাকে তাহলে ও আর আমার হবু বাচ্চার জন্য তা খুব খারাপ প্রভাব ফেলবে।এদিকে মিষ্টি ছোট একটা বাচ্চা মেয়ে।আপনাদের সবার উচিৎ ওর প্রতি বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখা।সে এই ছোট বয়সে তার মাকে হরিয়ে ফেলেছে।কেউ ইচ্ছা করলেও তার জীবনে মায়ের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না।
মায়ের মতো আর কেউ হতে পারে না।
তাই ওর অবুঝ মনে যেনো খারাপ কোনো দাগ না পড়ে সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে।”
আবির পেছন থেকে আরিয়ান কে উদ্দেশ্য করে বলে,”আমার মেয়ের জন্য তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।আমি আমার মেয়ের খেয়াল ঠিকমতো রাখতে পারবো।তাকে কি ভাবে বড় করতে হবে সেই চিন্তা না হয় শুধু একমাত্র আমার থাক।”
আরিয়ান বলে,”বড় ভাইয়া তা বললে কি হয় বলেন।মেয়েটা আমাদের সবার।তাই ওর জন্য চিন্তা তো দুই বাড়ির সব মানুষ মিলে করবে তাই নয় কি? ”
আবির বলে,”থাক সে সব কথা সাত সকালে এত ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছে ব্যাপারটা কি?”
আরিয়ান বলে,”আসলে আমার বউ বাচ্চা যেখানে আছে। আমারো তো সেখানে থাকার দরকার এখন তাই না।আমার বউয়ের এমন সময় তো একা ছেড়ে দিতে পারি না তাকে।
মানে তাকে ছাড়া একা থাকতে পারি না আরকি।”
আবির :-তারমানে তুমি এখানে আমাদের বাড়িতে থাকবে?
আরিয়ান বলে,”জ্বি আমার বউ যেখানে আছে।সেখানে আমি তার সাথে যতোদিন ইচ্ছা ঘর জামাই হয়ে থাকতে আসছি। যান শাশুড়ি মা জামাই এর জন্য রান্নাবাড়া শুরু করে দেন।
এই প্রথম জামাই শ্বশুরবাড়ি আসছে বলে কথা।”
অনুর মা বলে,”অবশ্যই আমার আরেক ছেলে আসছে বলে কথা।”
আরিয়ান বলে,”আম্মা তাড়াতাড়ি করবেন আমি নাস্তা করে অফিসে চলে যাবো সোজা।”
আবির বলে,”এই না বললে ঘরজামাই থাকতে আসছো তাহলে অফিসে কেনো? ”
আরিয়ান :-শ্বশুর বাড়ি ঘর জামাই থাকতে গেলেও টাকার দরকার।জামাই এর টাকা না থাকলে কোথাও কদর হয় না।
তাই নিজের কোম্পানি তো আর বউ বাচ্চার জন্য বানের জলে ভাসিয়ে দিতে পারি না।”
আবির :-এই না খুব বউ বাচ্চার চিন্তা?
আরিয়ান :-বউ বাচ্চার চিন্তা আছে বলে তো শ্বশুরবাড়ি আসছি।অফিসের সব কর্মচারী গুলোও তো আমার বাচ্চার মতো।
আমার বিলাসিতার জন্য তো তাদের কষ্ট দিতে পারি না।”
আবির আর কিছু না বলে বাহিরে চলে যায়।
এদিকে অনু নিচে এসে আরিয়ান কে দেখে বলে,”এই তুমি সাত সকালে আমাদের বাড়িতে তোমার বেপার কি বলো তো? ”
আরিয়ান অনুর একদম কাছে এসে বলে,”মিষ্টি বউ আমার।আমি আমার বউ আর বাচ্চার থেকে দূরে থাকতে পারছি না তাই বউয়ের সাথে শ্বশুরবাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ”
অনু বলে,”তুমি যে ঘর জামাই থাকতে আসো নাই তা আমি খুব ভালো করে জানি।
তবে তুমি এসে ভালো কাজ করছো।
আমরা তিন জন একসাথে থাকতে পারবো।”
আরিয়ান আশেপাশে তাকিয়ে বলে,”এখানে তো দুইজন তাহলে তৃতীয় জন কোথায়? ”
অনু আরিয়ানের কান টেনে ধরে নিজের পেটের দিকে ইশারা করে বলে,”তৃতীয় জন এখানে আমার পেটের মধ্যে আছে।”
মিষ্টি এসে বলে,”ফুপি তুমি ফুপার কান ধরে টানছিলে?”
অনু বলে,”জ্বি মামুনি বড় কেউ ভুল করলে তার কান ধরে টানতে আছে।ভুল তো ভুলি তাই না?”
মিষ্টি বলে,”হুম তাই তো।”
আরিয়ান মিষ্টি কে কোলে করে নিজের সাথে বসিয়ে ব্রেকফাস্ট করে।
তারপর মিষ্টি কে রেখে আরিয়ান অফিসে চলে যায়।।
আরিয়ান অফিসের কাজ শেষ করে সোজা অনুদের বাড়িতে চলে আসে।
এবাড়িতে এসে আরিয়ান শ্বশুর,শ্বাশুড়ি,মিষ্টি অনুকে নিয়ে বেশ মজাতে দিন পার করতে থাকে।
কিন্তু আবির এসব কিছু থেকে দূরে থাকে।
আবির বেশ ভালো করে বুঝতে পারছে আরিয়ান এইভাবে এইবাড়িতে শুধু মাত্র অনু আর ওদের বাচ্চার জন্য অাছে।
একদিন সকালে আবির ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সবাই কে নিজে ড্রয়িংরুমে ডাক দেয়।
সবাই সকালে নিচে এসে দেখে আবির মিষ্টিকে কোলে নিয়ে সোফাসেটের উপর বসে আসে।
অনু বলে,”সাত সকালে সবাইকে এভাবে ডেকেছ কেনো ভাইয়া? ”
আবির বলে,”আমি চাই তুই আজকে আরিয়ানের সাথে তোর শ্বশুরবাড়ি ফিরে যা।”
অনু বলে,”আমি চলে গেলে মিষ্টিকে কে দেখবে?”
আবির বলে,”তোর এখন বিয়ে হয়ে গেছে।কিছুদিন পর বাচ্চা হবে।তুই তো আর সারাজীবন এ বাড়িতে থাকতে পারবি না।
তাই বেশিদিন আর এখানে থেকে মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই।আমরা সবাই আছি মিষ্টির খেয়াল রাখার জন্য তোরা চিন্তা করিস না।”
এরপর অনু আরিয়ান চলে যায় নিজেদের বাড়িতে।
ওখানে গিয়ে দেখে বাড়ির পরিবেশ একদম বদলে গেছে।
রিদি রাজ সবাই ওদের বাড়িতে ফিরে গেছে।
এখন এ বাড়িতে রিমি আর অনু শুধু বউ।
তবে মাঝে মাঝে রাজ রিদি বেড়াতে আসে।
অনুর এবাড়িতে আসার পর থেকে সবাই অনুর খুব বেশি খেয়াল রাখে।কেউ অনুকে কোনো কাজ করতে দেয় না।
এমনকি মৌ এবাড়িতে চলে আসছে যতোদিন না অনুর বাচ্চা হবে ততোদিন অনুর খেয়াল রাখবে সে।
দাদী মা তো অনুকে সারাদিন নানারকম খাবার খাওয়াতে থাকে।এটা বাচ্চার জন্য ভালো হবে ওটা বাচ্চার জন্য ভালো হবে।
আরিয়ান মাঝে মাঝে অফিস থেকে আসার সময় মিষ্টিকে সাথে করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
একদিন হঠাৎ করে মিষ্টির খুব জ্বর আসে।
ছোট মেয়েটা একদম নিস্তেজ হয়ে যায় জ্বরে।
রিমি আর অনু মিষ্টিকে নিয়ে খুব চিন্তায় পড়ে যায়।
এদিকে বাড়ির কেউ অনুকে সারারাত জেগে মিষ্টির কাছে থাকতে দিবে না।অনু মিষ্টিকে ছাড়া থাকবে না।
মৌ এসে বলে, “ভাবি তুমি যাও আমি মিষ্টির খেয়াল রাখবো।তুমি নিজের আর হবু বেবির খেয়াল রাখো।তোমার এমন সময় রাত জাগা ঠিক হবে না।”
রিমি বলে,”অনু তুমি যাও আমি আর আয়াত ও আছি তো না কি? মিষ্টি কিন্তু আমার বোনের মেয়ে।ওর প্রতি ভালবাসা আমার কিন্তু একটু কম নেই।”
অনু আর কিছু না বলে নিজের রুমে চলে যায়।
এদিকে পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এসে দেখে মিষ্টি মৌ কে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।তার পাশে রিমি ঘুমিয়ে আছে।
মিষ্টি ঘুম থেকে উঠে অনুকে দেখে বলে,”অনু মা তুমি আমাকে একটু কোলে করে বাথরুমে নিয়ে যাবে আমার ভালো লাগছে না।”
অনু মিষ্টি কে কোলে নিতে যাবে এমন সময় অনুর পেটে হালকা ব্যাথা করে ওঠে।তাতে অনু আহহ বলে চিৎকার করে।
অনুর চিৎকার শুনে রিমি উঠে বলে,”কি রে তোর কি হলো? ”
মিষ্টি বলে,”অনু মা আমাকে কোলে নিতে গিয়েছিল তার পেটে ব্যাথা করছে।”
রিমি বলে,”তুমি অনুর কোলে কেনো উঠতে গিয়েছিলে?জানো না অনু মা’র বাবু হবে।
ওমন উঁচু পেট নিয়ে তোমাকে কি করে কোলে নিবে? ”
মৌ উঠে সবটা শুনে বলে,”বাচ্চা মেয়ে এতো কিছু কি বোঝে ও।সারারাত জ্বর ছিল মেয়েটার তাই হয়তে ভাল লাগছিলনা কোলে উঠতে চেয়েছে তাই বলে,মিষ্টি কে কোলে নিয়ে মৌ চলে যায়।”
রিমি অনুকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে যাবে এমন সময় আরিয়ান এসে অনুকে কোলে কোরে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে নিজের সাথে করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
হাসপাতালে আসার পর রিমি অনুর পেটে আল্ট্রা করে বলে,”আরে অনু অভিনন্দন তোকে তুই দুই বাচ্চার মা হবি ভাবা যায়।”
আরিয়ান অনুকে জড়িয়ে ধরে বলে,”বাহ দুইটা বেবি ভাবা যায়।”
রিমি বলে,”চিন্তার কোনোকিছু নেই এ সময় এমন ব্যাথা হতেই পারে এতে ভয় পাবার মতো কিছু নেই।”
এরপর ওরা সবাই বাড়িতে এসে সবাইকে এই ডাবোল খুশির খবর দেয়।
দুই বাড়ির সবাই তো খুব খুশি অনুর দুইটা বাচ্চা হবে বলে কথা।
এদিকে আরিয়ান আর রাজ ভাবতে বসেছে তাদের দুইটা বাচ্চা হবে।
বাচ্চার নাম ঠিক করতে হবে কি নাম রাখা যায় ওদের।
রিদি এসে বলে,”বাচ্চার বাবা আর চাচা তোমরা।
তাই বাচ্চার সুন্দর দুইটা নাম রাখার দায়িত্ব তোমাদের। ”
রাজ বলে,”বাচ্চার খালাদের বুঝি দায়িত্ব নেই? ”
রিদি বলে,”আছে তো তোমাদের বাশ দেওয়া আর বাচ্চা কে লালন পালন করা😁
বলে দৌড়ে পালিয়ে চলে যায়।”
(কালকে গল্পের অন্তিম পর্ব লিখবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা অনেকদিন গল্পটা পরেছেন। আশা করবো শেষ পর্যন্ত সাথে থাকবেন গল্পের সমাপ্তি দেখবার জন্য। 😊)
‘
‘
‘
চলবে…..