আমার ক্রাশ বর

আমার ক্রাশ বর সিজন- 2 !! Part- 49

অনু মনের মাঝে হাজার প্রশ্নের সমাপ্তি করে সোজা রুবির বরের কাছে যায় তার কি কাজ তা বুঝে নিতে।
ম্যানেজার সাহেব অনুকে কোনো পারসোনাল প্রশ্ন না করে সরল মনে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চলে যায়।
অনু ম্যানেজার সাহেবের সাথে কিছু সময় কথা বলে বুঝতে পারে সে খুব ভাল মনের মানুষ তবে তার বউ যে কতোটা ভাল তা হয়তো সে জানে না।
আর তাদের সুখের ঘরে পুরাতন কথার জাল বিছিয়ে দিয়ে ঘুণপোকার ঘর বানিয়ে কারো সংসার অনু নষ্ট করতে চাই না।
অনু সাত পাঁচ না ভেবে এক মনে কাজ করতে থাকে এর মাঝে আরিয়ান অনুকে ফোন করে ওর কেবিনে আসতে বলে।
অনু আরিয়ানের কেবিনে এসে দেখে রুবি আরিয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে তাকে দেখে মিটমিট করে হাসছে।
অনু আরিয়ান কে বলে,”আমাকে ডাকার কারণ কি জানতে পারি? ”
রুবি বলে,”স্যার দেখেন মিস অনু কি ভাবে আপনার সাথে কথা বলছে।অফিসের বসের সাথে কেউ এমন ভাবে কথা বলে আমার জানা ছিলো না। ”
আরিয়ান বলে,”মিস অনু এটা অফিস! আর আমি আপনার বিএফ নই যে এই ভাবে কথা বলবেন। ”
অনু বলে,”্জ্বি স্যার ভুল হয়ে গেছে মাফ করবেন। আমাকে ডেকেছেন স্যার।”
রুবি বলে,”বস ডাক দিয়েছে যখন,তখন কারণ ছাড়া তো অবশ্যই ডাক দেয়নি তাই না? ”
আরিয়ান অনুর সামনে একটা ফাইল ছুড়ে দিয়ে বলে,”এই ফাইল টা তুমি কমপ্লিট করেছো তাই না?”
অনু বলে,”হয়তো শিউর না।”

আরিয়ান বলে,”দেখো ফাইলের ভেতরে কতো ভুল।একটা ফাইলের পেজ যদি ঠিক থাকে কি সব উল্টা পাল্টা।”
অনু ফাইলটা হাতে নিয়ে দেখে সে একটু আগে এই ফাইল সংশোধন করে ম্যানেজার সাহেবের কাছে দিয়েছে। তার মানে এই সব ম্যানেজার সাহেব করেছে।এই রুবির বর যে রুবির মতো শয়তান হবে তা আমার আগে বোঝা উচিৎ ছিলো।অনু মনে মনে ভাবতে থাকে।
আরিয়ান বলে,”মিস অনু অফিসের দরকারি কোনো কাজে এমন গাফিলতি দ্বিতীয়বার একদম মেনে নেওয়া হবে না এই বলে দিচ্ছি। ”
এমন সময় আরিয়ানের কেবিনে নক করে রুবির বর প্রবেশ করে।
আরিয়ান বলে,”আপনার কিছু বলার আছে ম্যানেজার সাহেব? ”
ম্যানেজার সাহেব বলেন,”স্যার একটা মিস্টেক করে ভুল ফাইল এখানে এসেছে তাই সঠিক ফাইল দিতে এসেছি আমি।
তাই বলে অনুর সংশোধিত করা ফাইল আরিয়ানের হাতে তুলে দেয়।”
আরিয়ান বলে, “এটা তো একদম ঠিকঠাক আমার দরকারি ফাইল যেটা আমি চাইছিলাম।”
ম্যানেজার সাহেব বলে,”সরি স্যার অনু আমার কাছে সঠিক ফাইল দিয়েছিল।
কিন্তু আমি ভুল করে ভুল ফাইল রুবিকে দিয়েছি। মাফ করবেন স্যার আমার জন্য এখানে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।”
আরিয়ান বলে,”না সমস্যা নেই এখন আপনারা সবাই আসতে পারেন।”
ম্যানেজার চলে যায়,রুবি যাবার সময় অনুকে বলে,”এই যে মিস অনু এখানে এভাবে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে? নিজের ডেক্সটপে গিয়ে কাজে মন দাও।”
অনু আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। সে একমনে কাজ করছে।কেউ দেখে বলবে না তার সামনে দুইটা সুন্দরি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।
অনু মনে মনে বলে,”এতো স্বাদের কপাল আমার কি আর বলবো।আমার স্বাদের ক্রাশ বরের এই অবস্থা বউয়ের সাথে কোনো রোমান্স নাই।আচ্ছা বিয়ের পর কি সবাই বদলে যায় এটাই কি প্রকৃতির নিয়ম? ”

সামনে থেকে আরিয়ান জোড়ে করে বলে,”এই যে মিস অনু এখানে এভাবে খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে জান নিজের কাজ কমপ্লিট করে বাড়িতে যাবার পিপারেশন নিন।”
অনু আর কথা না বলে সেখানে থেকে হনহন করে বাহিরে চলে আসে।
অনু চলে যাবার পর আরিয়ান খিলখিল করে হেসে ওঠে।নিজেকে নিজে বলে,”আমার পাগলি বউটা অভিমান করেছে আমার উপর।
কিন্তু সে এটা বুঝতে চাইছে না আমি যদি তার ভুলের উপর আঙ্গুল না তুলি তাহলে
সে নিজের ভুল বুঝবে কি করে।
আবার অনুকে যদি ছাড় দেয় তাহলে সাধারণ কর্মচারীদের সবাই কে ছাড় দিতে হবে।
একি কাজের স্থানে আমি সবাই কে সমান চোখে দেখতে চাই।অনু আমার বউ এটা পারসোনাল তবে কাজের সময় সেও কর্মচারী।
আবার যখন আমার দরকার তখন সময় বুঝে সে আমার বউয়ের ভূমিকা পালন করবে।”
এদিকে অফিসের সময় শেষে অনু আরিয়ানের জন্য অপেক্ষা না করে সোজা হনহন করে হেটে অফিসের বাহিরে চলে আসে।
আরিয়ান তা নিজের কেবিনের জানালা দিয়ে দেখতে পেয়ে তাড়াতাড়ি নিজে এসে গাড়ি নিয়ে সোজা অনুর সামনে গিয়ে থামে।
অনু পাশ কাটিয়ে চলে যেতে যায় কিন্তু আরিয়ান বলে ওঠে,”চৌধুরী বাড়ির বউ যে চাকুরী করতে এসে অফিসের বাহিরে নিজের বর কে চিনতে পারবে না এমনটা কিন্তু কোথাও বলা নেই? ”
অনু আর কথা না বলে সোজা আরিয়ানের পাশের সিটে চুপচাপ বসে পড়ে।
আরিয়ান মনের সুখে গাড়ি ড্রাইভ করতে থাকে।অনুর মুখে কোন কথা নেই।তা দেখে আরিয়ান বাড়ির পথে গাড়ি না চালিয়ে অন্য পথে গাড়ি ঘুরিয়ে নেই।কিন্তু তাতে অনুর কোনো মতামত নেই।

আরিয়ান গাড়িটা শহর থেকে অনেক দূরে একটা আইসক্রিমের দোকানের সামনে এসে থামে।
আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমে অনুর হাত ধরে তাকে টেনে নামিয়ে আইসক্রিমের দোকানের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।
অনু মুখ গোমরা করে দাঁড়িয়ে থাকে।আরিয়ান অনুকে নানারকম আইটেম এর চকলেট আইসক্রিম খাওয়াই দিতে থাকে নিজের হাতে।অনু ছোট বাচ্চাদের মতো চুপচাপ মজা করে আইসক্রিম খেতে থাকে।খাওয়া দাওয়া শেষে অনু আরিয়ান গাড়ি রেখে দুজন দুজনার হাত ধরে অন্ধকার রাস্তার ধরে হাটতে থাকে।
আরিয়ান অনেকটা দূরে এসে বলে,”অনু প্লিজ অফিসের রুড ব্যবহারের জন্য তুমি আমার উপর রাগ করবে না।কারণ সেখানে তুমি সহ সবাই আমার কাছে সমান আমি সবার সাথে ভেদাভেদ করতে চাই না।”
অনু বলে,”আচ্ছা ঠিক আছে অফিসের কোনো কথা আমরা বাড়িতে বলবো না।
কিন্তু এখন এই রোমান্টিক সময় তুমি অফিসের নাম আর বলো না।”
আরিয়ান অনুকে জড়িয়ে ধরে ওর কপালে একটা চুমা দিয়ে দেয়।
তারপর দুজনে একটু রাতের অন্ধকারের ঘুরাঘুরি করে বাড়িতে অনেক রাত করে ফিরে আসে।
এরপর দুজন ফ্রেশ হয়ে দুজন দুজনার মাঝে মিলিয়ে ঘুমিয়ে যায়।
সকালে অনু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সবার জন্য নাস্তা রেডি করে।
রুমে এসে আরিয়ান কে ঘুম থেকে ডেকে উঠিয়ে বাথরুমে ঠেলে পাঠিয়ে দেয়।
আরিয়ান ফ্রেশ হয়ে এসে অনুর সাথে দুষ্টুমি করতে শুরে করে এমন সময় আরিয়ানের ফোনে রিংটোন বেজে ওঠে।
আরিয়ান ফোরের স্কিনে তাকিয়ে বলে,”দেখো অনু তোমার বড় ভাইটা কেমন আমার রোমান্টিক সময়ের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।”
অনু বলে,”আরিয়ান একদম দুষ্টামি না,কল রিসিভ করে দেখো ভাইয়া কি বলে।”
অারিয়ান ফোন রিসিভ করে স্পিকারে দিয়ে দেয়।

অপাশ থেকে আবির বলে,”আরিয়ান তোমার আশেপাশে অনু আছে? ”
অারিয়ান বলে,”জ্বি ভাইয়া ফোন স্পিকারে আছে বলেন অনু সব কথা শুনতে পারবে।”
আবির বলে,”অনু তো আমাদের খোঁজ খবর নেওয়া ভুলে গেছে তারপর ও আমি ভাই হয়ে তো বোনকে ভুলতে পারি না।”
অনু বলে,”ভাইয়া প্লিজ এভাবে বলো না।
খুব ব্যস্ত তার জন্য ফোন দেওয়া হয়ে ওঠে না।”
আবির বলে,”থাক কাজের এক্সকিউজ আমাকে দিতে হবে না।যা বলার জন্য ফোন করেছি আমি।
তুই আবার ফুপি হবি এটা বলার জন্য।”

অনু জোড়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে আরিয়ান কে জড়িয়ে ধরে বলে,”আমি আবারো ফুপি হবো ভাবা যায় এই কথা।এটা তে সব থেকে বেশি বড় আনন্দের খবর।”
আবির বলে,”আজ আমি না বললে হয়তো কিছুদিন পর বাচ্চা ডেলিভারি হবার পর জানতে পাড়তিস। ”
অনু বলে,”এতো দিন হয়ে গেছে কেউ আমাকে এই কথাটা বলার প্রয়োজন মনে করো নাই?
আবির বলে,”তুই ও তো বিয়ের পর আমাদের পর করে দিয়েছিস।এতো গুলো দিন মাস পাড় হয়ে গেছে না মা,বাবা,রিমা,মিষ্টি কারো কেনো খবর তুই রাখিস না।তাদের তুই ভুলে গিয়েছিস তাই তারাও তোকে ভুলে গেছে হিসার সমান সমান।”
আরিয়ান বলে,”সামনে শুক্রবার যাবো আমরা ঐ বাড়িতে চিন্তা করবেন না।”
আবির বলে,”আচ্ছা দেখা যাবে জামাই শ্বশুরবাড়ির কথা মনে রাখে কি না।
বলে ফোন রেখে দেই।”
আরিয়ান অনুকে বলে,”তুমি এই কাজ টা একদম ঠিক করো নাই।বাড়ির মানুষদের সাথে যোগাযোগ করা বাদ দিয়ে দিয়েছ। ”
অনু বলে,”সরি ভুল হয়ে গেছে।আমি আমার ক্রাশ বর কে পেয়ে বাকি সবাই কে ভুলে গেছি।”
আরিয়ান বলে,”তোমরা মেয়েরা ভুলে যাবে আর যতো দোষ আমাদের মতো নিরপরাধ বেচারা বরদের হয়।”
এরপর অনু এই খুশির খবরটা বাড়ির সবাই কে। তাদের বাড়ির সবাই তো অনেক খুশি হয় এই কথা শুনে।
দাদী মা বলে,”নাতবউ তুমি খুশির খবর কবে শোনাবে গো আমাদের? ”
অনু বলে “আল্লাহ পাক যেদিন চাইবে সেদিন শোনাবো ইনশাআল্লাহ। ”
এরপর ওরা সবাই যার যার মতো অফিসের জন্য বাড়ির বাহিরে বেড়িয়ে যায়।
অনু আরিয়ানের সাথে অফিসে চলে যায়।
(ভুল এুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই)




চলবে……