1. নতুন গল্পঃ3. রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প গুলোঃলেখাঃ মস্ত লিজাসেলিব্রেটি স্বামী

সেলিব্রেটি স্বামী 2 !! Season- 02 !! লেখাঃ মস্ত লিজা

সেলিব্রেটি স্বামী 2

🍁
সুপারস্টার আহান খান আচমকা আমাকে নিজের কোলে তুলে নিলেন।এতো এতো মানুষের ভীরে আমাকেই উনার চোখে পড়তে হলো? আমাকে তো উনি দেখেনও নি। তাহলে এমনটা কেন করলেন? আমি দাপাচ্ছি, ঝাপাচ্ছি যেভাবেই হোক উনার কোল থেকে আমাকে নামতেই হবে।উনি আমায় এক ধমক দিয়ে চোখ পাকিয়ে বললেন,
-আর একটুও নড়াচড়া করলে এক আছাড় দিয়ে নিচে ফেলে দেবো তোমায়।
উনার মুখে এমন কথা শুনে আমি একদম স্তব্ধ হয়ে রইলাম।কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না আমি।আমার এখন সত্যি খুব কান্না পাচ্ছে।নেকাবের উপরের পাতলা পার্টটা উঠিয়ে উনার চোখে চোখ পরতেই নিচে নামিয়ে নিলাম নিজের চোখ জোড়া।উনি আমার কপালে কপাল ঠেকিয়ে দাড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ।উনার শত শত ফেন চারিদিকে মৌচাকের মতো ভনভন করছে।গার্ডরা কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছেন না তাদের।কেউ কেউ তো লাইভ ভিডিও বানিয়ে চলেছেন।না যানি এই ভিডিও কতদূর যাবে।ব্যাপারটা জানাজানি হলে মা নির্ঘাত আমাকে মেরে ফেলবে।
🍁
আমি আরিশা জান্নাত।বয়স ১৯।অনার্স ১ম বর্ষে উঠেছি।ভার্সিটির প্রথম দিন তাড়াহুড়া করে পৌঁছাতে গিয়ে রাস্তার মধ্যে অনেক ভীর দেখতে পেলাম। মাত্র দু’মিনিটেরই পথ ছিলো।রিক্সা এখান থেকে আর যাবে না বলেছে।শুনেছি এখানে শুটিং চলছে।এতোদূর এসে কলেজে না গিয়ে ফিরে যাবো? কিছুতেই না। ভাবলাম কোনো এক কোণ ঘেঁষে চুপিচুপি সকলের চোখ এড়িয়ে চলে যাবো।কিন্তু তা আর হলো না।ধরা পরে গেলাম আমি।তারপর আমাকে সকলে ধরতে চেস্টা করলো।আমি ছুটলাম।ছুটতে ছুটতে ফিল্মের হিরোইনের কাছে চলে আসলাম।গরম চা মুখে দিচ্ছিলো সে।আমার ধাক্কা লেগে গরম চা তার সারাটা মুখে ছিটকে পরলো। চিৎকার জুড়ে দিয়ে উঠলো সে।তার চিৎকারে ভীর ভাট্টা ঠেলে যেখানে যতো ফেন আছে তার সব চলে এলো।ছয়জন গার্ড গোল হয়ে ঘিরে রাখলো তাকে।আমি পিছনে দু’পা আগাতেই কারও সাথে ধাক্কা লাগলো আমার।তাকে না দেখেই বিরবির করে বললাম,
-আমাকে একটু এখান থেকে পালাতে সাহায্যে করবেন?
সে আমাকে টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলেন।তার মুখটা দেখে চমকে উঠলাম আমি।সে আর কেউ নয়। সুপারস্টার আহান খান।কোথায় আর পালাবো আমি? ছুটতে যাবো হাতটাই টেনে ধরলেন সে।আমি মোচড়ানো শুরু করলাম।সে আমার গালে বসিয়ে দিলেন এক চড়! আমার হাতটা শক্ত করে টেনে ধরে বললেন,
-তোমাকে পুলিশে দেবো।
তার এসিস্টেন্ট নাইরাকে উচ্চস্বরে ডেকে উঠে বললেন,
-নাইরা এক্ষুনি পুলিশে ফোন লাগাও।
নাইরা জ্বি স্যার বলে কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে উল্টো দিকে ছুটলো।এমন সময় আকাশে মেঘের গর্জন ডেকে উঠলো।আমি ভয় পেয়ে উনার ঘাড়ে এক হাতে খামচে ধরলাম।উনি আউচ করে উঠলেন। আমি ছরি বলে ফেলফেলিয়ে কেঁদে দিলাম।সেটা দেখে আমাকে শান্ত করতে চাইলেন উনি।আমার কান্নার বেগ আরও বাড়তে লাগলো।পাশ থেকে একজনকে ট্যিসু পেপার আনতে বললেন।ট্যিসু পেপার এনে দিলে আমার সামনে ধরে বললেন উনি চোখের পানি মুছে নিতে।আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম,
-পর্দা নস্ট হয়ে যাবে আমার।চোখের পানি মোছার দরকার নেয়। আমাকে ছেড়ে দিন তাহলেই কান্না থেমে যাবে।
উনি আমার হাতটা ছেড়ে দিতেই নাইরা পেছন থেকে চিৎকার করে বলে উঠলো,
-কি করলেন কি স্যার? এমন সাজ, পোশাকে জঙ্গি, রোহিঙ্গারা ঘুরে বেড়ায়।আমার তো মনে হচ্ছে, নিশ্চয় স্নিগ্ধা ম্যামের শত্রু পাঠিয়েছেন ওকে। না হলে স্নিগ্ধা ম্যামের মুখে গরম চা ঢালবে কেন?
নাইরার কথা শুনে উনি আমার হাতটা আবার ধরো বসলেন।আমি আমতা আমতা করে বললাম উনাকে,
-দদেখুন আআমি ক কোন রোহিঙ্গা নই, জঙ্গিও নই।আমি ভার্সিটি যাচ্ছিলাম।আধা ঘন্টার পথ বাড়ি থেকে এসেছি।রিক্সা ভাড়া ৮০টাকা।এমন রাস্তায় ইজি বাইকও চলে না।আপনিই বলুন এতো টাকা দিয়ে এসে একটাও ক্লাস না করে চলে যাবো? টাকাগুলো নস্ট হবে না? আমার বাবা বলেন এক টাকা উপার্জন করে খরচ করে দেখও কেমন লাগে।এভাবে তো বাবার টাকা নস্ট করতে পারি না আমি।হাসরের দিন এক একটা টাকারও হিসাব দেওয়া লাগবে।তাই ভাবলাম আমি…
আমার কথা শেষ হতে না দিয়ে উনি বলে উঠলেন,
-তাই তুমি এভাবে শুটিং এর ভেতরে ঢুকে পরবে? আর তুমি যা বলছো সেটা বিশ্বাস করবো কিভাবে?
আমি নিজের স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দেখিয়ে বললাম,
-এইযে দেখুন আমি ইনোসেন্ট তার প্রমাণ।
কথাটা বলতে আমার গালে পরলো এক চড়! আমি অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম উনার দিকে। উনি আমায় টেনে ঝাকিয়ে ঝাকিয়ে বললেন,
-ইনোসেন্ট তুমি? কোনো ইনোসেন্ট মেয়ে এমনটা করে? আমি সুপারস্টার আহান খান। আমার এক একটা দিনের কতো মূল্যে সেটা কি জানো তুমি? আজকের দিনটাই তুমি নস্ট করে দিয়েছো।কিভাবে পালাও তুমি এখান থেকে সেটা আমি দেখে ছাড়বো।
গলা উচিয়ে নাইরাকে ডেকে বললেন উনি,
-নাইরা পুলিশকে আসতে বারণ করো।ওকে জেলে দেবো না।
কথাটা শুনে মনের ভেতরটাই আমার প্রশান্তি ফিরে এলো।আমি একটা স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লে বলে উঠলেন উনি,
-একে আমি নিজে শাস্তি দেবো।
আমি কেঁপে উঠে তাকালাম উনার দিকে। উনার কথার অর্থ বুঝতে চেস্টা করলাম।কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে কোলে তুলে নিলেন উনি।আমার কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললেন,
-এই ফিল্মের হিরোইন হবে মিছ: আমাকে ঝাঁকালেন, আবার বললেন মিছ:
আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে দিলেন এক ধমক।ধমকানো স্বরে বলে উঠলেন,
-নাম কি তোমার?
আমি ভয়ে ভয়ে কাঁপা কাঁপা গলার কন্ঠস্বরের বললাম,
-আরিশা জান্নাত।
উনি এবার চিৎকার করে বললেন,
-আমার এই ফিল্মের হিরোইন হবে আরিশা জান্নাত।আর আজই প্রথম শুটিংটা হবে।মিডিয়ায় জানিয়ে দাও ব্যাপারটা।সাথে হিরোইনের কয়েকটা ছবিও দেখিয়ে দিও।
কথা শেষ করে আমাকে কোল থেকে নামালেন উনি।আমি নিজেকে সামলে দাড়ানোর আগেই মেকাপ ম্যানের দল বল এসে হাজির।সব পরপুরুষ। আমি দেখে অবাক। এরা সাজায় হিরোইনদের? মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলাম।যখনই আমাকে ওরা ধরতে যাবে ঠিক তখনই নিচের থেকে এক মুঠো ধূলো উঠিয়ে সকলের মুখে মেরে দিয়ে দিলাম এক ছুট।
চলবে,,,,

বিঃ দ্রঃ নিচে Next >> ক্লিক করলে পরবর্তী পর্ব পাবেন..!

বিঃ দ্রঃ ” লেখাঃ মস্ত লিজা ” লেখকের লেখা অন্য গল্প গুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন !!

👉আমাদের ফেসবুক পেজ

সেলিব্রেটি স্বামী 2 সেলিব্রেটি স্বামী 2 সেলিব্রেটি স্বামী 2 সেলিব্রেটি স্বামী 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *