বস বয়ফ্রেন্ড ! season-3

বস বয়ফ্রেন্ড ! season-3 পর্ব- ০৫

রাতে হঠাত শব্দে ঘুম ভেংগে গেল ।
কিরে কিসের আওয়াজ।
এমন পেত্নী মারকা হাসি কে হাসছে? দরজা
খুলে লাইট জালালাম।

আওয়াজ টা অই দিক থেকে আসছে মনে
হচ্ছে।
তারার রুমে দিকে গেলাম। হাসি তো তারার
রুম থেকে আসছে। নক করলাম।

তারা- এত রাতে কে? ?
কোন বিপদ হল না তো মামনির?

দরজা খুললাম।
আপনি?

মেঘ – এমন পেত্নী মারকা হাসি তুমি
হাসছিলে?

তারা- পেত্নী।
আমি পেত্নী র মত হাসি?

মেঘ – তা নয় তো কি?
সরো সরো।
রুমে ঢুকে দেখি ল্যাপটপ এ তারা মুভি
দেখছে।
তুমি মুভি দেখ ভাল কথা কিন্তু মানুষ এর
ঘুমের ডিস্টার্ব করছ কেন?? ।
দাড়াও মুভি দেখা বের করছি। বলে ল্যাপটপ
টা নিয়ে নিজের রুমে গেলাম। ।
তারা- আমিও পিছে পিছে গেলাম, আচ্ছা
আর দেখবনা প্লিজ দিয়ে দিন। ঠাস করে
দরজাটা আমার মুখের উপর দিয়ে দিল।কত বড়
সাহস।
দাড়াও সকাল হক মামনি কে বলে দিব।
এএএএএএ।আমার ল্যাপটপ।।

শরীরের সব শক্তি দিয়ে ইচ্ছা মত দরজা
লাথি, ঘুষা সব দিলাম।
শয়তান, হারামজাদা দরজা ও খুলে না।
হুহ।
দরজার দিকে পিঠ দিয়ে দাড়ালাম।
নিজের সাথে বক বক করছিলাম।
(পরক্ষনেই মনে হল ঝড় আমাকে উরিয়ে নিয়ে
গেল।
নিজেকে আবিষ্কার করলাম স্যারের
রুমে।)যেখানে এই রাক্ষস আমাকে শক্ত করে
ধরে রেখেছে দরজার সাথে।
যেভাবে চেয়ে আছে মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই
গিলে খাবে।।
মেঘ – তোমার সাহস তো কম না।
এইভাবে দরজা ধাক্কা দিচ্ছ মাঝ রাতে।

তারা- আর আপনু মাঝ রাতে আমার ঘরে ঢুকে
ল্যাপটপ নিয়ে আসতে পারেন সেটা কিছুনা।

মেঘ – তোমার জন্য সবার ঘুমের ডিস্টার্ব
হচ্ছে বুঝনা তুমি? বাচ্চা নাকি?

তারা- কার ঘুমের ডিস্টার্ব হল শুনি।

মেঘ – আমার হয়েছে।

তারা- ছাড়ুন আমাকে
এভাবে ধরে রেখেছেন কেন আমার ব্যথা
লাগছে।

মেঘ – এখন ল্যাপটপ পাবে না সকালে পাবে।
চুপচাপ ঘরে চলে যাও।
বলে বিছানারর দিকে আগালাম।

তারা- ল্যাপটপ য়া পাশেই আছে নিয়ে ভাগি।

মেঘ – পাশে তাকাতেই দেখি তারা ল্যাপটপ
এর দিকে আগাচ্ছে।
(তারার কাছে গিয়ে ওকে সামনে ঘুরিয়েই
ওর ২ গালে ২ হাত দিয়ে ওকে মুখের সামনে
ধরলাম।)

পুচকি মেয়ে আমার সাথে পাংগা?

তারা- পুচকি মানে? ?
আমি পুচকি আপনাকে কে বলেছে হ্যা??

মেঘ – ১টু নিচের দিকে তাকাও।

তারা- নিচের দিকে তাকালাম।
(পা পুরই উচু হয়ে আছে তাও তার সমান হতে
পারিনি।
)
তাতে কি হয়েছে হ্যা।মেয়েরা এর থেকে
বেশি লম্বা হলে ভাল লাগেনা। হুহ।

মেঘ –
কথাটা শুনে আর হাসি ঠেকাতে পারলাম না।
হেহেহে।
পুচকি বলে কি।

তারা- এই এই ভাল হচ্ছেনা কিন্তু।

মেঘ – এখন সোজা রুমে যাও।
অনেক রাত হয়েছে।

তারা- ঘরে গেলাম।
সকালে যদি মামনিকে দিয়ে বকা না
খাওয়াইছি হুহ।

সকালে –
তারা- রুম থেকে বের হয়ে দেখলাম মিমি
স্যারের কফি নিয়ে আসছে।
মিমি মিমি!

মিমি – হুম।

তারা- আমার একটা কাজ করে দেওনা।আমার
খুব মাথা ব্যথা করছে মামনির রুম থেকে ওষধ
এনে দেও.

মিমি – স্যার কে কফি দিয়ে আসি।

তারা- না না ওটা আমার হাতে দিয়ে যাও।
আমি দারিয়ে আছি এখানে।
আমি ই দিতাম কিন্তু যদি রাগ হয় তাই আরকি।

মিমি – আচ্ছা।

তারা- জলদি নিজের রুমে গেলাম কফি টা
ফেলে দিলাম।
কালো রং নিলাম সাথে ভাল মত পানি
মিশিয়ে দিলাম।ভাল মত ঢেকে দিলাম।
তারপর জায়গা মত দাড়ালাম।
tnx mimi.নেও স্যারের ব্লাক কফি।

মিমি কফি দিয়ে চলে গেল। আর আমি
অপেক্ষা তে আছি স্যারের চিতকার শুনার।
খাও কফি ভাল মত খাও।

কিছুক্ষন পর একটা বিকট শব্দ শুন তে পেলাম।
আমি হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি
খাচ্ছি।

মেঘ – মিমি মিমি!

নিচে সবাই হাজির সবাই আমাকে দেখে মুখ
ধরে হাসছে।

মামনি – হেহেহে কিরে তোর এই অবস্থা কেন
দাত ,মুখের?

তারা- উপরে সিড়ির কাছে দাড়ালাম।
শব্দ করে হেসে উঠলাম।
স্যার তাকাল।
চোখ দদিয়ে আগুন বেরচ্ছে।
আমি মাথা নিচু করে হাসতে লাগলাম
মিটমিট করে।

মেঘ – মিমি এটা কি তোমার কাজ?
আমি জানি তোমার না বল তুমি এটা কার
কাজ?

মিমি – স্যার আমি জানিনা ( ভয়ে ভয়ে)

মেঘ – তারার দিকে এক বার তাকালাম।
চোখ দেখে মনে হচ্ছে ভয় পাচ্ছে।
মিমি আমাকে কফি দেওয়ার আগে কফি কই
রেখেছিলে?

তারা- খাইছেরে

মিমি- কফি বানিয়ে আপনার কাছে
আসছিলাম তখন তারা ম্যাম বলল ম্যামের রুম
থেকে ওষধ এনে দিতে তাকে কফি দিয়ে
আমি সেটা আনতে গিয়েছিলাম।

মেঘ – মা এবার বুঝলে এটা
কার কাজ।

মামনি – তারা মা নিচে আয় তো।
এই তোরা সব যার যার কাজে যা।
এটা তুই করেছিস।?

তারা- উনি রাতে আমার ল্যাপটপ নিয়ে গেল
কেন?
বকা ঝকা করল কেন?

মামনি – মেঘ তারা কি বলছে?

মেঘ – মা ও রাতের ২ টা বাজে মুভি
দেখছিল।
তাতে আমার সমস্যা নাই কিন্ত ওর জন্য মানুষ
এর ডিস্টার্ব হবে ঘুমের সেটা তো ঠিক না।
আর তাছাড়া এর জন্য ও প্রতিদিন অফিসে
লেট করে।
আর এতে অর সাস্থের ও ক্ষতি হবে ও কি
বুঝেনা।
বাচ্চা নাকি?

মামনি – আচ্ছা হইছে তুই যা ফ্রেশ হ।

তারা মেঘ কিন্ত ঠিক কথা বলেছে।
যা ফ্রেশ হয়ে খেয়ে রেডি হ।
অফিসে যেতে হবে।

তারা- হুম।

মেঘ – গাড়ি আজ এত জোরে চালিয়ে ছি
তারার অবস্থা খারাপ।

হিয়া- কি তোকে এমন লাগছে কেন?

তারা- আর বলিস না হারামজাদা এত জোরে
গাড়ি চালিয়েছে যে আমি নিজের নাম ই
ভুলে গেছি।

হিয়া- কে?

তারা- আর কে স্যার।

হিয়া- স্যার??

তুই স্যারের সাথে? ?

তারা- অহ তোকে বলতে মনে নাই আমি
স্যারের বাসায় আছি এখন কিছু দিনের জন্য।

হিয়া- মাজরা কি?

তারা- সব বললাম।

হিয়া – আচ্ছা।এই খবর।

মেঘ – আমাকে রং খাওয়ানোর মজা টের
পাবে তারা তুমি।

তারা – স্যার চেক টাতে সাইন লাগবে।

মেঘ – ফোনে কথা বলছিলাম।
ফোন রেখে তারার কাছে গেলাম।
সামনে দাড়ালাম।

কি কাজ?

তারা – এত কাছে থাকলে কি করে কথা বলি!
সাইন লাগবে ( মিন মিন করে)
মেঘ – জোরে বল শুনিনাই।

তারা- সাইন লাগবে বলতে বলতে টেবিল এর
সাথে লেগে গেলাম।

মেঘ – আরেক্টু সামনে যেয়ে দাড়ালাম
তারার
মুখ উচু করে বললাম আবার বল।

তারা- এবার কথাই বন্ধ হয়ে গেল।
গলা দিয়ে আওয়াজ বের ই হচ্ছেনা।

মেঘ – এখন গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছেনা
তাইনা।
আর বাসায় সাহস বেরে যায় তাইনা।
তুমি কেন ভুলে যাও তোমাকে আমি অফিসে
একা পাব।
তুমি কি ভাব তোমাকে আমি একা পাব না।

তারা- কাদো কাদো কন্ঠে আমি কিন্তু
মামনি….

মেঘ -অকে ধরে দেওয়ালের সাথে শক্ত করে
ধরলাম মাকে বিচার দিবে তাই তো।?

তারা – পায়ে একটা পাড়া মেরে দিলাম।

স্যার ছেড়ে দিলেন।
কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা।
দরজাটা lock করা।

মেঘ – এত বোকা ভাব আমাকে?
আমি আগেই lock করে রেখেছি।

তারাকে আবার শক্ত করে ধরলাম মাকে
আবার বিচার দিয়েই দেখো তোমার কি
করি?
আর কাল কের কামোড় টা আর আজকের এই
পাড়া টা ধার থাকল সময় মত উশুল করে নিব।
যাও।

তারা- ভাগ মিলখা ভাগ বলে ভাগলাম সোজা
নিজের desk এ এসে পড়লাম।
ঢক ঢক করে ১ গ্লাস পানি গিলে ফেললাম।

হিয়া- কিরে কি হইছে? ?

তারা- কিছু না।
গরম লাগছে।

মেঘ – যে ডোজ দিলাম এরপর আর মাকে কিছু
বলবে না।

তারা- মামনি কে কিছু বলবনা কিন্তু আমি কম
নাকি? ?
বাসায় যাই তারপর দেখাব মজা।
.
continue
বিঃ দ্রঃ নিচে Next >> ক্লিক করলে পরবর্তী পর্ব পাবেন..!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *