The Cobra King Mafia Boss- Season 4

The Cobra King Mafia Boss- Season 4 !! Part- 120

→সকালে রুহীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন আনিলা।রুহী শোয়া থেকে উঠে বসে দেখলো দ্রিধা আনিলার কোলে।আনিলা মেয়ের দিকে হেসে বললেন,
”কাজে যাচ্ছিনা আজ।তোর সাথে থাকবো।”
রুহী ঘুমন্ত কন্ঠে বলল,
”ক্ষতি হবেনা তোমার কাজের?”
”আরে সমস্যা নেই।যা ফ্রেশ হয়ে নে।”
রুহী উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায়। ওর কানে রোয়েনের কথা গুলো বাজছে।তার শেষ কথা গুলো ওর কানে আসছে।বুক ভারি হয়ে আসে ওর।মুখে হাত চেঁপে কাঁদতে শুরু করে।কিছুসময় পর বেরিয়ে আসে রুহী।রুমটা খালি দেখে একটা নিশ্বাস ফেলে শান্তির।চোখ মুছে রেডি হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।আনিলা নাতনিকে কোলে নিয়ে নাস্তা রেডি করছে।রুহী খুশি থাকার চেষ্টা করছে।কিন্তু চোখের পানি বাঁধা মানছেনা।মায়ের কাছে এসে দাঁড়ায় রুহী।মেয়ের গালে হালকা হাত বুলিয়ে রুহী বলল,
”বাবা কই?”
”কাজে গেছে।”
”ওহ ”
”চল নাস্তা করবি।”
রুহী মায়ের সাথে টেবিলে এসে বসে।রুহী খেতে পারছেনা। গলা দিয়ে খাবার নামছেনা।মেয়ে কে এমন দেখেননি আনিলা।এমন করছে কেন?আনিলা বললেন,
”ঠিক আছিস?”
মায়ের ডাকে রুহী উপরে তাকায়।আনিলা রুহীর চেহারা দেখে বলেন,
”আর ইউ ওকে রুহী?তোকে এমন লাগছে কেন?খাচ্ছিস না কেন?সব ঠিক আছে?”
”হ হুম।”
রুহী কিছু বলতে যাবে আনিলার ফোন বেজে উঠে।আনিলা কল রিসিভ করে চুপচাপ কিছু শুনে যান।
অপরপাশ থেকে কেউ কিছু বলল আনিলা উঠে চলে গেলো রুহীর সামনে থেকে।রুহী খাওয়া ছেড়ে উঠে রুমে চলে আসে।গুঁমড়ে কেঁদে উঠে ও।ঠিকই চলে এসেছে কিন্তু জানটা ঘরে পড়ে আছে।এদিকে রাভীন রুশান চৌধুরী ছেলের সাথে নাস্তা করতে বসেছেন। রুহীকে না দেখে বললেন,
”বৌ মা কই?”
”চলে গেছে বাবা।”
কিছুটা অন্যমনস্ক ভাবে বলল রোয়েন।রাভীন অবাক হয়ে বলেন,
”চলে গেছে মানে?”
”বাবা ও দ্রিধা কে নিয়ে কাল রাতে চলে গেছে।”
”কেন গেলো?”
”বাবা সত্য মিথ্যা না জেনে ওকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছিলাম।সেটার শাস্তি পাচ্ছি।”
রাভীন রুশান চৌধুরী বলার মতো কিছু পান না।নাস্তা খায়নি রোয়েন।উঠে কাজে যাওয়ার জন্য রেডি হয়।রোয়েন বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলল,
”বাবা আমার এক লোক আসবে।তার সাথে ঘুরে এসো।”
”আচ্ছা।আল্লাহ তা’লার নাম নিয়ে বের হ বাবা।”
”জি বাবা।”
রোয়েন বেরিয়ে যায়।রাভীন রুশান চৌধুরী রোয়েনের কথা শুনতে পেয়েছিলেন।নাস্তা করে রোয়েন যখন রুমে গিয়েছিলো।ওনি ও তখন নিজের রুমে যাচ্ছিলেন শুনতে পান রোয়েন বলছিলো,
”রুহী কি আপনাদের বাসায়?”
অপরপাশ থেকে আনিলা বলেন,
”জি স্যার।সব ঠিক আছে তো?”
”রোয়েন সব খুলে বলল।”
”যা হয়েছিলো খুব খারাপ হয়েছে।রুহী এখন যা করেছে ঠিক করেনি। ওর সাথে কথা বলে দেখছি। ”
”আনিলা মা ওকে বুঝান।”
”জি স্যার ভাববেননা।মা যখন বলেছেন এই মা আপনার জন্য সব করবে।”
”জি।আজ আসবেননা?”
”না।ওর সাথে থাকি আজকে।”
”শিওর।”
রাভীন রুশান সরে যান।বুঝতে পারেন রুহী কোথায় আছে।এদিকে আনিলা কথা শেষ করে ডাইনিং রুমে এসে দেখেন রুহীর নাস্তার প্লেট ভরা।কিছুই খায়নি।রুহীর রুম থেকে কান্নার শব্দ আসছে।আনিলা দরজা হালকা ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো।রুহী চোখ মুছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে।আনিলা মেয়ের সামনে এসে বসেন।দ্রিধা কে শুইয়ে বললেন,
”কি হয়েছে?কিছু তো হয়েছে।বল আমাকে।”
রুহী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।কান্নার সুরে বলতে থাকে,
”আমি ওকে ছেড়ে চলে এসেছি মা।সে আমাকে বুঝেনা বুঝতে চেষ্টা ও করেনা।আমার খুব খারাপ লাগছে।পারছিনা তাকে ছেড়ে থাকতে।কিন্তু কি করে তার সাথে থাকবো সে নিজের রাগ জেদকে প্রায়োরিটি দেয়।”
আনিলা মেয়ের চোখ মুছে দিয়ে বলেন,
”জানিস তুই যেভাবে বড় হয়েছিস ওনার বড় হওয়াটা সহজ ছিলো না রুহী।ওনার বিশ বছর বয়স থেকে আমাদের সাথে আছেন।পড়াশুনা কাজ এক সাথে করেছেন।নিজের মাকে বিশ্বাস করে সারাটাজীবন বাবা ঘৃনা করে আসছে।আমরা দেখেছিলাম তার বেড়ে উঠাটাকে।এতটুকু বয়সে হাতে বন্দুক তুলে নেয়।কতোটা বছর সে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলেছিলো তোর চিন্তার বাহিরে।তার বেড়ে উঠা তার পরিবেশটাই এমন বদমেজাজী করেছে।সে কতোটা ভালো কতোটা ভালো তোকে বাসে চিন্তাই করতে পারবিনা।এত বছর পর মায়ের সত্যতা জানলো বুঝতে পারছিস তার মনের অবস্থা?রুহী ওনাকে বুঝ বাবা।সে তোর ছায়া হয়ে আছে।একজন মাফিয়ার জীবন কতোটা ঝুঁকি পূর্ন ভাবতে ও পারবিনা।সবসময় তাকে প্রচন্ড সাহস আর বুদ্ধি খাঁটাতে হয়। তুই যদি এমন করিস তাহলে সে দূর্বল হয়ে পড়বে।এমন করিস না মা।তোর স্বামী সে।তোর সবচেয়ে আপন সেই।”
”মা আমি কি করবো এখন?”
”ঘরে ফিরে যা।ওনার সাথে কথা বল।”
রুহী মাথা নিচু করে নেয়।এদিকে শামীম রোয়েনের বাসায় এসে রাভীন কে পায়। সালাম দিয়ে তার খবর জানতে চায় শামীম।রাভীন ও বেশ ভালো করে কথা বলেন।শামীম বলল,
”স্যার একেবারেই আপনার মতো দেখতে।”
”ছেলেটা কার দেখতে হবেনা?”
”জি।”
”শামীম তোমাদের পুরো কলোনি ঘুরিয়ে দেখাও।”
”জি আঙ্কেল চলুন।”
রাভীন কে নিয়ে বেরিয়ে আসে শামীম।শামীম সব দেখাচ্ছে।রাভীনকে নিয়ে কোব্রা আর কিং এর কাছে এলো।রাভীন ছেলের পোষা কুমির দেখে অবাক।তার ছেলের সাহস আছে বলতে হবে।রাভীন কথা বলার মাঝেই বললেন,
”রুহীর বাবার বাসা কই শামীম?”
”এখানেই।”
”চলো যাই।”
শামীম বেশ অবাক।ওনি হঠাৎ রেজোয়ান মাহবুবের বাসায় যেতে চান ভেবে অবাক শামীম।তবে স্যারের বাবা।প্রশ্ন করা যাবেনা। শামীমকে নিয়ে আগে বাজারে চলে এলেন। তারপর মিষ্টি ফল মূল নিয়ে রেজোয়ান মাহবুবের বাসায় এলেন।রুহীকে বুঝিয়ে আনিলা বেরিয়ে আসতেই কলিংবেলের শব্দ শুনে দরজা খুলে দেন।শামীম আর রাভীন চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছেন।শামীম বলল,
”স্যারের বাবা।”
আনিলা অস্থির হয়ে গেলেন।বেয়াই এসেছে হঠাৎ করে।কি খাওয়াবেন না খাওয়াবেন।রাভীন চৌধুরী বললেন,
”আপনাকে অস্থির হতে হবেনা আপা।রুহীকে নিতে এসেছি।”
”লাঞ্চ করে যান।”
”না আপা। বাসায় ভাই নাই।ওনি আসলে দেখা করে যাবো একদিন।”
”আজ প্রথম আসলেন।নাস্তা করে যাবেন অবশ্যই।”
”ঠিক আছে।রুহী কই?”
আনিলা রুহীর রুম দেখিয়ে দিতেই ওনি রুহীর কাছে চলে যান।রুহী মেয়েকে নিয়ে বসে আছে।শ্বশুর কে দেখে মাথায় ঘোমটা দিয়ে বলল,
”বাবা আপনি?”
”কেন? আসবোনা?”
”অবশ্যই আসবেন বাবা।নাস্তা করেছেন?”
”হুম।আমার ছেলেটা করেনি নাস্তা।”
রুহী মাথা নিচু করে।রাভীন চৌধুরী আবার বলেন,
”রোয়েন ভালো নেই রে মা। যা দেখেছি আজ ও তোমাকে আর দ্রিধা মনি কে ছাড়া ভালো থাকতে পারবেনা।”
”বাবা আমি ভুল করেছি ”
”দেখো মা সংসারে খুটিনাটি সমস্যা হয়ই।তাই বলে ছেড়ে আসা সমাধান নয়।বসেই সমাধান করতে পারতে।”
”বাবা বুঝতে পারিনি আমি।মাফ করবেন।”
”তোমরা ছোট।তোমাদের বুঝানোর দায়িত্ব আমাদের।অনেক হয়েছে।বাসায় চলো।”
রুহী চুপ হয়ে গেলো।এদিকে সামায়রাকে নিয়ে বেরিয়েছে ফাহমিন।সামায়রা কে নিয়ে এ মুহূর্তে ডিনারে যাওয়া সম্ভব নয়।মেয়েটা মা বাবা কে ভয় পায় তাই ঘর থেকে রাতে বের হবেনা।
সামায়রা হঠাৎ বলল,
”আজ সন্ধ্যায় বাবা মা আপনাদের বাসায় যাবে।”
”কেন?”
”আংটি কিনেছে বাবা।ওটা পরাতে।”
ফাহমিন বলল,
”বিয়ের পর কই যাবে তুমি ঘুরতে?”
”আপনি যেখানে নিয়ে যাবেন।”
”কোথাও যদি না নেই?”
”কেন নিবেননা?”
”সারাক্ষন আমরা আমাদের রুমে থাকবো।খুব আদর করবো তোমাকে।সারাক্ষন তোমাকে সামনে বসিয়ে দেখবো।আমাদের ছোট ছোট বাবু হবে ওদের সাথে খেলবো।”
”বাবুর কি দরকার আমার মিমিরা আছেনা?”
ফাহমিন অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।তারমানে মিমিরা ওকে বাবা বলবে,মিমিদের পড়াশুনা করিয়ে উচ্চ শিক্ষিত করতে হবে।বিয়ে দিতে হবে।হায়রে কোথায় বৌয়ের সাথে সুন্দর কথা বলতে চেয়েছিলো বৌ বানিয়ে দিলো হ্যামস্টারদের বাবা।ফাহমিনকে চুপ থাকতে দেখে
সামায়রা আবার বলল,
”বিয়ের পর ওদের আমি নিতে পারবোনা আপনাদের বাসায়?”
”অবশ্যই নিবে।”
সামায়রা হেসে ফাহমিনের গলা জড়িয়ে ধরে।সামায়রার মনে হলো কি করছে ও।তারপর এক ঝটকায় সরে আসে।ওরা একটা রেস্টুরেন্টে চলে আসে।সেখানে দুজন বসে পড়ে।ফাহমিন দুজনের জন্য লাঞ্চ অর্ডার করলো।আজ খুব সুন্দর লাগছে সামায়রাকে।লাল রং এর এক টা গাউন পরেছে আজ।সামায়রার হাত ধরে ওর হাতে একটা ব্রেসলেট পরিয়ে দেয় ফাহমিন।সামায়রা হাতটা নিজের কাছে নিয়ে বলল,
”এটা আমার?”
”হুম।”
”খুব সুন্দর।খুব পছন্দ হয়েছে আমার।”
”ভালো লাগলো শুনে।”
মুচকি হাসে ফাহমিন।রুহী রাভীন চৌধুরীর সাথে ঘরে চলে আসে।বাবা শামীম ভাই আর মাকে বলে ছিলো রোয়েন যেন না জানে ও ফিরে এসেছে।ঘরে এসে মেয়ে কে খাইয়ে দিয়ে রোয়েনের পছন্দের খাবার বানিয়ে নেয় রুহী। আজ সব দূরত্ব মিটিয়ে নেবে।দুপুরের রান্না ও আজ ও করেছে।রাভীন চৌধুরী রুহীর রান্না খেয়ে বেশ খুশি।ছেলের বৌটা যেমন লক্ষী বেশ গুনী ও।রুহীকে রুমে নিয়ে ওর হাতে দুটো ব্যাগ ধরিয়ে বললেন,
”তোমার উপহার।বিয়েতে কিছু দিতে পারিনি।বাবার পক্ষ থেকে এটা তার মেয়েটার জন্য।”
রুহী রাভীন চৌধুরীর পা ধরে সালাম দেয়।তারপর ব্যাগ গুলো নিয়ে রুমে চলে আসে।খাটের ওপর ব্যাগ গুলো রেখে দেখতে থাকে।সব গয়না এখন।পাঁচ টা ডায়মন্ড সেট।সাথে চুড়ি ও আছে।রুহী রোয়েনের আসার অপেক্ষায় রইলো সারাটা দিন।এদিকে নীরা হামিদ আরমান হামিদকে নিয়ে সন্ধ্যায় চলে যান ফাহমিনদের বাসায়।সেখানে ফারিয়া ওর জামাই আর ফারিয়ার মেয়ে লামিসা ও আছে।ফারদিন খান আর নীলাদ্রি ওনাদের সাদরে গ্রহন করলেন।ফাহমিন সাদা পাঞ্জাবী পরে সবার সাথে এসে বসলো।আরমান হামিদের মনে হলো সব গুলো মানুষ বেশ ভালো।ওনার মেয়ে ভালো থাকবে এখানে।ফাহমিনকে আংটি পরিয়ে দেন ওনি।ফাহমিনকে ও বেশ ভালো লেগেছে ওনাদের দুজনের।ডিনার করে বাসার জন্য বের হলেন ওনারা।এদিকে রোয়েন ঘরে আসে।রুহীকে খুব মনে পড়ছে।দ্রিধাকে ঘরে ঢুকে দেখবেনা ভাবতেই বুক ফেঁটে যাচ্ছে।হঠাৎ দ্রিধার কান্না শুনতে পায় বাবার রুম থেকে।রোয়েন রুমে ঢুকে দেখলো দ্রিধাকে কোলে নিয়ে বসে আছেন রাভীন চৌধুরী।রাভীন রোয়েনকে দেখে বললেন,
”দাদু মনি দেখো বাবা এসেছে।”
রোয়েনের চোখ কপালে।রুহী ও এসেছে তাহলে।রোয়েন বলল,
”বাবা ওরা কখন এসেছে?”
মেয়েকে বুকে জড়িয়ে বলল রোয়েন।রাভীন চৌধুরী বললেন,
”সকালে নিয়ে আসলাম।”
”বললে না যে।”
”তাহলে সারপ্রাইজ থাকতো?যা ফ্রেশ হয়ে নে।বৌ মা ওয়েট করছে।রোয়েন মেয়েকে নিয়ে রুমে এসে রুহী কে পায়না।রামীলার কোলে দ্রিধাকে দিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়।ফ্রেশ হয়ে এসে রুহীকে অনেক খুঁজলো। কই গেলো এই মেয়ে?বাবার কাছে জিজ্ঞেস করলে ওনি বললেন,
”তুই খেয়ে নে।রুহী আছে ঘরে।”
”বাবা তোমরা কি করতে চাও বলো তো?”
”কিছুই না।খেয়ে নে তুই।”
”ওকে।”
রোয়েন খেতে বসে যায়।বেশ অবাক।আজ ওর প্রিয় সব ডেজার্ট তবে সবচেয়ে প্রিয় ডেজার্টটাই নেই।খেতে খেতে ভাবছিলো কখন মায়াবতীর মায়া ভরা মুখটা দেখতে পাবে ও?
চলবে