সে কি জানে

সে কি জানে Season 2 ! Part- 02

–” চুমু দে তো!!কোথায় দিবি??গালে নাকি ঠোঁটে?? ”
কথাটা শুনে থমকে গেল দীঘি।।লোকটা এমন কেন??একদম নির্লজ্জ!!তারই বাসার সামনে দাঁড়িয়ে তাকেই চুমু দিতে বলছে।।বেহায়া কোথাকার!!ইসস!!কথাগুলো যদি মনে মনে না বলে আবদ্ধের মুখের উপর বলে দেওয়া যেত।।তাহলে খুব ভালো লাগতো দীঘির।।কিন্তু সে নিরুপায়।।অনেক ভয় পায় সে আবদ্ধকে।। এসব বলার সাহস মোটেও নেই তার।।তাই আমতা আমতা করে বলল……
—” আমি আপনাকে চুমু দিতে পারবো না।। ”
ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আবদ্ধের।।দীঘির হাতে ছোট্ট করে একটা চিমটি দিয়ে বলে উঠল……
—” কি বললি?? ”
—” না মানে,,আমি মানে…..”
—” চুপ!!একদম চুপ!!এক্ষুনি গালে চুমু দে নাহলে আমি তোর ঠোঁটে চুমু দিবো।।তাও আবার ২০-৩০ মিনিটের জন্য।। ”
—” দেদেখুন এগুলো মোটেও ঠিক না।।আপনি আমাকে এভাবে জোড় করতে পারেন না ভাইয়া।। ”
—” তোর সাহস তো দেখি অনেক বেড়ে গেছে।। আবার ভাইয়া বলিস আমাকে।।তোকে এখন থাপ্পড় না দিলে হচ্ছে না।। ”
কথাটাশুনে চোখে পানি এসে গেল দীঘির।।আবদ্ধ তার কাছে আসতেই সে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলে উঠল…….
—” প্লিপ্লিজ মামারবেন না।।আমি চুমু দিচ্ছি।। ”
—” তো তাড়াতাড়ি দে না।।এভাবে দাঁড়িয়ে থাকার মানে কি।।পরে তোর পরিবারের কেউ যদি আমাদের এভাবে দেখে তাহলে তো কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।। ”
কিঞ্চিত অবাক হলো দীঘি।।লোকটার তাহলে এসবেরও খেয়াল আছে।।না মানে যেভাবে হাত ধরে দীঘিকে বাড়ির পেছনে নিয়ে এসেছে তাতে তো মনে হয়ে ছিল দীঘি তার বউ।।আর এটা তার শ্বশুড় বাড়ি।।কেউ যদি তাদের একসাথে দেখেও।। তাহলে কোনো সমস্যাই হবে না।।তার হাব-ভাব দেখে তো দীঘির সেটাই মনে হয়েছিলো।।দীঘির ভাবনায় ছেদ করে আবদ্ধ ধমক দিয়ে বলে উঠে……
—” কি সমস্যা কি তোর।।তাড়াতাড়ি চুমু দিবি নাকি আমি আমার ২০-৩০ মিনিটের চুমু এপ্লাই করব তোর ঠোঁটে।। ”
আড়চোখে আবদ্ধকে একবার দেখে নিলো দীঘি।।তারপর আমতা আমতা করে বলে উঠল…..
—” চোখ বন্ধ করুন।। ”
বাঁকা হাসলো আবদ্ধ।।দীঘির মুখের কাছে খানিকটা ঝুঁকে চোখ বন্ধ করে নিলো সে।।আর দীঘি!!সে ব্যস্ত আবদ্ধের চেহারা দেখতে।।এ প্রথম আবদ্ধের চেহারা এত কাছাকাছি দেখছে সে।।মানুষটা আসলেই সুন্দর!!একদম প্রেমে পড়ার মতো।।ভেবেই আরেকটু পর্যবেক্ষন করে দেখলো সে আবদ্ধকে।।এদিকে এতক্ষন হয়ে গেছে কিন্তু আবদ্ধ তার গালে কোনো ছোঁয়াই অনুভব করছে না।।এবার বেশ রাগ হচ্ছে তার।।খানিকটা ধমকের সুরে বলে উঠে……
—” কি হলো??এতক্ষন লাগে চুমু দিতে?? ”
আবদ্ধের ধমকে কেঁপে উঠল দীঘি।।ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল আবদ্ধের গালের দিকে।।আলতো করে গালে ঠোঁট ছোঁয়াতেই চোখ খুলে তাকালো আবদ্ধ।।মুখে তার বিজয়ের হাসি।।দীঘি সরে আসতে নিলেই সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাকে।।শান্ত কণ্ঠে বলে উঠে…..
—” পিচ্চিরে!! আমার তো খুব প্রেম প্রেম পাচ্ছে।।প্লিজ তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যা।।বিয়ে করব আমি তোকে।। ”
দীঘির কপালে ছোট একটা চুমু দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় আবদ্ধ।।মুচকি হেসে আবার বলে উঠে…..
—” আসি তাহলে পিচ্চি।।কালকে আবার দেখা হবে!! ”
বলেই আর এক মুহুর্ত দাঁড়ালো না আবদ্ধ।।চলে যেতে লাগলো নিজ গন্তব্যে।।আর দীঘি!!সে চেয়ে আছে আবদ্ধের যাওয়ার পানে।।অবদ্ধের কথায় অবাক সে।।প্রচুর অবাক!!কিন্তু কথাগুলোর মানে কি ছিল সেটা হয়তো বুঝতে পারে নি!!

বিছানায় গুটিসুটি মেরে বসে আছি আমি।।সবকিছু কেমন অসহ্য লাগছে।।মাথাটা ব্যথায় ফেটে যাচ্ছে।।পাশে থাকা ব্লেট দিয়ে হাতের মাংসে আলতো করে কেটে দিলাম।।হুম!!এখন ভালো লাগছে আমার।।হঠাৎ ফোনের রিংটন বেজে উঠে।।এতে বিরক্ত আমি!!পরপর ৫-৬ বার বেজে উঠলেও ফোন রিসিভ করি না আমি।।পরেরবার ফোন বাজতেই ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ফোনটা হাতে নিলাম।।ফোন রিসিব করতেই অপরপাশ থেকে একজন ছেলের মধুর কণ্ঠ ভেসে উঠে…..
—” হ্যালো মিস মরুভূমি??কেমন আছেন?? ”
—” সরি?? রং নাম্বার!! ”
বলেই ফোনটা কাটতে যাবো ঠিক তখনই আবারও সেই ছেলের মধুর কণ্ঠ আমার কানে এসে বারি খায়…..
—” আরে আরে ফোন কাটবেন না মিস মিরা।।আমি ঠিক নাম্বারেই কল করেছি।। ”
ভ্রুঁ কুঁচকে এলো আমার।।যদি সে জানেই আমার নাম মিরা।।তাহলে আমাকে মরুভূমি বলার কারন কি??কিছুটা বিরক্তি নিয়েই তাকে বললাম…..
—” তাহলে মরুভূমি বলছেন কেন আমায়??কি বলতে চান তাড়াতাড়ি বলুন।।আপনার আউল-ফাউল কথা শুনতে মোটেও ইচ্ছে নেই আমার।। ”
ভালোভাবে কথা বলতে গিয়েও কিছুটা রেগে গেলাম আমি।।কিন্তু অপরপাশ থেকে খুবই শান্ত কণ্ঠে ছেলেটি বলে উঠল…..
—” আমি রেয়ান!!আপনার নিউ ডক্তর।। ”
এবার মেজাজ আমার টুঙ্গে।।ইচ্ছে মতো অপমান করে ফোনটা কেটে দিলাম আমি।।কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো অপরপাশ থেকে ছেলেটি টু শব্দও করেনি।।যদি কিছু শুনা গেছে।।তাহলে সেটা শুধু দীর্ঘশ্বাস!!

সব কাজ শেষ করে রাতের দিকে বাসায় আসে আবদ্ধ।।ড্রইংরুমে গিয়েই সোফায় ধপ করে বসে পড়ে সে।।খানিকটা চিল্লিয়েই বলে উঠে…..
—” মা আমার খাবার দাও তো।।খুব ক্ষুধা লেগেছে!! ”
সাথে সাথে কারো আওয়াজ শুনা গেল ” আনছি “।। এদিকে টিভির রিমোট হাতে নিলো আবদ্ধ।।গানের চ্যানেল দিয়েই সামনে থাকা টেবিলে দুই পা রেখে আয়েশ করে বসল সে।।চোখ বন্ধ করে গান শুনছে তখনই তার মা এসে খাবার রেখে দেয় টেবিলে।।পরক্ষনেই ক্লান্ত কণ্ঠে বলে উঠেন…..
—” আজকে মিরার জন্য নতুন ডক্তর এসেছিলো।। ”
চোখ খুলে তাকায় আবদ্ধ।।সোজা হয়ে বসে বলে উঠে…..
—” মিরাপু কি বলল?? ”
—” কি আর বলবে!!বলেছে আগেই যেন চলে যায়।।নাহলে অপমান করে বিদায় করবে ছেলেটাকে।। ”
—” ডক্টরের নাম কি যেন?? ”
—” রেয়ান!! আমার ফ্রেন্ডের ছেলে।। ”
—” ও ”
মাথা নিচু করে ফেললো আবদ্ধ।।সবকিছু কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে তার।।বড় বোনকে কষ্ট পেতে দেখে তারও যে কষ্ট হচ্ছে।।আবদ্ধের মনমরা অবস্থা দেখে মামী শান্তনার ভঙ্গিতে তাকে বলে…..
—” চিন্তা করিস না।।ছেলেটা বলেছে সে মিরাকে সুস্থ করার চেষ্টা করবে।।দেখিস ও ঠিক হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।। ”
—” সেটাই যেন হয় ”
বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো আবদ্ধ।।

সকালে ঘুমের মাঝেই অনুভব করছি কারো গরম নিশ্বাস আমার মুখে আছড়ে পড়ছে।।চোখ খুলতেই চোখ বড বড় হয়ে গেল আমার।।কালকে মামীর সাথে আসা ডক্তরটা আমার মুখের উপর ঝুঁকে আছে।।মুখে তার বাঁকা হাসি!!কিছু করতে যাবো তার আগেই সে আমার মুখে কাপড় জাতীয় কিছু চেপে ধরে।।সাথে সাথে নাকে এক ধরণের নেশাক্ত গন্ধ বারি খেতে শুরু করে।। চোখটা ঝাপসা হয়ে উঠে আমার।।মনে হচ্ছে যেন কতশত বছর ঘুমানো হয় না আমার।।এখন একটু ঘুমানো খুব প্রয়োজন।।ভাবতেই ঘুমের দেশে তলিয়ে যাই আমি!!
.
.
.
#চলবে🍁🍁
[ এ গল্পের নাম খোলা জানালা ছিল।।আমি নাম চেঞ্জ করেছি মাত্র।।আবার অনেকে বলছেন সিজন ১ এ-র সাথে সিজন ২ এ-র কোনো মিলই নেই।।আমি ইচ্ছে করে দি নি।।কারন বারবার একই কাহানী ভালো লাগে না।। সো এখন একটু আলাদা দিলাম।।বাট সবটা আলাদা হবে না।।কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকবে।।যাই হোক!!।পারলে গঠনমূলক কমেন্ট করুন।।আমার ভুল ধড়িয়ে দিন।।ফলে আমার লেখার আরও উন্নতি হবে।।এবং আমি আপনাদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।।ধন্যবাদ….. ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *