সেলিব্রেটি স্বামী

সেলিব্রেটি স্বামী 2 !! Season- 02 !! Part- 05

ডাক্তার আন্টির সাহায্যে হসপিটালের পাইপ বেয়ে নিচে নেমে এলাম আমি।রিপোর্টার মেয়ে দু’জন আমাকে মিডিয়ার চক্ষু এড়িয়ে গাড়ির কাছে নিয়ে আসলেন।পুলিশ আন্টিরা জিপ টেনে আমাকে আশ্রমে পৌঁছে দিলেন।আমাকে দূর থেকে দেখতে পেয়ে ছুটে এলো আমার মা।আমাকে জড়িয়ে ধরলো আর হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো।কান্না জড়িত কন্ঠস্বরে বলে উঠলো আমার কলিজার টুকরা। ফিরে এসেছিস তুই? পাগলের মতোন আমার মুখে চুমু খেতে লাগলো মা।আমি মায়ের গালটা আকড়ে ধরে বললাম ঠিক আছি আমি মা।প্লিজ টেনশন নিও না।মা আমাকে ধমকের স্বরে বললো টেনশন করবো না? আমার নয়নের মণি।কলিজার টুকরাকে ওইভাবে আহান কস্ট দিলো।আমি তো ভেবেছিলাম তোকে আমি….মাকে আর কিছু বলতে দিলাম না আমি।মুখটা চেপে ধরে বললাম আমিও মা।আমার নয়নের মণি। কলিজার টুকরাটা আমার কাছে নেই।এই বুকটা আমার খালি হয়ে আছে মা। এখন ও কোথায় আছে।কিভাবে আছে কিছুই আমি জানি না।ওর যে মাকে খুব প্রয়োজন।আমারও ওকে প্রয়োজন।আমার দুধের শিশু।ছোট্ট মেয়েটাকে ওরা আমার কোল থেকে কেড়ে নিয়ে গেছে মা।আমার শ্বাশুড়ি মাকে কস্টে রেখেছে।আর উনাকে আমার থেকে এতোটা দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে যে আমার জগৎ সংসারে কিছুই রইলো না।আমার খুব কস্ট হয় মা।খুব কস্ট হয়।উনার জন্য, আমাদের মেয়ের জন্য আর আমার শ্বাশুড়ি মায়ের জন্য। আমি আবার সেই দিনগুলো ফিরে পেতে চাই।শ্বাশুড়ি মায়ের বকা খেতে চাই। মেয়েকে নিয়ে সারাটা দিন কাটাতে চাই আর দিনশেষে উনার বুকে একটু মাথা ঠেকতে চাই।আমি জানি না পারবো কিনা মা।তবে চেস্টা করবো।এভাবে জীবত লাশের মতো বাঁচার চেয়ে বাঁচার মতোন বাঁচতে চায় আমি। প্লিজ মা আমাকে বাঁধা দিও না।আমি ছুটে নিজের রুমে এসে টিভি অফ করে দিলাম।আজ সারাদিন নিশ্চয় ওই নিউজটাই দেখাবে।না জানি উনাকে কতোটা অপমানিত হতে হচ্ছে গোটা সমাজের কাছে।
🍁
রুমে এসে বিছানায় পা তুলে বসতেই বাইরে থেকে ভাঙচুরের আওয়াজ শুনতে পেলাম আমি।মা চিৎকার চেচামেচি করছে। আশ্রমের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে।আমি আর এক মুহূর্ত রুমে না থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসলাম।আমাকে দেখে আট, নয়জন লোক ভাঙচুর থামিয়ে এগিয়ে আসলেন আমার দিকে।আমার সামনা সামনি দাড়িয়ে তারা প্রত্যেকে একে অপরের সাথে চোখাচোখি করলেন।একজন বলে উঠলেন এইতো সেই বোরখাওয়ালী।ধর এটাকে।তারপর হুট করে এসেই দু’জন আমার হাত টেনে ধরলেন।টানতে টানতে আমাকে নিয়ে গিয়ে গাড়ীতে উঠালেন।একটা অন্ধকার রুমে হাত পা বাঁধা অবস্থায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে গেলেন আমাকে।আমি অনেক চিৎকার করলাম কিন্তু ওরা শুনলো না।বাইরে থেকে দরজাটা লক করে চলে গেলেন সবাই।
বেশ কিছুক্ষণ পর দরজা খোলার আওয়াজে ফিরে তাকালাম আমি।মদের বোতল হাতে ঢুলতে ঢুলতে ধীর পায়ে কেউ এগিয়ে আসছেন আমার দিকে।অন্ধকার রুমে মুখটা তার দেখতে পারছি না আমি।আমি চিৎকার করছি আর বলছি তাকে প্লিজ আমায় ছেড়ে দিন।সে আমার পাশে এসে বসে পড়লেন।একটানে আমার মাথা থেকে খিমারটা টেনে খুলে ফেললেন।সঙ্গে সঙ্গে এক চিৎকার দিয়ে আমি নিজের মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে চোখদুটো বন্ধ করে নিলাম।একটা সিগারেট হাতে নিয়ে পকেট থেকে লাইট বের করে আগুন জ্বালালেন সে।আর আমার মুখের সামনে সিগারেটে আগুন জ্বালিয়ে ধরে বললেন,
-তুই আমার ক্যারিয়ার জ্বালিয়েছিস।এখন আমি তোর মুখটা জ্বালিয়ে দিই? বিয়াদ্দপ মেয়ে।ভেবেছিস তোকে খুঁজে পাবো না আমি? এইভাবে আমার ক্ষতি করে পালিয়ে যাবি তুই? তোর সেই ইচ্ছা আমি পূরণ হতে দিবো না।কক্ষনো না।তোর ভার্সিটির রেকর্ড থেকে ঠিকানা জোগাড় করেছি আর তোকে তুলেও এনেছি।সুপারস্টার আহান খান আমি।আমার ক্ষতি করা এতোটা সোজা না।
কথাটা বলে ডগমগ করে মদের বোতল থেকে কয়েক ঢোক মদ গিললেন উনি।আমি উনার কন্ঠ শুনে চোখ খুলে তাকালাম উনার দিকে।অসহায় দৃষ্টিতে উনার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-আমার বাঁধনগুলো একটু খুলে দেবেন? প্লিজ এক মিনিটের জন্য। তারপর আবার বেঁধে দিয়েন।
আমার কথা শুনে হাসলেন উনি। অট্টহাসি দিয়ে আমার গালটা চেপে ধরলেন।আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবেন কিন্তু পারলেন না বলতে।অপলক ভাবে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।আমি মুখটা মলিন করে টলমল চোখে বললাম উনাকে,
-প্লিজ খুলে দিন না আমায়।
কথাটা শুনেই উঠে দাড়ালেন উনি।সরে গিয়ে জানালার কোণ ঘেঁষে উল্টো ঘুরে দাড়িয়ে বললেন,
-তুই আমাকে বোকা পেয়েছিস? তুই বলবি আর আমি তোকে ছেড়ে দেবো?
আমি উনার নাম ধরে ডাকলাম।উনাকে বললাম,
-আমি তো আপনাকে ছাড়তে বলি নি।ছাড়বেন কেন আমাকে আপনি? আচ্ছা বেশ! আমার বাঁধন খুলতে হবে না আপনার।আপনি শুধু একবার আমার কাছে আসুন।আহান শুনতে পারছেন আমার কথা?
উনি অট্টহাসিতে মেতে উঠলেন।হাসিতে লুটোপুটি খেতে খেতে আমার পাশে এসে বসলেন।আমার কপাল চাপড়ে বললেন,
-তোর মতোন দু’টাকার কতো মেয়ে দেখা হয়ে গেছে আমার।আমি সুপারস্টার আহান খান বলে কথা।তোকে একটু অন্য রকম ভেবেছিলাম।তুই তো একদমই ভিন্নরে।এতো বুদ্ধি তোর? ইমোশনাল নাটক করিস? তুই ভাবলি কি করে তোর কাছে আসবো আমি?
আমি বাঁধা দুই হাত উঁচু করে এক ধাক্কায় উনাকে নিচে ফেলে দিলাম।দুই হাতের বাঁধন দিয়ে উনার ঘাঢ়ে পেচিয়ে নিজের শরীরের সবটুকু ভার ছেড়ে দিলাম উনার উপরে।মুখের কাছে মুখটা নিয়ে বললাম,
-এগুলো আপনার কোন ফিল্মের ডায়লগ আহান?
আমার প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে উনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন।উনার বুকে নাক ঘেঁষে বললাম আমি,
-জীবনে কয়টা প্রেম করেছেন? মানে সুপারস্টার আহান খান বলে কথা।কখনো কাউকে ভালো কি বেসেছেন?
উনি নিরাবতা ভেঙে বলে উঠলেন,
-বিয়াদ্দপের মতোন প্রশ্ন।রাগে আমার কলিজা ফেটে যাচ্ছে।ওঠ আমার উপর থেকে তুই।
আমি আরও মিশে গেলাম উনার সাথে।উনাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললাম,
-আমার তো হাত পা বাঁধা তবুও আমাকে সরাতে পারছেন না? আচ্ছা আহান তাকান আমার মুখটার দিকে।কিছু কি মনে পরছে? বলুনতো আপনি আমাকে আগে কোথাও দেখেছেন কিনা?
উনি এবার এক ধাক্কায় আমাকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিলেন।আমাকে টেনে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বললেন,
-এখানে বন্দী থাক তুই।এটাই তোর শাস্তি।আমার হিরোইনের মুখ পুড়িয়েছিলি না তুই? ও তোকে পেলে আস্ত রান্না করে চিবিয়ে খাবে।ওর হয়ে শাস্তিটা তোকে আমিই দিয়ে দিলাম।এই বদ্ধ রুমের মধ্যে পরে থাকবি তুই।যতোদিন না মৃত্যু হয় তোর।
কথাটা বলে আবার মদের বোতলে চুমুক দিলেন উনি। উঠে দাড়িয়ে ঢুলতে ঢুলতে বোতলে ডোক গিললেন আর রুমের দরজার দিকে এগুলেন। তারপর বাইরে গিয়ে দরজাটা লক করে চলে গেলেন উনি।
চলবে,,,,