যদি তুমি জানতে !! Part- 06
আমি রাস্তার ফুটপাত অংশে পড়লেও সাঈদ ভাইয়া ডিরেক্ট মেইনরোডে। এরপর আর কিছু মনে নেই।
চোখ খুলে দেখি আমি রুমে শুয়ে আছি।হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ। পাশে খালামনি বসে আছেন। উঠতে নিলে খালামনি থামিয়ে দিয়ে বললেন-
-উঠিস না ফিহা। শুয়ে থাক। তুই এমনেই দূর্বল।
-খালামনি এখানে কীভাবে?রিক্সা থেকে…
-হ্যাঁ।রিক্সা থেকে পড়ে গিয়েছিলি। রাস্তার আশপাশের মানুষজন তোদের ব্যাপারে কল করে জানিয়েছে। আমি যেয়েআনার ব্যবস্থা করি। পরে কথা বলিস।শুয়ে থাক। রেস্ট নে।
-খালামনি সাঈদ ভাই?
-আহা কথা বলিস না। এমনেই ব্যাথা পেয়েছিস।
-বলো না খালামনি, ভাইয়া কোথায়?
খালামনিকে একে একে দুবার জিজ্ঞেস করলাম। উনি উত্তর দিলেন না। কথা ঘোরাচ্ছেন। সাঈদ ভাইয়ের কি কোনো অঘটন ঘটলো নাকি!
না না, এমন অমঙ্গল কথা ভাবতে নেই।
নাহ্, উনি সুস্থ থাকবেন। আমি আবারও খালামনিকে জিজ্ঞেস করলাম-
-খালামনি তুমি যদি এবার না বলো আমি কিন্তু উঠে সোজা, খোজা শুরু করব।
-না, তোর উঠতে হবে না। তোর সাঈদ ভাইয়ের কিছু হয়নি। ও রুমে শুয়ে আছে।
-আমি যাবো খালামনি।
-পরে যাস এখন শুয়ে থাক।
.
.
সেই কখন থেকে শুয়ে আছি। কিচ্ছু ভাল লাগছে না। সাঈদ ভাই না জানি কেমন অবস্থায় আছেন। মেইন রোডে পড়েছেন। ইশশ! এমনেই ডান হাতটা কাটা। তার উপর এই এক্সিডেন্ট। নাহ্ একটু দেখে আসি!!
আস্তে আস্তে উঠে দাড়ালাম। গন্তব্য সাঈদ ভাইয়ের রুম। পায়ে কোনোভাবে ভর রেখে দেয়াল, সোফা, টেবিল ধরে ধরে যাচ্ছি। সাঈদ ভাইয়ের রুমে যেতেই দেখি ভাইয়ার পা, হাত ব্যান্ডেজ করা। মাথার কিছু অংশে জোরালো ভাবে ব্যান্ডেজ করা। পা টিপে টিপে কোনোরকমে রুমে ঢুকে উনার পাশ ঘেঁষে বসলাম। ভাইয়া ঘুমিয়ে আছেন। কেমন এক মায়া মায়া লাগছে উনাকে। আসলে ভাইয়া যে দেখতে বেশ সুদর্শন, এটা আমিও বলতে বাধ্য। কোনো ছেলের ঘুমন্ত মুখখানা এত স্নিগ্ধ আর মায়া লাগতে পারে তা আমার জানা ছিলো না।
উনার চুলে আলতো করে ছুয়িয়ে চলছি। অবশ্য ভাই জেগে থাকলে আমার মনমতো এভাবে ছোয়ার সুযোগ কখনোই হতো না। ভাইয়ের চোখজোড়া খুব সুন্দর।চোখের পাপড়িগুলোও মাশাআল্লাহ !!
সাঈদ ভাই তুমি দেখতে এতো সুন্দর হয়েছো!!
হঠাৎ ঘুমের মধ্যে সাঈদ ভাইয়া আমার কোলে মাথা উঠিয়ে দিলেন। আমি অবাক!ভাইয়া আমার কোলে মাথা একটু ঘেঁষে বললেন-
-নাবিলা ঠিক আছিস তো?
-ভাই তুমি ঘুমাওনি?
-যেটা জিজ্ঞেস করছি সেটা বল।
-হ্যাঁ ঠিক আছি ভাই। তুমি কি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সব…
-ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কী?
-না কিছু না।
-তখন যেভাবে মাথায় ছুয়ে দিচ্ছিলি, ওমন করে মাথায় ছুয়িয়ে দে। থামবি না। এমনেই ছিলা জায়গা গুলো ব্যাথা করছে।
-ভাইয়া একটা কথা বলি?
-তোর মতো বকবক করাকে না করলেও থামবে না।
-ভাই তুমি না!! শোনো তোমার কি একবারও মনে হয়নি সিএনজি টা আমাদের ইচ্ছে করে ধাক্কা দিছে।
-হুম। বাট কোনো ক্লু বা প্রমাণ নেই। কিছু পসিবল না। আচ্ছা নাবিলা তোকে যে আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ করেছিল, নাম্বারটা আছে?
-হ্যাঁ ভাই। ফোনে আছে। আমি কলও করেছিলাম। কিন্তু ফোন বন্ধ।
-সিটট! নাম্বারটা অন থাকলে ট্রেস করতে পারতাম। ওই তুই হাত থামালি কেন!
-সরি সরি!! করছি। ভাইয়া আমার না তোমার ফ্রেন্ড ফাহিমের উপর সন্দেহ হচ্ছে। ওকে না বাইক দিয়ে যেতে দেখেছি।
-ফাহিম! ও কি ছিলো?
-হ্যাঁ ভাই। আমাদের রিকশার পাশ দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তুমি তখন অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলে।
-কিন্তু আমার, তোর ওই স্যার মহাশয়ের উপর ডাউট হচ্ছে। প্রথম দেখাতেই কেমন যেনো লাগছিল।
-ভাইয়া সেদিন ফাহিম ইচ্ছে করে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিল। আমি ঘেঁষতে যাইনি। ও যাওয়ার পর যখন গেট লাগাতে যাই তখন একটা বিড়ালের গলায় চিরকুট পেয়েছিলাম। ওটাতে কেউ আমাকে হুমকি দিয়েছিল।
-নাবিলা তুই আমাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলবি। আমি নিজেই এই রহস্য উদঘাটন করব।
-তোমাকে আমি কীভাবে সুস্থ করব? দেখো ভাই আমি ডাক্তার না।
-তোর বলা লাগবে না। আমারটা আমি বুঝি। জাস্ট ডু দ্যা ওয়ার্ক।
বিকেল থেকে ভাইকে কোলে নিয়ে সেবা করে যাচ্ছি। তাও মহাদ্বয় আমাকে যেতে দিচ্ছেনা। হাত থামলেই দেয় বকা। আচমকা সাঈদ ভাই চোখ খুলে বলে উঠলেন-
-নাবিলা, বারান্দায় নিয়ে যেতে পারবি?
-না..আসলে.. আচ্ছা ভাইয়া চলো।
-আমি জানি তুইও অসুস্থ। চিন্তা করিস না তোকে ধরতে হবে না। পড়ে যেতে নিলে একটু ধরিস।
-আচ্ছা ভাই।
.
.
সাঈদ ভাই বারান্দার দোলনায় ধীরে ধীরে বসলেন। বিছানা থেকে এতটুকু পথ আসতেই ভাইয়া হাফাচ্ছেন। আমাকে একটুও ধরতে দেয়নি। কেমন মুশকিল টাইপের এই ব্যক্তি ! নিজেই বলল নিয়ে যেতে অথচ একা একাই গিয়ে বসলেন।বসতেই আমাকে ইশারা করে পাশে বসতে বসলেন। আমিও কথা মতো উনার পাশে বসলাম। বসতেই আমার কাধে মাথা রেখে দিলেন। আর বললেন-
-নাবিলা গান পারিস?
-না ভাই।
-নাচ পারিস?
-না ভাই।
-কবিতা পারিস?
-না ভাই।
-আদর করতে পারিস?
-না ভাই।
-কেমন কচু মানুষ তুই নিজেই দেখ। একটা মেয়ে কিছুই পারে না। খালি বাচালের মতো বকবকানি জানে।
-এসবের কখনো সুযোগ হয়নি ভাই।তাই পারিনা।
-এখন সুযোগ দিলাম। যা গান ধর।
-পারি না তো ভাইয়া।
-আমি ক্যাম্পাসে গিটার টা নিয়ে বসলে সব আসর করে দাড়ায়। আমার গান শুনার জন্য সবাই ডাকহাক দেয়। আর সেই জায়গায় তুই এমন একটা নিরামিষ !
-তোমার সাথে কারোর তুলনা করা ঠিক না ভাই। আমি ওমন গানটান পারিও না।
-কী পারিস তাহলে?
-ছবি আকতে।
-যেকোনো?
-হ্যাঁ। যা-ই বলবে সবই আকঁতে পারব।
-কাল সকালে আমাকে নাস্তা করিয়ে একটা ছবি একেঁ দিবি। রুমে টাঙাবো।
-আচ্ছা ঠিকআছে।
-আম্মু বলল তোর বাসার ঘটনা। তোর বাসার সেই অজ্ঞাত ব্যাক্তি সম্বন্ধে।
আমার যা মনেহয় কেউ এখনো তোর উপর নজর রাখছে। রাতে তুই একা ঘুমাবি না,,
-চলবে