যদি তুমি জানতে

যদি তুমি জানতে !! Part- 02

হঠাৎ এলোপাথাড়ি উষ্ণ ছোয়া কপালে, গালে, চোখের পাতায় অনুভব করলাম। ছোয়ার পরিমান ক্রমশ বেড়েই চলছে। আরও ঘনঘন হচ্ছে তার ছোঁয়া।সে ছাড়ছেই না কোনোভাবে। আমি লাগাতার চেষ্টা করে যাচ্ছি তার থেকে রেহাই পাওয়ার কিন্তু সে আরও জোর খাটাতে লাগল। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তাকে দিলাম এক ধাক্কা। সে তাল সামলাতে না পেরে ধপাস করে ফ্লোরে পড়ে গেল। আমি তাড়াতাড়ি উঠে রুমের লাইট জালিয়ে দেখি রুম একদম খালি। কেউ নেই। কেউ বলবেই না এখানে একটু আগে কিছু হয়েছে। ভয়ে আমার সারা শরীর তখনো কাপছে। হাত পা স্থির করতে পারছিলাম না। মাথার উপর ফুল স্পিডে ফ্যান চলছে তবুও ঘেমে যাচ্ছি। একি কি হলো আমার সাথে? এটা কি স্বপ্ন ছিলো নাকি হ্যালুয়েশন ? স্বপ্ন, হ্যালুয়েশন কোনোটাই না। বরং বাস্তব সত্য। কেউ ছুয়ে চলছিল। আমার যতটুকু খেয়াল আছে আমি সব সময়ের মতো এখানেও রুমের সব কটা জানালা সহ দরজাটাও আটকিয়ে ঘুমিয়েছি। তাহলে কে করলো কাজটা?

টেবিলে রাখা গ্লাস থেকে কয়েক ঢোক পানি খেয়ে নিলাম। কিছুটা ঠান্ডা হয়ে দরজা খুলে বাইরে গেলাম। আমার রুমের ডান পাশে আপুর রুম, বাম পাশে সাঈদ ভাইয়ার রুম। অবাক করার ব্যাপার হলো দুজনের রুমের লাইট জালানো। এতো রাতে আপুর রুমে লাইট জালানো। ব্যাপারটা অস্বাভাবিক ঠেকছে। আপুর রাত জাগার অভ্যেস নেই। তাহলে সে কেনো এতো রাতে জেগে থাকবে! আপুর রুমের দরজায় টোকা দিলাম। টোকা দিতেই দেখি দরজা খোলা। আরেকদফা অবাক হলাম! আপু কখনো দরজা খোলা রেখে ঘুমায় না। উনার নাকি ঘুম হয়না। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখি আপু ডায়েরী লিখছে। মুখে কলম দিয়ে কিছু একটা ভেবেচিন্তে লিখছে। আমি আপুকে জিজ্ঞেস করলাম-

-আপু তুমি ঘুমাওনি?
-কীরে, তুই ঘুমাসনি!! আমিতো ভেবেছি খালামনির সোহাগে তুই লম্বা ঘুম দিবি। জেগে আছিস কেন?
-কিছু না, এভাবেই। তুমি কেন জেগে আছো? কী লিখছো তাতে?
-আরে আমি তো টাইম টেবিল ঠিক করছিলাম। তুই জানিস আমি সময় মেনে চলি। এজন্য এখানকার পরিবেশ অনুযায়ী সবকিছু ঠিক করছি ।
-ও আচ্ছা। তাহলে করো। আমি আসি।

.

.

আপুর থেকে বেরিয়ে সোজা সাঈদ ভাইয়ার রুমে একটু ঢু মারতে গেলাম। দেখে আসি উনি কি করে,,,, অবশ্য ভাইয়া ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট এজন্য রাত জেগে পড়াশোনা করেন। উনি শান্তশিষ্ট এবং ভীষণ রাগী টাইপের মানুষ । আপুর সাথে মাঝে মাঝে ফ্রী হলেও আমাকে উনি একদম দেখতে পারেননা। আমি নাকি খুব বাচাল। উনি বাচাল মানুষদের দেখতে পারেননা।

ভাইয়ার রুমের দরজা সবসময়ই খোলা থাকে। উনাদের বাড়ি বলে কথা। দরজার পাশ থেকে একটু উকি দিতেই দেখি ভাইয়া ওয়াশরুম থেকে টাওয়েল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বেরুচ্ছেন। মনে হচ্ছে কেবল গোসল করলেন। কিন্তু কেউ এত রাতে গোসল করে! আর আজতো এতো গরম নেই যে গোসল করতে হবে। আমার কেনো যেনো সন্দেহ হচ্ছে ভাইয়ার উপর। উনিই কি তাহলে আমার রুমে ছিলো!! ছি ছি না না, এটা সম্ভব না। ভাইয়ার মতো মানুষ এরকম কল্পনাতেও হতে পারেনা। আমি দরজার পাশে এমন চিন্তা ভাবনা করছিলাম তখন হঠাৎ সাঈদ ভাইয়া ডাক দিলো –
– নাবিলা তুই এখানে কেন! কি করছিস ওখানে!
-ভাইয়া,, না মানে কিছু না। আসলে নিচে পানি নিতে যাচ্ছিলাম তো তাই আরকি তোমার রুমের লাইট জালানো দেখে এখানে,,,
বলে রাখা ভালো, ভাইয়া আমাকে নাবিলা বলে ডাকেন। কারন উনার এক্সের নাম নাকি ফিহা ছিলো। আমাকে আগে ফিহা ডাকলেও এখন নাবিলা বলে ডাকেন। উনার নাকি ফিহা নাম সহ্য না। অবশ্য এক্সের ঘটনা আপুর থেকে জেনেছি।

-তোর হাতে তো কোনো জগ দেখছিনা আমি,
-আরে,,আমি নিচ থেকে জগ আনতাম। আমার রুমেরটা আপু নিয়ে গিয়েছে। ভাইয়া, একটা কথা বলি?? তুমি এতো রাতে গোসল করলে কেন?
-তোর কোনো সমস্যা !
-না না, আমার কেনো সমস্যা হবে। তারপরও বলো না ভাইয়া!!
-তেলাপোকা শরীরের উপর পড়েছিল। আমার পোকামাকড়ে বাজেভাবে এলার্জী। এজন্য গোসল করছি।এখন যা এখান থেকে ! আর একটা কথা বললে তোর চুল টেনে ছিড়ব !
-না না ভাইয়া আমি চলে যাচ্ছি। সরি।

.
.

ভাইয়ার রুম থেকে বেরিয়ে সোজা আমার রুমে আসলাম। ভালোমতো সব দরজা জানালার ছিটকিনি লাগিয়ে দিলাম।
কিন্তু এবার আর লাইট অফ করলাম না। যদি সে আবার আসে!! লাইট জালিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।

.

.

সকালে ঘুম থেকে উঠলাম জানালাটা খুলে কিছুক্ষণ মিষ্টি রোদটা উপভোগ করলাম। বেশ ভালোই লাগছে। এরপর ফ্রেশ হয়ে দরজা খুলে যেই না বের হবো ওমনেই কারোর সাথে ধাক্কা খেয়ে ধপ করে পড়ে গেলাম। তাকিয়ে দেখি সে আমাকে “সরি সরি” বলে উঠার জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর বলল- সরি মিস। আপনার কোথাও লাগেনি তো? উঠুন। সরি সরি।
আমি উনার হাত না ধরেই উঠে দাড়ালাম। কেমন মানুষ। চোখে দেখে হাটে না। আবার এখন ফেলে দিয়ে সরি সরি বলছে।যত্তসব।

-কে আপনি? চোখ কি আকাশে রেখে হাটেন নাকি। ধাক্কা দিয়ে সরি বলছেন।
-আজব তো। আপনি চেচাচ্ছেন কেন। ধাক্কা কি ইচ্ছে করে দিসি নাকি।
-আবার মুখে মুখে তর্ক করছেন দেখছি। ইচ্ছে করে দিয়ে এখন আবার বড়াই করছেন। নির্লজ্জ।
-এই চুপ। একটা কথা বলবে না। কতক্ষন ধরে যা তা বকে যাচ্ছো। সরি বলছি না। তারপরও গায়ে পড়ে ঝগড়া করছো!

আমাদের চিল্লাচিল্লি শুনে খালামনি, আপু আর সাঈদ ভাইয়া উপরে এসে জড় হলেন। ভাইয়া এসে দেখেন একটা ছেলের সাথে আমার তুমুল ঝগড়া বেধে গিয়েছে।ভাইয়া এসে তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
– ফাহিম কী হচ্ছে এসব। তুই ওর সাথে ঝগড়া করছিস কেন?
-দোস্ত কোত্থেকে এই ফালতু মেয়ে এসে ধাক্কা খেয়ে আপনা আপনি পড়ে যায়, আর তাকে উঠালে গেলে ঝগড়া শুরু করে দেয়। সরি বলছি তাও লো মাইন্ডের মানুষের মতো কথা কাটাকাটি করছে। ফালতু মেয়ে কোথাকার!
-এই যে হ্যালো মিস্টার আমাকে ফালতু বলার আগে নিজের দিকে একবার পরখ করে নিবেন। আপনি নিজে এসেছেন গায়ে পড়তে। আমি না। আপনি নির্লজ্জ!ফালতু!
-থার্ড ক্লাস মে,,,, বলতে না দিয়ে
সাঈদ ভাইয়া ছেলেটাকে চুপ থাকতে বললেন। ছেলেটা রাগি লুক দেখিয়ে ভাইয়ার রুমে চলে গেল।

আমি নিচে যেতে নিলে সাঈদ ভাইয়া হাত টান দিয়ে ধরেন। এতো জোরে চেপে ধরেন যে মনে হচ্ছে হাড্ডিসব এক হয়ে যাচ্ছে। ভাইয়া কাছে এসে ঠাসসস করে এক থাপ্পড় গালে বসিয়ে দিলেন,,,,

-চলবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *