বস বয়ফ্রেন্ড ! season-3

বস বয়ফ্রেন্ড ! season-3 পর্ব- ১৪

ওর চোখে পানি দেখে আমার খুব খারাপ
লাগছিল।
কেন এত খারাপ লাগছে।
তারা ব্যথায় চোখ বন্ধ করল।
চোখের কপ্ন বেয়ে পানি বেয়ে পড়ল।
আমার বুকের ভিতর তছনছ শুরু হয়ে গেল।
তারা কে নিজের কাছে এগিয়ে নিলাম।
তারা আমার পায়ের কাছে বসে ছিল।
আর আমি চেয়ারে।

তারা- উনি উনার দিকে আমাকে এগিয়ে
নিচ্ছেন আমি বুঝতে পারছি।
কিন্তু কেন নিচ্ছেন।
উন কেন এত কস্ট দেন আমাকে বুঝিনা।
কি দোষ আমার।
উনি এখনও আমার চুল ধরে আছেন।
আমি ব্যথায় শেষ হয়ে যাচ্ছি।

মেঘ – চুল হাল্কা করে ছারলাম।
অন্য হাত দিয়ে ওর চোখের পানি মুছে
দিলাম।
ওর মুখটা আমার খুব কাছে।
এখনও চোখ বন্ধ করেই আছে।
আমি তারার চোখে ১ টা চুমু দিলাম।

তারা- আমি কেপে উঠলাম।চোখ খুলে তার
দিকে তাকালাম।
উনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।
মুখ আবার আছে আনতেই
আমি অন্য হাত দিয়ে ঠেকালাম।
।কিন্তু

মেঘ – কিন্তু অন্য হাত দিয়ে ওর ওই হাতটা
ধরে রাখলাম।
।ওর চোখে অনেক প্রশ্ন দেখতে পাচ্ছি।
আমি ওইসব খেয়াল না করে তারার গালে
আরেক টা চুমু দিলাম।

তারা – শক্ত হয়ে বসে আছি।
নড়তে পারছিনা।
গলা শুকিয়ে আসছে।
চিতকার দিতে চাচ্ছি পারছিনা।
কেন পারছিনা????
উনি গালে চুমু দিতে দিতে গলার দিকে
নামছেন।

মেঘ – গাল থেকে গলার দিকে নামছি।
তারা আরও শক্ত করে আমার হাত তা ধরে
আছে।
ঘাড় এ কিস করতেই তারা অন্য হাত দিয়ে
আমাকে ঠেলা দিল।
আমি সরে গেলাম।

তারা- উঠেই দোড়।

মেঘ – তারা দাড়াও।
শোনো আমার কথা
তারা চলে গেল।
আমি ভুল করে ফেলেছি।
কি করছিলাম আমি জোড় করে ওর সাথে? ??
সকালে-
মেঘ – ও ১ টা কথাও বলল না আমমার সাথে।
গাড়ি তেও চুপ ছিল।
আমি সরি বললাম তাও কিছু বললনা।
.
অফিসে –
হিয়া- তোর ফোন টা দে তো।
তারা – ব্যাগে আছে নে।

হিয়া- কিরে এটা কি? ? হেহেহে সবাই এটা
দেখো।

তারা- কিরে কি দেখে হাসছিস।

আরে এটা তুই সবাইকে দেখাচ্ছিস কেন।

মেঘ – কি নিয়ে এত হাসাহাসি হচ্ছে।আমি
যেতেই সব চুপ।

তারা- ফোন টা দে হিয়া।

মেঘ – হিয়ার থেকে ফোন টা নিলাম।
দেখে চোখ বেরিয়ে আসার মত অবস্থা।
।(এই ছবি ওদের দেখাচ্ছে)
তারার হাত ধরে কেবিন এ নিয়ে গেলাম।

হিয়া- ইশ ভুল টা আমার ছিল কিন্তু…….

তারা- আসলে…..

মেঘ – ১ ঝটকায় তারাকে কিস করে বসলাম।

তারা- আমি থ মেরে গেলাম।
মনে হচ্ছে আমি পাথর হয়ে গেছি।
উনি কিস করেই যাচ্ছে এই দিকে আমার দম
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।সব শক্তি দিয়ে সরাতে
চাচ্ছি।১টু সরতেই আবার ঠোটে ঠোট গুজলেন।

কতক্ষন পর ছাড়ল জানিনা।
আমি শুধু দেখলাম উনিও হাপাচ্ছেন আমার
মতন।আমি নিচে বসে পড়লাম।
ঠোট মুছতে মুছতে বললেন –
মেঘ – তুমি অপমান আমাকে সবার সামনে
করেছ।

আর আমি আড়ালে।
কিন্তু এটা তুমি কখনই ভুলতে পারবে না।
এটার দাগ তোমার মনে চিরদিন রয়ে যাবে।
চাইলেও ভুলতে পারবেনা

তারা-
কেবিন থেকে বের হয়ে গেলেন।আমি ঠোট
মুছতে মুছতে কেবিন থেকে বের হলাম।
হিয়া – আমি সরি রে আমি বুঝতে পারিনি
স্যার এমন রিয়েক্ট করবে।
সস্যার কি তোকে বকেছে।

তারা- আমার ভাল লাগছেনা।
একটু একা থাকতে দে প্লিজ।
সারাদিন আর অফিসে দেখলাম না স্যারকে।

মামনি – কিরে মেঘ তুই একা?
মেঘ – তারা পরে আসবে রুমে চলে গেলাম।

শাওয়ারের নিচে শাওয়ার ছেড়ে দাড়ালাম।
কতক্ষন ছিলাম জানিনা।

মামনি – কিরে তুই এত ভিজে আছিস কেন?

তারা- কিছু না বলে উপরে চলে আসলাম।
উপরে যেতেই উনার সাথে দেখা।
মাথা নিচু করে রুমে চলে গেলাম।বাইরে
বৃষ্টি হচ্ছে তাই ভিজে গিয়েছিলাম।

মামনি – কিরে তারা খাবি না।

তারা- না মামনি আমার পেট ভরা।

মেঘ – মা আমার হয়ে গেছে।
আমি গেলাম।

মামনি – তুই তো কিছুই খেলিনা।

মেঘ – পেট ভরে গেছে।

আচ্ছা তারা খেল না তাতে আমার কি
সমস্যা হচ্ছে? ?
আমার কি তাতে??
না খেলে না খাক।
হুহ।
১১ টা বাজে-ঘড়ির দিকে তাকালাম।
মন দিয়ে কাজ ও করতে পারছিনা।
ল্যাপটপ বন্ধ করে।
নিচে গেলাম।
খাবার নিলাম।
।মিমি তারাকে দিয়ে আসো।
মিমি – দরজা নক করলাম

তারা- কে?

মিমি – ম্যাম আমি।

তারা- মিমি তুমি এত রাতে আর খাবার এনেছ
কার জন্য?

মিমি – স্যার আপনাকে দিতে বলল।

তারা – স্যার কে বল আমি খাব না
দরজা লাগাতে যেই যাব তখনি।
মেঘ – দরজা লাগানো আটকালাম।
মিমি দেও আমাকে আর তুমি যাও।

তারা- আমি খাব না বলেছি তো

মেঘ – তুমি খাবে তোমার ঘাড় খাবে।

খাও এখনি

তারা- না

মেঘ – রাগ উঠালে কিন্ত তোমার ই সমস্যা
হবে। বলে দিলাম।

তারা- আমি না খেলে আপনার কি সমস্যা
হচ্ছে।

মেঘ, ( সেটার উত্তর ও আমি খুজছি)
তুমি খাবে? নাকি আমি?

তারা- খাচ্ছি
( সকালে যা খাইয়েছে তারপর গলা দিয়ে
আর কিছু কি নামে? ??)

মেঘ – কি বির বির করছ?

তারা- না কিছু না।
খেয়ে নিলাম উনি চলে গেলেন।

মেঘ – কাল কে রাতে তারার সাথে তোলা
ছবি টা দেখছিলাম।
যেটা দিয়ে অকে ব্লাকমেইল করেছিলাম।

বাবা- তুই এত রাতে ফোন দিলি।

তারা- তুমি কবে আসবে বল তো।

বাবা- আর ২-১ দিন।

তারা- আচ্ছা।
রাতে খেয়েছ?

বাবা- হুম।
তুই এখন ঘুমা

সকালে –
মেঘ – এই কয়দিন ছাদে যাওয়া হয়নি।
ছাদে যেয়ে দেখি তারা দারিয়ে আছে।
ফুল গুলা দেখছে।
ঘ্রান নিচ্ছে।
আমি ১ টা ছবি তুলে নিলাম।
মনে হচ্ছে ফুলের পাশে আরেক টা ফুল।

তারা- স্যার চোখে চোখ পরল।
উনাকে দেখেই আমি নিচে নেমে এলাম।

মেঘ – ছবি টা বার বার দেখছি।
সন্ধায় –
মেঘ – আজ নিজের কফি নিজেই
বানাচ্ছিলাম। কফি হাতে নিয়ে যেই পিছে
ঘুরলাম ধাক্কা খেয়ে গরম কফি পরল তারার
পায়ে।
তারা- ও মা!

মেঘ -im sorry sorry.
.
তাড়াতাড়ি বরফ নিয়ে তারার পায়ে
লাগালাম।
পা লাল হয়ে গেছে।
কোলে তুলে নিলাম সোফায় বসালাম।

মামনি – কিরে কি হল।
।আরে পা তো লাল হয়ে গেছে।
মিমি বল এ ঠান্ডা পানি আন তারার পা
ডুবাতে হবে।

মেঘ – মা ওষুধ আনো ওর পায়ে লাগাতে হবে।
মিমি ঠান্ডা পানি আনল।
তারার পা ডুবিয়ে দিলাম
পা মুছে ওষুধ লাগিয়ে দিলাম।

তারা- আপনি এত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন।
ঠিক হয়ে যাবে।

মামনি -( দেখে মনে হচ্ছে তারা না মেঘ ই
ব্যথা পেয়েছে)

তারা -একটু দাড়াতেই খুব কস্ট হচ্ছে উপরে
যাব কি করে?

মেঘ – কোলে তুলে নিয়ে উপরে গেলাম।

তারা- কি করছেন।
মামনি দেখছে।

মেঘ – দেখুক।
বিছানায় শুইয়ে দিলাম।
খুব ব্যথা করছে?

তারা- না তেমন না।
( আচ্ছা উনি এত চিন্তা করছে কেন? )
রাতে মামনি খাইয়ে দিয়ে গেল।
আরেক বার স্যার এসেছিল দেখতে।

সকালে –
মেঘ – অফিসে মন বসছিল না।
আচ্ছা তারা নেই কিন্তু তাই বলে আমার
অফিসে মন বসছে না কেন?
কি অদ্ভুত।
বাসায় চলে গেলাম।

মামনি – কিরে গেলি আর আসলি।

মেঘ – হুম ভাবছি কয়েক দিন অফিস যাব না।

মামনি – কেন?

মেঘ – এমনি.
উপরে যাই।

মামনি – বুঝছি তারা অফিসে নেই তাই।
কিন্তু মুখে কিছু বলবে না।

মেঘ – রুমে ঢুকে দেখি তারা হেডফোন এ গান
শুনছে।

তারা- আপনি?
এই সময়।

মেঘ – তোমার কি সমস্যা?

তারা- না তা না।

মেঘ – রুমে যেয়ে চেঞ্জ করলাম।

তারা- কিছুক্ষন পর পর ই আমাকে দেখতে
আসছেন ব্যপার কি।
বিকালে –
মেঘ – কি ব্যপার বিছানা থেকে নামছ কেন?

তারা- আর কত বসে থাকা যায় বলতো?
সরি বলেন তো।
আমার ভাল লাগছেনা

মেঘ – হুম বুঝে ছি।
তারাকে কোলে তুলে ছাদে গেলাম।
এখন ভাল লাগছে।

তারা- জি।
।চেয়ারে বসিয়ে দিলেন।
উনি পাশে বসলেন।
ফোন দেখছিলেন।
মেঘ – তারার খোলা চুল বাতাসে বার বার
আমার মুখে এসে পরছে।
কিন্তু আজ আমার বিরক্ত লাগছেনা।
ভালই লাগছে।
তারার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।

তারা – স্যারের দিকে ঘুড়লাম।

মেঘ – তারার মুখের উপর আসা চুল গুলা কানের
পিছনে দিয়ে দিলাম।

তারা- হার্ট আবার রেস করা শুরু করে
দিয়েছে।

ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি শুরু হল।
উঠব কি করে হাটতে তো পারছি না আর
উনার এই দিকে কোনো ধ্যান নেই।

তারা- স্যার!?

মেঘ – তারার ঠোটে আংগুল রেখে ওকে চুপ
করতে বললাম।

তারা – উনার ছোয়াতে কেমন যেন অনুভব হল।

উনি আরেক্টু কাছে এসে বসলেন।
আমি শক্ত হয়ে গেলাম।
মুখ সামনে আন্তেই আমি চোখ বন্ধ করে
ফেললাম।
তার আংগুল খেলা করছে আমার চুলের সাথে।
তার নি:শ্বাস আমি অনুভব করতে পারছি।
বৃষ্টির বেগ আস্তে আস্তে বারছে।
হঠাত ই উনি আমাকে কোলে তুলে নিলেন।

ছাদের এক কোনায় খুব সুন্দর ১ টা জায়গা
আছে যেখানে অনেক বড় ১ টা ছাতা রয়েছে।
তার নিচে বসার জায়গা।

উনি ওইখানে দাড়ালেন আমাকে টেবিল এ
বসিয়ে দিলেন।

বাতাসের সাথে হাল্কা হাল্কা বৃষ্টির
ফোটা গায়ে আসছে।
মাঝে মাঝে শীতে শিউরে উঠছি।

উনি সামনে দাড়িয়ে- আমার দিকে
তাকিয়েই আছে।
কি ভাবছে বুঝতে পারছিনা।

হঠাত বিদ্যুৎ চমকে উঠল।
বিঃ দ্রঃ নিচে Next >> ক্লিক করলে পরবর্তী পর্ব পাবেন..!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *