ভালোবাসার ছোট গল্প

পিচ্চি বউয়ের কারসাজি ! সিজন ২. পর্ব – ২ (শেষ পর্ব)

সবাই সেদিন অনেক আনন্দ করলো। দুইদিন পর যখন মৌমিদের বাড়িতে ওরা সবাই গেলো বাড়ির সবাই তো অনেক অবাক।
পাগলী মেয়েটা যে এখন সত্যি ভালো হয়ে গেছে। যারা ওকে পাগলী বলতো তারা তো হিংসায় শেষ। কিন্তু কিছু তো করতেও পারছে না। ফারহান মনে মনে বললো, দেখো আমার পাগলী বউ আজ ভালো বউ হয়ে গেছে। যা আমি এই বাড়িতে বসেই ওয়াদা করেছিলাম।
মৌমিদের বাড়ি ঘুরে ফারহানদের বাড়িতেও দুদিন মৌমি আর ফারহান থাকলো।
অনেক ঘুরাঘুরি করলো।
তারপর আবার সেই ভালবাসার নীড় শহুরে বাসা।
মাঝে মাঝে এখন ও মৌমি অন্যমনস্ক হয়ে যায়। কখনও ফারহান কে দেখে চমকে উঠে, চিৎকার করে উঠে। ফারহান ওকে ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখে।
মৌমি তার নিজের মতো করে সমস্ত বাসা সাজিয়েছে। কিন্তু সবকিছুতেই বাচ্চা বাচ্চা ভাব।
ফারহান বলে, তুমি কি বড় হওনি এখনও?
— হয়েচি তো। এখন আইসক্রিম দাও।
— আবার “চ”.!
— মাঝে মাঝে বলতে দাওনা। নাহয় কেঁদে দেবো
— পিচ্চি তো দেখি সত্যিই পিচ্চি হয়ে গেছে।
— হুম মাঝে মাঝে হয়ে যাবো।
দুজনে মিলেই সারাদিন গল্প করলো আইসক্রিম খেলো।
কিন্তু পরদিন বিকালে ফারহান এসে দেখলো মৌমি বিছানায় জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছে। ফারহান কে দেখে মৌমি চিৎকার শুরু করে দিলো।
— তুমি চলে যাও, চলে যাও। আমি তোমাকে দেখতে চাইনা
— মৌমি তোমার কি হয়েছে? এমন করছো কেন?
— কাছে আসবে না, নাহলে খামচি দেবো।
— মৌমি..?
মৌমি ভয়ে বেহুশ হয়ে গেলো।
ফারহান মৌমি কে নিয়ে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে আসলো।
ডাক্তার চেকআপ করলেন, ওর সাথে কথা বললেন।
তাটপর ফারহান কে জিজ্ঞেস করলেন,
আপনার বাসায় কি আর কেউ থাকে?
— জ্বি না।
— কোন কাজের লোক?
— আগে ছিল, মৌমি মানা করে দিছে, ওর ঘর ও সামলাবে কোন কাজের মেয়ে নয়।
— মেয়েটা একাকিত্বের জন্য আগের বিষয় গুলো ওকে চেপে বসে। ও মনে মনে একটা ভয় আর ভাবনায় কাটায়, তাই এমন হচ্ছে। আপনারা বাচ্চা নিয়ে নিন।
সব ঠিক হয়ে যাবে।
— জ্বি ধন্যবাদ।
তারপর থেকে ফারহান মৌমির আপত্তি থাকা সত্বেও কাজের মেয়ে রাখলো। এক সপ্তাহ পরপর বাড়িতে গিয়ে ঘুরে আসতে শুরু করলো। তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে মৌমিকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি শুরু করলো। যাতে মৌমিকে বেশি সময় দিয়ে সব ভুলিয়ে দেওয়া যায়।
একসময় শত প্রতিক্ষা আর অপেক্ষার পর তাদের ঘরে ফুটফুটে একটা মেয়ে জন্ম নিলো।
আর আজ দেখতে মেয়েটার বয়স দুই বছর।
মেয়েটাও মৌমির মত, আইসক্রিম আর চকলেটের জন্য পাগল। মায়ের মত চিমটি ও দেয়।
বাবা মা একটু কথা কাটাকাটি করলেও, মাঝখানে এমন কথা বলে, বা এমন আচরন করে যে দুজনকে আবার সব ভুলে ভালো হয়ে যেতে হয়।
প্রতিদিন ই তাদের ঘরে আনন্দ আর হুল্লোড় চলে।
ভালোবাসা তো এমনই, বেচে থাক ভালোবাসা, বেচে থাক তাদের সুন্দর সম্পর্ক!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *