পাথরের বুকে ফুল

পাথরের বুকে ফুল ! সিজেন 2 !! Part- 30

__________________
সন্ধ্যা নেমেছে খামে ভর্তি হয়ে।চারপাশে ঘুমসুম নীরবতা বিরাজ করছে।কুন্ডুলী পাকিয়ে পরিবেশ জুড়ে জমা হচ্ছে অন্ধকার।হচ্ছে বাতাসের ঝাঁপটা।লেকের বিপরীত পাশে জ্বলছে ল্যাম্পপোষ্টের আলো।আলো ছুঁটে এসে পরছে লেকের সচ্ছ পানির বুকে।বাতাসের ঝাঁপটিতে কেঁপে উঠছে সচ্ছ পানি।সবুজ পানির বুকে ভাসছে একজোড়া তরুণ তরুণীর প্রতিচ্ছবি।বাতাস যখন ভারী হয়ে আসে।নববধূর ঘোমটার আড়ালের চোখগুলোর মতই কম্পিতো হয় সেই প্রতিচ্ছবি।পিনপিনে নীরবতা ভেঙে ওয়াসেনাত বললো,
—-“ আপনি কি ঘুমিয়ে পরেছেন??”
অরিত্রান জবাব দিচ্ছে না।সে কিন্তু মোটেও ঘুমিয়ে নেই।তবুও জবাব দিতে ভালো লাগছে না।ভালো লাগছে পিনপিনে নীরবতার মাঝে বাতাসের শব্দ।সাথে ভালো লাগছে ওয়াসেনাতের মায়া মাখানো দু একটি কথা।খানিকটা সময় বোবা ভনে থাকতে তার মন্দ লাগছে না!ওয়াসেনাত ভেবেছে অরিত্রান হয় তো ঘুমিয়ে পরেছে।বেশ খানিক সময় নীরব থেকে ওয়াসেনাত ভাবছে আর কত বসে থাকবে?এমন একটা জায়গায় কথা বলা থামিয়েছে তার ভালোই লাগছে না এখন।ইচ্ছে করছে অরিত্রানের কলার ধরে তাকে সামনের লেকে চুবিয়ে দিতে।বিরক্ত আর পরের কথাগুলো জানার তাড়নায় ওয়াসেনাতের বেশ তিক্ত একটা অনুভুতি হচ্ছে।অরিত্রানকে ইচ্ছে মতো পিটালেও তার সে অনুভুতি কমবে না।অরিত্রান যেন আজ মহা মনোবিজ্ঞানী হয়ে উঠেছে সে চট করেই ওয়াসেনাতের মনের কথা ধরতে পেরে বললো,
—-“ তুমি অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পরো।তাই তোমাকে শুনাতে চাচ্ছি না।আমি বরং নিজের প্রথম মার্ডার মানে খুনের গল্প শুনাই।”
ওয়াসেনাত রাগে ফঁস করে উঠে খুন করেছে এটা এতো ফলাউ করে বলার কি আছে!!মনে মনে অসংখ্য বার বিড়বিড় করে কিছু গালি দেয় ওয়াসেনাত।অরিত্রান উঠে বসে।পাঞ্জাবীর হাতা উপরে তুলতে তুলতে সে বললো,
—-“ তুমি যে মনে মনে বিড়বিড় করে গালি দিতে পারো এটা আমি ভাবতে পারিনি।”
ওয়াসেনাত চমকায়।সাথে লজ্জিত হয়ে উঠে।নিজেকে স্বাভাবিক করে সে বললো,
—-“ কই গালি দিলাম??”
অরিত্রান ভ্রু কুঁচকে বললো,

—-“ গালি দেও ভালো কথা।মনে মনে দেও কেনো??যাকে দিচ্ছ তাকে শুনিয়ে দেওয়া উঁচিত।এখন বলো আমি শুনছি।”
ওয়াসেনাত কঠাক্ষ করে বললো,
—-“ আমি কাউকে গালি দিনা।প্রচন্ড ভদ্র মেয়ে আমি।সাথে আবার ভালো ও।”
অরিত্রান হাসলো।বললো,
—-“ আর বসে থেকে কি করবে চলো!!”
ওয়াসেনাত একটু রেগে তাকালো।অরিত্রান ভয় পাওয়ার ভাব নিয়ে বললো,
—-“ বাপরে কি আগুন!!”
ওয়াসেনাত তেজি গলায় বললো,
—-“ আপনি সম্পূর্ন স্টোরি শেষ করেন তারপরই যাবো।”
ওয়াসেনাত নাছোড়বান্দা।অরিত্রান পড়েছে মহা বিপদে।না পেরে সে বসে পরেছে জীবন থেকে নেওয়া গল্প শুনাতে।
—-“ সেদিন ঈদ ছিলো।ছোট অরিত্রান তার বন্ধুর বাসায় ছিলো।এখন অবশ্য সেই বন্ধুর নাম মনে নেই।বিকেলে বাসায় এসে দেখেছি মা আর বাবা পাশাপাশি ফ্লোরে পরে আছে।কিন্তু তারা জীবিত ছিলো।এতো এতো রক্ত ছিলো ফ্লোরে ছোট অরিত্রান নিতে পারলো না।সেও ফ্লোরে লুটিয়ে পরেছে।জ্ঞান ফিরেও সে দেখেছে মা জীবিত ছিলো।বাবার কালো শার্ট, ব্লেজার মায়ের গায়ে।বাবা মায়ের একদম পাশে শুয়ে আছে।একটা হাত মায়ের উপরে।আমি দৌড়ে গিয়ে ছিলাম।মাম্মাম মাম্মাম বলে চেঁচাচ্ছিলাম।মায়ের গলা কাঁটা।লাল লাল রক্ত।এতো রক্ত আমি জীবনে দেখিনি।গলা থেকে ফঁস ফঁস করে রক্ত এসে পরছে আমার মুখে।মা বহু কষ্টে বলেছে,অরি তোমার আলমারিতে একটা ব্যাগ আছে।তা নিয়ে পালিয়ে যাও।কথাগুলো তিনি মোটেও ভালো করে বলতে পারলো না কিন্তু আমি সব বুঝে নিয়েছি।উপরে উঠতে চাই নি।মা জীবনে প্রথম আমার গায়ে হাত তুলেছে।ধাক্কা দিয়ে আমাকে উপরে যেতে বলেছে।গালে কষে এক থাপ্পড় ও দিয়েছে।আমি কেঁদেছি।শেষবার কেঁদেছি।মাও কেঁদেছে।খুব কষ্ট হচ্ছিলো তার।এতো কষ্ট আমি নিজের চোখে দেখেছি।আমার গালে মায়ের রক্তে রাঙা ছিলো।তার হাতের স্পর্শে ছিলো রক্তের গন্ধ।গরম তাজা রক্ত।
অরিত্রান উত্তেজিত হলো না।একটু কান্নাও করলো না।শুধু তার চোখ লাল হয়ে আছে।খুবই শান্ত তার ভাবমুর্তি ওয়াসেনাত কান্নায় ভেঙে পরেছে।অরিত্রান মাথা একবার কাত করে হাসলো।বলে,
—-“ তুমি খুব নরম মনের পরীজা।কাঁদবে না একদম।তাহলে আর বলবো না।”
ওয়াসেনাত দু’হাতে মুখ চেপে ধরে।অরিত্রান আবার হাসে।তারপর আবার বললো,
—-“ বাবার সাথে কথা হলো না।শেষবার কথাটা ও বলতে পারলাম না।আর মা তো আমাকে তাড়াতে ব্যস্ত।আমি উপরে গেলাম।আলমারি খুলতে পারলাম না।আমি তখন হাইটে ছোট ছিলাম।আবার ছুটে আসলাম মায়ের কাছে।সাদা পাঞ্জাবী লাল হয়ে আছে আমার।রক্ত দেখে নিজেরই ভয় লাগতো একসময়।কিন্তু সেদিন আর ভয় লাগলো না।আমি মায়ের কাছে গেলাম।সে হাঁফাচ্ছে গলা চেপে।সবুজ চোখে তার পানি।আমাকে দেখেই উত্তেজিত হয়ে বললো,অরি কেনো যাচ্ছোনা তুমি??পালাও বাবা।ওরা তোমাকে খুঁজতে আসবে।যাও।মাকে বললাম,মাম্মাম আই উইল নোট লিভ ইউ!!” মায়ের বাংলা খুব প্রিয় ছিলো।দেশটাকে তিনি বাবার মতো ভালোবেসে ফেলেছে।আমি ইংলিশ মিউিয়ামের স্টুডেন্ট ছিলাম।মা কখনোই আমাকে সেখানে পড়াতে চায় নি।বাবার ইচ্ছেতেই ভর্তি হতে হয়েছে।আমি বেশি ইংলিশে কথা বললে মা রেগে যেতো।মৃত্যুর শেষ মুহূর্তেও তিনি রেগে গেলেন।বললেন,অরি এই ভাষায় কথা বলবে না।ব্যাগ কই??”
আমি আবার ইংলিশে বললাম,ma’am,i can’t open the cupboard.মা আর রাগলেন না।কাছে টেনে একটা চুমু খেলেন কপালের মাঝে।সে কাঁদছে।আমিও কাঁদছি।মা আবার আমাকে উপরে যেতে বললো।সাথে বললো,টুলে উঠে বা চেয়ারে উঠে যাতে খুলি।গেলাম উপরে।মায়ের ড্রেসিং টেবিলের টুলে উঠে খুললাম।একটা স্কুল ব্যাগ পেলাম।কাঁধে ঝুলিঁয়ে মায়ের কাছে আবার ছুঁট লাগালাম।তার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষন।মায়ের একটা আঙ্গুল ছিলো দরজার দিকে।সে আমাকে হয় তো বলছে অরি গো।আমি বেরিয়ে এলাম।রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগলাম।মানুষ আমাকে দেখেই দুরে দুরে হাঁটা শুরু করলো।গায়ে রক্ত।জামা ময়লা।প্রথম দিন একটু কেঁদেছি।তারপরে আর কাঁদিনি।ক্ষুধার জ্বালায় আর কান্না এলোনা।বার বার মনে পরছিলো মায়ের হাতের খাবারের কথা।আমাদের ডাইনিং ভর্তি খাবারের কথা।বাবা মা ,কাজের মেয়ে সবাই আমার পিছনে ঘুরতো খাবার নিয়ে সেই আমি ক্ষুধার্ত ঘুরছি।গলিতে গলিতে ঘুরছি।এসে দাড়াচ্ছি খাবারের দোকানে।এতো খাবার ওদের কাছে তবুও একটু দিলো না !!তখন খুব খারাপ লাগছিলো।ছোট অরিত্রান শুধু ভাবছে তাদের বাসায় কেউ এলে তো তাদের তার মা অনেক খাবার দিতো।তাদের জামা ময়লা থাকলে তো আরো বেশি দিতো।কিন্তু তাকে কেনো দিচ্ছে না।ছোট অরিত্রান ভেবেছিলো ময়লা জামা দেখেই সবাই বুঝবে এ ক্ষুধার্ত।কিন্তু সে ভুলছিলো।ছোট অরিত্রানকে ছোট থেকেই দিতে শিখানো হয়েছে নিতে নয়।হাত বাড়ানো সে শিখেনি।সে চেয়েও কাউকে বলতে পারছেনা আমাকে খাবার দেও। কারন তার বাবা বলেছে এভাবে চাইতে নেই।মহান আল্লাহ দেওয়াকে পছন্দ করে হাত বাড়িয়ে নেওয়াকে নয়।সে তাই মানছে।ঘুমিয়েছে ফুটপাতে।কুকুরের সাথে।তখনি মনে পরে আমার একটা পোষা কুকুর ছিলো নাম মুগলী!তাকে দু’দিন থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।কথাটা ভেবে আবার মন খারাপ হচ্ছে তার।ক্ষুধা বড় জিনিস।এই জিনিসটার জন্যইতো এতো কিছু।খুব ক্ষুধা নিয়ে অরিত্রান খাবার ভিক্ষা চাইলো।কিন্তু তারা দিলো না।ছুঁড়ে দিলো রাস্তায়।সেদিন থেকে মানুষ চিনতে শুরু করলো অরিত্রান বিন্দু বিন্দু করে তৈরি হলো ঘৃণা।অনেকের কাছে গেলাম সবাই চায় টাকা।টাকা আর টাকা।একজন অবশ্য শেষে খাবার দিয়েছে একটা রুটি।জীবনের মোড় ঘুরলো ইমান চৌধুরীকে রাস্তায় দেখে।আমাকে তার বাসায় নিয়ে গেলো।পরিচয় হলো ইহানের সাথে।ইমান চৌধুরী বাবার বিজনেস পার্টনার।আমাকে খাওয়ানো হলো।জামা দেওয়া হলো।ইহানের জামা।বয়সে বড় ইহান।অনেক দিন পরে এতো ভালো খাবার দেখে আমার বুক ভারী হয়েছে।খাওয়া হলো।ইমান আঙ্কেল যত্নের কোনো অবাব রাখলেন না।ইহান হলো আমার নতুন বন্ধু।মাঝ রাতে ব্যাগটা খুলার কথা মনে পরলো।খাবারের চিন্তায়।এতো দিন সব ভুলেছিলাম।এখন আবার মনে পরে গেলো মায়ের কথা।ব্যাগ খুলে অবাক হলাম আমি।এতো এতো টাকা!গয়না!আর কাগজ দেখে আমি কিছুই বুঝলাম না।কিন্তু পাশে শুয়ে থাকা ইহান সব বুঝেছে।দুদিন পর সে বিনোয়ের সাথে ব্যাগটা তার কাছে রাখতে বললো।মায়ের বলা শেষ কথা এই ব্যাগই ছিলো।তাই দিতে নারাজ ছিলাম।বুঝিয়ে কৌশলে সে নিয়ে নিলো ব্যাগ।ভয়টা শেষবার পেয়েছিলাম তখন।দিতে চাই নি।সে ছিনিয়ে নিল।তখনও বুঝিনি ওই ব্যাগ আমি বাদে ও ওদের কাছে এতো মূল্যবান কেনো ছিলো।পরে বুঝেছি সবই টাকার খেলা।কিছুদিন পরেই শুরু হলো অত্যাচার।ইহান আমার সাথে ঘুমাবে না।আমার জায়গা হলো নিচে।তাও দরজার সামনে।খাবার দেওয়াও কমিয়ে দিলো।আরো কত কি।তবে তাদের ছেড়ে দিয়েছি।শত হক কিছুদিন খাইয়েছে আশ্রয় দিয়েছে বলে কথা!
সব দরজা যখন বন্ধ তখন এসে হাজির অরহাম খান।সে গভীর শোকে তলিয়ে আছে।তার একমাত্র ছেলে আজ নেই।বংশের প্রদীপ আমি।সে আমাকে নিয়ে যাবে।অদ্ভুত ব্যাপার আমাকে দিতে নারাজ ইমান চৌধুরী।সাথে ইহানও।তারা নাকি আমার মায়ায় পরেগেছে।যাই হোক ইহান রাখতে চেয়েছে তার চাকর বানাতে কিন্তু ইমান কেনো রাখতে চাইলো তা এখনো জানা নেই।অরহাম খান শক্ত মানুষ সে নিয়েই এলো তার রাজ বাড়িতে।দুঃখ শেষ হলো এতো তাড়াতাড়ি ব্যাপারটা অবাক করার মতো।কিন্তু আমি শেষ হতে দিলাম না।সরকারী স্কুল কলেজে লেখাপড়া করলাম।নিজের মতো চলা শুরু করলাম।দাদার টাকা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম।ভয়ংকর হয়ে উঠলাম ধীরে ধীরে।স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পারি জমালাম।কেউ বন্ধু হতে চাইলো না।দূরত্ব বজায় চলে।কারন জামা কাপড় ভালো না।আমি কারো সাথে কথা বলিনা।আমার চোখ দেখেই ভয় পায় তারা।আরো কত কি।পরিচয় হলো রিমনের সাথে।বাবা মা নেই তারও।নিজের চাচার টাকায় কলেজ পর্যন্ত পরেছে।সেও আমার মতো।কিন্তু সে গম্ভীর না।মজার।প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতো শুধু আমাকে একবার হাসানোর জন্য।বেচারা ব্যর্থ ।সবই ভালো চলছিলো।কিন্তু ঝাঁমেলা হলো আমাদের রুমের একটা ছেলেকে নিয়ে।সে বড় মাফিয়ার ভাই ছিলো।ড্রাগ নিত।সেই ড্রাগের চক্করে ফাঁসানো হলো আমাকে।তার ভাই নিজেই আমার সাথে কথা বললো।তার না কি আমাকে দারুন লেগেছে।এমন শক্ত কলিজার ছেলে তিনি আর দেখেনি।আমার জীবন অন্যদিকে ঘুরে গেলো।পুলিশ প্রচুর মেরে বডিও শক্ত করে দিয়েছে।অরিত্রান খানের এত নিশ্চুপতার কারন ছিলো নিজেকে তৈরি করা।টাকা আর টাকার পাহাড় করা।ক্ষমতা তৈরি করা।অরিত্রানের নামে যাতে মানুষ কাঁপে সেই ব্যবস্থা করা।আর এই সব কিছুর পিছনের কারণ বাবা মায়ের খুনিকে খুজে বের করা।”
অরিত্রান থামলো।ওয়াসেনাত কেঁদে টইটুম্বুর হয়ে আছে।হঠাৎ সে বললো,
—-“ আপনি কি মাফিয়া ডন??”
অরিত্রান শব্দ করে হেসে বললো,

—-“ না।আমি প্রথমে মাফিয়ার সাথে কাজ করলেও আমি মাফিয়া না।যার সাথে কাজ করেছি তার নাম মার্ক ছিলো।আমার কাজ এক মাফিয়ার সাথে আর এক মাফিয়ার ডিল করিয়ে দেওয়া।একবার একজন টাকা দিয়েছে কিন্তু জিনিস পায় নি।সে আমাকে জানিয়েছে আমি প্রতিপক্ষকে পিটিয়ে টাকা উসুল করে দিয়েছি।এরপর থেকেই কালো বাজারে অরিত্রানের নাম হাওয়ায় ভাসতে লাগলো।অরিত্রানকে ছাড়া কেউ ডিলে সাইন করবে না।সবার চাই অরিত্রান।এতে দারুন লাভ হচ্ছিলো আমার।মার্কের চাইতে আমি বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেলাম।এটাই মার্কের পছন্দ হলো না।সে আমাকে সরিয়ে দিতে চাইলো।রাতে আমারই ঘরে আমাকে মারতে চাইলো।কিন্তু আমি যে কি তা তখনো মার্ক জানতো না।নিজেকে বাঁচাতে আমি প্রথম খুন করেছি।মার্কে মেরেছি।কেঁটে টুকরো টুকরো করেছি।প্রথমে খুব খারাপ লাগছিলো কিন্তু রক্তের নেশা যে কি বুঝানো দায়।সেই থেকে মানুষ মারতে ভালো লাগে।জমানো টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি।আর আজ আমি সফল।আজ অরিত্রান খানকে সবাই ভয় পায়।সমীহ করে চলে।তার কারন অর্থ ,ক্ষমতা,আর জীবনের ভয়।তারা যানে অরিত্রানের দয়ামায়া,দূর্বলতা নেই।সে সব পারে করতে।আর মানুষ মারার ব্যাপারটা ভালো লাগে।কথা না শুনলেই শুধু মারি।নিরিহ মানুষের সাথে আমার তেমন সম্পর্ক নেই।আরো একটা কাজ বাকি।ওই ভিডিও পেলেই হবে।অনেক খুঁজেছি।যে এই কাজ করেছে সে সাধারন না।সব প্রমান দারুন আইডিয়া দিয়ে গায়েব করেছে।এতো খুঁজলাম পেলাম না।অনেক বছরের কাহিনী তো।পেলে তার কি হবে এই অরিত্রান নিজেই জানে না।
_______________________
রিমি পাইচারী করছে বারান্দায়।তার পরনে গোলাপি কাতান।চোখেমুখে তার গভীর চিন্তা।শুধু চিন্তা না রিতি মতো তার কান্না করতে ইচ্ছে করছে।নীড়া গম্ভীর মুখে বসে আছে বারান্দার সোফায়।তারও খারাপ লাগছে রিমির অবস্থা দেখে।রিমি বার বার কল করছে কিন্তু বিপরীত পাশের কেউ কল রিসিভ করছে না।রিমি এবার কেঁদেই দিলো।ফুঁফিয়ে ভাসছে সেই কান্নার শব্দ।ভেঙ্গে আসছে গলার কন্ঠস্বর।ঠিক তখনই অরূপ ব্যালকুনিতে ঢুকে।সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রিমির দিকে।রিমির মুখ লাল।চোখে পানি।কাঁদছে কেনো??অরূপ এগিয়ে গেলো।হাত রাখলো রিমির পিঠে ভাইকে দেখে রিমি চমকালো না।জাপ্টে ধরে বললো,
—-“ ভাই আমি এই ছেলেকে বিয়ে করবো না।প্লিজ কিছু কর।”
অরূপ যানতো এমন কিছু রিমি বলবে।আজ রিমিকে দেখতে এসেছে তার বাবার বন্ধুর ছেলে।তাদের বেশ পছন্দ হয়েছে।কিন্তু রিমির মুখ ভার দেখেই অরূপ বুঝতে পেরেছে কিছু একটা আছে।তার ধারনাই সত্য হলো।অরূপ কোমল গলায় বললো,
—-“ ছেলেটা কে??”
এই কথাটায় চমকালো রিমি।তার ভাই এতোটা বুঝবে সে ভেবে পায় নি।তখনই হাতের ফোনটা বেজে উঠলো।রিমি উত্তেজিত হয়ে রিসিভ করতেই রিমন হে হে করে হেসে বললো,
—-“ স্যরি আসলে আমি কাজে ছিলাম।”
রিমি রেগে বললো,
—-“ নিকুচি করি তোমার কাছের।আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে আর তুমি আছো তোমার কাছ নিয়ে।”
রিমন আকাশ থেকে পড়ে বললো,
—-“ বিয়ে মানে??”
রিমি দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
—-“ কচি খোকা তুমি??বিয়ে মানে যানো না??যাও আমার বিয়ের কার্ড দিয়ে আসবো।তুমি বরং আমার বিয়েতে গান ধরিও।আমার গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে!!!গাঁধা একটা!!”
রিমন এখনো শক্ট ।সে বললো,
—-“ তোমার কথা শুনে আমার মাথা ঘুরছে।”
রিমির রাগ আরো আগুন।চেঁচিয়ে সে বললো,
—-“ মাথা কেনো শুধু সব ঘুরুক আমার বাপের কি।জাহান্নামে যাও তুমি।তোমার মতো আহাম্মকের প্রেমে পরে জীবনা আমার শেষ।”
রিমন নিজেকে সামলাতে ব্যস্ত।অরূপ ফোনটা রিমির থেকে নিয়ে কানে ধরে।বললো,
—-“ নাম কি তোমার??”
রিমন অবাক হয়ে বললো,
—-“ তোমার গলা ছেলেদের মতো কেনো শুনাচ্ছে??তুমি কি টেনশনে ছেলে হয়ে যাও??”
অরূপ বিরক্ত।একটু উচ্চ শব্দে সে বললো,
—-“ আমি রিমির ভাই অরূপ।”
রিমন মনে মনে বিড়বিড় করে,অরিত্রানের প্রেমের ভিলেন!!অরূপের মেজাজ খিঁচে আছে।মনে মনে ভাবছে তার বোন এই কার সাথে প্রেম করছে??রিমন নিজেকে পরিপাটি করে সে বললো,
—-“ আমার নাম রিমন আহমেদ।”
—-“ ভালো ।আমার বোনকে ভালোবাসো??”
রিমন লজ্জিত গলায় বললো,
—-“ হ্যা।”

—-“ বাবা মাকে নিয়ে কালকে চলে আসবে সন্ধ্যায়।”
রিমন বললো,
—-“ আমার বাবা মা নেই।এক ভাইয়ের মতো বন্ধু আছে আর এক দাদা আছে।”
অরূপ শান্ত গলায় বললো,
—-“ তাতেই হবে।নিয়ে আসবে তাদের।আর হ্যা কাজ কি করো??”
—-“ খান গ্রুপের ডিএমডি।”
অরূপ অবাক হয়ে বললো,
—-“ এতো অল্প বয়সে??না কি তোমার বয়স বেশি??”
রিমন হেসে বললো,
—-“ আমি তো এমডি ছিলাম।কিন্তু অরিত্রান চলে এসেছে তাই আমি অন্য জায়গায় সিফ্ট হয়েছি।”
অরূপ বিস্ময়ে বললো,
—-“ নাম ধরে বলছো??”
—-“ আরে ওই তো আমার ভাই।”
অরূপ বোনের দিকে একবার তাকিয়ে বললো,
—-“ আচ্ছা তাহলে এসো।আমি মা বাবার সাথে কথা বলে রাখবো।”
রিমন সংক্ষেপে বললো,
—-“ আচ্ছা।
রিমি মহা খুশি ।লাফিয়ে ভাইকে জড়িয়ে সে বললো,
—-“ ধন্যবাদ ভাই।”
অরূপ হাসলো।তারপর বললো,
—-“ আমার প্রয়োজনেও হেল্প করতে হবে।”
রিমির খুশি মুহূর্তে মিলিয়ে গেলো।তার মনে একটু ভয় হচ্ছে।না জানি কি চায় তার ভাই সেই ভয়ে।”
_______________________
নীরব নীরব পরিবেশ ভেঙে ওয়াসেনাত বললো,
—-“ এবার যাওয়া উঁচি।”
ওয়াসেনাত উঠে দাড়ালো।কিছু দীর্ঘশ্বাস বুক ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে।সে ভেবে পাচ্ছে না একটা লোকের অতীত কত মর্মান্তিক।সেই অতীত আবার সে বর্ণনা করেছে ।কিন্তু তার চোখে মুখে কোনো দুঃখ নেই।কোনো কান্না নেই।কি অদ্ভুত!!এতোটা কঠোর মানুষ হয়!!তার জানা ছিলো না।অরিত্রান ওয়াসেনাতের হাত চেপে ধরে।ওয়াসেনাত ভ্রু কুঁচকে মাথা ঘুরিয়ে তাকায় বলে,

—-“ কিছু বলবেন??”
অরিত্রান ওয়াসেনাতের হাত ছেড়ে হাসে।উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো,
—-“ তুমি তো এখনো আমার সম্পর্কে আসল কথাগুলোই শুনলে না।”
ওয়াসেনাত অবাক হয়ে বললো,
—-“ আরো বাকি আছে??”
—-“ হুম বাকি আছে।”
—-“ আজ কি সারা রাত বসিয়ে রাখবেন??”
অরিত্রান ঠোঁট কামড়ে বললো,
—-“ উহু!বসো তো।”
ওয়াসেনাত বসলো।অরিত্রান তার মুখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো।অন্ধকারে তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না।তবুও সে তাকিয়ে আছে।কয়েক সেকেন্ড বাদে অরিত্রান বললো,
—-“ আমি মানুষ হিসেবে খারাপ।খুব বাজে বলা চলে।বাজে কাজের মধ্যে নারী সঙ্গ বাদে সব গুলোর সাথেই আমি পরিচিত।আমি মদে ডুবে রাত পার করি।মানুষের শরীর খন্ডে খন্ডে ভাগ করে রক্তের সাথে খেলি।জীবনে প্রথম আজ আমি এতো কথা বলেছি।আমি কথাও কম বলি।ড্রাগ নিনা।তবে অনেক ধরনের মদ খাই।কাজে ডুবে থাকি।বোরিং,আকড়ু,রুডি ,বদ মেজাজি,খারাপ দয়ামায়াহীন একটা পাষাণ্ড হৃদয়ের মানুষ।অনুভুতিরা তেমন কাজ করে না।এমন একটা মানুষ হয়েও তোমাকে কিছু বলতে চাই।মানুষ আমার কথা শুনতে লাইন ধরে থাকে আজ প্রথম আমি কারো সামনে নিজের কথা ব্যক্ত করছি।সেই কারো ,হচ্ছ তুমি।”
অরিত্রান থামে।দম নেয়।ওয়াসেনাতের কুঁচকানো ভ্রু আরো কুঁচকে এসেছে।বুক অজানা কারনে ধুকপুক করছে।অরিত্রান জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
—-“ প্রেম ভালোবাসা রূপ কথার মতো হলেও এর একটা বিশাল প্রভাব আছে জীবন চক্রে।আমার মুখে এই ধরনের কথা ভারী অবাক হওয়ার মতো।যানি।তুমি প্রথম নারী যাকে আমি এসব বলছি।আসলে আমি নিজেই নিজের মুখে এমন কথা প্রথম শুনছি।ভালোবাসা মানেই ভারী যন্ত্রনা।তাই নারী সঙ্গ আমি পছন্দ করি না।কিন্তু ভাগ্য বড্ড বাজে একটা খেলা খেললো আমার সাথে।আমি না চাইতেও জড়িয়ে গেলাম অর্থ বিহিন ভালোবাসায়।আমি মাদৌলি মেয়েটাকে তেমন চিনি না।তোমার ধারনা ভুল ছিলো।কিন্তু আমার ধারনা সত্য।জীবনে প্রথম জেলাস হয়েছি আমি।অরূপ নামের ব্যক্তিকে পছন্দ না আমার।খুন করতেও ভাববো না।কিন্তু আমার ভাবনার বিষয় তুমি।”
অরিত্রান আবার থামে।হাত বাড়িয়ে ওয়াসেনাতের হাত দু’টি নিজের দু’হাতের মাঝে নিলো অরিত্রান।ওয়াসেনাত চমকায়।চোখ ছোট করে তাকায় অরিত্রানের দিকে।অরিত্রানের সবুজ চোখ এই মৃদু আলোতেও জ্বলছে।অরিত্রান কোমল গলায় বললো,
—-“ তোমার বাবা নিশ্চুই আমার কথা বলেছে??তিনি আমাকে পছন্দ করে না আমি জানি।আমি কতটুকু খারাপ এটা তুমি জানো।রাইট??”
ওয়াসেনাত প্রথমে চুপ করে থাকে।তারপর মাথা নাড়ে।সে জানে।অরিত্রান আর একটু এগিয়ে এসে বললো,
—-“ আমি খুব ডেঞ্জারাস।আবার পাগল না কিন্তু।রোগী ও না।কিন্তু তুমি বাদে কারোর প্রতি তেমন দেয়া আমি দেখায় নেই আজ পর্যন্ত।সে হিসেবে আমি ডেঞ্জারাস।আমার কথা তুমি বুঝতে পারছ??”
ওয়াসেনাত মাথা নাড়ে।অরিত্রান একটু হাত চেপে বললো,
—-“ মুখে বলা যায় না???”
ওয়াসেনাত চট করে বললো,

—-“ আপনি কতটা ডেঞ্জারাস জানি না আমার আপনাকে ভয় লাগে না।”
অরিত্রান হাসলো।বললো,
—-“ তাই!!তার মানে তুমি আমাকে অপছন্দ করো না??”
ওয়াসেনাত একটু শব্দ করে বললো,
—-“ অপছন্দ করলে কি আপনার মতো বহু রূপির সাথে একা একা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসে থাকতাম??”
অরিত্রান বেশ শব্দ করে হেসে উঠে।ওয়াসেনাত মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে সে হাসির দিকে।অরিত্রান হাসি থামিয়ে বললো,
—-“ তাহলে আমাকে দিয়ে চলবে তো??”
ওয়াসেনাত বুঝলো না।প্রশ্ন করে,
—-“ মানে??”
অরিত্রান ওয়াসেনাতের আরো একটু কাছ ঘেঁষে বসে।ওয়াসেনাতের গায়ে অরিত্রান লেগে বসেছে।ওয়াসেনাত চোখ নামিয়ে বিড়বিড় করে,এতো ঘেঁষা ঘেঁষি করছে কেনো??”
অরিত্রান ওয়াসেনাতের হাত টেনে তার দিকে ঘুরিয়ে নেয়।ঠান্ডা শীতল গলায় ডাকে,
—-“ পরীজা!!”
এই প্রথম ওয়াসেনাত অরিত্রানের দেওয়া নামে জবাব দেয়।বলে,
—-“ হুম!!”
অরিত্রান হালকা হাসে তারপর ওয়াসেনাতের মাথার সাথে মাথা ঠেকিয়ে নেশাতুর গলায় বলে,
—-“ আমি প্রেম নিবেদন করতে আসিনি পরীজা!না কি ভালোবাসার প্রস্তাব নিয়ে এসেছি!আমি কিছু চাইতে তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি।তা হচ্ছে অর্থ বিহীন ভালোবাসা।আমি প্রেম করতে নয় প্রেম চাইতে বসেছি তোমার পাশে।প্রথম দেখায় প্রেমে পড়িনি।বিন্দু বিন্দু করে ভালোবাসা জমেছে মনের কোটাড়ে।আমি জানিনা কিভাবে এই কোঠিন,শক্ত,পাথরের মতো হৃৎপিন্ডে নরম ফুলের পাপড়িতে আবৃত তোমাকে রাখবো!তবুও রাখতে হবে।আমার রাতের ঘুম যে তুমি হয়ে দাড়িঁয়েছ!!
অরিত্রান চুপ করে যায়।ওয়াসেনাতের চোখে মুখে পড়ছে তার দীর্ঘ ,গভীর, উত্তাপের নিঃশ্বাস।ওয়াসেনাত কাঁপছে।কাঁপছে তার ঠোঁটজোড়া।লজ্জায় কুকঁড়ে মুখ নতো করে আছে সে।অরিত্রানের কথায় যেন মাদক আছে।ভয়ংকর সেই মাদক!!রক্তেও যেন প্রবাহমান!অরিত্রানের হাত শক্ত।সে ধরে আছে ওয়াসেনাতের দু’হাত।আজ যেন অরিত্রান খান নিখোঁজ।এ এক নতুন অরিত্রান।যার সব জুড়ে ওয়াসেনাতের প্রতি মুগ্ধতা বিরাজমান।অরিত্রান মাথা সরিয়ে ওয়াসেনাতের চোখে চোখ রাখে।ওয়াসেনাতের মাথা নত।অরিত্রান সুরে মাতালতা মিশিয়ে বললো,
—-“ ভালোবাসা কি তা জানা নেই আমার??এর গভীরতা ও বুঝি না।শুধু জানি আমি তোমার গল্পে নয় একটু বাস্তবতায় জায়গা পেতে চাই।চাই একটা ছোঁয়া।শরীর বা হাতের নয় মায়ার ছোঁয়া চাই।যে মায়ার গভীরতা মাপতে চেয়েও আমি বার বার ব্যর্থ হবো।হতে চাই আমি ব্যর্থ। বহু বার জিতেছি। ক্লাসে ফার্স্ট বয় হয়েছি।এবার না হয় একটু হারি।একটু লাস্ট হই। দুঃখ নেই।আছে বুক ভরা বিশ্বাস। ঠুনকো হলেও আমি বিশ্বাসী।হয় তো কোনো একদিন তুমি হবে আমারই।”
ওয়াসেনাতের চোখ বন্ধ।সে মনে মনে হাজার বার বলছে,
—-“ আমি হতে চাই আপনার।”
কিন্তু মুখে বলতে পারলো না।অরিত্রান ওয়াসেনাতের হাত ছেড়ে দিলো।দু’হাত বাড়িয়ে গালে হাত রাখলো।ওয়াসেনাতের নিঃশ্বাস দ্রুত চলছে।অরিত্রান ভালোবাসায় ভেজাঁ কোমল গলায় বললো,
—-“ আমার কাছে জমিয়ে রাখার মতো শুধু এই ভালোবাসাই ছিলো।যা কেউ নিতে পারেনি।আমিও দিতে পারিনি।সব আজ থেকে তোমার নামে করলাম।ওয়াসুপরীজার নামে।”
ওয়াসেনাতের শরীর কাঁপছে।অরিত্রান হালকা হেসে বললো,
—-“ এই শব্দের সাথে আমার পরিচয় নতুন।কাঁপার কথা আমার তুমি কেনো কাঁপছো??”
ওয়াসেনাত চোখ খুলে তাকায়।এই প্রথম অরিত্রানের চোখে চোখ রেখে সে বললো,
—-“ আমি কখনো আগে প্রেম করিনি।”
অরিত্রান হাসলো।ওয়াসেনাতের দু’গালে হালকা আঙ্গুল ঘোঁষে নিজের ঠোঁটজোড়া ওয়াসেনাতের কানের কাছে নিয়ে বললো,
—-“ প্রেম করতে হবে না।সঞ্চিত ভালোবাসা গুলো আমার কঠিন হৃদয়ে ঢাললেই চলবে।আমার কিন্তু এক আকাশ সমান ভালোবাসা চাই।যার শেষ বলতে কিছু নেই।”

_________________________
ওয়াসেনাতকে তার বাসার সামনের গলির কাছে নামিয়ে দিয়েছে অরিত্রান।আর যাওয়া লাগবে না বলেছে সে।অরিত্রান গাড়ির পাশে হেলে দাড়িঁয়ে আছে।ওয়াসেনাত কিছু দূর যেতেই অরিত্রান ডাকলো,
—-“ পরীজা!!”
ওয়াসেনাত থমকে দাড়িঁয়ে পরে।অরিত্রানের দিকে ঘুরে মৃদু গলায় বললো,
—-“ কিছু বলবেন??”
অরিত্রান তাকিয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড।কিছুসময় পরে সে বললো,
—-“ কিছু না।যাও।”
ওয়াসেনাত অবাক হলো।অরিত্রান তাকিয়ে থাকলো।ওয়াসেনাত সামনে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে ওয়াসেনাত আবার পিছনে তাকালো।অরিত্রান আগের মতো তাকিয়ে আছে।রাস্তায় লাইট জ্বলছে।অরিত্রানের চোখে চোখ পরে ওয়াসেনাতের।দুটি চোখ এক হয়।ওয়াসেনাত সতর্ক চোখে চারপাশে তাকিয়ে দেয় এক দৌড়।ঝাঁপিয়ে পরে অরিত্রানের বুকে।অরিত্রান বিস্ময়ে হতবাক।ওয়াসেনাতের দুহাত জোড়িয়ে আছে অরিত্রানের গলা।মুখটা কানের কাছে নিয়ে ওয়াসেনাত ফিসফিস করে বললো,
—-“ মদ খাওয়া ছেড়ে দিবেন।এটা হারাম।একটা একটা করে আপনার সব খারাপ কাজ ছুটিয়ে দিবো।”
অরিত্রান বিমুগ্ধ।কথা বলার ভাষা আজ তার কাছে নেই।চাঁদও যেন হাসছে তাকে দেখে।কয়েক সেকেন্ড লেগে গেলো অরিত্রানের নিজেকে সামলে উঠতে।দুহাতে ওয়াসেনাতের কোমড় জড়িয়ে উপরে তুলে নেয় অরিত্রান।এতো ভয়ংকর অসীম দুঃসাহসের জন্য ওয়াসেনাত নিজেই লজ্জায় মিইয়ে যায়।অরিত্রান শক্ত করে জড়িয়ে চোখ বুঝে।এই অনুভুতি বলে ব্যক্ত করা যায় না আর কখনো যাবে ও না।কিছুক্ষন পরে ওয়াসেনাত আবার ফিসফিস করে বললো,
—-“ আমার যেতে হবে।”
অরিত্রানে আরো একটু শক্ত করে জড়িয়ে নেয় ওয়াসেনাতকে।নিজের দু’পা ভাঁজ করে ওয়াসেনাত গলা জড়িয়ে ধরে আরো গভীর করে।এরপর অরিত্রান নামিয়ে দেয়।ওয়াসেনাত লজ্জায় আর তাকায় না অরিত্রানের দিকে।আবার এক দৌড়ে চোখের আড়াল হয় অরিত্রানের।অরিত্রান হকবুদ্ধি হয়ে দাড়িঁয়ে ভাবে ,এটা কি হলো??
#চলবে__________