না চাইলেও তুই আমার !! Part- 17
সন্ধ্যার পর মিরার জ্বর কমলেও শরীর দুর্বল থাকে।মিরা চোখ বুজে চুপ করে বেডে হেলান দিয়ে বসে আছে।মিহান মিরার সাথে কথা বলতে শুরু করলে মিরা অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিহানের দিকে।রুমা মিহানকে কফি দিতে এসে মিরার অবস্থায় দেখে বাড়ির লোকজনকে জানায়।সবাই এসে মিরার অনেক প্রশ্ন করছে এখন কেমন আছে সে?মিরা আড়চোখে একবার মিহানের দিকে তাকিয়ে মামুকে বলে।
মিরা : মামু একটু ডেনিকে ঢেকে দেও!
মামু : ডেনিকে দিয়ে কি করবি তুই এখন?
মিরা আস্তে করে বলে।
মিরা : প্লিজ একটু ঢেকে দেও!
মামু মিরার কথা শুনে ডেনিকে ঢেকে আনে।ডেনিকে দেখে মিরা বলে।
মিরা : ডেনি কাল আমি মালয়েশিয়া বেক করবো সব ব্যবস্থা করে ফেলো!
ডেনি : মেম আপনি তো এখনো সুস্থ হননি!তাহলে?
মিরা : যা বলছি তাই করো!
ফুপি : সবে জ্বরটা কমেছে।এখন আবার পাগলামি শুরু করিস না।
মিরা : আমি যা,,,,,,
মিরা আর কিছু বলবে তার আগে মিহান রেগে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।সবাই মিহানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
মামু : শোন মামনি আমিও তো যাবো তোর সাথে কিন্তু এখানকার কাজ শেষ করতে সাত দিনের মত সময় লাগবে।কাজটা সেরে তারপর না হয় তুই আর আমি একবারে যাবো।
মিরা কিছুক্ষন ভেবে বলে।
মিরা : ঠিক আছে মামু।শুধু মাত্র সাত মনে থাকে যেনো!
মামু হেসে দিয়ে বলে।
মামু : ছেলে কখনো মায়ের কথা ভুলতে পারে।
মামুর কথা শুনে ঠোঁটে হাসি ফুঁটে ওঠে মিরার।হঠাৎ করে ঝড়ের গতিতে মিরাকে কেউ জড়িয়ে ধরে।মিরা চমকে উঠে এমন কাজে।মিরা ছাড়িয়ে নিতে নিতে বলে।
মিরা : এই কে তুমি?
মিরা ছাড়িয়ে নিয়ে তাকে দেখে অবাক হয়ে বলে।
মিরা : অনু তুমি?
অনু নিজের কান ধরে বলে।
অনু : ভাবী সরি আমি তোমার অসুস্থতার খবর শুনে আসতে চেয়ছিলাম কিন্তু আজ ক্লাস টেস্ট ছিলো।তারপর কোচিং করে বাড়ি আসতে আসতে পাঁচটা বেজে যায়।এক ঘন্টার ভিতর ফ্রেশ হয়ে তারপর ড্রাইভার আঙ্কেলকে নিয়ে সোজা তোমার কাছে চলে আসি।সরি ভাবী রাগ করো না।
মিরা অনুর চেহারার এক্সপ্রেশন দেখে হেসে দেয়।
দাদি : ও কে রে মিরা?
মিরা : ঐ যে পাগল ডাক্তার টা আছে না তার বোন।
দাদি অবাক হয়ে বলে।
দাদি : পাগল ডাক্তার কে?
মিরা : মিহান চৌধুরী!
অনু মিরার কথা শুনে খিলখিলেয় হেসে দিয়ে বলে।
অনু : ভাবী তুমি ভাইয়াকে পাগল ডাক্তার বলো।
মিরা কথা ঘুরানোর জন্য বলে।
মিরা : তোমার মম কোথায়?
অনু : মম তো সকালেই এসেছে তোমার কাছে এখন নিচে ভাইয়ার সাথে কথা বলছে।ভাইয়াকে দেখে মনে হয় ভাইয়া খুব রেগে আছে।তুমি জানো কিছু ভাবী?
মিরা : তেমন কিছু না।তুমি কোচিং থেকে ফিরে আর কিছু খাওনি মনে হয়।নীলা ওকে কিছু খেতে দেও।
অনু : না ভাবী আমি এখন কিছু খাবোনা।এখন তোমার সাথে গল্প করবো।
নীলা : তা তো হবে না পাকা বুড়ি চলো খেয়ে এসে তারপর গল্প করবে।
অনু : আমার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না সত্যি বলছি।
এরমধ্যে মিহানের মম এসে অনু কে বলে।
মম : অনু ভাবী তো অসুস্থ এখন বিরক্ত করো না কেমন।
অনু : আচ্ছা মম।
এদিকে মিরার সাথে রেগে বাড়ি চলে যায়।মিহান ওয়াশরুমে গিয়ে মাথায় পানি ঢেলে রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছে।অনেকক্ষন পরে ওয়াশরুমে থেকে বের হয়ে সারা রুমে পাইচাই করছে।এরমধ্যে রিমি এসে মিহানকে ঢেকে বলে।
রিমি : ভাইয়া কিছু খাবেন এখন?
মিহান : বিরক্ত করিস না তো যা এখান থেকে।
রিমি : ভাইয়া রাগ করে আছেন কেনো?কিছু কি হয়েছে?
মিহান নিজেকে কিছুটা শান্ত করে বলে।
মিহান : না কিছু হয়নি মাথা ব্যাথা করছে তাই।যা এখন।
রিমি : ঠিক আছে ভাইয়া কিছু লাগলে আমাকে বলেন।আমি এখন যাই।
রিমি চলে গেলে মিহান একা একা বলতে শুরু থাকে।
মিহান : কত বড় সাহস ওর বলে কি না আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।যাওয়াচ্ছি তোমায় দাঁড়াও।তোমাকে খাঁচায় বন্দী করার ব্যবস্থা করছি একটু অপেক্ষা করো। আগে একটু সুস্থ হয়ে নেও তারপর তোমার ডানা কাঁটার ব্যবস্থা করছি। তখন চাইলেও তুমি আমার থেকে পালাতে পারবেনা। আমার মনের চিলেকোঠার তোমাকে বন্দী করে রাখবো। By Hook Or By Crook.
চলবে… 🍁