গিরগিটি বর তাও আবার চুক্তি

গিরগিটি বর তাও আবার চুক্তি —পর্ব-০৬

আমার দিকে সবাই এমন ভাবে তাকিয়ে আছেন
কেন? মেয়েটা উম্মা উম্মা বলছে রিসিব করতেই।
তাইত আমি এসে বলছি উম্মা উম্মা।(আমি)
সৌরভ:- তোমাকে ফোনটা রিসিব করতে কে
বলছে?
আমি:- আমি নিজেত রিসিব করছি, এতে অনুমতির কি
আছে।
সৌরভ:- তোমার কি কোন দিন জ্ঞান বুদ্দি হবেনা।
খারাপ কাজ গুলো ভালই করতে পার, তখন ত কেও
কিছু শিখিয়ে দিতে হইনা। এর পর যদি তুমি আমার
মোবাইল রিসিব কর, তাহলে তোমার খবর আছে
কিন্তু।
আপু:- সৌরভ কি হচ্ছে? তুই ঐশির সাথে এমন ভাবে
কথা বলছিস কেন? ঐশি তুমি কাল থেকে অফিসে
যাবেনা। কারন এই বাড়ীর বউরা কোন অফিসে কাজ
করুক এইটা আমরা চাইনা। আব্বু আপনি কি বলেন?
শ্বশুড়:- হ্যা তাহমি ঠিক বলছে। (তাহমি হল সৌরভের বড়
আপু) ঐশি তুমি কাল থেকে অফিসে যেতে
হবেনা। সৌরভ, তোর পি, এ, জন্য একজন নতুন
কাওকে রেখে দিস।
সৌরভ:- এতদিন তোমাদের কোন সমস্যা হইনি? এখন
তোমাদের সবার এত সমস্যা হচ্ছে কেন? আমি এই
বিষয়টা বুঝতে পারছিনা।
শ্বাশুড়ি:- তোর সমস্যা কি আমি বুঝতে পারছিনা। আমিও
বলছি কাল থেকে ঐশি বাড়ীতে থাকুক। আরেকটা
কথা রিপা আমাকে দুপুরে ফোন করছে, আর
বলছে রিপা আবার আমাদের বাড়ীতে আসতে
চাইছে।
আমি:- আচ্ছা রিপাটা কে? এই নামের মেয়েকে ত
আমি এই বাড়ীতে আগে দেখিনি।
তাহমি:- ঐশি রিপা আমাদের বাড়ীর বড় বউ, আর
তোমাকে সৌরভ এই কথা বলেনি?
আমি:- হ্যা বলছিল আমার মনে নেই। আচ্ছা আমি
রুমে যায়।
সৌরভ:- তুমি রাতের খাবার খাবেনা।
আমি:- না, আমার খিদে নেই। বলে আমি চলে এলাম
রুমে, এসে বসে বসে ভাবছি তাহলে রিপা সৌরভের
বউ, তাহলে আমাকে সৌরভ বিয়েটা করল কেন? আমি
কি এমন ক্ষতি করছি সৌরভের। যাতে করে আমাকে
এমন জোর করে বিয়েটা করল। দুর কিছু ভাল
লাগছেনা, এখন একটু ঘুমায়, নিছে শুয়ে পড়লাম।
একটুপর সৌরভ রুমে এসেছে। এসে আমাকে শুয়া
থেকে টেনে তুলে ফেলল। আর বলছে,,
সৌরভ:- তুমি রাতে না খেয়ে থাকতে পারবে? বলে
আমার হাত ধরে নিয়ে খাঠের উপড় বসাল। আমি কিছু
বলিনি, ওর কান্ড গুলো দেখছি, আর অবাক হচ্ছি।
আমি:- কি করছেন?
সৌরভ:- চুপ করে বসে থাক। কোন কথা বলবেনা,
নাও হা কর।
আমি:- বলছিত আমার খিদে নেই। আমি এখন খাবনা।
তখনি জোর করে আমাকে খাইয়ে দিতে লাগল।
আমি আর কিছু বলিনি, কারন লাব হবেনা। সৌরভকে যত
দেখি তত ওর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি। কিন্তু মাঝে
মাঝে ওর ব্যাবহার দেখলে। যে কোন মানুষ
ওকে ঘৃনা করবে। তবে ওর মাঝে এত মায়া মমতা
বোদ কাজ করছে আমার জন্য হঠাত করে, এই
ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারতেছিনা।
সৌরভ:- তুমি কি ভাবছো আমি বুঝতে পারতেছি।
আমি:- আপনি বুঝলেন কি করে?
সৌরভ:- তুমি যে জোরে জোরে বলছ? যে
কোন মানুষ বুঝবে। নাও পানিটা খেয়ে নাও। তারপর
আমি পানি খেয়ে নিলাম। তারপর আমি নিছে গিয়ে
শুয়ে পড়লাম। আর কোন কথা বলছিনা, শুয়ে শুয়ে
রিপার কথা ভাবছি, সত্যিইকি সৌরভ বিভাহিত। এই কথা গুলো
ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে যখন ঘুম
ভাঙছে তখন দেখি আমি খাঠের উপড় শুয়ে আছি।
আর সৌরভ রুমে নেই, আমি ওঠে দেখে ঘরির কাটা
৯টা বাজে। আমি ফ্রেসহয়ে নিছে গিয়ে দেখি
সবাই এক সাথে বসে কথা বলছে, দুইটা নতুন মুখ
দেখছি। আমাকে দেখে,,
তাহলে এই মেয়ে হচ্ছে সৌরভের নতুন বউ?
একজন মহিলা আমাকে বলছে।
শ্বাশুড়ি:- হ্যা ঐশি হচ্ছে আমাদের নতুন বউ। ঐশি
এদিকে এসে ওনাদের সালাম কর?
আমি:- হ্যা আসছি, তারপর আমি ওনাদের সালাম করে
নিলাম। আমার সাথে ওরা সবাই এখন একটু ভাল ব্যাবহার
করছে।
তাহমি:- ঐশি তুমি আমার সাথে আসো, আমি
তোমাকে রান্না ঘরটা দেখিয়ে দেই। আমাকে
সাথে করে নিয়ে রান্না ঘরের সব কিছু দেখিয়ে
দিল। আমি আজ নিজের হাতে সব রান্না করছি, দুপুরে
তাহমি আমাকে বলছে, সৌরভের খাবারটা নিয়ে
অফিসে যেতে।
আমি:- ঠিক আছে, তারপর একটু সাজু গুজু করে
সৌরভের জন্য খাবার নিয়ে অফিসে গেলাম। আমি
অফিসে ডোকে দেখি আমার চেয়ারে একটা নতুন
মেয়ে বসে আছে, একদিনে একটা স্টাফ
জোগার করে নিল গিরগিটি, পারেও বটে। আমাকে
দেখে সবাই দ্বারিয়ে সালাম দিতেছে, শুধু নতুন
মেয়েটা ছারা। আমার মনে হয় মেয়েটা জানেনা,
আমার সম্পর্কে। তারপর আমি সৌরভের রুমে বিনা
অনুমতি ছারা ডোকে পড়লাম। কার সাথে জেন
খোব রেগে রেগে ফোনে কথা বলছে
অন্য দিকে ফিরে, আমি রুমে ডোকছি সৌরভ এইটা
বলতে পারবেনা হয়ত। আমি কিছু কথা শুনছি, কথা
গুলো এমন বলছে সৌরভ, তোমার জন্য আমাদের
পরিবারের অনেক ক্ষতি হয়ছে, আমি চাইনা তুমি
আমাদের পরিবারে ফিরে আসো। আমি আমার
তন্নিকে নিয়ে আসব। দেখি তুমি কি করে
আটকাতে পারো।
তখনি সৌরভ আমার দিকে ফিরে তাকিয়ে ফোনটা
কেটে, আমাকে বলছে।
সৌরভ:- ঐশি তুমি অফিসে আসলে কেন? আর কখন
আসছ? আসার সময় অনুমতি নাওনি কেন? কি হল কথা
বলছনা কেন?
আমি:- এইত এখনি আসছি, আপনার খাবার নিয়ে তাহমি
আপু আসতে বলছে আমাকে তাই আসছি।
আর আপনি ফোনে কথা বলছিলেন বলে আমি
অনুমতি না নিয়ে এসে পড়েছি। চোখ গুলো বন্ধ
করে ভয়ে ভয়ে কথা গুলো বলছি।
সৌরভ:- ভাল করেছ, এখন খাবারটা রেখে যাও তুমি,
আমি পড়ে খেয়ে নেব।
আমি:- সৌরভের কথা শুনে টাসকি খেয়ে গেলাম।
আমি দ্বারিয়ে আছি, কোন কথা বলছিনা।
সৌরভ:- ঐশি তুমি আমার কথা শুনতে পাওনি?
আমি:- শুনছিত বলে মাথাটা একটা চক্কর দিল। আর তখনি
সৌরভ এসে আমাকে ধরে সোফায় বসিয়ে দেই।
তারপর আমাকে হাল্কা পানি ছিটা দিলে আমার একটু ভাল
লাগে।
সৌরভ:- তোমার কি হইছে হঠাত করে?
আমি:- কিছুনা, আমাকে একটা চিমটি কাঠুন ত দেখি।
সৌরভ:- তোমার মাথাটা গেছে, যাও আমি ডাইভার কে
বলে দিতেছি তোমাকে গাড়ীতে করে বাসায়
দিয়ে আসতে।
আমি:- তা লাগবেনা, আমার একটা কথা জানতে ইচ্ছে
করছে।
সৌরভ:- কি কথা বল?
আমি:- এতদিন রিপা নামটা শুনছি, আজ আপনি যখন কথা
বলছেন তখন তন্নিকে বাড়ীতে নিয়ে আসতে
চাইছেন? আবার গতকাল আপনার মোবালে কেও
একজন ফোন করে আই লাভ উই উম্মা উম্মা
বলছে। আসলে আপনি কইটা মেয়ের সাথে এমন
ভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন একটু বলবেন।
সৌরভ:- ঐশি, বলে ঠাসসস করে একটা থাপ্পড় আমার
গালে বসিয়ে দিল। এখুনি তুমি এখান থেকে চলে
যাও বলছি।
আমি:- হ্যা চলে যাইতেছি, তবে নিজের চরিত্র ঠিক
করেন। বলে আমি বেড়িয়ে চলে আসছি, আমি
চলে আসতেছি তখনি সজলের সাথে দেখা।
সজল:- ঐশি কেমন আছো তুমি?
আমি:- ভাল, আপনি কেমন আছেন?
সজল:- ভাল, তবে তুমি নাকি অফিসে আর আসবেনা?
আমি:- হ্যা ঠিকই শুনছেন। তখনি দেখি সৌরভ বাহিরে
এসে বলছে।
সৌরভ:- মিস্টার সজল সাহেব আপনার কজ গুলো
কম্পলিট করছেন?
সজল:- না এখনো কম্পলিট হইনি।
সৌরভ:- তাহলে এখানে দ্বারিয়ে আছেন কেন?
আপনার যদি কাজ করার ইচ্ছে না থাকে তাহলে চাকরিটা
ছেরে দিন। যান তারা তারি করে কাজটা শেষ করেন।
আর ঐশি তুমি এখনো এখানে দ্বারিয়ে আছ কেন?
আমি:- তাতে আপনার কি?
সৌরভ:- আমার অনেক সমস্যা। আর শোন আমার
সাথে একটা জায়গায় যেতে পারবে?
আমি:- কোথায়? তখনি সৌরভে এসে আমার হাত ধরে
টেনে নিয়ে বাহিরে এসে আমাকে গাড়ীতে বসি
গাড়ীটা এমন জোরে ছারছে ভয়ে আমার দম বন্ধ
হয়ে যাচ্ছে।
চলবে,,