1. নতুন গল্পঃ3. রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প গুলোঃডেড বডিলেখাঃ নাজমুল নিশাদ

ডেড বডি 1! লেখাঃ নাজমুল নিশাদ

ডেড বডি

লাশটির বাম স্তনটি পুরাপুরি ভাবে কেটে ফেলেছে কিলার।এবং লাশটির যৌনাঙ্গে প্রায় ৫৫ টি নিডেল পাওয়া গেছে। স্তন কেটে ফেলেছে এবং সুঁচ গুলো ঢুকিয়েছে মেয়েটিকে মেরে ফেলার আগেই।
ডাক্তার অজয় এর মুখে এমন কথা শুনে আতকে উঠে বলি,
-এতটা কষ্ট দিয়ে মেরেছে মেয়েটিকে। আচ্ছা ডাক্তার এইটা কি রেইপ কেস।

(বিঃ দ্রঃ “ডেড বডি 1! লেখাঃ নাজমুল নিশাদ” গল্পের সবগুলো পর্ব একসাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন)

-আসলে রেপ কেস না। কারন মেয়েটির জরায়ুতে বা তার যৌনাঙ্গে এমন কোন আলামত পাওয়া যায় নি। আসলে এসব খুনিদের ক্ষেত্রে ভিকতিম পারিবারিক শত্রু থাকে। অথবা ফ্রেন্ডদের মাঝেই শত্রুতার জেরেই এভাবে খুন করে ।
-মেয়েটিকে মেরে ফেলা হয়েছে কিভাবে৷
-মেয়েটির ভিতরে সাইনো ট্রাঙ্কুলাইজার পাওয়া গেছে। যেটা দিয়ে মেয়েটিকে আগে অজ্ঞান করে এনে এভাবে অত্যাচার করে। তরপরেও যখন মেয়েটি মারা যায় নি । তখন মেয়েটির মুখে দিয়ে ২৫০ মিলি প্লাস্টিকের বোতল ঢুকে দেয় একদম গলা পযন্ত। তখন মেয়েটি মারা যায়।
-এতটা কষ্ট দিয়ে কিভাবে একজন সুস্থ মানুষ মারতে পারে।
-হুম। সেইটা আমিও ভাবছি।

-আচ্ছা ঠিক আছে ডাক্তার আপনি কালকে পোস্ট মোর্ডেম এর রিপোর্ট দিয়ে দিন।
এই কথা বলে গাড়িতে করে সহকর্মীকে সাথে করে রওনা দিলাম থানায় উদ্দ্যেশ্যে।
আসলে আজকে সন্ধ্যার দিকে একটি ফোন আসে আর বলে গাইবান্ধা শহরের পুরাতন লেক এর দিকে ময়লার স্তুপের মাঝে একটি মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে। এই খবর শুনে আমি আর আমার সহকর্মীকে সাথে করে নিয়ে যাই ঘটনা স্থলে। গিয়ে দেখি লাশটির অবস্থা প্রচুর বাজে, দূর্গন্ধ ছড়িয়েছে কিন্তু মেয়েটির লাশ দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো অনেক সুন্দরী ছিলো।মেয়েটিকে প্রায় দুই -তিন দিন আগে মেরে ফেলেছে । আমি লাশটিকে ফরেন্সিক রিপোর্টে এর জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলাম ডাঃঅজয় এর কাছে। ডাক্তার অজয় লাশটির যে বিবরন দিলো, তাতে তো মনে হয় না একজন সুস্থ মানুষ এভাবে মারতে পারে একজনকে। গাড়ি চালাতে চালাতে আমার সহকর্মী রহিম সাহেব বলে উঠে,
-স্যার, আমার মনে হয় কিলার মাতাল টাইপের ।
-হ্যা। আমিও তাই ভাবছি। তবে কিলার এর সাথে মেয়েটির কোন সম্পর্ক আছে কি? নাকি খুনি মেয়েটিকে চিনেও না। এইটা নিয়েই চিন্তা করছি৷
-আমার মনে হয় স্যার যে মেরেছে সে হয়তো মেয়েটির সাথে এফ আই আর ছিলো।
-হুম। দেখি ডাক্তার অজয় আগে রিপোর্ট দিক। উনি আরো কিছু খুজে পায় কি না দেখি৷
গল্প করতে কর‍তে থানায় গিয়ে পৌছাতে পৌছাতে প্রায় রাত ১০ টা বেজে যায়। তাই থানায় আর দেরি না করে আমি বাসায় চলে যাই। আর আমার সহকর্মী রহিমকেও বাড়িতে পাঠিয়ে দেই।
আমি CID বিভাগের একজন কর্মকর্তা। আমার নাম নিলয়। যাই হোক বাসায় গিয়ে ফ্রেস হয়ে শুয়ে ভাবতে থাকি লাশটার অত্যাচার সম্পর্কে। কতটাই না অত্যাচার করেছে। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ ফোন আসে। দেখি রহিম সাহেব ফোন দিয়েছে৷ কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রহিম সাহেব বলে,
-স্যার। আপনি কই৷ আমাদের এলাকায় একটি লাশ পাওয়া গেছে। আপনি তারাতারি চলে আসেন৷
-কিহ।বলো কিহ। আচ্ছা তুমি জায়গাটা রেড ক্রোস দিতে আটকে রাখো কেউ যেন না যায়। আমি আসছি এখুনি।
আমি তারাহুরা করে রাত ১২ টার দিকে রিক্সা নিয়ে রহিম সাহেবের এলাকায় যাই। গিয়ে দেখি এই লাশটিও মেয়ের। একই দিনে দুইটি লাশ। আমার চাকুরি জীবনে এইটাই রেকোর্ড হলো। যাই হোক এই লাশটাকেও সেই রাতেই ডাঃ অজয় এর কাছে পাঠাই। এবার এই লাশটাকে পোস্ট মোর্ডেম রিপোর্ট করার জন্য আমাকেও সাথে করে রুমে নিয়ে যায় ডাঃ অজয়। লাশটির শরীর থেকে কাপড় সরাতেই ডাক্তাত অজয় বলে উঠে।
-ওহ মাই গড।
ডাক্তার এর এই কথা শুনে আমি বলি,
-কি হলো ডাক্তার।
-এই লাশটির ও বাম স্তনটি পুরপুরী কাটা। এই মেয়েটির যৌনাঙ্গের অনেক গুলা সুঁচ দেখা যাচ্ছে ।আর নিলয় এর আগের লাশটির ডান উরুতে ধারালো কিছু দিয়ে লেখা ছিলো NND। ঠিক এই লাশটিরও ডান উরুতে ধারালো কিছু দিয়ে NND লেখা।
-তারমানে ডাক্তাত এই খুন দুইটা একজন ব্যক্তি করেছে তাহলে।
-একদম।এমন কি একইভাবে এবং একই টাইমে ইভেন একই জায়গায়।
-তাহলে কি NND লেখাটি কোন ক্লু দিচ্ছে আমাদের।
-না তা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আচ্ছা লাশ দুইটি পরিবার কি থানায় কমপ্লেইন দিয়েছে?
-না। বিগত ৪ দিন কোন হারানোর কমপ্লেইন আসে নি।
-তাহলে তোমরা আগে মেয়ে দুইটির পরিবারকে খুজে বের করো।
-হুম ঠিক বলছেন ডাক্তার।
আমি ডাক্তার এর থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় আসি প্রায় রাত ৩ টার পরে। এসে ঘুমিয়ে পরি। এরপর সকালে উঠেই থানায় গিয়ে মেয়ে দুইটির সম্পর্কে জেনে নেই। একজনের নাম আরিফা আর একজনের নাম দিপ্তী । তাদের ঠিকানা খুজে বের করি। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে লাশটি পাওয়া গেছে গাইবান্ধা সদর থানায় কিন্তু তাদের বাড়ি সুন্দরগঞ্জ থানায়। দুই দিন হচ্ছে মেয়ে দুইটি বাড়িতে নেই অথচ তাদের পরিবারের কোন টেনশনে নেই। আমার সহকর্মী রহিমকে নিয়ে রওনা হলাম মেয়ে দুইটির পরিবারের সাথে দেখা করতে।প্রায় ২ ঘন্টা পর দুই জনের বাড়ি খুজে পেলাম। কারন তাদের বাড়ি একই গ্রামে। তাদের পরিবারকে তাদের মেয়ের কথা জিজ্ঞাস করি। তারা বলেছে তাদর মেয়ে ৪ দিনের একটি পিকনিকে গেছে। আজকে ফিরবে। তাদের থেকে এই কথা শুনে জিজ্ঞাস করি,
– কার সাথে পিকনিকে গেছে ?
তারা বলে,
– স্কুলের গনিত টিচার্স এর সাথে।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
তাদের পরিবারকে আর কিছু না বলে তারাতারি করে মেয়ে দুইটির স্কুলে গিয়ে স্যার এর নাম্বার নেই। স্যার এর নাম ছিলো আতিকুর রহমান। স্কুলের প্রধান শিক্ষককের সাথে আতিকুর সাহেবের সাথে কথা বলতে বলি। তখন আতিকুর সাহেব বলে উনি সত্যি পিকনিকে গেছে আরো ১২ জন বাচ্চা নিয়ে।তিনি তার প্রাইভেট এর ব্যাচ নিয়ে গেছে। এই মেয়েদুইটির ও যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু যায় নি। এবং তারা ২-১ ঘন্টা মধ্যে বাসার ফিরবো। আমি সেই স্যারকে থানায় দেখা করার জন্য বলে চলে যাই। আস্তে আস্তে মিডিয়াসহ
পুরা জেলা জানাজানি হয়ে যায় খুনটির কথা।এরপর আমরা লাশ দুটিকে তাদের পরিবারে হস্তান্তর করি । গনিত টিচার্স কে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তাকে ১দিনের রিমান্ডে পাঠাই। আর আমি ডাক্তার অজয় এর কাছে গিয়ে ফরেন্সিক রিপোর্ট নেওয়ার জন্য যাই। তখন ডাক্তার অজয় বলে,
-নিলয় আসলে আমার মনে হচ্ছে এইটা কোন সাইকো টাইপের কিলার মেরেছে। এবং তার খুনটি ছিলো গোছালো প্লান। এমনভাবে খুন করেছে যেন কেউ বুজতে না পারে।তাই কোন প্রমান রাখে নি এমনকি কোন হাতের ছাপ পযর্ন্ত পাওয়া যায় নি।
-তাহলে ডাঃ ওই NND টা তাহলে কিহ?
-আমার মনে হচ্ছে খুনি এইটা প্লান করে দিয়েছে যেন পুলিশ কোডটি খুজে হয়রানি হয়ে যায়।
-কিন্তু ডাক্তার খুনি কেন খুন করলো মেয়ে দুটিকে?
-আমার কেমন জানি মনে হচ্ছে খুনি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক এবং এই মেয়ে দুইটিকে আগে থেকেই চেনে।এবং আগের কোন শত্রুতার জেরেই।
আচ্ছা ঠিক আছে ডাক্তার আমাকে রিপোর্ট গুলো দিন।রিপোর্টগুলো নিয়ে থানায় যাই। গিয়ে সেই গনিত টিচার্স এর জবান বন্দি শুনি। সে বলেছে,
.
চলবে……… ডেড বডি …..

বিঃ দ্রঃ ” লেখাঃ নাজমুল নিশাদ ” লেখকের লেখা অন্য গল্প গুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন…………

👉আমাদের ফেসবুক পেজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *