আমার ক্রাশ বর সিজন- 2 !! Part- 47
চৌধুরী বাড়ির দুই বউ তাদের আগের জীবনে ফিরে গেছে।শুধু অনু এখনো নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
দাদী মা অনুকে বলে,”ও নাতবউ তাড়াতাড়ি এই সংসারে নতুন অতিথি আনো আর কতোদিন এ বাড়ি এমন নিরব পড়ে থাকবে শুনি? ”
অনু বলে,”বাচ্চা তো গাছে ধরে না দাদী মা সময় লাগবে! আল্লাহ যখন চাইবে তখন দিবে তার আগে এতো তাড়াতাড়ি আমি কোথায় পাবো? ”
দাদী মা বলে,”কী করবো বলো,কোনদিন যে চোখ বুজবো জানি না।তাই এই বুড়ি বয়সে এসে তোমার কাছে এই বায়না ধরেছি। ”
অনু তার দাদী মা কে জড়িয়ে ধরে বলে,”তুমি বায়না আমাদের কাছে না করলে কার কাছে করবে শুনি? তোমার ও তো ইচ্ছা করে বড় একটা পরিবার নিয়ে সুখে থাকতে! ”
এদিকে রাজের মা এসে আয়েশা বেগমের কাছ বলে,”দেখেছো ভাবী আমার মা’য়ের কতো ভাব।আমার ছেলের বউ কে ফেলে রেখে এই অনুকে নিয়ে পড়ে আছে।মনে হচ্ছে মা সাত রাজার ধন পেয়েছে।”
আয়েশা বেগম বলে,”সাত রাজার ধনের থেকে কম না আরিয়ানের বউ এটা তোমাকে মানতে হবে।”
রাজের মা বলে,”ভাবী তোমার কথার সুর দেখছি একটু অন্যরকম শোনা যাচ্ছে! ”
আয়েশা বেগম বলে,”ছেলে আমার দশটা না পাঁচটা না দুইটা মাএ।আমার সোনার টুকরো ছেলেরা হীরার টুকরো বউ পেয়েছে তাতো আমাকে মানতেই হবে।”
রাজের মা উঠে সোজা নিজের মা’য়ের কাছে গিয়ে বলে,”মা তুমি রিদি রিমি কে ছেড়ে সারাদিন অনুর পেছনে ঘুরঘুর করো কেনো? ”
রাহেলা চৌধুরী বলে,”আয়াতের বউ সারাদিন ব্যস্ত থাকে যখন সে সময় পায় চেষ্টা করে আমাদের সাথে সময় কাটাতে।
আর অনু সব সময় আমার সাথে থাকে।
যে সব সময় সাথে থাকে ভালবাসা কিন্তু পরিমানে সে বেশী পাবে এটাই নিয়ম।”
রাজের মা বলে,”তার জন্য তুমি আমার ছেলের বউকে কোনো কিছু মনে করবে না? ”
রাহেলা চৌধুরী বলে,”তোর তো থাকার কথা নিজের বাড়িতে।তুই এসে এভাবে ভাইয়ের বাড়িতে পড়ে আছিস। তোর তো লজ্জা করা উচিৎ যে,নিজের সুন্দর একটা সংসার ফেলে রেখে অন্যের সংসারে চরকি ঘুরাচ্ছিস।
তুই থাকবি তোর বাড়িতে।
এখানে মাঝে মাঝে আসবি বেড়াতে।
আমরা যাবো তোদের বাড়িতে,কিন্তু সে গুড়ে বালি।তুই এখানে এসে ইরির মায়ের কিরি কেটে বসে আছিস। ”
রাজের মা বলে,”মা তুমি আমাকে এভাবে অপমান করতে পারো না।”
রাহেলা চৌধুরী বলে,”তোকে আমি করবো অপমান? তাহলে অপমানের ও অপমান হয়ে যাবে।”
রাজের মা বলে,”মা তোমার নিজের মেয়েকে এই ভাবে বলতে পারলে তুমি?”
রাহেলা চৌধুরী বলে,”নিজের মেয়ে তো কি হয়েছে! যা সত্যি সে কথা বলতে আমার কোনো ভয় করে না।”
এমন সময় অনু বলে,”আহ দাদী মা নিজেদের মধ্যে এইভাবে কথা কাটাকাটি করার কোনো মানে হয় না।”
রাহেলা চৌধুরী সেখান থেকে উঠে নিজের রুমে চলে যায়।
অনুর রোজ রোজ এই সব ঝগড়াঝাঁটি আর নিতে পারছিল না।
তাই বিকালে আরিয়ান বাড়িতে ফিরে আসলে অনু আরিয়ান জড়িয়ে ধরে বলে,”আমার এই বাড়িতে কেনো যেনো ভাল লাগছে না।
আমি আমার আগের লাইফটা কে খুব মিস করি।”
আরিয়ান বলে,”এখন তুমি এই বাড়ির বউ!
তোমার কি আর জব করা মানাই বলো? ”
অনু আরিয়ানের মুখে এমন কথা শুনে আর কোনো কথা বলে না।রাতের খাবার খেয়ে চুপচাপ আরিয়ানের বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায়।
পরেরদিন সকালে অনু ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতো কাজ করতে থাকে।
সবাই ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে নাস্তা করতে থাকে।
এমন সময় আয়েশা বেগম অনুকে বলে,”এই যে বউমা যাও রেডি হয়ে আসো।আজ থেকে তুমিও আরিয়ানের সাথে অফিসে যাবে।”
আয়েশা বেগমের মুখে এমন কথা শুনে অনু সহ বাড়ির কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না যে উনি অনুকে এমন কথা বলতে পারে।
অনুকে আয়েশা বেগম আবার বলে,”আমার দিকে এইভাবে তাকিয়ে থাকার কোনো মানে হয় না।
আমি যা বলেছি তুমি তাই করবে আজ থেকে।”
অনু বলে,”কিন্তু শাশু মা সংসারের কি হবে? ”
আয়েশা বেগম বলে,”ভাবিয়া করিও কাজ।
করিয়া ভাবিও না।
বিয়ের আগে টাকা নিজে
ইনকাম না করে বিয়ে করা উচিৎ না।
প্রতিটা মেয়ের নিজের পায়ের নিচে
নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী মাটি রাখা দরকার। তারপর শ্বশুরবাড়িতে পা রাখা উচিৎ।
সমাজ যতো উন্নত হোক না কেনো।
মানুষের মন মানুষিকতা উন্নত হয় না।
তাই তুমি এখন ইচ্ছা করলে চাকুরী করতে পারো।তোমার নিজের একটা শক্তি আছে।
তুমি শুধু এই বাড়ির বউ না।
কারো বাড়ির মেয়ে।বিয়ের পর বাবার বাড়ির সব শিক্ষা ভুলে নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে সংসার করবা তা একদম উচিৎ না।
হ্যাঁ অবশ্যই সংসার করবা।
যখন তোমার বাচ্চা হবে পরিবার বড় হবে তখন না হয় তুমি তোমার সংসার গুছিয়ে নিও ততোদিন তো নিজের মনের মতে করে বাঁচতে শেখো।”
অনু সবার সামনে ওর শাশুড়ি মা কে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়।
রাহেলা চৌধুরী উঠে এসে অনুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,”আমি জানতাম তোমাকে আয়েশা ঠিক মায়ের মতো ভালবাসা দিবে।
তবে এই ভালোবাসা তোমার অনেক আগে পাওনা ছিলো।কিন্তু আমার মেয়ের সব কাজে নাক গলানো স্বভাবের জন্য এতো দেরি।”
রাজের মা বলে “মা তুমি সব সময় আমাকে এভাবে কথা শোনাতে পারো না।”
রিদি বলে,”শাশুড়ি মা এই ভাবে বাপের বাড়ি না থেকে নিজেদের বাড়িতে চলে গেলে তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
প্রতিদিন আপনাকে এতো কথা শুনতে হয় না।”
রাহেলা চৌধুরী বলে,”এই তো আমার নাতবউ একটা কাজের কথা বলেছে।”
রাজ বলে,”নানী কেমন কাজের কথা বলেছে রিদি তোমাকে? ”
রাহেলা চৌধুরী বলে,”রাজ নানাভাই একটা কথা বলি মাইন্ড করবি না।আমি চাই তোমরা তোমাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে চলে যাও।অনেক দিন তো হয়েছে এখানে এসে আছো।এবার তোমাদের নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়া উচিৎ। ”
রাজ বলে,”জ্বি,আমিও তাই ভাবছি।
আমরা তো অনেকদিন এখানে থাকলাম।
এবার আমাদের ফিরে যাওয়া দরকার।
রিদির নিজের একটা সংসার আছে বেচারি আজও সেই বাড়িটা দেখতে পারে নাই।
এখানে সে চড়ুই পাখির বাসার মতো সংসার পেতে বসে আছে।নানী মা তুমি চিন্তা করো না আমি বাড়িটা ঠিকঠাক করে পরিষ্কার করে সেখানে শিফট হবার ব্যবস্থা করছি।”
রাজের মুখে এমন কথা শুনে ওর মা রাগে আগুনের গোলা হয়ে নিজের রুমে ফিরে যায়।রিদি খুব খুশি হয়ে নানী মা কে জড়িয়ে ধরে।
অনু বলে,”দাদী মা রাজ,মৌ,ফুফু এনারা আমাদের সাথে থাকাতে তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না।তাহলে কি দরকার ওদের চলে যাবার?”
রাহেলা চৌধুরী বলে,”দেখো এটা তোমাদের নিজের বাড়ি।ঠিক তেমন রাজদের ও নিজের একটা বাড়ি আছে।তাই যার যেখানে স্থান তার সেখানে থাকা উচিৎ তাই এই বিষয়ে আর কোনো কথা শুনতে চাই না আমি।”
অনু একদিক খুব খুশি যে সে আজ থেকে সারাদিন আরিয়ানের আশেপাশে ঘুরঘুর করবে। আবার অন্যদিকে রাজেরা সবাই বাড়ি থেকে চলে যাবে।
সে কথা ভেবেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
রিদি অনুকে বলে,”আরে অনু মনু তুই মন খারাপ করে আছিস কেনো? তোর জন্য তো ভাল,মাঝেমধ্যে তুই আমাদের বাড়িতে বেড়াতে চলে যাবি তখন কতো মজা হবে সবাই অনেকদিন পর পর গেট টুগেদার করতে পারবো।”
অনু বলে,”সবাই একসাথে থাকার মতো মজা তো আর হবে না আমাদের সবার।
দূরে থাকলে সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব চলে আসে।”
রিদি বলে,”দূরে থাকলে সব সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব আসে না অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতা অনুভব করা যায় পাগলি। ”
আরিয়ান বুঝতে পারে এমন ভাবে চলতে থাকলে কখনো অনুর মন ভালো হবে না।
তাই আমার কিছু করা উচিৎ যাতে করে অনু এই সব কিছু ভুলে যায়।
আরিয়ান জোড়ে করে বলে ওঠে,”যদি কারো অফিসে যাবার ইচ্ছে হয় তাহলে যেনো সে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বাড়ির বাহিরে চলে আসে।আমি তার জন্য গাড়িতে অপেক্ষা করবো।নয়তো আমি তাকে রেখে অফিসে চলে যাবো বলে হনহন করে বাড়ির বাহিরে চলে যায়।”
অনু তো একদম অবাক হয়ে যায় এটা কি হলো।বউয়ের সাথে বসের মতো attitude দেখানো। তার এই attitude এর মাথায় যদি আমি পানি ঢেলে না দেই তাহলে আমার নাম অনু নাহ।
‘
‘
‘
‘
চলবে…….