অন্ধপ্রেম !! Part- 17
(#কোনোরকম গল্প পোষ্ট করার পর মা আর ছোট ভাই হাত থেকে ফোন নিয়ে যায় ,,,বলে #ভালো মেয়ে হতে হলে ফোন বেশিক্ষন ফোন ধরা যাবেনা ,,আসতেই পারিনা এফবিতে ,কি যে ঝামেলায় আছি আল্লাহয় জানে )
.
শীতল সকাল সকাল ফ্রেস হয়ে নিচে গেলো ..
নিচে গিয়ে দেখলো সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে ..চাচা খালা সবাই বেশ খুশি শুধু কাজল ছাড়া …
_সবাই এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেনো ??
চাচা আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করলো আর খালা মিষ্টি মুখ করালো আমায় …
খালা বললো…
_শুভ কাজে মিষ্টি মুখ করলে ভালো হয় ..
চাচা বললো…
_রাজের বাবা বেচে থাকলে হয়তো তিনি আজকে ময়মনসিংহের মিষ্টি এনে পুরো ঢাকায় বিলি করতো …রাজের সন্তান বলে কথা ..
রাজের সন্তান হলো এই বংশের প্রদিপ আর উওরাধিকারি …
শীতল বুঝতে পারলো সবাই বিষয়টা জেনে গিয়েছে …
মনে হয় রাজ জানিয়েছেন ..
যাইহোক ..রাজ শীতলকে মেনে নিতে শুরু করেছে ..
একদিন শীতলকে কাছে টেনে ভালো বাসবে …
সেই দিন বেশি দূরে নয় …
.
.
রাজ উপর থেকে নেমে শার্টের হাতা ফ্লোড করলো ..
রাজ একটা হলুদ শার্ট পড়েছে ..
হলুদ শার্ট রাজকে মারাত্মক লাগছে …
রাজ বললো …
_কাজল চলো তোমাকে নামিয়ে দিই ভার্সিটিতে ..
সিকিউরিটি বললো আমাকে তোমাকে কোনো ছেলে ডিস্টার্ব করছে আজকাল …
এতো বড় বুকের পাটা কার যে রাজের কাজিনকে টিচ করে …
_দাদা ভাই আমি একাই যেতে পারবো ..
তুমি বউরানিকে নিয়ে ক্লিনিকে যাও ..
দেখো কি সিচিয়েশন তোমাদের …
_বেশি বোঝ তুমি ?? আগে তোমাকে ভার্সিটি নামিয়ে দেবো তারপর ক্লিনিকে যাবো আমি আর তোমার বউরানি …
.
.
.
শীতল বললো …
কাজল চলো না আগে তোমায় নামিয়ে দিই ..তারপর না হয় আমরা যাই ..
_উফফ বাবা ..
ঠিক আছে তাই হবে ..
শীতল আর কাজল পেছনের সিটে বসেছে আর রাজ ড্রাইভারের সিটে বসে বসে ড্রাইভ করছে …
কাজলের মনটা খুব খারাপ ..
শীতল সেটা লক্ষ্য করলো ..
_কি হয়েছে কাজল ??
তোমার মোড অফ কেনো বলোতো ??
ঐ ছেলেকে তোমার দাদা ভাই শাস্তি দেবে তাই মন খারাপ ..
_আরে ধ্যাত কি যে বলো ..
এরকম আরো অনেককে শাস্তি দিয়েছে দাদা ভাই ..
আমার বেশ মজাই লেগেছে …
.
.
_তাহলে মোড অফ কেনো ??
_আসলে বউরানি তোমার কারনে মোড অফ ।
তুমি কি নিশ্চিত Are you pregnant ??
শীতল বেশ কনফিডেন্টলি বললো…
_Yes ..
I am pregnant and that’s sure .
কাজল জানালার দিকে মুখ করে তাকালো …
শীতল বেশ অবাক হলো …
হঠাৎ রাজ বললো ..
_কাজল তুমি তো সাইকোলজির স্টডেন্ট ..
তোমার তো মানুষের কার্য কলাপ বুঝতে পারার ক্ষমতা আছে …যদিও আমি এসব ভিলিব করিনা তবুও তুমি কয়েকটা প্রমান দিয়েছো ..
তাহলে বলোতো আমি কি বাবা হতে চলেছি …
.
.
.
কাজল জানালা দিয়ে তাকিয়েই বললো …
_দাদা ভাই সব ক্ষেত্রে আগে থেকে বলা ঠিক না ..
শীতল আরো চমকে গেলো ..
_মানে তুমি কি মিন করছো ??
_বউরানি আমি কিছুই মিন করছিনা …
যা হবে তা ভালোর জন্যই হবে ।
পরিবেশটা বেশ অস্থির হয়ে উঠলো..
কাজল পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বললো …
_আমি এখন বুঝতে পারছি যে ভার্সিটির ঐ ছেলেটাকে দাদা ভাই মেরে ভর্তা বানাবে এন্ড পুরো ভার্সিটির কেউ অনেক দিন পর্যন্ত আমার দিকে তাকাবেনা …
তাহলে আমাকে আর খাটুনি করে সাজতে হবেনা বিকোজ কেউ আমাকে দেখবেইনা …
.
.
কাজল কথা গুলো বলেই হেসে দিলো হা হা করে ..
রাজ আর কাজল দুজনেই হেসে ফেললো ….
.
.
.
রাজ কলেজে গিয়ে সত্যি সত্যি ছেলেটাকে আলু ভর্তা করলো ..
অন্য সব ছেলেগুলো ভয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে লাগলো ..
.
.
রাজ কাজল কে ক্লাসে দিয়ে শীতলকে নিয়ে ক্লিনিকে গেলো ..
টেষ্টও করানো হলো শীতলের ..
.
.
শীতল কে রাজ বাসায় ড্রপ করে অফিসে গেলো ..
যাবার সময় শীতল বললো ..
_আজকে অফিসে না গেলে হয়না???
_নতুন অতিথির জন্য সুন্দর ফিউচার তৈরি করতে হবে যার জন্য আমায় অফিসে যেতে হবে ..
তোমার মতো বাড়িতে বসে থাকলে বিজনেস রোডে নেমে যাবে …
শীতল বারান্দায় বসে আছে ..
তার বেশ দুঃশচিন্তা হচ্ছে কারন কাজলের কথা গুলো তাকে বেশ ভাবাচ্ছে …
কাজলের কি কোনো অলৌকিক ক্ষমতা আছে ..
শীতল এসব বিশ্বাস করেনা ..
তবুও কাজল এলে তাকে জিজ্ঞাস করতে হবে …
.
.
.
দুপুর হয়েছে শীতল খাবার খেতে বসে রাজকে কল করে বললো সে খেয়েছে কিনা ..
রাজ বললো সে মিটিংয়ে আছে ..
সে খাওয়ার জন্য অফিসে আসেনি …
শীতল কল কাটার আগেই রাজ কল কেটে দিলো …
কাজল সেই কখন ভার্সিটি থেকে এসেছে ..
নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে সে কি যেনো করছে ..
শীতল অনেক ডাকার পরেও কাজল দরজা খোলেনি আর দুপুরে খেতেও আসেনি ডাইনিংয়ে ..
যাইহোক ..
শীতলের এখন এসব ভাবলে চলবেনা ..
তাকে এখন ভালো মন্দ খেতেই হবে …
সে গো আর একা নয় …
.
.
.
বিকাল হয়েছে শীতল বেডে বিশ্রাম নিচ্ছে তখনি কাজল নক করলো …
.
.
_আসবো বউরানি ???
_হ্যাং এসো কাজল ।
_এটা দেখতো ।
কাজল একটা পেপার দিলো শীতলের হাতে ..
লালা কালি দিয়ে কয়েকটা লাইনে বর্ডার দেওয়া আছে ..
একটা বিজ্ঞাপনের মধ্যে কাজল লাল রেখা টেনেছে ..
বিজ্ঞাপনটা বেশ অদ্ভুদ টাইপ …
শীতল জোরে জোরে বিজ্ঞাপনটা পড়লো …
…আমি একজন সজ্ঞ সাথি ছাড়া মানুষ ।তাই এই বিজ্ঞাপনটা লিখেছি ।আমার নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য আমাকে কেউ সাহায্য করুন ।
আমার পত্রমিতা হয়ে আমায় কেউ সজ্ঞ দিন ।
কথা দিচ্ছি কেই বোরিং ফিল করবেননা ।
সবার জিবনে সাথি থাকা প্রয়োজন। আমি নিতান্তই একজন নিঃসঙ্গ মানুষ তাই আমাকে কেউ দয়া করে এই নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তি দিন ….
.
.
শীতল বিজ্ঞাপন টা পরেই কাজলের মতো হাসতে শুরু করলো খিল খিল করে …
.
.
_তুমি হাসছো কেনো বউরানি ???
_হাসবোনা কি বলো ??
ডিজিটাল যুগে কেউ কি চিঠি লিখে নিঃসঙ্গতা দূর করে ??
কত কিছুই তো আছে যা খুব সহজেই মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে …
যে বিজ্ঞাপনটা দিয়েছে সে একটা পাগল ছাড়া কিছুই না ..
.
.
_বউরানি মোটেও তা না ..
আমার মন বলছে লোকটা পাগল না ..
সে নিঃসজ্ঞতায় ভুগছে ..
_কাজল তুমি কি এই লোককে চিঠি লেখার কথা ভাবছো ??
মোটেও এসব করবেনা …
#দেবী উপন্যাস পড়োনি ?? #হূমায়ুন স্যারের এই উপন্যাসে একটা পাগল এরকম বিজ্ঞাপন দিয়েছিলো ।
#নীলু সেই পাগলের পাল্লায় পড়েছিলো …
_বউরানি আমি নীলু নয় আমাকে ফাসানো সস্তা নয় ।
আজ পর্যন্ত আমি লোকেদের আমার প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছি মান লোকে বাধ্য হয়েছে ।বাট কখনো আমি ফাসিনি …
কাজল পেপার কাটিং টা নিয়ে চলে গেলো রুম থেকে ..
.
.
.
শীতল বেশ অবাক হলো এরকম ভিহেব দেখে কাজলের …
শীতলের এরকম একটা এক্সপিরিয়ান্স আছে ..
সে যখন স্কুলে পড়তো তখন একটা ছেলের পেন ফ্রেন্ড হয়েছিল ..
বান্ধুবিদের পাল্লায় পড়ে ফ্রেন্ড হয়েছিলো শীতল ..
সেই ফ্রেন্ড বিদেশে থাকে ..
একদিন হঠাৎ পেন ফ্রেন্ড চিঠি লিখে জানায় সে শীতলের সাথে দেখা করতে তাদের বাড়ি আসবে ..
শীতল তো ভয়ে শেষ ..
দেখা করতে আসলে বাবা আর রোদ ভাইয়া তাকে আস্তো রাখবেনা …
শীতল বেশ শান্ত সরল মেয়ে সেটা সবাই জানে …
.
.
.
তখন একটা বিস্রি কান্ড হয়েছিলো শীতলের সাথে ..
শীতল তার পেন ফ্রেন্ডকে চিঠি লিখে ফ্রেন্ডশিপ নষ্ট করার কথা বলেছিলো …
ছেলেটা রেগে শীতলকে বেশ গালাগাল করে চিঠি লিখে ছিলো ..
চিঠিতে লিখেছিল …
..
বান্ধবি শীতল তুমি আমার সাথে এমন করলে ভাবতে পারছিনা ..
মনে রেখো তোমার জিবনে এমন একটা ঘটনা ঘটবে যস তোমার জিবন পাল্টে দেবে ..
এটা একটা এতিম ছেলের অবিষাপ ..
সে সময় শীতল বেশ ভয় পেয়ে ছিলো …
বাট তার বান্ধবিরা তাকে শান্তনা দিয়ে বলেছিলো এসব অবিষাপ বলে কিছু হয়না…
শীতল ভাবছে মনের অবিষাপ বলে কিছু হয় ..
সে কারনেই সে রাজের হাতে ধর্ষন হয়েছে ..
রাজ তাকে বার বার ধর্ষন করেছে …
অথচ সেই রাজকেই এখন সে ভালোবাসে …
প্রথিবী বড়ই বিচিত্র তার থেকে মন বড় বিচিত্র ..
মন কি চায় তা মনও জানেনা …
.
.
.
শীতল তার পেটে হাত দিয়ে বললো …
বাবা তুই তাড়াতাড়ি এসে পর তাহলে তোর মায়ের চোখের পানি কিছুটা থামবে ..
কবে আসবি বাবা ????
,💓💓💓💓💓,,,,,আকাশে ভেসেছে তারার মেলা কবে আসবে আমার ঘরে খুশির দোলা ,,,,
আকাশে হাসে চাদেঁর কনা কবে আসবে আমার কোলে ছোট্ট সোনা…❤❤❤❤.
.
.
.
রাতে রাজ এসেই বেডে শুয়ে পড়লো ..
বেডে অনেক গুলো খেলনা দেখতে পেলো রাজ ..
শীতলকে কয়েক বার ডাকার পরে শীতল রাজের কাছে এলো ..
_এগুলো কি ??
_খেলনা ..চাচা কিনে এনেছেন ..
_গাছে কাঠাল গোপে তেল ..
_জি ,,কিছু বললেন ??
_না,, কাল ডক্টর রিপোর্ট দেবে বলেছে ..
পজিটিভ হলে ভেবোনা তোমায় মেনে নেবো ..
তোমরা যা আমার সাথে করেছো তার প্রতিশোধ আমি কড়ায় ঘন্ডায় নেবো ..
.
.
.
মাঝ রাত কাজল কয়েকবার বেশ বড় করে নিঃসজ্ঞ লোকটাকে তার ঠিকানায় চিঠি লিখলো হলুদ খামে করে …
যা লাল ফিতে দিয়ে বাধা ..
কাজল চিঠি টা ছিরে ফেললো …
এভাবে আরো কয়েকটা চিঠি লিখে কাজল ছিরে ফেললো ..
সে লিখতে চাইছেনা চিঠি তবুও কেনো যেনো চিঠি লিখতে চাচ্ছে তার মন ..
.
.
.
রাজ রুমের সোফায় বসে কাজ করছে ল্যাপটপে .
বেচারি শীতলের ঘুম আসছেনা ..
বার বার রাজকে দেখছে শীতল ..
কখন রাজ শুতে আসবে ..
আর সে রাজের সাথে একটু দুষ্টামি করবে …
শীতলের বেশ টেনশন লাগছে কালকের জন্য ..
কাল রিপোর্ট কি আসবে কে জানে ….
রিপোর্ট নেগিটিভ আসলে শীতল মরেই যাবে …
শীতলের ঘুম আসছেনা ..
এসময় তার পাশে কাউকে প্রয়োজন ..
বাট কেউ নেই ..
শীতলের মন শুধু রাজকেই খুজছে ..
বাট রাজের মন আর ভালোবাসা অন্ধ হয়ে আছে শীতলের জন্য ..
সেজন্য শীতলের মনের ডাক রাজের মনে পৌছাচ্ছেনা ….
.
.
চলবে ….( ভুল ত্রটি ক্ষমার দৃষ্টিতে )