সাঁঝের প্রেম

সাঁঝের প্রেম !! Part- 05

নিশি বাসায় ফিরে আসার পর মাহবুবের সবকিছু অসহ্য লাগছে। মাহবুবের ছোট ভাই মাহবুবকে বারবার ফোন দিচ্ছে কিন্তু মাহবুব ফোন সাইলেন্ট করে দিয়েছে ফোন ধরবেনা বলে। মাহবুব ওর বেডরুমে গিয়ে আলমারি থেকে নিশির ওড়না বের করে। নিশির ওড়না বের করে মাহবুব খাটে ওড়নাটা বুকে জড়িয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পরলো। মাহবুবের চোখ থেকে দুফোটা পানি গড়িয়ে পরলো।

-আজও তুমি পাল্টাওনি নিশি তাইনা? আজও আমাকে বুঝতে তোমার কষ্ট হয়? আজও বিশ্বাস করে নিলে মাহবুব নিশিকে ছাড়া ভালো আছে? মাহবুব নতুন সংসার পেতেছে? এতটা নির্দয় কেনো তুমি নিশি? একটাবার যদি বলতে মাহবুব আমি ফিরে আসতে চাই অতীত ভুলে, আমায় টেনে নাও তোমার কাছে। ঠিক নিতাম। যেদিন প্রথম তোমার কপালে চুমু দিয়েছিলাম সেদিন তোমার মুখের দিকে তাঁকিয়ে যেই নিশিকে আমি দেখেছিলাম আজ সেই নিশি তুমি নেই। অনেকটা পালটে গেছো।

“মাহবুব নিশিকে বাসস্ট্যান্ডে কপালে চুমু দিয়ে বলে,

-আজকে তোমার বাস আগে এসে গেছে যাও। রাতে কথা হবে।

নিশি আর কিছু না বলে দৌড়ে বাসে উঠে গেলো। জানালা দিয়ে মাহবুবকে হাত নাড়িয়ে বাই জানালো, মাহবুব ও বাই দিলো। এরপর মাহবুবের বাস আসার পর মাহবুব চলে যায়। ওইদিন নিশি ভার্সিটির প্রত্যেকটা ক্লাসে অন্যমনস্ক ছিলো। শুধু মুচকি মুচকি হাসছিলো। ওইদিন ভার্সটিতে নোটিশ দেয় স্টাডি টুরে চিটাগং যাবে দুইদিনের জন্য। নিশির মন খারাপ হয়ে যায় কারণ বাবা যেতে দিবেনা। তানিয়া ওরা সবাই যাবে। সন্ধ্যাবেলা নিশি ভার্সিটি থেকে ফেরার পর ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসে। তখন ও ফোনটা হাতে নিয়ে হাসিমুখে মাহবুবকে টেক্সট করে,

-অফিস থেকে এসেছেন ভাইয়া বর?

টেক্সট টা দেখে মাহবুব হাসতে হাসতে রিপ্লাই করে,

-না বোন বউ।
-আসবেন কখন?
-দশটায়। এসে কল করব নে।

এরপর আর নিশি কোনো রিপ্লাই করেনি। পড়াশোনা শেষ করে নিশি ডিনার করে। এরপর তুর্নাকে পড়তে বসিয়ে তুর্নার পড়া নিচ্ছিলো। ঠিক তখনি মাহবুব কল করে,

-কে আপনি? (ইচ্ছে করেই জিজ্ঞেস করলো নিশি)
-তোমার ভাইয়া বর।
-কোথায় আপনি?
-বাসায় যাচ্ছি।
-গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ডিনার করে নিবেন।
-অফকোর্স। আপনি করেছেন কি?
-হ্যা। আর আপনার সম্পর্কে আজ পর্যন্তও কিন্তু আমায় কিছু বলেন নি।
-কালকে পাবলিক হলিডে। ফ্রি আছো নিশ্চই?
-হ্যা।
-বের হতে পারবে?
-কেনো?
-আমার সম্পর্কে জানতে।
-নয়টায় তাহলে। তানিয়ার কথা বলে বের হব।
-ওকে আমি বাইক নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে থাকব।
-আচ্ছা।

পরেরদিন সকালে,,,,

-মা আমি আসছি। (জুতা পরতে পরতে নিশি)
-কোথায় যাচ্ছো তুমি? (নিশির বাবা)
-প্র‍্যাক্টিক্যালের জন্য ইন্সট্রুমেন্ট কালেক্ট করতে। তানিয়াও যাচ্ছে সাথে।
-ফিরবে কখন?
-রাস্তায় তো জ্যাম একটা, দুটো তো বাজবেই। (নিশি ভয়ে কাঁপছে)
-তারাতারি চলে এসো। সাবধানে যাও।
-আচ্ছা বাবা।

নিশি চুলে খোপা করে কাঠি গুজে দিয়েছে আর পরনে লং ড্রেস আর চুরিদার, মুখ হাল্কা মেকাপ আছে। আর কাঁধে ব্যাগ। নিশি বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখে মাহবুব ওয়েট করছে। মুখে ওড়না চেপে নিশি বাইকে বসলো মাহবুবের কাঁধে হাত রেখে। কিছুদূর যাওয়ার পর নিশি জিজ্ঞেস করলো,

-কোথায় যাচ্ছি?
-নদীর ধারে।
-কেনো?
-শান্ত জায়গা আমার অনেক পছন্দের তাই।
-বাইকের স্পিড কমান।
-কেনো?
-আমি ভয় পাচ্ছি।
-আচ্ছা কমিয়ে দিচ্ছি।
-আর কখনো আপনি এত স্পিডে বাইক চালাবেন না। এক্সিডেন্ট করলে পরে কি হবে?
-মরে যাব তাছাড়া আর কি হবে?
-বেশি কথা বলেন কেন আপনি? (মাহবুবের পিঠে ঘুষি দিয়ে নিশি)

মাহবুব একটা নদীর ধারে নিয়ে আসে নিশিকে। নদীর ধারে বিশাল একটা ঘাটলা আছে আর সেখানে বারোটার মতো সুন্দর সিঁড়ি আছে। জায়গাটা একদম শান্ত। মাহবুব নিশিকে নিয়ে এগারো নাম্বার সিঁড়িতে বসালো আর ও নিশির পায়ের উপর মাথা রেখে সিঁড়ির উপর শুয়ে পরলো আর হাত দিয়ে পানি ধরছিলো।

-পিচ্চি নাকি আপনি?
-প্রকৃতিকে ভালবাসি তাতে যদি আমায় পিচ্চি বলো তাহলে আই উইল নেভার মাইন্ড।
-জায়গাটা সত্যিই অনেক সুন্দর।
-ভীষণ সুন্দর। ফ্রেন্ডদের সাথে আসা হয় প্রায় প্রায়ই।
আপনার ভাই বোন নেই?
-আমার নিজের ভাইবোন তো নেই তবে স্টেপ ব্রাদার আছে, ও আমার ছোট।
-স্টেপ ব্রাদার মানে? (চোখ বড় বড় করে নিশি)
-হুম আমার নিজের মা নেই। যে আছে সে সৎ মা।
-কখনো বলেন নি কেনো আমায়?
-বললে কি হত? এতগুলা সিম্পেথি শো করতা আমায় তাইনা? বাট এগুলো আমি চাইনা। জানো নিশি আম্মুকে হারানোর পর বুঝেছি আম্মুর মর্মটা। প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার পর আমি আমার ঘর বন্ধি হয়েই থাকি। আব্বু ও এসে জিজ্ঞেস করেনা কোনো খবর আর আম্মু ও না। আমি খেয়েছি কি না সেইটা শোনার বা দেখার সময় নেই তাদের। খেলে খেয়েছি না খেলে নাই বাট জিজ্ঞেস করার কেউ নাই। আজকে দশদিন আব্বুর সাথে কোনো কথা হয়না। ছোট মা যা বলে সেইটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই ওনার কাজ। এইজন্য আমার ইচ্ছা কি জানো?
-কি?
-বিয়ের পর ওদের কাছ থেকে সরে যাব। বউকে কষ্ট দিয়ে লাভ নেই।
-মানবে সেইটা তারা?
-জানিনা। বাট আই ডোন্ট কেয়ার, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সো ফুলফিল করবই।
-কখনো বলেন নি আমায় এসব! (মাহবুবের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে নিশি)
-হ্যা বলিনি কারণ আমি নিজের কথা মানুষকে খুব কম বলি।
-দেখেই বোঝা যায়। বাট আজ থেকে আমার সাথে কোনো কিছু হাইড যাতে না হয় মিস্টার মাহবুব।
-হবেনা। (নিশির হাত ধরে মাহবুব)
-এখন তো চিটাগং যেতে চাচ্ছি।
-কেনো?
-স্টাডি টুরে।
-কয়দিনের জন্য?
-দুইদিন।
-ছেলেরাও যাবে নিশ্চই।
-হ্যা।
-ক্যান্সেল।
-আরে ভাই প্লিজ আমি কখনো পাহাড়ে যাইনি। পাহাড় দেখতে কেমন সেইটাও জানিনা আমি।
-বিয়ের পরে যাইয়ো।
-আমি এখনি যাব।
-টুর কবে?
-তিনদিন পর।
-আংকেল যেতে দিবে?
-না। জোরাজুরি করলে দিতে পারে।
-চারদিনের কথা বলো আংকেল কে। আমিও যাব তোমার সাথে বাট নিজেদের মতো করে। ভার্সিটির টুরে না।
-কিহ? সত্যি? (চিৎকার দিয়ে নিশি)
-হ্যা তুমি আংকেল কে ম্যানেজ করে আমায় জানিয়ো। আংকেল কে বলবা ভার্সটির টুর, যাওয়া মাস্ট ফর ফোর ডেইজ। আজকে রাতেই জানিয়ো তাহলে আমি অফিস ছুটি নিব।
-কি ভালো আপনি! (মাহবুবের চুল টেনে)
-আহ আস্তে!

সারাদিন দুজন ঘুরে দুপুরে নিশিকে বাসায় ছেড়ে দিয়ে মাহবুব বাসায় আসে। নিশি রাতের বেলা বাবার সাথে অনেক তর্কাতর্কি করে আম্মুকে দিয়ে বাবাকে রাজি করায়। এরপর নিশি বাবাকে স্যরি বলে তর্ক করেছে বলে। নিশি সব ঠিকাঠাক করে মাহবুব কে ফোন দিয়ে বলে,

-আব্বু রাজিইইইই! (খুশিতে নিশি লাফাচ্ছে)
-তুমি কি লাফাচ্ছো নাকি? (উঠে বসে মাহবুব)
-হ্যা অনেক খুশি লাগছে। স্টাডি টুরে যাচ্ছি। (দাঁত বের করে কেলাচ্ছে নিশি)
-প্রেম টুরে যাচ্ছেন ম্যাডাম। মুখে কালি লাগিয়ে আসবেন প্লিজ। নয়ত নিজের প্রতি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলব।
-হারাইয়েন পারলে। অনার্স শেষ করার আগে কিছুই হবেনা স্যার!
-হুহ! থাপ্পর মারব ধরে। আমি তো ভেবেছি দুই মাসের মধ্যে তোমার বাসায় প্রপোজাল পাঠাবো।
-ধুর! আগে প্রেমটা তো ঠিক করে করি। ফার্স্ট লাভ বলে কথা।
-আমারো ফার্স্ট লাভ।
-আপনি কিভাবে আমার প্রেমে পরলেন বলুন তো?
-তোমার চোখ, তোমার ঠোঁট, তোমার চুল, তোমার হাসি। এই চারটার জন্যই প্রেমে পরা।
-ও আর আমি বুঝি সুন্দর না!
-ছেহ! তুমি সুন্দরী মোটেও না। মারাত্মক সুন্দর তুমি।
-ফাইজলামো রাখেন। বি প্রিপেয়ারড ফর দ্যা জার্নি।
-আমি প্রিপেয়ার্ড ই আছি।

তিনদিন দুজন বাসস্ট্যান্ডে, ফোনে, ডেটিং এ এত কথা বলেছে যে নিশি রীতিমতো মাহবুব কে পাগল বলতে শুরু করেছে। মাহবুব নিশির জন্য একটা শাড়ি কিনে এনেছিলো তাও তাঁতের শাড়ি সাথে এটেলের (মাটির) গহনা। নিশিকে তা জানায় নি। তানিয়ার সব জানতো নিশি আর মাহবুবের ব্যাপারে। তাই তানিয়ার সাহায্য নিয়ে দুজন আসতে পেরেছে। টুরের দিন বিকেলে তুর্না, আম্মু আর আব্বু এসে নিশিকে বাসস্ট্যান্ডে ছেড়ে যায়। নিশি পরে জোর করে আব্বু আম্মুকে পাঠিয়ে দেয়। আব্বু আম্মু যাওয়ার পর মাহবুব নিশির সামনে আসে।

-চেনাই যাচ্ছে না তো। (অবাক হয়ে নিশি)
-কেন চেহারা কি পালটে গেছে নাকি? (নিজের মুখে হাত দিয়ে মাহবুব)
-এই টেরিফিক লুকে কেন?
-তো কি লুকে আসা উচিৎ ছিল?
-যাই বলুন খুব সুন্দর লাগছে কিন্তু আপনাকে।
-আমি এমনিতেই সুন্দর। (নিশির হাত থেকে ব্যাগ নিয়ে মাহবুব)
-আমি পারব তো।
-তুমি পারলে আমি আছি কি করতে? টিকেট কাটা শেষ বাট সিট পেছনে।
-ডাজেন্ট ম্যাটার! বাস কোথায়?
-আসো সামনে! দিন দিন খাচ্ছো আর মোটা হচ্ছো। হাঁটতে চাও না একদমই।
-ধ্যাৎ! (মাহবুবকে মেরে নিশি)

বাসে উঠে মাহবুব ওর আর নিশির ব্যাগ কাঁধ থেকে খুলে বাসের উপরে রাখলো। নিশি জানালার পাশে বসলো আর মাহবুব নিশির পাশে। কিছুক্ষণ পর বাস ছাড়বে। মাহবুব নিশিকে বসিয়ে রেখে নিচে নামে শুকনো খাবার কেনার জন্য। খাবার কিনে তিনটা সিগারেট আর একটা ম্যাচবক্স কিনলো মাহবুব। সিগারেট মাহবুবের হাতে দেখে নিশি বলে,

-এসব কি?
-আমার ভালো থাকার মেডসিন।
-ছিহ!
-নিশি তোমার কাছে আমার রিকুয়েষ্ট একটাই আমার সিগারেট খাওয়া নিয়ে কোনো কথা বলো না। আদারওয়াইজ তুমি যা বলবা আমি করতে রাজি।
-রেগুলার খান?
-হ্যা।
-ঠিক আছে খান।

বাস ছেড়ে দিয়েছে। নিশি জানালা দিয়ে বাইরে তাঁকিয়ে আছে। কোনো কথা বলছেনা মাহবুবের সাথে। সিগারেটের ধোয়ায় নিশির প্রচন্ড কাশি উঠে যায়। মাহবুব দ্রুত সিগারেট টা ফেলে দিয়ে নিশিকে পানি খাওয়ায়। কাশি থামলে নিশি মাহবুবকে বলে,

-খাচ্ছেন না কেনো? খান সিগারেট!
-স্যরি। তোমার যেই কাজে কষ্ট হয় সেইটা করতে আমি রাজিনা।
-সিগারেট খেলে কি হয় আপনি জানেন না? আমি একদমই আপনাকে হারাতে চাইনা। একদম ই চাইনা। (মাহবুবকে জড়িয়ে ধরে নিশি)
-স্যরি। খাব না আর কখনো। প্রমিস ইউ।

রাতে নিশি ঘুমিয়ে যায়। তখন মাহবুব ওকে ওর কাঁধের উপর শোয়ায়। নিশির ঘুম ভাঙে রাত চারটায় মাহবুবের ডাকে।

-নিশি উঠো। আমরা এসে গেছি।
-এসে গেছি? (ঘুম ঘুম চোখে নিশি)
-হ্যা উঠো।

মাহবুব ওর ব্যাগ কাঁধে নিলো আর নিশির ব্যাগ সামনে নিলো। এরপর হাত ধরে নিশিকে নামালো। চারিদিকে তখন ঘোর অন্ধকার। নিশি শীতে কাঁপছে। মাহবুব ওর জ্যাকেটটা খুলে নিশিকে পরিয়ে দেয়। নিশিকে নিয়ে মাহবুব হোটেলের দিকে হাঁটা ধরলো। একটা সিএনজি পর্যন্ত নেই এই রাস্তায়। ফোনের ফ্ল্যাশ অন করে আর নিশির হাত ধরে মাহবুব নিশিকে নিয়ে যাচ্ছে। হোটেলে গিয়ে মাহবুব দুইটা রুম বুক করতে চায় কিন্তু নিশি না করে ফাও খরচ করতে। তখন রিসিপশনে মাহবুব হাজবেন্ড ওয়াইফ বলে ফর্মালিটিস পূরন করে রুমে যায়।

-আপনি সোফায় ঘুমাবেন আর আমি খাটে।
-হ্যা বিয়ে না হলে তো আর একসাথে ঘুমাতে পারছিনা এন্ড দেট ইজ মাই ব্যাড লাক। (ব্যাগগুলো রেখে মাহবুব)
-আমার না প্রচন্ড ঘুম পেয়েছে।
-চেঞ্জ করে আসো আগে।
-আমার ব্যাগ থেকে টি শার্ট আর একটা প্লাজো দিন তো।
-হুম দিচ্ছি।

মাহবুব নিশিকে টি শার্ট দেওয়ার পির নিশি ওয়াশরুমে যায় চেঞ্জ করতে। বের হওয়ার আগে নিশি বলে,

-এই আমায় একটা ওড়না দিন।
-কেনো? আমি ছাড়া আর তো কেউ নেই।
-দিন তো।
-নাও।

নিশি এসে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে যায়। মাহবুব চেঞ্জ করে এসে গেঞ্জি আর থ্রি কোয়ার্টার পরে সোফার উপর শোয়। হঠাৎ মাহবুব দেখে নিশি কম্বল গায়ে দেয়নি। মাহবুব আবার উঠে নিশিকে কম্বল গায়ে দিয়ে কপালে চুমু দিয়ে নিজের জায়গায় চলে আসে।

চলবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *