ভালোবাসার প্রতারণা

ভালোবাসার প্রতারণা !! Part- 02

খাটের এক কোণে শাড়ি কোন মতে পেঁচিয়ে বসে বসে কাঁদছে তারা। চোখের জলে সব যেন ভাঁসিয়ে ফেলছে। আকাশ তার সাথে এত বড় প্রতারণা করতে পারলো কিভাবে! সে কি জানে না এতে যে তারা মরেই যাবে। পেছনে ফিরে দেখছে প্রভাত আরামসে ঘুমাচ্ছে। এই লোকটা খুব খারাপ লোক একে দেখলেই এখন তারার ঘৃণাতে দুচোখ ভরে যাচ্ছে।

FlashBack

তখন তারা যখন প্রভাতের মুখে এসব কথা শুনলো তখন ও প্রভাত ঠাস করে একটা চড় মারে।

—- আপনার সাহস হয় কিভাবে এসব বাজে কথা বলার! আপনি একটা দুশ্চরিত্র লোক। আপনাকে প্রথম থেকেই আমার ভালো লাগতো না। কিন্তু আপনি এখন যা বলছেন তাতে আপনি আপনার চরিত্রের প্রমাণ দিচ্ছেন। আপনি বেড়িয়ে যান এই ঘর থেকে আর আকাশ কোথায়? আমি আজ আকাশকে সব বলবো। আকাশ আপনাকে এত মান্য করে আর সেই আপনিই কিনা তার বউয়ের রুমে ঢুকে এমন অসভ্যতামি করছেন? আকাশ আকাশ

আর কিছু বলার আগেই প্রভাত তারার দুই বাহু চেপে ধরলো আর বলল

—–তোর আমাকে এত কিছু বলার সাহস হয় কি করে ? আমার ঘর থেকেই আমাকে যেতে বলছিস! আর আকাশের কথা বলছিস! ও চায় না তোকে বিয়ে করতে তাই ও লন্ডন চলে গেছে।

——আমি বিশ্বাস করি না। আপনি মিথ্যা কথা বলছেন আমার আকাশ আমাকে ঠকাতে পারে না।

—-হুহ। আকাশ তাই করেছে যা ও চেয়েছে এতে আমার কোন হাত নেই বুঝেছো!(দাঁতে দাঁত চেপে)

—–না এই টা কিভাবে সম্ভব ও তো আমায় ভালোবাসে। আপনি মিথ্যেবাদী আপনি এখন আমাকে ইচ্ছে করে মিথ্যা কথা বলছেন। আমার আকাশ কোথায় সত্যি করে বলুন।

—– একবার বললে কানে যায়না? বললাম তো আকাশ নেই তুমি এখন আমার স্ত্রী পর পুরুষের নাম নিচ্ছো কেন?(রেগে গিয়ে)

—– ছাড়ুন। আপনি একটা লম্পট দুশ্চিরত্র আপনার চরিত্রের দোষ আছে আপনি একটা বাজে লোক খারাপ লোক তাই আপনি এমন করছেন সরে যান এখান থেকে। যান বলছি।(চিৎকার করে)

—– কি বললি আমি লম্পট আমার চরিত্রের ঠিক নেই ? আজ তোকে দেখাবো যে আমি কতোটা ভয়ানক হতে পারি যখন কেউ আমার মুখের উপরে কথা বলে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে😠😠😠😠(তারার চুলের মুঠি ধরে)

প্রভাত তারাকে ধাক্কা দিয়ে বেডে ফেলে দিল তারপর ঝাপিয়ে পড়লো তারার উপর তারা অনেক আকুতি মিনতি করেছিল ওকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কিন্তু প্রভাত কোন কথা শুনলো না নিজের অধিকার ঠিকই আদায় করে নিল। জোর করে হোক বা যেভাবেই হোক নিজের ভালোবাসার মানুষকে একেবারে নিজের করে নিল সে আজ।

একজনের ভালোবাসা হয়তো হারিয়ে গেল তবে আরেকজনের ভালোবাসা ঠিকই পাওয়া হয়ে গেল।

বর্তমান

তারার হাত টান দিয়ে বেডের মধ্যে ফেলে দিয়ে প্রভাত তারার উপরে উঠে গেল আর বলতে লাগলো

—- যা হয়েছে তা হওয়ারই ছিল। এমন কিছু করোনা যার ফল আরো খারাপ হয় এখন চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়। আর একটা শব্দ যদি পাই তাহলে আজ তোমার কপালে শনি আছে (ধমক দিয়ে)

তারা ভয় পেয়ে গেল কিছু বললনা। আর প্রভাত তারার বুকেই নিজের মাথা রেখে ঘমিয়ে পড়লো। প্রভাতের মুখে তৃপ্তির হাসি তাও চোখ থেকে দু ফোটা অবাধ্য পানি গড়িয়ে পড়লো সে যে তার তারাকে এভাবে কষ্ট দিতে চায়নি। তারা নিশব্দে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো।

সকালে,,,,

ঘুম থেকে উঠে তারা তার পাশে প্রভাতকে দেখলো না নিজের দিকে তাকিয়ে আবারো কেঁদে উঠলো। সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় শাড়িটাও গা থেকে সরে গেছে। তার সাথে যা হয়েছে ভাবতেই বুক ফেটে যাচ্ছে। না এখন কান্না করলে চলবে না আগে নিজেকে পবিত্র করতে হবে বেডশীট টা জড়িয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার নিতে থাকলো। এমন তো হওয়ার কথা ছিলো না! কিভাবে হয়ে গেল? অঝোর ধারায় তারার চোখের পানি পড়ছে। শাওয়ার নেওয়ার পর মনে পড়লো সে তো সাথে করে কোনো ড্রেস আনে নি এখন কি হবে! হায় হায় বাহিরে বের হবে কিভাবে! পাশে তাকিয়ে দেখলো শুধু টাওয়েল আছে তাই আর কিছু না ভেবে টাওয়াল টা পেঁচিয়ে বের হয়ে আসলো। আশে পাশে তাঁকিয়ে কাউকে দেখলোনা তাই বের হয় আসলো।

—- বাসায় কি তুমি শুধু টাওয়াল পেঁচিয়েই থাকতে!

পেছন থেকে কারো এমন কথা শুনে তারা পেঁছন ফিরে দেখলো প্রভাত দাঁড়িয়ে আছে। প্রভাতকে দেখে লজ্জাই শেষ হয়ে যাচ্ছে তারা। এমনেতেও লোকটা খুব বাঝে তার উপর এই ভাবে তারাকে দেখে ফেলে উল্টা পাল্টা কিছু আবার করে না বসে এসব ভাবছে তারা। তখনি প্রভাত আলমারি থেকে একটা রেড কালার শাড়ি নিয়ে আসলো। এসে তারার সামনেই দাঁড়ালো আর বলল

—- টাওয়েল টা খুলে ফেল।

—– না ( চিৎকার করে)

—– তুমি না বললেই আমি শুনবো নাকি !

বলেই তারার টাওয়ালটা খুলতে গিয়েও থেমে যায় তারপর তারা কে বলল ব্লাউজ আর পেটিকোট টা নিজে পড়ে নিতে প্রভাত ভালো করেই জানে তারা শাড়ি পড়তে পারে না। তাই ও নিজেই পড়িয়ে দিবে। কিন্তু তারা রাজি হচ্ছিল না তাই প্রভাত আর কোনো কথা না বলেই তারার টাওয়েল টা টান দিয়ে খুলে ফেললো আর নিজেই জোর করে শাড়ি পড়িয়ে দিল তারা শুধু কান্না করতেই লাগলো। আজ যে তার সব শেষ প্রভাত তারার কানের কাছে গিয়ে বলল

—– লজ্জা পেয়ে লাভ নেই বউ। বিড়াল তো আমি কাল মেরেই ফেলেছিলাম ।

তারার খুব রাগ হলো প্রভাতের দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাঁকাতেই প্রভাত ওর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো তার পর তারার ঘাড়ে গলায় গভীর ভাবে চুমু খেতে লাগলো তারা কিছু করতেই পারছেনা ও যেন বরফের মতো জমে যাচ্ছে চাইলেও প্রভাতকে সরাতে পারছেনা।

চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *