এলাকার বড় ভাই

এলাকার বড় ভাই !! Part- 25 (Last-Part)

বুঝেছি.. তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না..যা করার আমাকেই করতে হবে!(উনি)
.
-কি করবি তুই??(ওয়াহিদ)
-সেটা ভাবতে হবে না…. এখন তুই যদি না করিস ওকে বিয়ে তারপরও আমি ওই শয়তানের সাথে পায়েলের বিয়ে হতে দিব না!!
-হ্যা…কিন্তু আমরা করব টা কি??(আমি)
.
-১টা প্ল্যান তো আছে.. কিন্তু পায়েল তোমার হেল্প লাগবে!!
-বলেন!!
-তুমি রাফিকে ফোন দাও আর বল..তারা যেন আজ না কাল আসে…. আর সে জেনো আজ তোমার সাথে এখানে বিকেলে দেখা করে!!
.
-এতে কি হবে…?? (ওয়াহিদ)
-সেটা তোর ভাবা লাগবে না.তুই তো বিয়েই করবি না..এই যা তো বাচ্চা বিড়াল.. মুড়ি খা গিয়ে!! (উনি)
.
পায়েল রাফিকে কল করল!!
-রিং হচ্ছে!!
-সুন্দর ভাবে মিষ্টি মিষ্টি করে কথা বলবা.. যাতে বুঝতে না পারে!!
-হ্যালো রাফি..কেমন আছ… হ্যা ভাল.. আচ্ছা শুনো না.. আমার না একটা কথা বলার ছিল… আজকে দেখা করতে পারবা প্লিজ?? হ্যা জানি তো আজ তোমাদের বাসায় আসার কথা.. তোমরা যদি কাল আসতা..?? আসলে তোমার সাথে কিছু কথা বলার ছিল??
.
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ওয়াহিদ ভাইয়া দাতে দাত কামড় দিয়ে আছেন..!!
.
-থ্যাংক ইউ. তাহলে আজ বিকেল ৪টা ধানমন্ডি লেক..ওকে বাই!!
.
কথা বলে ফোন রেখে দিল!!
-হয়ে গেছে.. ও রাজী.. ও আজকে আসছে!!
-এত খুশী কিসের তোমার.. আবার হেসে হেসে কথা বলছিলে??? আমার সাথেও তো কখনো এমন করে কথা বলনি??
-কারন ওর সাথে আমার বিয়ের কথা চলছে তো তাই!!
-বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু???
-এই থাম তো.. চল আমার সাথে….. আর শুন….চল তোমাদের রিকশায় তুলে দেই..তোমরা বাসায় যাও!!(উনি)
*****
আমাদের ভুল বুঝাবুঝি ঠিক হওয়ার প্রায় ২ সপ্তাহ পরে.. আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম.. আমি.. উনি,রানা ভাইয়া,জুই আপু,ওয়াহিদ ভাইয়া, সায়মা,ওনার বন্ধুরা,নাদিরা আর পায়েল!!

আমরা ২ couple তো আমাদের মতোই ছিলাম…জুই আপু প্রেগন্যান্ট ইদানীং ভাইয়া একটু বেশি কেয়ার করে… সায়মা আর পায়েলের মধ্যে খুব ভাব হয়!!
আমি লক্ষ্য করছিলাম। ওয়াহিদ ভাইয়া উনার বন্ধুদের সাথে থাকলেও সব সময় পায়েল আর সায়মার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে থাকতেন…..আমি তো ভাবতাম হয়ত সায়মা ঠিক আছে কি না সে জন্য.. কিন্তু আজকে বুঝলাম কেন তাকিয়ে থাকতেন???
যাই হোক আমরা রিকশায় বাসায় ফিরছি!!
-তুই আমাকে কিছু বলিস নি কেন??
-আমি নিজেই তো কিছু জানতাম না..কখন কি হয়ে গেল.. সেদিন আসার সময়… আমি সায়মা আপুকে নাম্বার দেই.. উনি সেখান থেকে আমাকে কল করে.. তারপরই এসব..!!
-হ্যা..আর এখন তো তোর দুলাভাই ই সব আমি আর কে..আমাকে বলার প্রয়োজন মনে করলি না??
-আসলে আপু.. দুলাভাই কে আমিই মানা কিরেছিলাম..রাগ করিস না আপু….!!
.
পায়েল এর কল চলে আসল এর মধ্যে!!
-হ্যা আম্মু….হ্যা.. না আমি কলেজে.. কি..আচ্ছা… ঠিক আছে আমি তাহলে ইরা আপুর বাসায় গেলাম!!
-কি হয়েছে?
-আম্মু কল দিয়েছে ওনারা আজ আসবে না!!

আমরা বাসায় চলে আসলাম…খেয়ে দেয়ে বিকেলে ছাদে বসে আছি.. কিন্তু ওনাদের কোন খবরই নেই…!!
-আপু কি হল??কল ধরেছে??
-না রে…কোথায় যে কি করছে আল্লাহ মাবুদ জানে…!!
.
-কি খবর??
উনি হঠাত ছাদে এসে জিজ্ঞেস করলেন!!
-ছিলে কোথায় তুমি জানো কত টেনশন হচ্ছিল??(আমি)
-টেনশন এর কি আছে?? আমি বর্ডারে যুদ্ধজয় করতে গিয়েছিলাম নাকি??
-দুলাভাই ফাজলামো ছাড়ুন.. কি হল এখন সেটা বলেন??
-সব ঠিক আছে.. আপনি চিন্তা করেন না??
– রাফি কি বলল??
-সেটা কালই জানতে পারবে!!
……
পায়েল এর পর বাসায় চলে গেলল….আর আমি ওনাকে খেতে দিলাম!!
*******পরদিন******
আম্মু আমাকে পায়েলকে দেখতে আসার কথা জানালো!!তাই আমি নানী বাড়ি চলে আসলাম!!
মামি আর আম্মু সব কাজ করছে.. আর আমি পায়েলকে রেডি করাচ্ছি!!
-আমি না হয় মামা মামিকে রাফির কথা বলে দেখি??
-লাভ নেই আপু…. রাফি তার ফ্যামিলির কাছে সোনার টুকরো….কোনদিনো কেউ বিশ্বাস করবে না!!
.
আমি ওকে রেডি করে বের হয়ে আসলাম রুম থেকে..!!
উনাকে কল দিলাম!!
-কি হচ্ছে বলত.. তুমি তো বললা সব ঠিক আছে.. এখানে তো তারা যে কোন সময় চলে আসবে!!
-আসবে। আসেনিতো এখনো.. বেশি ভয় পাও পিচ্চি….পরে কথা বলি.. কাজ আসে!!
.
কিছুক্ষন পরে আম্মু আর মামি আমাদের ডাক দিল…. “তারা আসবে না “.. কারন তাদের সোনার টুকরো রাফি পায়েলকে পছন্দ করেনি.. বিয়ে করতে মানা করে দিয়েছে!!
.
পায়েল রুমে এসে কোমড় কাছা দিয়ে নাচতে শুরু করে দিল!!
-এই থাম থাম.. মামি দেখলে কি ভাববে??
-ভাবুক আজ তো আমি পার্টি করব!!
.
আমার মোবাইলে টেক্সট আসল!!
“””বিকেল ৪ টায় দুজন পার্কে এসো!!””
*****বিকেলে *****
আমি আর পায়েল হাসতে হাসতে পরে যাচ্ছি। পায়েল তো পারলে মাটিতে গড়াগড়ি খায়!!
-উলি বাবা রে…শুধু ভিডিও দেখেই এই অবস্থা.. সামনে দেখলে কি করা কে জানে??
.
ভিডিও টাতে উনি রাফিকে কানে ধরে উঠবস করাচ্ছেন!!
-উঠ বস… উঠ বস!! (উনি)
-ভাই এমন আর কতক্ষন করতে হবে?? অলরেডি ৮০ হয়ে গেসে!! (রাফি ক্লান্ত হয়ে)
-বেশি না আর ২০০ বার!!
-ভাই মরে যাব
-৩০০
-ভাই মাফ করেন
-৪০০
-করছি করছি ভাই!!রাগ করেন কেন ভাই??
-হুম…কর!!
-ছেড়ে দে না ইব্রাহিম.. ও তো বলেছে না করে দিবে বিয়েতে…!!(ওয়াহিদল
-তোর দরদ এত্ত উতলে উঠছে কেন??পায়েলকে ভালবাসিস না ওকে??

-এই তুই থামলি কেন…করতে থাক!!
-ভাই একটা কথা জিজ্ঞেস করব?? (রাফি উঠবস করতে করতে জিজ্ঞেস করল)
-বল??
-ভাই…. ইরা কে পছন্দ করলাম..আপনি ওকে বিয়ে করলেন.. এখন পায়েলকে হল…ওরে উনি পছন্দ করে.. আমাকে কি বিয়ে করতে দিবেন না???
-দিব না কেন… এই শাস্তি টা মনে রাখবি..আর আজকের পর থেকে এক মেয়ের উপরই নজর রাখবি..নিজের বউ এর উপর..আগে নিজে ভাল হয়ে নে.. তারপর বিয়ের কথা ভাবিস!!
.
ভিডিও দেখে ভারি মজা পেলাম!!
পায়েলের রাগ অনেক কষ্টে ভাইয়া ভাঙালেন…আর সে সপ্তাহেই পায়েলের জন্য সম্বন্ধ নিয়ে গেলেন!!
.
**********৬ বছর পর********
-ইকরাম…. ইকরাম.. বাবা উঠ..স্কুলের দেরি হয়ে যাবে!!
..
রুম থেকে উঠে সামনে আসল….চোখে ঘুম ভরা.. আহারে আমার বাচ্চাটা!!
.
-বাবা উঠসো?? যাও আব্বু কে ডাক দাও.. আম্মু রান্না করে নেক কেমন??
.
ও কিছু না বলে বাসায় চলে রুমে চলে গেল!!
.
আমি রান্না শেষ করে রুমে এসে দেখি ওমা…এত বাবাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে!!
.
-এই তোমরা এখনো ঘুমিয়ে আছ.. উঠ..দেরি হয়ে যাচ্ছে!!
-ঘুমাতে দাও না(একসাথে বলে উঠল)
-এই… তুমি কি বাচ্চা নাকি ওর মতো..ওর স্কুল আছে না??
-৪ বছরের বাচ্চাকে কে স্কুলে দেয় ইরা??? দিয়েছ ভাল কিন্তু আজ ও যাবে না…আজ আমি আর আমার আব্বু সারাদিন ঘুমাবে!!
-হ্যা আর আম্মুকে জালাবে… আসলেও আম্মা না থাকলে তোমরা বড্ড বার বেরে যাও!!.
.
দুজনলে তুলে আমি ব্রাশ দিয়ে বাথরুমে পাঠালাম!!
আব্বা আম্মা এ মাসে হজ্জে গিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ…আর আয়াত আজকে কলেজ এর পিকনিকে গেছে …. বাড়ির সব কাজ এখন আমার কাধে.. সত্যি.. অনেক চাপের মধ্যে আছি!!
আমি টেবিলে খাবার গুছিয়ে রুমে আসলাম!!
ইকরামকে ওর বাবা রেডি করে দিয়েছে….যাক.. একটু কাজ কমলো..ওকে রেডি ক্রা যুদ্ধ করা এক কথা!!
– হয়েছে.. আস..তোমাকে নাস্তা দেই!!
-আর আমাকে কে রেডি করবে??
– তুমি নিজে রেডি হতে পার না??তুমি কি বাচ্চা নাকি??
.
আমি ইকরামকে নাস্তা দিলাম.. ওর আব্বু রেডি হয়ে আসল..দুজনকে খেতে দিলাম..ওর আব্বু ওকে স্কুলে দিয়ে কাজে চলে যাবে….আমি ওদের বিদায় দিলাম!!.
.
আমি নাস্তা করে দুপুরের রান্না বসালাম.. ঘরের কাজ আর রান্না বান্নায় ১ টা বেজে গেল…. ইকরামকে আনার সময় হয়ে গেছে!!
.
ইকরামকে এনে গোসল করালাম…. খেতে দিলাম… বাহ এত খেয়েই ঘুম??!!
.
কাজের ছেলে এসে ওনার দুপুরেএ খাবার নিয়ে গেল….কাজের চাপে বেশি ব্যস্ততা…. তাই আজ আসবে না খেতে!!
.
আমি ল্যাপটপ খুলে কাজ করা শুরুকরলাম!! ইকরাম হওয়ার আগে আমি অফিস জয়েন করেছিলাম… কিন্তু ও হওয়ার পর তা ছেড়ে দেই!!
আমি ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখে এখন অনলাইন এ জব করি.. ভাল ইনকাম হয়!!
.
আজকের মত কাজ শেষ….আমি ওনাকে ফোন দিলাম!!
-কি কর??
-এইত.. কাজের চাপে আছি.. তুমি??
-ইকরামকে ঘুম থেকে তুলে পড়তে বসাব…!!
-একটু তো ছাড় দাও ছেলেটাকে…. এখনো তো ছোট…আয়াত এসেছে!!?
-কল করেছি.. বাস ছেড়েছে..চলে ঘন্টাখানেক লাগবে!!
-আচ্ছা.. আর কিছু বলবা পিচ্চি??
-আমি এখন এক পিচ্চির মা.. তুমি এখনও আমাকে পিচ্চি ডাক!!
-বেশ করেছি….একটা কিস দাও এখন??
-বাসায় তাড়াতাড়ি এস.. তাহলে পাবা!!
-সত্যি??
-হুম!!
*******ইব্রাহিমের point of view ***
আমি কাজ শেষ করে বাসায় আসলাম.. কিন্তু লেট হয়ে গেছে.. ১১.৩০ বাজে এখনি!!
বেল চাপলাম..ইরা গেট খুললো…আমি তো অবাক.. নীল শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগছে.. কে বলবে ও ১ বাচ্চার মা…এখনো ওকে এতটাই সুন্দর লাগে!!
.
রেগে ফুলে আছে..গেট লক করে ঘুরে যেতে নিল..আমি পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম!!
– সরি সরি সরি সোনা..লেট হয়ে গে গেছে!!
-দোকানে থাকলেই পারতা!!
-রাগ করেছ??
-নাহ.. কি টাইম.. মাত্র ১১.৩০!!
-সরি… বাকি ২ টায় কি করে??
-আয়াত ক্লান্ত ছিল.. তাই খেয়ে ঘুম আর তোমার ছেলে ওর সাথেই ঘুমাচ্ছে!!
-তারমানে লাইন ক্লিয়ার!!
-কোন ক্লিয়ার না..ফ্রেশ হয়ে চেঞ্জ কর।আমি খেতে দেই!!
…..
খাওয়া শেষে আমরা জানালার ধারে বসে কথা বলছি!!
-সময় কত তাড়াতাড়ি চলে যায়না বল??একসময় তো তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাওনি..আর আজ আমরা একসাথে আছি!!
-তোমাকে ভয় পেতাম আগে আরর আজ তোমাকে এত্ত ভালবাসি!!
-এই তোমার না কিছু দেওয়ার কথা ছিল??
-না দিব না!!
-কেন??এটা তো চিটিং!!
-হোক তারপরো না!!
-হুহ….লাগবে না!!
.
আমি মুখ ঘুরিয়ে নিলে ইরা আমার গাল ধরে আমার দিকে মুখ করে নিল!!
-রাগ কর কেন??শুন না??
– কি??
-যদি এর থেকে ভাল কিছু দেই…?
-মানে??
ইরা আমার এক হাত নিয়ে ওর পেটের উপর রাখল.আমার আর বুঝতে বাকি রইল না??
-সত্যি জান??
-হুম!!
-এবার কিন্তু মেয়ে হবে!!
-হ্যা…. (জড়িয়ে ধরে)
-আচ্ছা মেয়ে হলে কি নাম রাখব!!
-নীরা!!
.
আমি ইরার দিকে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকালাম…!!
-তুমি বলেছিলে না..নীরার মাঝে ইরা না থাকলে পরিপূর্ণতা নেই…আজ ইরার মাঝে নীরা আছে!!
.
আমার চোখ ভরে আসল!! আজ সত্যি আবার বুঝলাম.. ইরাকে কেন এত্তটা ভালবাসি!!
.
রাত ১২ টা বাজল!!
-Happy Birthday!! (ইরা)
-তাহলে কি এটা আমার জন্মদিনের গিফট ছিল!!
-Kind of!!
-এবার অন্তত কিস দাও!!
-যাহ!!
– I love you!!
-I love u toooo!!
(সমাপ্তি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *