অনুগল্প- ভাই বোনের খুনশুটি !! লেখাঃ জান্নাত

আজকে ভাইয়ার এক মাস আটদিনের রিলেশনশিপের ব্রেকআপ হয়ে গেছে।মেয়ে নিজেই ব্রেকআপ করছে।
আমি জান্নাত আর এই ব্রেকআপের সম্পুর্ন ক্রেডিট আমার।অবশ্য সাথে আমার বান্ধবী আয়শার ও ছিল।
আজকে ভাইয়ার প্রতি প্রতিশোধ নিতে পারায় খুব খুশি লাগছে।খুশিতে আয়শাকে একটা আইসক্রিম ট্রিট দিয়েছি আর আমার জন্য দুইটা নিয়েছি।ও অবশ্য তাকিয়ে ছিল তাতে আমার কি(ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে)

ভাইয়ার প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার কারন ছিল।ভাইয়া আমার কষ্টের জমানো টাকা চুরি করেছিল।আমি আইসক্রিম টিফিন না খেয়ে সাতশত সত্তর টাকা জমিয়ে ছিলাম একটা কিউট জামা কেনার জন্য যার দাম ছিলো এক হাজার তিনশত টাকা।বড় ভাই হিসাবে জামাতো কিনে দিলোই না। উল্টো আমার টাকা চুরি করেছে।করেছে তো করেছে সেই টাকা দিয়ে আবার তার জিএফ কে গিফট দিয়েছে।তাই রাগে ভাইয়ার ব্রেকআপ করিয়ে দিয়েছি।আয়শাকে দিয়ে ভাইয়ার ফোন থেকে চুপিচুপি তার জিএফ কে কল দিয়ে বলিয়েছি যে আয়শা ভাইয়ার জিএফ।সে (ভাইয়ার জিএপ)জেনো ভাইয়াকে আর বিরক্ত না করে।ভাইয়া এতদিন তার সাথে অভিনয় করেছে আরো কিছু উল্টো পাল্টা কথা বলেছিল আর তাই সে ভাইয়ার সাথে ঝগড়া করে ব্রেকআপ করেছে।

যাইহোক খুশি মনে আইসক্রিম খেতে খেতে বাসায় আসলাম।এসে সবার আগে ভাইয়ার রুমে উঁকি দিলাম।কারন ওর দেবদাস লুকটা দেখে আমার সেই মজা লাগবে।কিন্তু উঁকি দিয়ে আমার চোখ কপালে।ভাইয়া খুশি মনে ফোনে কিছু একটা করছে।ওরা কি আবার জোড়া লেগে গেছে নাকি।নানান জিনিস ভাবতে ভাবতে ভাইয়ার সামনে গেলাম।ভাইয়া আমাকে দেখেই লাফ দিয়ে উঠলো।আমি চমকে গেলাম।পরে ভাইয়া যা বললো তাতে যেন আমার মাথায় আকাশ,ঠাডা,গাছপালা সব ভেঙে পরতে লাগলো।
ভাইয়ার কথা ছিল এইরকম।ভাইয়া নাকি ওর জিএফ এর সাথে আগেই ব্রেকআপ করতে চেয়েছিল কিন্তু কোনো কারন খুঁজে পাচ্ছিলো না।কারন ওই মেয়ে নাকি ভালো না ওর আরো দুইটা বিএফ আছে।ভাইয়া বাজি ধরে ওর সাথে রিলেশন করছে।বাজি টা এমন ছিলো যে ভাইয়া নিজ থেকে ব্রেকআপ করতে পারবে না।আরো বললো যার কারনে ভাইয়ার ব্রেকআপ হইছে জানতে পারলে নাকি তারে এক হাজার টাকার ট্রিট দেবে।তো আমি বললাম আমার যে টাকা নিয়েছিস ঐ টাকা তাহলে ফেরত দে।ভাইয়া বলেছে আগে ঐ মহান ব্যাক্তিকে ট্রিট দেবে পরে আমার টাকা ফেরত দেবে।
তাই আমি তাড়াতাড়ি বললাম যে সেই মহান ব্যাক্তি আমি।এটা শুনে ভাইয়া জিজ্ঞেস করলো কি করে ব্রেকআপ করিয়েছি তো সরল মনে সব খুলে বললাম।সবচেয়ে বড় ঝটকা তো এখন লাগলো।ভাইয়া রেকর্ড করছে প্রমান করতে যে ভাইয়া খুব ভালো।তার অন্য কোনো মেয়ের সাথে লাইন নাই।আমি বললাম তাহলে মিথ্যে বলেছিলি কেন। ভাইয়া বললো সত্য বের করার জন্য(দাঁত কেলিয়ে)

আমি বললাম আমার টাকা ট্রিট ভাইয়া বললো কিসের।আমি তো সত্য বের করতে এসব বলেছিএখন আমি যাচ্ছি ওকে সব খুলে বলতে।বলে পকেটে এক হাত ধুকিয়ে অন্য হাত দিয়ে মাথার চুল ঠিক করতে করতে নায়ক আলমের ভাব নিয়ে চলে গেলো।আর আমি অসহায় অবলা নারীর মতো ঠাই দাঁড়িয়ে আছি।মানে ভাইয়ার ব্রেকআপ ও হলো না,আমি পাওনা টাকাও পেলাম না,ট্রিট ও পেলাম না,আবার একটা আইসক্রিম ফাও ট্রিট দিয়ে আসলাম।তারপর ঠাস করে বিছানায় পরে গেলাম।
ঐদিকে ভাইয়া হাসতে হাসতে মনে মনে বললো আমি আগেই জানতাম এই কাজ একমাত্র তোর।তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারলাম।ঐদিকে জিনিয়ার(ভাইয়ার জিএফ)সাথে ব্রেকআপ করে বাজি জিতেও গেলাম এই দিকে একটু মিথ্যা বলে তোকে শিক্ষাও দিলাম যেন আমার পিছনে আর না লাগিস।তবে চিন্তা করিস না দশদিন যাক তারপর তোর পছন্দের সেই কিউট জামা যেটা কিনে আগেই আমার আলমারিতে রেখেছি ঐটা আর আইসক্রিম গিফট করবো।ততোদিন একটু শক এর মধ্যে থাক।
সমাপ্ত