পাথরের বুকে ফুল ! সিজেন 2 !! লেখাঃ হাফসা আলম

পাথরের বুকে ফুল সিজেন 2

—” বাঁচাও। কেউ আছেন??প্লিজজ আমাকে ছাড়ান।কেনো আমাকে বেঁধে রেখেছেন??কেউ আছেন??প্লিজজ এগুলো খলেন??”
হাত পা বেঁধে রেখেছে ওয়াসেনাতের।ঝপসা চোখে সে চার দিকে তাকায়।জ্ঞান ফিড়েছে মাত্র।তখন থেকেই চেঁচাচ্ছে সে।ওয়াসেনাত চারপাশে মাথা ঘুড়িয়ে তাকিয়ে পরিবেশ দেখে বুঝার চেষ্টা করে।তার জানা মতে কিডন্যাপ করলে তো অন্ধকার রুমে রাখার কথা।কিন্তু এখানে তো অনেক লাইট আর ফেইরি লাইটের আলো আর আলো।এমন কি তার গায়েও জড়িয়ে আছে ফেইরি লাইটের তার।বিশাল রুম দেখেই ওয়াসেনাতের ভয়ে গা শিউড়ে উঠে।হাত পা কাঁপে।ওয়াসেনাত আবার একবার চিৎকার করে বলে উঠে,
—” আমাকে বেধে রেখেছেন কেনো??কে আপনারা??সামনে আসেন??আমি এখানে কেনো??বাসায় যাবো।প্লিজজজ ছাড়েন আমাকে।”
ওয়াসেনাত চিৎকার করতে করতেই ক্লান্ত। এবার হাপিয়ে উঠে সে।তাই চোখবুজে শ্বাস নেয়।গলা শুকিয়ে গেছে।তাই আবার চিৎকার করে বলে,
—” পানি.. পানি দেননন প্লিজজজ”
কোনো শব্দ না পেয়ে ওয়াসেনাত নেতিয়ে যায়।কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।ভেবে পাচ্ছে না কে তাকে এভাবে কিডন্যাপ করবে।বাবা একজন সাংবাদিক বলে এটা করেছে নাকি ইহান খানকে থাপ্পড় মারার জন্য সেটাই তার মাথায় ডুকছে না।তার বাবার কারনে তাকে এমন করবে বলে মনে হয় না।তার বাবা তো তার সাথে তেমন থাকে না।তার সেফটির জন্য। কাছের মানুষ বাদে কেউ জানেইনা ওয়াসেনাত সাংবাদিক তৌফিকের মেয়ে।তাহলে তাকে এভাবে তুলে আনার মানে কি??

____২দিন আগে____ পাথরের বুকে ফুল সিজেন 2
—” তা কত রেট হলে আপনি আমার বেড পার্টনার হতে রাজি হবেন…??এমাউন্ট যত চাইবেন তত দিব। যদি চান রাত কাটানোর আগেই টাকা নিয়ে যেতে পারেন। এভ্রি থিং ইজ ইউর চয়েজ……সো হারি আপ কত চাই?? নাকি ব্লাইং চেক চাই??তাও দিতে রাজি বলেন???”
(বিঃ দ্রঃ “ পাথরের বুকে ফুল !! লেখাঃ হাফসা আলম ” গল্পের সবগুলো পর্ব একসাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন)
কথাটা শুনা মাত্রই ওয়াসেনাত চকিতেই তাকালো।তার সামনের এই লোকটা এতটা খারাপ মাইন্ডের এটা সে যানতো।কিন্তু আজ না দেখলে হয়ত বিশ্বাসই হত না।ওয়াসেনাত তো তার কাছে তার নিজেদের জায়গায় তৈরি বাড়িটা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতে এসেছে। তার ছোট একটা এনজিও আছে।যেখানে কিছু এতিম বাচ্চা, বৃদ্ধ মানুষ, অসহায় মানুষ থাকে।কিন্তু ইহান চৌধুরী সেই একতালা বিশিষ্ট বাড়ি দখল করতে চাচ্ছে।তাই সে ইহান চৌধুরীর সাথে কথা বলতে এসেছে। তার বান্ধুবি রিমি বলেছে এই ইহান চৌধুরীর টাকার অভাব নেই।যার টাকার অভাব নেই সে সামান্য একটা বাড়ির দিকে এভাবে নজর দেওয়ার কারন ওয়াসেনাতের মাথায় আসছে না।লোকটাকে বুঝিয়ে বলতে এসেছে সে।কিন্তু এসেই যে বসতে না বসতেই এমন বাজে মন্তব্যের শিকার হবে এটা সে ভাবতেও পারেনি।ওয়াসেনাত এবার নিজের জমির আর বাড়ির কাগজপত্র গুলো খুছিয়ে টেবিল থেকে নিয়ে নিলো তারপর চেয়ার থেকে দাড়িয়ে পড়েছে।সে ঘুড়ে দাড়াতেই সেই ব্যক্তি নিজের চেয়ারে হালকা ঘুড়ে বলে উঠে,
—” বেশি টাকাই দিব।আমি কিন্তু কোন মেয়েকেই কম টাকা দিয়ে নিজের পার্টনার বানাই না।আপ্টার অল ইহান চৌধুরী এতটাও সস্তায় মেয়েদের টাচ করে না।তার প্রতি টাচেই মূল্য রয়েছে।”
ওয়াসেনাত ফিড়ে তাকালো না।এমন বাজে লোকের সাথে আর যাই হোক সে কথা বলতে চায় না।ছিই..কি বিশ্রী কথা।কথাটা তার কানে বাজছে এখনো।সে আবার হাঁটা দিল।দরজার কাছে দাড়াঁতেই ইহান চৌধুরী চেয়ার ঘুড়িয়ে সামনে ফিড়ে বলে উঠে…..
.
—শুনেছি আপনার ফিগার নাকি খুবি হট..এমন মেয়ের সাথে আমি ডিলটা ভালোই করতে পারি।তা আপনি দেখছি ইহান চৌধুরীকে পাত্তা না দিয়েই চলে যাচ্ছেন।আমাকে তো মেয়েরা দেখেই বেড পার্টনার হতে চায় আর আপনি না দেখেই চলে যাচ্ছেন??ইটস্ ভেরি ব্যাড….বাট আই লাইক ইট।এদের সাথে রাত কাটানোর মজাই আলাদা..হট..স…
আর কিছু বলার আগেই ঠাসসসসস্। ইহান নিজের গালে হাত দিয়ে সামনে তাকিয়েই ঝাটকা খায়।স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে।তার সামনে এটা কে দাড়িয়ে??যাকে সে এই কথা গুলো বলেছে এত সে না।এত সময় মেয়েটার সাথে সে কথা বলছিল কিন্তু মেয়েটাকে সে দেখেইনি।ইহান তার জীবনে এই প্রথম থমকায়।ভয়াত্নক চোখে তাকায়।মনে মনে বলে উঠে,
—” কে এই মেয়ে??তার সামনে কি করছে?এত মারাত্মক মেয়ে? যাকে সে তার জীবন দশায় আর কখনোই দেখেনি।মেয়ে বাজ ছেলে সে।মেয়েদের মাঝে ডুবে থাকা তার প্রতিরাতের রুটিং।এত বছরের অভিজ্ঞাতা থেকে সে এটা বলতে পারে এর মত মেয়ে জীবনে কখনোই চোখে পারে নি।কে এই ভয়ংকর মানবী??কে এই নীলাভ চোখের মেয়ে??। ।কালো হেজাবে আবৃত লাল গোড়া মুখ।সারা মুখে রাগ আর ঘৃন্না ছড়িয়ে আছে।চোখগুলোতে হালকা আকাশি আর গাড়ো নীলের মিশ্রণে দুটি জ্যোতি রয়েছে।নাক মুখ ফুলিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।এত মোহনিয় চোখ হয় বাকি??ইহান এখনো হা করে তাকিয়ে আছে।এই মেয়ের রূপ বর্ণনা করার মত না! আশ্চর্য?? সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।সবুজ গ্রাউনের উপড় কালো হেজাব।হেজাবের এক পাশ পিছনে ছাড়া।কত মেয়েকেই সে দেখেছে কত মেয়ের সাথেই রাত কাটিয়েছে,।এতটা আলাদা মেয়ে সে এ জীবনে আর দেখেনি।অসাধারণ একটা মেয়ে।ইহান ওয়াসেনাতকে দেখতে এতটাই মগ্ন ছিল যে সে ভুলেই গেছে এই মেয়ে ইহাম চৌধুরীকে থাপ্পড় মারার মত কাজ করেছে।আশ্চর্য….ওয়াসেনাত এবার নিজের আঙুল নাচিয়ে ইহানের চোখের সামনে ধরে বলে উঠে,
—” মেয়েরা মায়ের জাত। এদের আলাদা সম্মান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।এদের সাথে সম্মানের সহিত কথা বলতেও বলা হয়েছে।তাই সাবধান.. নিজের এই বাজে কথার মুখ আমি আমার এই জীবনে আর দেখতে চাই না।ছিই কি বাজে কথার বলে এই মুখ।তবে ভুলেও আমার সামনে দ্বিতীয় বার যাতে না দেখি। মনে থাকে যেন।”
(কিছু দূর গিয়ে আবার ফিড়ে এসে বলে উঠে)
—” আর একটা কথা আগে মেয়েদের সাথে কথা বলার ধরন শিখবেন তারপর তাদের সামনে দাঁড়াবেন।তা না হলে এই পা অক্ষম আমাদের সামনে দাড়াতে।মাথায় থাকে যেনো মিস্টার… হোয়াট এভার।”
দরজাটা টেনেই ওয়াসেনাত হনহনিয়ে বেড়িয়ে পড়েছে।তার মাথা এখন খুব গরম। সে ভেবে পাচ্ছে না এই লোকের এত সাহস কোথা থেকে এসেছে। তাকে এত বাজে কথা শুনাতে কিভাবে পারলো??হাউ….

___________________ পাথরের বুকে ফুল সিজেন 2
ইহান গালে হাত দেওয়া অবস্থায় এখনো দাঁড়িয়ে আছে।সে ভাবতে পারছেনা তাকে ইহান চৌধুরীকে কেউ এভাবে থাপ্পড় মেরে চলে যেতে পারে। এক অবিশ্বাসকর ব্যাপার।এত দেমাগ বাচ্চা একটা মেয়ের ভাবা যায়।কিন্তু একটা মিস্ট্রেক করেছে এটা সে মানছে। এই মেয়ে সেই মেয়ে না যাকে সে এই কথাগুলো বলতে চেয়েছে।ইহাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এসব ভাবছে আর ঠিক তখনই শৈকত দরজায় নক করে ভিতরে এসে তাকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠে,
—-” স্যার এভবে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো??মনে হচ্ছে কেউ থাপ্পড় মেরেছে।যদিও কথাটা অসম্ভব। আর যেটা বলতে এসেছি আপনি যে মেয়েকে রুম পার্টনার বানাতে চেয়েছিস মিসস.দোলা এসে পড়েছে। আসার টাইম গলমাল হয়ে গিয়েছিলো স্যার। এক ঘন্টা আগে আসার কথা ছিল কিন্তু তার নাকি কি একটা কাজ ছিল যাই হক একখন চলে এসেছে,
—” তাহলে আগের যে মেয়েটা এসেছে সে কে ছিল??”
—” ওও ওই মেয়েতো তার কিসের জমি বাড়ি নিয়ে কথা বলতে এসেছে।খুবই প্রয়োজন ছিলো আপনার সাথে কথা বলা তাই ডুকতে দিয়েছি।স্যরি স্যার।”
—” মিস্ট্রেক হয়ে গেছে আমি ওই মেয়েটাকে দোলা ভেবে উল্টাপাল্টা কথা শুনিয়ে দিয়েছি।তবে আফসোস নেই মেয়েটা খুব ভুল করে গেল এটা ওর উপড়ই ভাড়ি পড়বে।”
ইহান চোখবুজে নেয়।রাগে শরীর কাপঁছে তার।ডান হাত দিয়ে প্রচণ্ড জোড়ে সামনে থাকা জিনিস গুলো ছুড়ে ফেলে দেয় সে।গায়ের ব্লেজার খুলে ফ্লোরে ছুঁড়ে দেয়।চোখ বন্ধ করতেই তার চোখে ওয়াসেনাতের রাগি মুখ ভেঁসে উঠে।পরক্ষনেই ইহানের রাগ মাথা চারা দিয়ে উঠে।ইহান চৌধুরীকে থাপ্পড় দেওয়ার সাহস হয় কি করে এই মেয়ের??ইহানের কানে থাপ্পড়ের শব্দ বাজতে শুরু করে।ইহান হঠাৎ করেই হাসে।শৈকত হতভম্ভ এবং ভয় দুটোই একসাথ পাচ্ছে।ইহান খানা না জানি বেচারা মেয়েটার কি করে??

২.____________
রাস্তার পাশ ঘেঁষে ওয়াসেনাত হাটঁছে।মনে তার বিষন্নতায় ঘেড়া।এত গুলো বাচ্চার মাথার ছাদ চলে যাক এটা আর যাই হোক সে কিছুতেই হতে দিবে না।ইহান নামের এই ঘূর্ণিঝড় কেও সে উপড়ে ফেলতে পারবে বলে তার নিজের আল্লাহর উপড় ভরসা আছে।কিন্তু কিভাবে তাই বুঝতে পারছে না।তার উপড় কি বাজে কথার ছিঁড়ি। ছিঃ ঘৃন্নায় তার গাঁ রি রি করছে।কিছু ভালো লাগছে না।
রিমি স্কুটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাঝ রাস্তায়।রাতটা বেড়েছে।অন্ধকার চারপাশে। তবুও আলোকিত সব।কালো আকাশের নিচে অসংখ্য লাইট জ্বলছে।রাস্তার ধারে স্কুটির উপর বসে আছে রিমি।এক পা ভাঁজ করা তার।ফোন হাতে নিয়ে সে বিরক্তির সাথে তাকিয়ে আছে মোবাইলের দিকে।ওয়াসেনাতকে এই নিয়ে ২৭টা কল করেছে সে।কিন্তু মেয়েটা না কল ধরলো আর না কল ব্যক করলো।রিমির চারপাশে পরিবেশ এখন তিক্তবিরক্ত লাগছে।আকাশে মেঘ করেছে রাশি রাশি।রিমির ডান পাশে ফুটপাতে একটা ফুচকার দোকান আছে।ভেবে ছিল ওয়াসেনাত আসলে তার সাথে মিলে ফুচকা খাবে।কিন্তু তা আর হল কই।মেয়েটা এলো না এখনো।রিমি মনে মনে খুদ্দ হয়।তার উঁচিত ছিলো ওয়াসেনাতের সাথে যাওয়া।কিন্তু কেনো যে গেলো না।তা ভেবেই মেজাজ বখে আছে তার বেশি।রিমি আকাশের দিকে তাকায়।কালো আকাশ দেখতে খারাপ লাগছে না।সুন্দর ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশ।চারপাশে ঝিঁঝিঁপোকার ডাক আসছে।পাশের ড্রেন থেকে বিশ্রী গন্ধ আসছে।রিমি নিজের মুখে রুমাল বেধে রেখেছে।যাতে গন্ধ কম আসে।হঠাৎ করেই একটা কালো গ্লাসে মোড়ানো গাড়ি সাই করে এসে পাশে জমা বৃষ্টির কাঁদা যুক্ত পানি রিমির শরীরে ছিটিয়ে দেয়।রিমি চট করেই লাফিয়ে উঠে।পিছনের অংশ কাঁদায় কাঁদাময় হয়েগেছে। মুহূর্তেই রিমির রাগ বেড়ে যায়।পাশে মাথা কাত করে কিছু বলতে যাওয়ার আগেই গাড়ি অনেক দুর চলে যায়।রিমি দমে না।পাশে থাকা ইট নিয়ে নিজের হাতের সর্বশক্তি দিয়ে তা ছুঁড়ে মারে।আর সাথে সাথেই ঠাসসসসস করে কালো গ্লাস মানে গাড়ির পিছনের অংশ ভেঙে যায়।রিমি বাঁকা হেঁসে লাফিয়ে উঠে।ঠিক হয়েছে।সে ভাবে নি এতটা দুর যাবে।রিমি এবার নিজের জামা ঝাড়তে শুরু করে।গাড়িটা পিছনে আসে।রিমির সামনে এসে ব্রেক করে।রিমি লাফিয়ে একটু দুরে যায়।গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে একটা লোক রিমির সামনে দাড়িয়ে রাগি স্বরে বললো,
—-” হ্যালো মিস..গাড়ির কাঁচ ভেঙেছেন কেনো??”
রিমি মাথা তুলে তাকায়।সুদর্শন এক পুুরুষ দেখে রিমি সোজা হয়ে দাঁড়ায়। ঠান্ডা গলায় বলে,
—–” আপনার গাড়ি ভিঁজিয়ে দিয়েছে আমাকে তাই তাকে ভেঙে দিয়েছি।”
সামনে থাকা ব্যক্তি অবাক হয়।তারপর বলে,
—-” গাড়ি কিভাবে কোনো ব্যক্তিকে ভিঁজিয়ে দিতে পারে??
রিমি চোখ বাঁকিয়ে তাকায়।নিজের জামা ছাড়তে ছাড়তে বলে,
—” এক্সিডেন্ট করলে কে করে গাড়ি নাকি গাড়ি চালক??”
সামনের ব্যক্তি শটকাটে জবাব দেয়,
—” গাড়ির চালক।”
রিমি মাথা তুলে তাকায়।মুখে বিরক্তি ভাব টেনে বলে,
—” তাহলে আমার আপনাকে মারা উঁচিত ছিলো।আপনার গাড়িকে আমার পক্ষ থেকে স্যরি বলে দিবেন।আর এদিকে ইট নেই তাই আপনাকে মারতে পাড়লাম না।”
সামনের ব্যক্তি ভারী অবাক চোখে তাকায়।রাগ রাগ যে ভাব নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেছে তা এখন আর নেই।চোখমুখ সহজ হয়ে আসলেও দাম্ভিকতার জোড়ে কড়া গলায় বলে,

—” মশকরা হচ্ছে নাকি?যানেন আমি কে?রিমন আহামেদ আমি।” পাথরের বুকে ফুল সিজেন 2
রিমি যেনো আরো বিরক্ত হলো।তার ইচ্ছে করছে একটা ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিতে।কিন্তু দুঃখের বিষয় সে ইট খুঁজে পাচ্ছে না।রিমন এতক্ষণে ভালো করে রিমিকে দেখে।রাস্তার পাশের ঝিরিঝিরি আলোতে রিমির রাগে কটমট হওয়া মুখ ভেসে উঠে।হাতে একটা রুমাল তার।রিমন একটু লড়েচড়ে উঠে।চোখ যেনো হঠাৎ করেই চঞ্চল হয়ে পরে।পরক্ষনেই নিজেকে সামলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।রিমি হাত ঝাড়ে।তারপর বলে,
—” বুঝলাম।তবে এটা বুঝলাম না এত বড় মাফের নামের মানুষটা অন্ধ।আহ কি কষ্ট।”
রিমন রেগে যায় প্রকট ভাবে।রিমন নাম দেশে প্রচলিত নাম।শত হোক অরিত্রান খানের ডান হাত সে।এই দেশ তো তার কথায় চলে।অরিত্রান তো এখানে থাকে না।তার কথাই এই ঢাকা শহর চলে।সেও কম নাকি।তাকেও তো সবাই একনামে ভয় পায়।আর এই মেয়ে শান্ত ভঙিতে অপমান করছে।এটা রিমনের হজম হচ্ছে না।তাই রেগে গলার কন্ঠ কঠিন করে বললো,
—” এই মেয়ে তুমি বেশি বোকছো।আমি কে যেনোও এত কথা বলার সাহস হয় কিভাবে??”
রিমি এবার ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে,
—” এই যে মিস্টার.. গলা উঁচু করে কাকে বলেন?? হু??ভয় পাইনা বুঝলেন।আপনারা কি মনে করেন নিজেদেরকে গাড়ি থাকলে আর নামের পাশে বিশাল টেগ থাকলেই দুনিয়া পকেটে করে ঘুড়েন??যান যান অন্য কারকে দেখান নবাবি পনা।একেতো আমার ক্ষতি করলো আবার আমাকেই শুনাচ্ছে।যত সব।নিজেকে অরিত্রান খান মনে করেন নাকি??”
রিমন ভারী অবাক।এই মেয়ে তার নামকেই ভয় পাচ্ছে না।রিমন এবার রিমির জামার দিকে তাকায়।জামা অনেকটা ভিঁজে গেছে।রিমন নিজের ভুল বুঝতে পারলেও অরিত্রানের রিতি অনুযায়ী তা প্রকাশ করলো না।পকেট থেকে একটা কার্ড বের করে রিনির দিকে এগিয়ে দেয়।রিমি ভ্রু দুটি কুঁচকে তাকায়।রিমন গম্ভীর ভাব রেখে বলে,
—” কার্ড রাখেন।যা নষ্ট হয়েছে শোধ করে নিবেন।আরো অনেক গুন বেশি আছে।আমি কখনোই পাওনা রাখি না।”
রিমি কপাট রাগে রি রি করতে করতে বললো,
—” এই আপনি বেশি দেমাগ দেখাবেন না বলে দিলাম??আর এই কার্ড দিয়ে নিজের গাড়ি ঠিক করেন। যান ভাগেন।ফাউল লোক।”
রিমি পিছনে ঘুড়ে।এই লোকের সাথে এখন কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।রিমন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।কল বাজতেই ফোন কানে গাড়িতে উঠে বসে।জানালা দিয়ে একবার মুখ বের করে তাকায়।রিমি এখনো পিছনে ঘুরে আছে।রিমন মনে মনে বলে অদ্ভুত মেয়ে তাকে পাত্তাই দিলো না।
ওয়াসেনাত দ্রুত পায়ে হেঁটে রিমির কাছে আসে।রিমির দিকে তাকায়।রিমিও তাকায়।কিছুবলতে যাবে তার আগেই ওয়াসেনাতের মুখ দেখে সে অবাক হয়।এত লাল??নিশ্চুই ভয়ংকর কিছু হয়েছে।তাই জিজ্ঞেস করতে যাবে তার আগেই ওয়াসেনাত বলে,
—” রিমু তুই হলে চলে যা আজ আমি বাসায় যাবো।বাবা খুলনা থেকে এসেছে।কাল কথা হবে।”
ওয়াসেনাত রিক্স ডেকে উঠে বসে।রিমি একদৃষ্টিতে হা করে তাকিয়ে থাকে।আজ তার দিনটাই এলোমেলো গেছে।
.
.
#চলবে…………..🍁
অরিত্রান প্রেমিদের জন্য বার্তা হলো সে সময় মতই এন্ট্রি নিবে।ওয়াসেনাত অরিত্রানই থাকবে।আগের সাথে কিছু চরিত্রের আর কিছু কাহিনীর মিল থাকলেও আলাদা হবে গল্প।
ভুলগুলো আল্লাহর দেওয়া মহান গুন ক্ষমার চোখে দেখবেন……………..🍂

 

👉 এক পলকে দেখে নিন সহজে গল্প খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে দেওয়া হল