অসমত !! লেখাঃ তানিয়া তাসনিম ঋতু

“তুমি আমার থেকে গুনে গুনে ১৯ বছরের ছোট।আর তুমি নাকি এসেছো আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে।ব্যাপারটা খুব হাস্যকর হয়ে যায়না? ” রাফি সাহেব রুহামাকে বললেন।
“দেখুন আমার যা বলার আমি বলে দিয়েছি।তাছাড়া আমি আপনাকে ভালোবাসি।আর আমি জানি আপনিও আমাকে ভালোনাসেন।এখানে বয়সের ব্যাবধান দিয়ে কি হবে?”
রাফি সাহেবের রাগে এবার হাত পা কাঁপছে।এইটুকানি একটা মেয়ে তাকে তাকে নাকি আবার প্রপোসাল দেয়। – অসমত
“ঠাটিয়ে থাপ্রিয়ে তোমার ভালোবাসা আমি বের করবো।সবে তো ২০ বছর হয়েছে বেশি বার বেরো না বলে দিলাম।”

“আপনি আমাকে মারুন কাটুন জাই করুন না কেনো আমি আপনাকে ভালোবাসি।আর সারাটা জীবন আপনার সাথেই থাকতে চাই।”
“তুমি যদি এখন আমার অফিস থেকে বের না হয়েছো আমি বাধ্য হবো তোমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করতে।” একটু ধমক দিয়েই কথাটা বললেন রাফি সাহেব।
রুহামা আর এক মিনিট ও সেখানে দাড়ালো না।দ্রুত সেখান থেকে বেড়িয়ে এলো।
রাফি,রুহামার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো।তার ভাবতেই অবাক লাগে এইটুক একটা মেয়ের এতো বড় সাহস হয় কিভাবে। নেহাৎ সে তার ফ্রেন্ডের ভাগ্নি।তা না হলে এই মেয়েকে মেরে সিধে বানিয়ে দিতো।

রুহামা কাঁদতে কাঁদতে রাস্তা দিয়ে হাটছে।ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে তার একমাত্র বেস্টফ্রেন্ড তমাল কে ফোন দিয়ে পার্কে আসতে বললো।
রুহামা পার্কে বসেও কাঁদছে।পাশে তমাল বসা।তমার আরহার মাথায় হাত দিয়ে বললো,”দোস্ত একটু তো কান্না থামা।”
রুহামার কান্নার বেগ এখন আরো বেড়ে গেলো।সে কাঁদতে কাঁদতে বললো,”আবার রাফি সাহেব আমাকে প্রত্যাক্ষাণ করেছে।তুই বল আমি তার কাছে আর কত ভিক্ষে চাবো? আর তাছাড়া তাকে দেখলে কি বুঝা যায় তার বয়স এতো।এখনো কত ইয়াং।আর ভালোবাসায় কি বয়স কোনো ফ্যাক্ট তুই বল।”
এবার রুহামা তমাল কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো। তমাল কোনো রকম সান্তনা দিয়ে রুহামাকে বাড়ি পৌঁছে দিলো।
রুহামা বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে রুমে ঘাপটি মেরে বসে রইলো।তার মধ্যে এক ধরনের জিদ চেপে গিয়েছে যে করেই হোক তার রাফিকে চাই ই চাই।আর এটার জন্য সে সব কিছু করতে রাজি।

★★★★★★★
রাফি বাসায় এসে দেখলো তার বন্ধু শফিক মানে রুহামার মামা বসে আছে। রাফি টাই খুলতে খুলতে বললো,”কিরে কখন এলি? আর বললিও না যে।”
“রুহামার ব্যাপারটা নিয়ে কিছু ভেবেছিস?”
রুহামার কথা শুনে রাফি সোফায় বসতে বসতে বললো,”এটা নিয়ে ভাবার আমি কিছু দেখছিনা।ওর বয়স এখন খুব কম।হয়তোবা আমার কোনো কিছু ওকে মুগ্ধ করেছে।ধীরে ধীরে এই মুগ্ধতা কেটে যাবে।তখন নিজেই বুঝবে।
“আর যদি না কাটে?”
“তা হলে এটা ওর সমস্যা। দেখ তুই খুব ভালো করে জানিস আমার মনে রুহামার জন্য এমন কিছু নেই।আমার স্ত্রী মারার যাওয়ার পর থেকে আমি আমার জীবনে নতুন কোনো নারী চাইনা। তাছাড়া কদিন পর আমি দেশের বাহিরে চলে যাচ্ছি।”
শফিক আর কিছু বললো না।
“আজ তাহলে আসি!”

“তোর ইচ্ছে।”- অসমত
শফিক বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলো।তার নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে।কেননা তারা জন্যই তো রুহামার সাথে রাফির পরিচয় হয়েছে।আজ যদি তার আদরের ভাগ্নিটা কিছু করে ফেলে তাহলে। সব মিলিয়ে ভয় হয় তার। সে ঠিক করলো যে করেই হোক তাকে রুহামার সাথে কথা বলতেই হবে।
রুহামা বারান্দায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে চোখের পানি ফেলছে।কেনো রাফি তাকে ভালোবাসে না।সে কি একটুও তার মনের কথা বুঝেনা। এইসব ভাবতে ভাবতে কাঁধে কারো স্পর্শ পেলো।পিছে তাকিয়ে দেখলো তার মামা।
“কেমন আছিস?”
“যেমনটা দেখছো.।”
“তোর কি মনে হয় না তুই এখন পাগলামি করে ফেলছিস?”
“অবশ্যই না।আমি জানি আমার মাঝে কি চলছে।তোমরা বুঝতে চাচ্ছো না কেনো?”
“দেখ তোর কি মনে হয় এটা তোর বাসায় মেনে নিবে? আপু দুলাভাই জানলে কত বড় ক্যালেংকারি হয়ে যাবে তোর মাথায় আছে?”
“সবার কথা ভাবার জন্যে তো আমি বসে নেই তাইনা।আমাকে একটু নিজের কথা ভাবতে দাও।” শফিক আর কথা বাড়ালো না।কেনোনা সে জানে তার ভাগ্নি কতটা একরোখা।- অসমত
ঐদিনের পর থেকে শফিক আর রুহামাদের বাসায় যায়নি।এইদিকে রুহামা প্রায় প্রতিদিনই রাফির অফিসে যেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে।কিন্তু কোনো লাভ হয়না।রাফির দেখা মিলে না।এভাবেই কেটে যায় প্রায় একটা মাস।এখন রুহামার বাসায়ও সবাই সবটা জেনে গিয়েছে।তারা এখন চাচ্ছে যে করেই হোক রুহামাকে এখান থেকে বের করতে।আর এই জন্য তারা ছেলে দেখছে।কিন্তু রুহামা রাফি ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না।

★★★★★★
ঘড়িতে তখন রাত ৮ টা বাজে।বাহিরে প্রচন্ড রকমের বৃষ্টি হচ্ছে।এরকম বৃষ্টি খুব কম ই হয়।রাফি যেহেতু বাসায় একাই থাকে তাই নিজেই যেয়ে কফি বানিয়ে নিয়ে এসে হল রুমে বসেছে। বৃষ্টির বদৌলতে কারেন্টও নেই।রাফি বেশ কয়েকটা মোম জ্বালিয়েছে।কেনোনা আইপিএস ও কাজ করছে না।হঠাৎ কলিং বেইল বেজে উঠলো রাফি বুঝতে পারছে না যে এই সময় কে আসতে পারে।সে কফির মগটা রেখে দরজাটা খুললো।খুলেও চমকে গেলো। কেনোনা রুহামা দাড়িয়ে আছে।পুরো ভিজে অবস্থা খারাপ।জামা কাপড় শরীরের সাথে লেপ্টে আছে।চোখের কাজলটাও লেপ্টে গিয়েছে। আবছা আলোয় রুহামাকে অসম্ভব সুন্দর আর আবেদময়ী লাগছে। রুহামা খুব স্বাভাবিক ভাবেই রাফিকে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকলো। রাফি দরজা বন্ধ না করেই রুহামার দিকে তাকিয়ে রইলো।
“কি হলো দরজাটা বন্ধ করো।” এই প্রথম সে রাফিকে তুমি করে বলেছে।রাফির বুকে কেমন যেনো ধক করে উঠলো।সে দরজা বন্ধ করে পিছনে ফিরতেই রুহামা এমন কান্ড ঘটিয়ে বসলো যে তার হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে।
চলবে…..

👉 এক পলকে দেখে নিন সহজে গল্প খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে দেওয়া হল